পোট্রেট অব দ্য ক্রাইং বয়ঃ একটি অভিশপ্ত ছবি ……




১৯৮৮ সালের ঘটনা। ঘটনাস্থল ইংল্যান্ডের হ্যাসোয়েল। ওখানকার এমোস পরিবারের বাড়িটিতে হঠাৎ করেই এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। রহস্যময় ওই অগ্নিকাণ্ডে বাড়িটি প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণ করার আগেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় সাজানো-গোছানো বাড়িটি। এরপরও ফায়ার ব্রিগেড আর উদ্ধারকর্মীরা যখন আগুনে ছাই হয়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ সরাতে শুরু করে, তখন তারা একটি ফ্রেমে বাঁধানো পোট্রেটের সন্ধান পায়। এই পোট্রেটটি ছিল ক্রন্দনরত একটি বালকের। বালকটি ছিল খুব সুন্দর, যার চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল। স্বভাবতই শিশুটির চেহারা ছিল বিষণ্ন। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো আগুনের দোর্দণ্ড প্রতাপে বাড়ির সবকিছু যেখানে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল,কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ছবিটি অক্ষত রয়ে যায়। তখনই উদ্ধারকর্মীরা ভড়কে গিয়েছিল। কিন্তু সেবারের ঘটনা ওই অবাক হয়ে যাওয়া পর্যন্তই। কে জানত এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক নাটকের তখনো বাকি ছিল ?

এরপরের ঘটনা ঘটে ব্র্যাডফোর্ডে। সেখানে এক অগ্নিকান্ডের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে আবারো এক ক্রন্দনরত ছেলের ছবি পাওয়া যায়। ইয়র্কশায়ার ফায়ার ব্রিগেডের প্রধান জাতীয় সংবাদপত্রগুলোকে এক বিবৃতিতে বলেন, পর পর বেশ কয়েকটি অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে এই একই ধরণের ছবি অক্ষত অবস্থায় পেয়েছেন দমকলকর্মীরা। যখন সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলেন এই ছবি কি অশুভ কিনা, তিনি কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। ১৯৯৮ সালে ডাবলিনে এক বাড়িতে অগ্নিকান্ড হয়, সেখানেও এই একই ছবি পাওয়া যায়।

এই অভিশপ্ত ছবির ছেলেটির পরিচয় কিংবা ছবিটি কে এঁকেছিলেন, সেই ব্যপারে কিছুই জানা যাচ্ছিলো না। ডাবলিনের ঘটনার ৩ বছর আগে ১৯৯৫ সালে ডেভন শহরের একজন স্কুলশিক্ষক যিনি একইসাথে প্রখ্যাত ও সম্মানিত একজন গবেষক, জর্জ ম্যালোরি দাবি করেন তিনি অবশেষে ছবিটি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তিনি জানান, একজন বৃদ্ধ স্প্যানিশ পোস্ট কার্ড শিল্পী ফ্র্যাঙ্কট সেভিল এই ছবিটি এঁকেছিলেন। এ শিল্পী থাকতেন মাদ্রিদে। ১৯৬৯ সালে শিল্পীটি মাদ্রিদের রাস্তায় ছবির ছোট ছেলেটিকে ঘুরে বেড়াতে দেখতে পান। ছেলেটি কখনোই কথা বলতো না, তার চোখে থাকতো রাজ্যের বিষণ্ণতা। সেভিল এই ছেলেটির ছবি আঁকেন। এক পাদ্রী ছেলেটিকে চিনতে পারেন। তিনি বলেন, এই ছেলেটির নাম ডন বনিলো, যে কিনা নিজের চোখে তার বাবা-মাকে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে দেখে। ছেলেটিকে এক জায়গায় বেশি দিন যেন থাকতে না দেওয়া হয়। কারণ যেখানেই সে কিছুদিন অবস্থান করে সেখানে রহস্যময়ভাবে আগুন লেগে যায়। যে কারণে গ্রামবাসী ছেলেটিকে পিশাচ নামে সম্বোধন করত।

সেভিল এসব কুসংস্কারে বিশ্বাস করতেন না। ছেলেটিকে তিনি নিজের কাছে রেখে দিলেন। ছেলেটিকে নিয়ে আঁকা The Crying Boy শিরোনামের পোট্রেট তাঁকে খ্যাতি ও অর্থ উভয়ই এনে দেয়। কিন্তু রহস্যময় এক অগ্নিকান্ডে তাঁর পুরো স্টুডিও ধ্বংস হয়ে যায়। সেভিল নিঃস্ব হয়ে যান। তিনি ডন বনিলো নামে ছোট অনাথ ছেলেটিকে আগুন লাগানোর জন্য দায়ী করেন। ছেলেটি কাঁদতে কাঁদতে পালিয়ে যায়। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় নি। কিন্তু এরপরে পুরো ইউরোপ জুড়ে অগ্নিকান্ড আর তার সাথে অশুভ এই ছবি উদ্ধারের একের পর এক রিপোর্ট প্রকাশিত হতে থাকে। কিন্তু একই ধরণের ছবি কেন পাওয়া যাবে? উত্তর নেই।

শেষ পর্যন্ত সেভিলকেও অশুভ মানুষ বলে গণ্য করা হতে থাকে, কেউ তাকে ছবি আঁকার দ্বায়িত্ব তো দিতই না, তার আঁকা ছবিগুলোর দিকে তাকাতোও না। ১৯৭৬ সালে বার্সেলোনাতে একটি গাড়ি সজোরে ধাক্কা খায় একটি দেয়ালের সাথে। গাড়িটি বিস্ফোরিত হয়, ভেতরের চালকের দেহ এতোটাই পুড়ে গিয়েছিল যে তার চেহারা শনাক্ত করা যাচ্ছিলো না। পরে জ্বলন্ত গাড়ি থেকে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স কিছুটা অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। গাড়িটি ১৯ বছর বয়সী ডন বনিলো নামে এক ছেলে চালাচ্ছিলো। এটা কি সেই ছেলেটিই? সেটি জানার কোন উপায় হয়তো নেই। কারণ ছেলেটির মৃতদেহ নিতে কেউ আসে নি। এবং বলাই বাহুল্য যে এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি কোন সঠিক ব্যাখ্যাও।

বিঃদ্রঃ ছবিটা এখন আমার ফেইসবুক প্রোফাইলে দেওয়া আছে আর আমি অশুভ কিছুর অপেক্ষায় আছি কারণ মাঝে মধ্য অশুভ কিছু শুভ কাজের সূচনা করে দেয় …… :ভেংচি:

২২ thoughts on “পোট্রেট অব দ্য ক্রাইং বয়ঃ একটি অভিশপ্ত ছবি ……

  1. পড়ে মজা পেলাম পথিক ভাই! এইসব
    পড়ে মজা পেলাম পথিক ভাই! এইসব রহস্য পড়তে সবসময়ই রোমাঞ্চ কাজ করে। তবে উইকিপিডিয়া বলছে অন্য কথা। চিত্রশিল্পীর নামও এখানে ভিন্ন দেখলাম। দেখলাম স্টিভ পান্ট নামক একজন ছবিটা অক্ষত থাকার রহস্যও উদঘাটন করার চেষ্টা করেছেন।

    http://en.wikipedia.org/wiki/The_Crying_Boy

    1. ধন্যবাদ আপনাকে ব্যাপারটা ধরতে
      ধন্যবাদ আপনাকে ব্যাপারটা ধরতে পারার জন্য আসলে এই একটা জায়গায় আমি নিজেও অনেকটা অনিশ্চিত কারণ আমি ২/৩ টা পেপার পড়ে এবং ব্লগ সাইট থেকে এই তথ্য গুলো সংগ্রহ করেছি ।। নিচে ব্লগ লিঙ্ক দিয়ে দিলাম ।।
      http://www.ghoststudy.com/monthly/jun03/tears.html
      http://www.bd-pratidin.com/2013/12/24/33892
      http://www.priyo.com/2013/09/25/33058.html

      আর আপনি যেহেতু রহস্য পছন্দ করেন তাই আপনার জন্য http://bdlive24.com/news/index/39

  2. ……কাহিনী টা বেশ
    ……কাহিনী টা বেশ রোমাঞ্চকর।এটার সম্পর্কে আগেও আমি পড়ে ছিলাম।তবে সেটার সাথে আপনার দেওয়া তথ্যগুলোর একটু ভিন্নতা রয়েছে…….

    1. আসলেই খাজা ভাই আমার নিজের
      আসলেই খাজা ভাই আমার নিজের কাছেই অনেকটা অবাক লাগছে ব্যাপারটা তাইতো নিজের ফেইসবুকে প্রোফাইল পিকচার দিলাম দেখা যাক কি হয় 😀

    1. অবশ্যই অবশ্যই সিয়াব ভাই আমি
      অবশ্যই অবশ্যই সিয়াব ভাই আমি তো চাইছি যে কিছু হোক 😀 কিন্তু আজ ৩ দিন কিছুই হচ্ছেনা :মাথাঠুকি: দোয়া কইরেন যেনো কিছু না কিছু ঘটে যায় :নৃত্য:

      1. হাহাহাহাহা, আমার মনে হচ্ছে
        হাহাহাহাহা, আমার মনে হচ্ছে ভার্চুয়ালভাবে এর কোনো কার্যক্ষমতা নাই!!! বাসায় একটা ছবি নিয়ে ট্রাই করতে পারেন!!!! [সত্যি কিছু ঘটলে আফ্রাসিয়াব দায়ী নহে! ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *