ছাইয়ের গল্প

আবার বছর ঘুরে এলো পহেলা বৈশাখ। দাদুর হুক্কার টান আর দিদিমার তামাক সাজা উঠানের এক কোণে বসে দেখছে চুলার ছাই। তার বয়স মাত্র একদিন। একদিন আগে সে ছিল একখন্ড গাছের ডাল, বাড়ির কত্রী তাকে কেটে এনে উঠানের এক কোণায় স্থান দেন। পিচ্চি ছেলেটা তাকে নিয়ে একবার তাড়া করেছিল বাছুরকে, ভাতে মুখ দেবার অপরাধে। তার ছিল ভয়ঙ্কর একটা স্বাস্থ্যবান শরীর, গর্ব করত সে এইটা নিয়ে। বাছুর ও কুকুরের জন্য সে ছিল মুর্তিমান আতঙ্ক। গতকাল দুপুরে তার সেই স্বাস্থ্যবান শরীর চুলার আগুনে পুড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়, শরীরের অন্য অংশগুলো কই আছে সে জানেনা। হতভাগাকে এখন থাকতে হচ্ছে ঘুটে ছাই এর সাথে। যেই বাছুরকে তাড়ানোর জন্য তাকে ব্যবহার করা হত, তার এখন থাকতে হচ্ছে সেই বাছুরের মলের সাথে, ভেবে সে খুব বিরক্ত। ঘুটেছাই এর বয়স মাত্র তিনঘন্টা। চোখ পিট পিট করে সে দেখছে অগ্রজ কাঠপোড়া ছাইকে। ‘এরকম হা করে তাকিয়ে কি দেখছিস?’ তাকে জিজ্ঞেস করল কাঠপোড়া ছাই। ‘তোমাকে দেখছি দাদা, তোমার চেহারা একটুও বদলায়নি।’ ঘুটেপোড়া ছাই বলল।
‘মর হতভাগা, তোর বাবাকে কতো ঠেঙ্গিয়েছি, আর এখন তুই আমার চেহারা নিয়ে মজা নিস?’ বলে কাঠপোড়া ছাই।
‘ধুর, দাদা। মজা নিলাম কই? সত্যিই তো, শুধু চেহারা না, তোমার স্বভাব ও একটুও বদলায়নি’- প্রত্যুত্তর শুনে কাঠপোড়া ছাইয়ের নিজেকে অসহায় লাগল। কোন দুষ্টকে শিক্ষা দেবার জন্য আর কখনো তাকে কেউ হাতে তুলে নিবেনা। শুধু তাই নয়, একটু পর তাকে ঝেটিয়ে বিদায় করা হবে এই বাড়ির আঙ্গিনা থেকে। তবুও তার সেই পুরনো স্বভাব কেন যেন সে ছাড়তে পারছে না।
‘প্রতিদিন কি পরিমাণ দুর্গন্ধ ছড়াতিস তুই, এইজন্য তোর আব্বাকে নিয়মিত পেটানো হত আমার দ্বারা। ভুলে বসে আছিস ঘুটে?’
‘না একটুও ভুলিনি দাদা, আমাকে জ্বালিয়ে খাবার রান্না করা হয়েছে ভেবে আমি গর্বিত। আমার ভাইদের সবাইকে জমিতে ব্যবহার করা হয়েছে সার হিসেবে, সেই উর্বর জমি চাষ করতে ব্যবহার করা হবে আমার বাবাকে। আমি কয়েক পুরুষ ধরে মানুষের সেবা করে যাচ্ছি, সভ্যতার সেবা করে যাচ্ছি।’
‘হাহ! তুই কখনো কাউকে পিটিয়েছিস? মানে তোকে পেটানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কখনো? জীবনে যে পেটানোর সুখ পায়নি, তার আবার জীবন নিয়ে গর্ব! তোর জীবনের ষোলআনাই বৃথা রে ঘুটে।’
‘হ্যা, আমাকে দিয়ে কেউ কাউকে পেটায়নি। এইটা ভেবে আমার খুব ভালো লাগছে। খোকাকে একবার বেত দিয়ে পিটিয়েছিল মাস্টারমশাই, খোকার সে কি কান্না! আমি এখনো ভুলতে পারিনা। একবার জমিদারের পেয়াদা বোউ-বাচ্চার সামনে আচ্ছামতো পেটালো ওপাড়ার জমিরকে। জমিরের অপরাধ কি ছিল জানিনা, কিন্তু জমিরের চারবছর বয়সী মেয়েটা বাবাকে চোখের সামনে মার খেতে দেখে হাউমাউ করে কাঁদছিল, জমিরের ছেলেটা বাবাকে বাচাতে এলে তাকেও চার ঘা দেয়া হলো। ইস, জমিরের বউটা পেয়াদার পায়ে পর্যন্ত পড়ল।’
‘হয়েছে, তোমার আর নীতিবাক্য ঝাড়তে হবেনা’- রীতিমতো বিরক্ত কাঠপোড়া ছাই। একটু দূরে বসে পুরো কথোপকথন শুনছিল সবচেয়ে বয়োজ্যোষ্ঠ কয়লাপোড়া ছাই। প্লাস্টোসিন যুগ থেকে অধিক চাপে পাতালে থাকতে থাকতে কুচকুচে কালো কয়লা একসপ্তাহ আগে পুড়ে ছাই হয়েছে। এই উঠোনে আজ তার শেষ দিন এটা সে জানে, তাকে যখন উঠানে ফেলা হয়, তখন আর কোন ছাই ছিল না। বাসায় উৎসব উৎসব আমেজ, বাড়ির কর্তা মমিনের দোকানে আজ হালখাতা। গিন্নী পায়েস রাঁধছেন, তৈরী হচ্ছে নতুন কিছু ছাই, তাদের সহ বাসার বাইরে বের করে দেয়া হবে একটু পর কয়লাছাইকে। বাড়িটার প্রতি মায়া জন্মে গেছে কয়লার। পিচ্চিটা রোজ এসে লাঠি দিয়ে ঘুটাঘুটি করে তাকে কিছুক্ষণ, কিছু একটা লেখার চেষ্টা করে, আবার মুছে ফেলে। বাছুরটা মুখ দিয়ে খাবার খুঁজে চলে যায়। আসলে অবুঝ বাচ্চাটা ছাড়া কারো তেমন কোন কাজে লাগেনা এই ছাই। বাচ্চাটা অনেক কিছু নিয়ে খেলাধুলা করে, তার বেশ কিছু খেলনা আছে, কিছু খেলনা বর্ণমালা, কিছু খেলনা গাড়ি- কিন্তু বাচ্চাটার ঝোক কেন যেন এইসব আবর্জনার দিকে। ছাই,কাদা, ধুলা মাখামাখি বাচ্চাটাকে যখন গোসল করাত মা, তখন তাকে চোখভরে দেখত কয়লাছাই। এখনো ছাই না হওয়া তার কিছু ভাইকে নিয়ে একবার মাখামাখি হয়ে বাচ্চাটা কালো হয়ে গেল, কি অদ্ভুত লাগছিল। কিন্তু চুলায় পোড়ানোর কাঠ দিয়েই বাচ্চাটাকে পেটালো ওর মা এজন্য।
লাঠি জিনিসটা মানুষ কারণ ছাড়াই ব্যবহার করে- কয়লা বলল।
‘এইটা কি বললে তুমি খুড়ো?? হঠাত প্রতিবাদী হয়ে ওঠে কাঠপোড়া ছাই। ‘লাঠি যদি না থাকত তাহলে দুষ্টকে দমন করত কিভাবে মানুষ? আর দুষ্টকে দমন না করলে সভ্যতা কিভাবে সামনের দিকে যাবে?’
‘আমি বাপু অতশত বুঝিনা। যাদের মারা হয় তাদের চেহারা দেখে আমার খারাপ লাগে।’
‘তুমি এখনো প্রাগৈতিহাসিক যুগে আছো খুড়ো। আসলে মানুষের ভালোর জন্যই মানুষকে টুকটাক শাসন করতে হয়’- বেশ জ্ঞানীজ্ঞানী ভাব নিয়ে বলে উঠল কাঠপোড়া ছাই। এমনসময় একটা ঝাড়ু নিয়ে বাড়ির পরিচারিকা এগিয়ে এল তাদের দিকে। প্রথমেই ঝাড়ু দিয়ে কাঠপোড়া ছাই আর ঘুটেছাইকে এক করা হল, তাদের নিয়ে ফেলা হল কয়লাছাই এর উপর। শেষমেষ একটা পাত্রে করে তাদের নিয়ে বাইরে একটা বেকারির ছাই এর মধ্যে ফেলা হল, পরিচারিকা বেশীদুর যায়নি তাদের ফেলতে, তার আরো অনেক কাজ পড়ে আছে।
বেকারীর ছাইগুলো স্মার্ট হবার চেষ্টা করছিল ওদের সাথে, বাসাবাড়ির ছাই, দুনিয়ার কিছুই দেখেনাই। ‘কিরে ভাই, তোমরা কোত্থেকে উদয় হলে? বেকারীর কয়লাপোড়া ছাই প্রশ্ন করল ওদের।’
কাঠপোড়া ছাই উত্তর দিল, ‘দোকানদার মমিনের বাসার চুলার ছাই আমরা। একদিন আগে আমি পুড়ে ভষ্ম হয়েছি। দাদা, এইদিকটাতে কি চোরের উৎপাত খুব??’
‘চোরের উৎপাত যতই হোক, ছাইভষ্ম নেবার জন্য অন্তত চোরেরা কোথাও হানা দেয়না।’- একটূ দূর থেকে চেচিয়ে বলে উঠল হুক্কার তামাকপোড়া ছাই।
‘দেশের বিচারব্যবস্থা বেশ নাজুক এখন, তা না হলে কেউ চুরি করার সাহস পেতনা।’- বলে ওঠে কাঠপোড়া ছাই।
এমনসময় একজন জ্ঞানীগুণী অথচ উদাসীন চেহারার মানুষের হাতের সিগারেট থেকে টুপ করে ওদের সামনে পড়ল সিগারেটের ছাই। ‘আসলে বিচারব্যবস্থার দোষ না অর্থনৈতিক বৈষম্যের দোষ তা আমাদের ভাবতে হবে’। কাঠপোড়ার মুখ থেকে কথা কেড়ে নিল সদ্য জন্মানো সিগারেটের ছাই। ‘দেশের সব মানুষ যদি খেতে পারত, পরতে পারত, তাইলে কি আর চুরির দরকার হতো? হতনা। কিন্তু তা তো হয়না। ফসল ফলায় যারা, তারাই খেতে পায়না। এজন্যইতো মানুষ ফসল ফলানো থেকে চুরিবিদ্যা আত্মস্থ করাকেই মনে করে লাভজনক।’
নবীন সিগারেটের ছাই এর এইধরণের জ্ঞানগর্ভ কথাবার্তা সহ্য হয়না বেকারীর ছাই এর। ‘তুই এইখানে কি লেকচারবাজি করতে আসছিস? দেখ, এইগুলো যদি করিস আমাদের মধ্যে থাকতে পারবিনা, আমরা জ্বলেপুড়ে শেষ হয়ে গেছি, আমাদের আর জ্বালাতন করতে পারবিনা তুই।’ চুপ করে গেল সিগারেটের ছাই। এইসব গন্ডমুর্খের সাথে তর্ক করা বৃথা সে বুঝতে পেরেছে। সামনে রাস্তা দিয়ে শাড়ি পরে ছোটছোট মেয়েরা হেঁটে যাচ্ছে, দেখতে ভালো লাগছে। তাদের মধ্যে জমিরের মেয়েটাকেও দেখল ঘুটেছাই। কথায় কথায় হাসছে, অথচ এই হাসিমুখ চোখের জলে ভিজে একাকার হতে দেখেছে ঘুটে যখন ওর বাপকে মারছিল পেয়াদারা। একটুপর নতুন জামা পরে খোকা বের হল।
‘বাবু, জামা কে কিনে দিয়েছে? আব্বু?’ বেকারির এক কর্মচারী জিজ্ঞেস করে খোকাকে।
‘না, নানা কিনে দিয়েছে।’ খোকা উত্তর দিল নির্বিকারভাবে। তারপর হেঁটে চলে গেল সে ছাইগুলোকে পাশ কাটিয়ে। দেশের মানুষ এখনো পহেলা বৈশাখে উৎসব করে, এইটা খুব ভালো লাগে কয়লাছাই এর। বরাবরই নবান্ন, পহেলা বৈশাখের মতো উতসবে কয়লার চাহিদা বেড়ে যায় বাড়িতে বাড়িতে। গ্রামের অনেক বাড়িতে এখন গ্যাসের চুলায় রান্না হয়, কিন্তু বিয়েবাড়ি কিনবা উৎসবের দিনে কয়লার বিকল্প এখনো নেই।
সন্ধ্যা হলেই গ্রামের রাস্তাগুলো কেমন ফাকা হয়ে যায়। গ্রামে একটাই পাকা রাস্তা, রাস্তার পাশে বেকারি, তার পিছে ছাইগুলো জমে আছে। ‘ছাইগুলো ফেলে আসতে হবে’- বেকারীর ম্যানেজার বলল কর্মচারীকে।
‘কাল সকালে মনে করে ফেলে আসিস।’
রাত বাড়তে থাকে। ফাকা হয়ে যায় রাস্তাঘাট। ছাইগুলো পড়ে থাকে। আজ তারা বেশ শান্ত ছিল সারাদিন। উড়ে গিয়ে কারো চোখে পড়েনি। তারপরও তন্বী নামের একটা মেয়ে তাদের উপর অপবাদ দিয়েছে যে তারা তার চোখে পড়েছে। আসলে তন্বী তখন কাঁদছিল, কিজন্য কেউ জানেনা। কিন্তু নিশ্চিতভাবেই কান্নাকে আড়াল করতেই বান্ধবী রত্নাকে তন্বী বলেছিল তার চোখে ছাই গেছে।
ছাই এর উপর চাঁদের আলো পড়ছে। জোছনা এসে আরেকবার ঝলসে দিচ্ছে পোড়া ছাইগুলোকে।চাঁদের আলোয় পুড়তে পুড়তে কয়লাপোড়া ছাই দেখল, তাদের দিকে একটা আট বছর বয়সী মেয়ে এগিয়ে আসছে।
মেয়েটার শরীরের জামাকাপড় বলে দিচ্ছে মেয়েটা কোন অবস্থাসম্পন্ন ঘরের মেয়ে নয়, বরং যাকে বলা যায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো মেয়ে। সাথে একটা কুকুর, কুকুরটা মেয়েটার পায়ে পায়ে হাটছে। মেয়েটার শরীর বেশ নোংরা, চুলগুলো লালচে। ‘কোথা থেকে আসছে হতচ্ছাড়াগুলা’-ভাবছে কাঠপোড়া ছাই, ‘যাক, আজও একদফা ঘাটাঘাটি হবে’-ভাবল বেকারীর ছাই।’সব দোষ অর্থনৈতিক বৈষম্যের’- ভাবল সিগারেটের ছাই। মেয়েটা হাটু গেড়ে বসল ছাই এর পাশে। একমনে সে ছাই দেখছে। হঠাত কয়লাপোড়া ছাই দেখল, তার সামনে যেন মেয়েটা নয়, আকাশের চাঁদটা নেমে এসেছে, তার দিকে তাকিয়ে আছে। সিগারেটের ছাই দেখল, চাঁদটা একটা ঝলসানো রুটি হয়ে নেমে আসছে, কুকুরটার আর মেয়েটার খিদে মেটানোর জন্য। আর ঘুটে ছাই দেখল, মেয়েটা মিটীমিটি হাসছে, যেন বলছে, দেখ, এইভাবে স্বাধীন থাকলে মানুষ কতো সুখে থাকে।
হুক্কার ছাই বুঝতে পারে, মেয়েটা এই পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চের খুবই নগন্য, উচ্ছিষ্ট একটা চরিত্র। অনেকটা তাদের মতোই, গুরুত্বপূর্ণ কেউ হলে ছাই এর দিকে ফিরেও তাকাতোনা। হয়তো তাকাত, তারপর গা বাঁচিয়ে তাদের পার হয়ে যেত।
মেয়েটা আঙ্গুল দিয়ে ছাই নাড়ানাড়ি করল কিছুক্ষণ, তারপর খিলখিল করে হাসল। ‘খিদা লাগছে?’ সাথের কুকুরটাকে জিজ্ঞেস করল মেয়েটা। কুকুরটা মেয়েটার গা ঘেঁষে এসে বসল।’চল যাইগা, দেখি কিছু খাইতে পাই কিনা’ বলে মেয়েটি উঠে হাঁটা দিল, সাথে কুকুরটাও। মেয়েটা গুনগুন করে কি যেন একটা গান গাইছে আর হাসছে। তার হাসি প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসছে। মেয়েটার আঙ্গুলের আঁকিবুঁকি রয়ে গেল ছাই এর উপর।
পরদিন সকালে বেকারির ম্যানেজার খুব চিল্লাপাল্লা করল কর্মচারীদের সাথে।’কতোবার বলছি একটাকিছু দিয়ে কারখানার পেছনের ফাকটা বন্ধ কর, আজ রুটী নিছে কাল কেক নিবে’
‘কিভাবে বুঝব ভাই এতটূক ফাক দিয়ে কেউ কিছু নিতে পারে? রুটি তো লাঠি দিয়ে বের করতে পারবেনা, হাত ঢুকাতে হবে। আর ওই ফাক দিয়ে সরু লাঠিই অনেক কস্টে ঢোকে, হাত তো দূরের কথা।’ কর্মচারী বলে কাচুমাচু হয়ে। এমনসময় গতদিনের সেই জ্ঞানীগুনী অথচ উদাসীন টাইপের লোকটা এল সেখানে।
‘ গত একঘন্টা রুটি চেয়ে বসে আছি। রুটি হবেনা বলে দিতেন, চলে যেতাম’- বললেন উদাসীন লোকটা। খুব সহজে তার ধৈর্যচ্যুতি ঘটেনা, কর্মচারীকে ম্যানেজার বকাবকি করছে দেখেই মূলত কৌতুহলবসত তার উঠে আসা।
‘আর বলেননা ভাই, দেশে চোর ছ্যাচড়ার উৎপাত যা বাড়ছে, বেকারী থেকে কেউ পাউরুটির প্যাকেট চুরি করছে, যদি ধরতে পারতাম, আচ্ছামতো দিতাম।
জ্ঞানীলোকটার চোখ হঠাৎ চলে যায় ছাই এর উপর। অনেকখানি ছাই এর উপর কে যেন আঙ্গুল দিয়ে মানুষের মাথার মতো কিছু একে রেখেছে, আনাড়ি হাতে লিখেছে একটা শব্দ, ‘মুক্তি’। অপরাধী নিজের নাম লিখে রেখে গেছে ছাই এর উপর,আর কেউ খেয়াল করেনি সেটা।
গত রাতে জোছনায় পুড়ে দ্বিতীয়বারের মতো ভষ্ম হয় ছাইগুলো। তাদের আজ নদীতে ফেলা হবে। তারপর হয়তো তাদের অস্তিত্ব থাকবেনা। কিন্তু তাদের অস্তিত্ব যে গত রাতে একটা শব্দ বিলীন করে দিয়েছে, তা তারা জানতে পারেনা। তারা জানতে পারেনা, গতরাতে তাদের শরীরে অঙ্কিত হয়েছে এমন একটা শব্দ, যার প্রতীক্ষায় গোটা সভ্যতা প্রহর গুনছে সহস্রাব্দের বেশী সময় ধরে।
হঠাত একটা ভিখারী ভাঙ্গাগলায় গান গাইতে গাইতে ছাইগুলোর পাশ দিয়ে হেঁটে গেল। ছাইগুলো তন্ময় হয়ে শুনতে থাকে সেই গান…

৮ thoughts on “ছাইয়ের গল্প

Leave a Reply to অন্ধকারের যাত্রী Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *