জোহরা তাজউদ্দীন ও একটি অবহেলিত পরিবার

সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের সহধর্মিনী। অনেকেই তাঁকে চিনেন না। এমন কি যারা আওয়ামীলীগ করেন তারাও! যে জোহরা তাজউদ্দীন আওয়ামীলীগের ক্লান্তি লগ্নে হাল না ধরলে আজকের আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে থাকতো কিনা সন্দেহ আছে।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর ৭৫ পরবর্তী আওয়ামীলীগের হাল ধরার মতো এমন কোন নেতা ছিলো না। শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা তখন নির্বাসিত। আসলেই হত্যা করা হবে এই ভয়ে দেশে আসতে পারছেন না। অন্যান্য নেতারা সবাই নিজেদের বাচানোর জন্য গা ঢাকা দিয়েছিলো। কেউ টু শব্দও করতে পারছেনা আওয়ামীলীগ বা বঙ্গবন্ধুর পক্ষে।


সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের সহধর্মিনী। অনেকেই তাঁকে চিনেন না। এমন কি যারা আওয়ামীলীগ করেন তারাও! যে জোহরা তাজউদ্দীন আওয়ামীলীগের ক্লান্তি লগ্নে হাল না ধরলে আজকের আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে থাকতো কিনা সন্দেহ আছে।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর ৭৫ পরবর্তী আওয়ামীলীগের হাল ধরার মতো এমন কোন নেতা ছিলো না। শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা তখন নির্বাসিত। আসলেই হত্যা করা হবে এই ভয়ে দেশে আসতে পারছেন না। অন্যান্য নেতারা সবাই নিজেদের বাচানোর জন্য গা ঢাকা দিয়েছিলো। কেউ টু শব্দও করতে পারছেনা আওয়ামীলীগ বা বঙ্গবন্ধুর পক্ষে।

তাজউদ্দীন আহমেদ কে সহ জাতীয় চার নেতাকে জেলখানায় নির্মমভাবে হত্যা করার পরও জোহরা তাজউদ্দীন সাময়িক শাসকদের রক্ত চক্ষু কে ভয় পাননি। জীবনের মায়া ত্যাগ করে আওয়ামীলীগকে তিলে তিলে পুনরায় সংঘটিত করেছিলেন। দলের সভাপতি পদে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে নির্বাচিত করা হলেও তিনি সভাপতি হননি।দেশকে নিরাপদ করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং সংঘটিত আওয়ামিলীগের দ্বায়িত্ব দিয়েছিলেন শেখ হাসিনাকে।

তাজউদ্দীন আহমেদ দীর্ঘ নয় মাস সকল বাধা অতিক্রম করে সফলভাবে মুক্তিযুদ্ধের নেত্রীত্ব দিয়েছিলেন। যুদ্ধের পর যখন বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে এসেছেন তখন তাজউদ্দীন আহমেদ আশা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু অন্তত একটি বারের জন্য তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করবেন কিভাবে তার অনুপুস্থিতিতে এতো বড় দ্বায়িত্ব পালন করেছিলেন?
বঙ্গবন্ধু একটি বারের জন্যও জানতে চাননি। স্বাভাবিক ভাবেই বঙ্গবন্ধুর উপর তাজউদ্দীন আহমেদের একটু রাগ ছিলো এবং অনেক কষ্ট পেয়েছিলেন কিছু জানতে না চাওয়ার জন্য। তবে কখনোই বঙ্গবন্ধুর উপর রাগ দেখাতে পারতেন না।

এক সময় খন্দকার মোস্তাক আহমেদ কে বঙ্গবন্ধু বেশি বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন এবং তাজউদ্দীন আহমেদের সাথে আস্তে আস্তে তার দূরত্ব তৈরি করেছিলেন। ক্ষমতা নির্লোভী তাজউদ্দীন আহমেদ নিজের সততা এবং আত্মমর্যাদাকে অপমান করতে পারেননি।বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী সভা থেকে পদত্যাগ করে নিজের ব্যাক্তিত্ব কে প্রতিষ্ঠিত করেছিলে”ন।

বঙ্গবন্ধুর বাসা থেকে শেষ বারের মতো বেড়িয়ে যাবার সময় কান্না বেজা কন্ঠে বঙ্গবন্ধু কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “শত্রু মিত্র এখনো আপনি চিনতে পারেননি। একদিন আপনার মিত্ররাই আপনার কাল হবে।”
তাজউদ্দীন আহমেদের মতো দূরদর্শী নেতা দ্বিতীয় কেউ ছিলো না। ঠিকই কিছুদিন পর বঙ্গবন্ধু কে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে।যে হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশকে পাল্টে দিয়েছে।স্বাধীনতা কেই পরাধীনতার নরক বানিয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তাজউদ্দীন আহমেদ আক্ষেপ করেছিলেন এই ভেবে যে তিনি জেনে যেতে পারলেন না তার শত্রু কে আর মিত্র কে।

আওয়ামীলীগ থেকে অনেক ভাবে বঞ্চিত হয়েছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ। এখনো একই ভাবে তাজউদ্দীন পরিবার আওয়ামীলীগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তখন শত্রু কে মিত্র কে বঙ্গবন্ধু চেনেননি এখন শেখ হাসিনাও শত্রু মিত্র চিনেন না। যার কারনে তাজউদ্দীন আহমেদের ছেলে সোহেল তাজকে শেখ হাসিনার মন্ত্রী সভা থেকে পদত্যাগ করতে হয়। নিরবে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয় জোহরা তাজউদ্দীন কে।

নিরবে কাজ করে যাওয়া মানুষকে পৃথিবী মনে রাখে না। এটাই হতো নিয়ম।

আওয়ামীলীগ মনে রাখুক আর না রাখুক, আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠায় জোহরা তাজউদ্দীনের অবদান কখনো ভুলার নয়। তিনি শারীরিক ভাবে চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে কিন্তু তার মনন সাহসিকতা এবং কর্ম কখনোই চলে যাবেনা। আমাদেরকে তার রেখে যাওয়া কর্মই প্রতিমুহুর্তে সাহস ও প্রেরণা যোগাবে।

তিনি ভালো ছিলেন। ওপারে ভালো থাকবেন। জোহরা তাজউদ্দীনরা কখনোই খারাপ থাকেন না।

৩ thoughts on “জোহরা তাজউদ্দীন ও একটি অবহেলিত পরিবার

  1. জোহরা তাজউদ্দিন সম্পর্কে অনেক
    জোহরা তাজউদ্দিন সম্পর্কে অনেক ছোট থেকেই শুনতাম……কোন এক সময় তিনি আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন, সেসময় আমার আম্মু অসুস্থ ছিলেন। তিনি আম্মুর মাথায় হাত বুলিয়ে আম্মুর অরোগ্য কামনা করেছিলেন।

    …..যেদিন জোহরা তাজউদ্দিন মারা যাই সেদিনও আম্মু জোহরা তাজউদ্দিনের স্মৃতিচারণ করছিলেন।অসাধারণ একজন মানুষ ছিলেন তিনি।এই মহিয়সী নারীর প্রতি শ্রদ্ধা :স্যালুট:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *