হেলমেটবিহীন একখানা ডিফেন্সের গল্প…

ছোটবেলা হইতে জানিয়া আসিতেছিলাম ডিফেন্স অর্থ হইল শত্রুকে প্রতিরোধ করিবার রক্ষনব্যূহ। যাহা বৃহত্তর অর্থে দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পণ করিবার পর যখন বেশ মৌজমাস্তি সহকারে পদযুগলকে বুলডোজার বানাইয়া ক্যাম্পাস দাপাইয়া বেড়াইতেছিলাম , তখন জীবনের সবচেয়ে উদ্ভটুড়ে(উদ্ভট+উড়ে)পাঠের সাথে পরিচিত হইলাম। সেমিস্টারের শেষদিকে কমপ্লিট স্যুট পরিহিত/পরিহিতা কিছু বড় ভ্রাতা ও ভগিনীদের দেখিলাম, বলি হইতে যাওয়া অবলা নিরীহ প্রাণীর মতো মুখখানা করে কনফারেন্স রুমের সামনে দাঁড়াইয়া বিড়বিড় করিয়া দোয়াদরূদ পড়িতেছেন। আমি ভদ্র পুলাটির মতো নিরীহ মুখখানা কইরা এক ভগিনীকে শুধাইলাম, আপনি কিসের নিমিত্তে এইখানে দাঁড়াইয়া আছেন? উনি জবাব মারিলেন,’কিছুক্ষন পর আমার ডিফেন্স। আমি নিতান্তই উড়াইয়া দেবার ভঙ্গিতে পুনর্বার শুধাইলাম, তা আপনাদের হেলমেট কিংবা অস্ত্র কোথায়? শত্রুসৈন্যই বা কোথায়? উনি বলিলেন, আমাদের চার বছরের গ্রাজুয়েশন শেষে চার মাসের ইন্টার্নশিপের উপর আজ এক ঘণ্টার একখানা প্রেজেন্টেশন হইবে। এই এক ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেক সময় আমাকে বক্তৃতা দিতে হইবে, আর বাকি অর্ধেক সময় সেই বক্তৃতার উপর মর্টার শেলের চেয়েও ধ্বংসাত্মক ও দ্রুতগতির প্রশ্নবাণ ছুঁড়িবেন উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দ। তোমাকে সেইসব টাঁসটাঁস প্রশ্নের টাঁসটাঁস জবাব মারিতে হইবে। যদি উত্তর আসিতে কিছুমাত্র দেরি হয়, তবে তুমি ওইখানেই ফিনিশ। ইহাই ডিফেন্স। শুনিয়া হাসিব কি কাঁদিব, স্থির করিবার পূর্বেই দেখি দলে দলে সৈন্যগন মার্চপাস্ট করিতে করিতে সেনাপতির নেতৃত্বে এগিয়ে আসছেন। ভগিনী আমায় বিদায় বলিয়া অগ্নিকুণ্ডে প্রবেশ করিলেন। তখনও কি জানিতাম, কি অদ্ভুতুড়ে ডিফেন্স অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করিতেছে আমার জন্য…

দেখিতে না দেখিতেই এবং ভাব লইতে না লইতেই একসময় চার বছর ফুরাইয়া আসিল। অবাক হইয়া একদিন নিজেকে ইন্টার্নশিপের নিমিত্তে একখানা ব্যাংকের শিক্ষানবীশ হিসেবে আবিস্কার করিলাম। বেশ ভাব নিয়া প্রতিদিন ব্যাংকে যাওয়া-আসা শুরু করিলাম। কিন্তু যেহেতু শিক্ষাজীবনে কখনই আদর্শ মনোযোগী ছাত্র ছিলাম না, তাই ব্যাংকের এই অভিজ্ঞতার উপরে যে ইন্টার্ন রিপোর্ট নামে একখানা বিশাল পুস্তিকা রচনা করিতে হইবে, সেদিকে খেয়ালই ছিল না। অদ্ভুত বেপারটা হইল যদিও কুনদিন ভালো ছাত্র ছিলাম না, তবুও দুর্ভাগ্যক্রমে ভালো ছাত্র অপবাদ বইয়া বেড়াইতে হইয়াছে সারাজীবন। এইচএসসিতে কিভাবে কিভাবে যেন ব্যাচের অন্যতম সেরা ফলাফল করিয়া সেই অপবাদ আরও পাকাপোক্ত হইয়াছিল। ফলাফলে যখনই বন্ধুদের সাথে দেখা হইত, তখনই পচাইবার নিমিত্তে তাহারা জিজ্ঞাসা করিত, কিরে, রিপোর্ট কদ্দুর? আমি বলিতাম, তুমরা মার্চ কইরা আগাও, আমি আসিতেছি আরকি। এই করিয়া করিয়া ডিসেম্বর আসিয়া পড়িল। পুলাপাইন রিপোর্ট জমা দিয়া ফেলিবার এন্তেজাম করিতেছে, অথচ আমি শুরুই করি নাই। পুলাপাইন রিপোর্টের ভুলত্রুটি নিয়া সুপারভাইজারের নিকট হইতে প্রতেহ গালমন্দ আর ঝাড়ি শোনে, আর আমি ভোর হইতেই “জয় বাঙলা বলে আগে বাড়” শুনিতে শুনিতে আগে বাড়ি। হঠাৎই ৫ তারিখে রিপোর্ট জমাদানের শেষদিন ১০ই ডিসেম্বর শুনিয়া বিনা মেঘে হার্টএটাক হইল। এদিকে ফাকিস্তানি জারজ কসাই কাদেরাকে ঝুলিয়ে দেওয়া নিয়া বড়ই যন্ত্রণায় পড়িলাম। বৃহত্তর জামায়াতের জারজেরা তাদের সর্বশক্তি দিয়া কাদেরাকে বাঁচাইবার চেষ্টা করিতে থাকায় আমি অন্য কোনদিকে মন বসাইতে পারিতেছিলাম না। দেখা গেল, রিপোর্টের কাজ করিতে বসিবার পূর্বে একবার ফেসবুকের শিরোনামগুলো দেখিবার জন্য ফেবুতে ঢুকিলাম, হঠাৎ প্রচণ্ড গন্ধে প্রান ওষ্ঠাগত হইয়া গেলো। যেইমাত্র বুঝিলাম ইহা কাদেরার অবৈধ সন্তানদের ওরফে ছাগপালদের লেদানি, আগপিছ না ভাবিয়া পুন্দাইতে শুরু করিলাম। ওদের বিভিন্ন অজ্ঞতার জবাব দেবার জন্য আমাকে বেশ খোঁজখবর করে কিছু লেখাও লিখিতে হইল। ইতোব্যসরে আমার আর রিপোর্টের কাজ করা হইল না। এমনকি বৃহত্তর জামাতের বিম্পি শাখার অনবরত অবুরুধে রিপোর্ট জমাদানের শেষদিন ১৫ই ডিসেম্বর হইবার পরেও আমি রিপোর্টের কাজ শেষ করিতে পারিলাম না। এরপেছনে অবশ্য ১২ তারিখের ঈদের খুশির অর্থাৎ কসাই কাদেরার ফাঁসির দায়ভার অনেক। শেষতক বহু যন্ত্রণা করিয়া ডিসেম্বরের ২০ তারিখ রিপোর্ট জমা দিলাম। আমার অগ্নিপরীক্ষার সময় নির্দিষ্ট হইল ডিসেম্বরের ২৬ তারিখ।

যেহেতু প্রথাগত সবকিছুতেই আমার আপত্তি, সুতরাং অবধারিতভাবেই ডিসেম্বরের ২৬ তারিখে আমাকে দেখা গেল বন্ধু নূরে’ হাবিবের বাসায় মুখ কালো করিয়া পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইড বানাইবার কসরত করিতে। এর আগের দিন বড়দিনের উৎসব করিয়াছি রবীন্দ্র সরোবরে, মুভিলাভারসব্লগের বার্ষিক রিভিউ প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে একঝাক মুভিলাভারসের সাথে। ভাবিয়াছিলাম সামান্য স্লাইডই তো, উহা বানাইতে আর কতক্ষণ লাগিবে? কিন্তু বাসায় ফিরিয়া স্লাইড বানাইতে গিয়া বুঝিলাম কিতনা ধান মে কিতনা রুটি। প্রায় দুই-আড়াই বছর মাইক্রোসফট কোম্পানির প্রস্তুতকৃত ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট ইত্যাদি বিভিন্ন সেবা ব্যবহার না করিতে করিতে সব ভুলিয়া গিয়াছিলাম। ফলাফলে যখন হাবীবকে জিজ্ঞাসা করিলাম, বন্ধু, স্লাইডে কিভাবে ঘর বানাইব? ও আমার দিকে ঝাড়া ১০ সেকেন্ড নিখাদ বিস্ময়ে তাকাইয়া ছিল। আমার ডিফেন্স শুরুর সময় নির্ধারিত ছিল সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট। সারাটাদিন পুলাটারে মেশিনের মতো খাটাইয়া বিকাল ৪ টা ২০য়ের দিকে ৬৪ স্লাইডের বিশাল একখানা প্রেজেন্টেশন ড্রাফ্‌ট দাড় করাইলাম। কিন্তু উহার উপরে আর অনুশীলন করিয়া পাকা হইবার সময় অবশিষ্ট নাই। তখনই বাহির হইয়া গেলাম। হঠাৎ মুঠোফোনে একখানা ফোন আসিল। আমাকে এক ভ্রাতা জানাইলেন, আমার কি আদৌ ডিফেন্স দিবার ইচ্ছা আছে? আমি এহেন উদ্ভট কথার হেতু জিজ্ঞসা করিতেই সে আমাকে বলিল, আমার জন্য ডিফেন্সের টাইম বরাদ্দ ছিল বিকাল ৪টা ১৫ হইতে। আমি সেই টাইম মিস করিয়াছি। সুতরাং আমি ডিসকোয়ালিফাইড…

চোখের পলকে পৃথিবী উল্টায়ে গেলেও বোধহয় এতটা অবাক হইতাম না। দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজির হইয়া বিবিএ ডিপার্টমেন্টের রুমে গেলাম। তারপর যা জানিতে পারিলাম, তাহা বড়ই বিস্ময়ের, বড়ই উদ্ভট। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ ডিপার্টমেন্টের দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজ করবার জন্য বেশ কিছু স্টুডেন্টকে টিএ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্মার্ট পোলাপাইন এইখানে নিয়োগ পায়। কিন্তু কিভাবে যেন এক আবাল গর্দভ টিএ হিসেবে নিয়োগ পাইয়াছিল। উহার সাথে অনেকদিন আগে অতি তুচ্ছ সামান্য এক ঘটনা ঘটিয়াছিল। ব্যাপারটা আসলে এতটাই তুচ্ছ ছিল যে, আমি নিজেও উহা ভুলিয়া গিয়াছিলাম। কিন্তু ওই আবাল যে থ্রি ইডিয়টসের “সাইলেন্সার” এর মতন ব্যাপারটা পুষে রাখিয়াছিল, সেইটা আর কে জানতো? তার প্রতিশোধ নিতে সে আমার ডিফেন্সের সময়টাই পাল্টে দিয়াছে। ৬টা ১৫ কে ৪টা ১৫ বানাইয়া দেয়ায় ডিফেন্স সিডিউল অনুযায়ী আমি সঠিক সময়ে উপস্থিত হইতে না পারিবার জন্য ফেইল। তৎক্ষণাৎ মোটামুটি একখানা কেয়ামত ঘটাইয়া দিলাম। শেষপর্যন্ত পুরো ব্যাপারখানা বুঝিতে পারিয়া মাজেদ ভাই আমাকে রিকোয়েস্ট করিলেন, ২৭ তারিখ সকাল নয়টায় এমবিএ এর স্টুডেন্টদের সাথে যেন কাইন্ডলি আমি প্রেজেন্টেশনটা দিয়া দেই। মিজাজটা চরম খারাপ হইয়া যাওয়া সত্ত্বেও আপাতত সহ্য করিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলাম। সাইলেন্সার ওরফে চাতুরাকে উপযুক্ত সময়ে তার আবলামির শিক্ষা দেয়া হবে

ভোর ৬টা ৪৫ মিনিটে যখন বাহির হইলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে, গেটের বাইরে আসা মাত্র মনে হইল আমি বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের মাঝে চলিয়া আসিয়াছি। পাউডারগোলা কুয়াশার মইদ্ধে পাঁচহাত দূরের কিছু পর্যন্ত দেখিতে পারতেছিলাম না। এতসকালে মাইনশে বাইর হয়??!! কিন্তু বিআরটিসি বাস দেখিবামাত্র আমার ভুল ভাঙ্গিয়া চুরচুর হইয়া গেলো। কোনমতনে একটা পা রাখিয়া বাসের ভেতরে ঢুকিবার চেষ্টা করামাত্র বুঝিতে পারিলাম, আমার এতো সাধের পরিপাটি মাঞ্জা লওয়া ভাবভঙ্গির এইখানেই সমাপ্তি ঘটিল। বক্তৃতা দেবার সময় হ্যান্ডআউট রাখিবার জন্য স্লাইডগুলো প্রিন্ট করিয়াছিলাম, বাসের ভেতর মনে পড়িল হঠাৎ সেইগুলো তো কাটিয়া ছোট করা হয় নাই। লজ্জার মাথা চিবাইয়া নারীদের জন্য সংরক্ষিত সীটে দুজন রূপবতী ললনার মাঝে ধুপ করিয়া বসিয়া পড়িলাম। আর শিটগুলো বাহির করিয়া কাটতে গিয়া মনে পড়িল, কাটিবার মতন তো কিছু নাই। কি আর করা, শেষতক হাত দিয়া ফাঁড়িয়া ফেলিতে লাগিলাম। অনেকক্ষন পর্যবেক্ষণ করিয়া সামনে বসিয়া থাকা মুরুব্বি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইলেন যে, কিছুক্ষন পরেই আমার পরীক্ষা এবং আমি আর দশজন অপদার্থ শিক্ষার্থীর মতই আমি পেজ ছিঁড়িয়া নকল প্রস্তুত করিতেছি। বাজিয়া উঠিল পানিপথের ৩য় যুদ্ধের দামামা। জীবনে কোনদিন এতটা লজ্জা পাই নাই যতটা পাইলাম সেই মুহূর্তে। বলিতে ইচ্ছা হইল, চৌধুরী সাহেব, আমরা পরীক্ষার হলে শিস বাজাইয়া সুন্দরীতমা থুক্কু ম্যাডামের দৃষ্টি আকর্ষণ করিতে পারি, কিন্তু নকল করি না। শেষপর্যন্ত এক পরিচিত ভাই দেবদূত হইয়া আসিলেন। বুঝাইয়া জনগনকে শান্ত করিলেন। দুই পাশে বসিয়া থাকা ললনাদের কুঞ্চিত ভ্রু সোজা হইল, বেকে যাওয়া ঠোঁট স্বাভাবিক হইল। যাহা হউক, যন্ত্রণার এক শেষ করিয়া কনফারেন্স রুমে আসিয়া উপস্থিত হইলাম। ইতিমধ্যে এমবিএর বড় ভ্রাতা/ভগিনীগন চলিয়া আসিয়াছেন। কিছুক্ষন পরেই মার্চপাস্টের শব্দ শোনা যাইতে লাগিল। আর যাহারা উপস্থিত হইলেন, তাহাদের দেখে তৎক্ষণাৎ জানালা দিয়া ঝাঁপ দেবার ইচ্ছা বহু কষ্টে সংবরন করিলাম। ২৬ তারিখে আমার প্রেজেন্টেশনে যাদের উপস্থিত হবার কথা ছিল, তারা কোশ্চেন করবার সময় সর্বোচ্চ স্টেনগান ব্যবহার করিতেন। কিন্তু আজ যারা উপস্থিত হইলেন, তারা আসলে অত্যাধুনিক সাবমেশিনগান ছাড়া কোন অস্ত্রই চিনেন না। ডায়াসের সামনে উপস্থিত হইয়া দেখি হাত চলতেছে না। তার উপ্রে কোন এক বিচিত্র কারণে মাইকটা কাজ করিতেছে না। প্রমাদ গুনিলাম, এখন এই জমাটবাঁধা গলার ভিতর হইতে স্বর বাইর হইবে কিরূপে? তাও আবার পুরোপুরি ইংলিশে? বাজখাই গলায় লুৎফর রহমান ওরফে টাইগার(উনার গর্জন শুনিলে এই প্রানি ছাড়া আর কারোর কথা মনে আসেনা) ঘোষণা করিলেন, আমার ৩০ মিনিট সময় শুরু এখন। নিজের অজান্তেই চোখটা বন্ধ হইয়া গেল এবং খুব অদ্ভুতভাবে ধূসর হয়ে আসা এক প্রিয়জনের মুখাবয়বটা ভাসিয়া উঠিল। তারপর ঘটিল এক বড় অদ্ভুত ঘটনা।

ঠিক কিভাবে, কোন উপায়ে আমার মুখখানা মেশিনগানে রূপান্তরিত হইল, আমি এখনও পরিস্কার বুঝিয়া উঠিতে পারি নাই। শুধু এতদূর বলিতে পারি, একটানা কথা বলিয়া যাইবার জন্য তিনচার বার আমার দম আটকাইয়া আসিল। কিন্তু আমি থামিলাম না। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হইয়া ৩৭ মিনিটের সময় আমাকে থামানো হইল। আমি ক্ষমা চাইয়া বলিলাম, থ্যাঙ্ক ইউ অডিয়েন্স ফর ইউর পেইশেন্স। নাও, ইফ ইউ হ্যাভ এনি কোশ্চেন, ইউ মে আস্ক। বলিয়াই বুঝিলাম, এখন আমার দিকে মর্টার থেকে শেল নিক্ষিপ্ত হইবে। হইলও তাই। একজনের মর্টার শেলের জবাব দিতে না দিতেই আরেকজন তালেবানি রকেট লঞ্চার হইতে গোলা নিক্ষেপ করে। টানা ১৫ মিনিট এইরুপ গোলা-পাল্টা গোলা বিনিময়ের পর উনারা হঠাৎ সিজ ফায়ার ঘোষণা করিয়া সাদা পতাকা টাঙ্গাইয়া দিলেন। আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলিতে না ফেলিতেই আমার স্লাইড হইতে অণুবীক্ষণিক যন্ত্র দিয়া কিছু শব্দ বাহির করিলেন একজন নাছোড়বান্দা ফ্যাকাল্টি। আমাকে মুক্তি দিবার আগে উনার একটা ছোট্ট আবদার আছে। ফরেন একচেঞ্জ রিলেটেড এই শব্দগুলো আমাকে উপযুক্ত ব্যাখ্যা করিতে হইবে। উনার আবদার রাখিবার যথাসাধ্য চেষ্টা করিলাম। তারপর খুব দ্রুত ফরমালিটিস শেষ করিয়া জনাব টাইগার বলিলেন, ইউ হ্যাভ ডান ওয়েল, আই লাইক ইউর আপ্রোচ। যাহা শুনিলাম, তাহা প্রথমে বিশ্বাস হয় নাই বলিয়া স্বাভাবিক থাকিলাম। কিন্তু যখন জাহিদুর রহমান ওরফে ধমকবাঁজ বাজখাই গলায় বলিলেন, ইউর স্পীচ ইজ অলরাইট বাট ডোন্ট ফরগেট টুঁ মেক দোজ কারেকশনস। তখন আর আজিব না হইয়া পারিলাম না। যাহারা পৃথিবীর সেরা খুতখুতে হিসেবে নুবেলের জন্য একসাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিতে পারেন, তাহাদের কি সত্যই আমার প্রেজেন্টেশন ভালো লাগিয়াছে? কোনভাবে নিজেরে সামলাইয়া রুমের বাহিরে আসিলাম, কিন্তু বাহির হইবামাত্র আর সামলাইয়া রাখিতে পারিলাম না। ইয়াহু বলিয়া সিলিং ছুঁইবার চেষ্টায় একখানা লাফ দিলাম এবং অত্যাশ্চর্যভাবে মাটিতে ল্যান্ড না করিয়া ল্যান্ড করিলাম পাশেই দাঁড়াইয়া থাকা এক জুনিয়র আপুর উপরে। ফলাফল উভয়েই পপাতধরণীতল। কপাল ভালো, মাইয়াটা পূর্ব পরিচিত ছিল এবং আমার জন্যই ওয়েট করিতেছিল। এখন কেন ওয়েট করিতেছিল, তাহা জানিতে চাইয়া জাতিকে অযথা লজ্জায় ফেলিবেন না। :লইজ্জালাগে: হাতখানা বাড়াইয়া তাহাকে তুলিয়া আনিলাম। যদিও আনন্দের চোটে তখন পৃথিবীর সবাইরে বুকে টেনে নিতে ইচ্ছা করিতেছিল :বুখেআয়বাবুল: , কিন্তু সেই মুহূর্তে আর সেইদিকে গেলাম না। বলা যায় না, যদি মামলা করিয়া দেয়… 😀

এভাবেই শেষ করিয়া ফেলিলাম জীবনের একটা অধ্যায়ের। বিন্দুমাত্র প্রস্তুতি ছাড়া শুধুমাত্র প্রিয়জন আর শুভাকাঙ্খিদের অশেষ প্রার্থনা আর শুভকামনায় পার হইয়া গেলো জীবনের অন্যতম কঠিন ধাপ। আপনারা যারা অজস্র শুভকামনায় আর প্রার্থনায় স্রস্টাকে ব্যস্ত রেখেছেন আমার জন্য, আপনাদের এ ভালবাসার দায় শোধ করিবার ক্ষমতা আমাকে দেওয়া হয় নাই। আমি শুধু অবাক বিস্ময়ে ভাবিতে পারি, কতটা ভাগ্যবান আমি, কত মানুষ এই অভাজনকে মনে রাখে, প্রার্থনা করিতে থাকে আমার মঙ্গলের জন্য ততক্ষন পর্যন্ত, যতক্ষণ পর্যন্ত স্রষ্টার মনোযোগ আকর্ষিত না হয়। আপনাদের এ অপরিসীম ভালবাসার বিনিময়ে দিবার মতো কিছুই নাই আমার, শুধু হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে ভালোবাসাটুকু ছাড়া। প্রার্থনা করি, আপনাদের এই শুভকামনা শতগুন হইয়া ফিরিয়া আসুক আপনাদের জীবনে,আপনাদের এই ভালবাসা বিকশিত হউক শতদিকে, শতরূপে ।থ্যাংক ইউ মাই ডিয়ার, থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

৩২ thoughts on “হেলমেটবিহীন একখানা ডিফেন্সের গল্প…

  1. ডন দা জাতি জানতে চাই মাইয়া ডা
    ডন দা জাতি জানতে চাই মাইয়া ডা কেডা?আর কি জন্য অপেক্ষা করছিল??? :থাম্বসআপ: :মজালই:

    …..অনেক শুভ কামনা রইল আপনার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য। :থাম্বসআপ:

    1. জাতির সবদিকে কৌতূহল দেখানোর
      জাতির সবদিকে কৌতূহল দেখানোর কি প্রয়োজন?? কিছু কথা থাক না গুপন!! :ভেংচি: :লইজ্জালাগে:

      ধন্যবাদ খাজা ভাই… :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল:

  2. ইয়ে মানে এই উপলক্ষে একটা
    ইয়ে মানে এই উপলক্ষে একটা ট্রিট তো চাইতেই পারি, তাই না???

    যাই হোক পরবর্তী জীবনের জন্য শুভেচ্ছা থাকল… :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

    1. ট্রিটের ব্যাপারে জাতি আপাতত
      ট্রিটের ব্যাপারে জাতি আপাতত চাকরির দিকে তাকায়া আছে… :ভাবতেছি: :জ্ঞান: :আমারকুনোদোষনাই:

      অশেষ কৃতজ্ঞতা ভাই… :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

  3. আই’ম স্পিসলেস !!! ডু ইউ নো
    আই’ম স্পিসলেস !!! ডু ইউ নো হাউ গুড রাইটিং ইট ইজ ???
    অসাম ! অসাম ! অসাম ! রিয়েলি ইটস এ গ্রেট রাইট আপ !
    :salute: :salute: :salute:

  4. একটা স্বাভাবিক জীবনের ক্ষুদ্র
    একটা স্বাভাবিক জীবনের ক্ষুদ্র একটা ঘটনাকে তুমি যে কীভাবে এতটা সুন্দর করে লিখেছ? এক কথায় চমৎকার একটা স্মৃতিচারণ… সহজ সরল কিন্তু চমৎকার পড়তে!! দারুণ :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল:

    ছাত্রজীবনের আংশিক সমাপ্তিতে তোমাকে অভিনন্দন…
    আর কর্মজীবনে স্বাগতম!! :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

  5. আপনার তথাকথিত ডিফেন্সের চাইতে
    আপনার তথাকথিত ডিফেন্সের চাইতে এই লেখায় আপনি কি পরিমাণ পচা ছাত্র তাহা প্রমাণ করিবার নিমিত্তে যে ডিফেন্স দিয়াছেন উহা উত্তম হইয়াছে। এবং আপনি ফেইল মারিয়াছেন। :চোখমারা:
    অভিনন্দন ভ্রাতে :বুখেআয়বাবুল: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  6. অসাধারণ ডন।
    অসাধারণ ডন। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :-B :-B :পার্টি: :মাথানষ্ট:

  7. ডন দা সত্যি তুলনা করা যায়না
    ডন দা সত্যি তুলনা করা যায়না কতটা কঠিন সময় পার ক্করিয়াছেন যদিও আমার ভাবিতেই অবাক লাগিচ্ছে আপনি লাফ দিয়া সিলিং না ছুইয়া একখানা মাইয়া ছুইয়া ফেলিয়াছেন 😀 ইহা সত্যি প্রশংসনীয় …… ওয়েলকাম চাকুরী জীবনে :বুখেআয়বাবুল:

  8. উফ আরেকটা রসের খনি লেখা !
    উফ আরেকটা রসের খনি লেখা ! ক্যামনে লিখো ?
    যা হোক শত চেষ্টা করেও এই লেখায় বাজে ছাত্র হতে না পারার দায় অবশ্যই তোমাকে নিতে হবে । হাহাহাহাহা … শুভ কামনা রইলো ।

  9. কুটিল প্রকৃতির জটিল হইয়াছে।
    কুটিল প্রকৃতির জটিল হইয়াছে। পাঠান্তে বিমলানন্দ লাভ করিয়াছি। রাজা-মহারাজা হুইলে হীরকখচিত আঙ্গুষ্টি (I mean আংটি। আসলে সাধু ভাষায় আংটিকে যে কি বলে আল্লাহই মালুম। তবে আমার আঙ্গুষ্টি শব্দটাও খারাপ না!!!) নিক্ষেপ করিতাম। কিন্তুক তাহা তো হইবার নহে। অতঃপর দুগ্ধের স্বাদ ঘোল দ্বারাই আস্বাদন করিতে হইবে। সুতরাং আঙ্গুষ্টির পরিবর্তে :গোলাপ: নিক্ষেপ করিলাম।

    1. নজরানা সাদরে গ্রহণ করা হইল…
      নজরানা সাদরে গ্রহণ করা হইল… :bow: :bow: আপনার জন্য অশেষ গুলাবের শুভেচ্ছা… :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ফুল: :বুখেআয়বাবুল:

  10. কিছু লাইন কোট করিবার ইচ্ছা
    কিছু লাইন কোট করিবার ইচ্ছা করিতেছিলো। কিন্তু তাহারা বাড়িতে বাড়িতে গোটা পোস্টেই রূপ নিয়া নিলো। :ভালুবাশি:
    হাসিতে হাসিতে মারিয়া ফেলিবার অপরাধে ফাঁসি দিবার কোনো আইন আছে কি? থাকিলে সেই আইনে আমি ডনকে ঝুলাইয়া দিবার চাই! :ক্ষেপছি:
    মেলাদিন পর নিখাদ একখানা রম্য রচনা পড়িলাম :বুখেআয়বাবুল: । দুর্দান্ত স্টাইলে বাক্যের শেল নিক্ষেপ্ করা হইয়াছে। এই রস না খাইয়া রামগরুড়ও ইস্টিশন ছাড়িয়া যাইতে পারিবে না। 😀

    1. হাসিতে হাসিতে মারিয়া ফেলিবার

      হাসিতে হাসিতে মারিয়া ফেলিবার অপরাধে ফাঁসি দিবার কোনো আইন আছে কি? থাকিলে সেই আইনে আমি ডনকে ঝুলাইয়া দিবার চাই!

      আপনি নারী জাতির গৌরব, রুথ আফা। :চশমুদ্দিন: :টেকোবস: আফনে ডনরে পুশি থুক্কু ফাঁসি দিবার চান… :খাইছে: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: তউফা কবুল করো… :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল: :ভালুবাশি: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: 😀

    1. সেইটা অবশ্য আমারও প্রশ্ন…
      সেইটা অবশ্য আমারও প্রশ্ন… :ভাবতেছি: :খাইছে: :মাথানষ্ট: :আমারকুনোদোষনাই:

      গুলাব রইল আপনার জন্য :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *