সাক্ষাৎকার।একটি চিরন্তন স্মৃতিঃ প্যাট্রিসিয়া গাজম্যানস এর “নস্টালজিয়া ফর দ্যা লাইট”

মূলঃ Indiewire ম্যাগাজিন থেকে সংগৃহীত।
সাক্ষাৎকারটি ২০১১সালের ডিসেম্বরের ৪ তারিখে প্রকাশিত হয়।

প্যাট্রিসিয়া গাজম্যান চিলির একজন তথ্যচিত্র নির্মাতা। তার সর্বশেষ তথ্যচিত্র, “নস্টালজিয়া ফর দ্যা লাইট” ২০১১ সালের মার্চ মাসের ১৮ তারিখে নিউ ইয়র্কের আই এফ সি সেন্টারে প্রথমবার প্রদর্শিত হয়।

মূলঃ Indiewire ম্যাগাজিন থেকে সংগৃহীত।
সাক্ষাৎকারটি ২০১১সালের ডিসেম্বরের ৪ তারিখে প্রকাশিত হয়।

প্যাট্রিসিয়া গাজম্যান চিলির একজন তথ্যচিত্র নির্মাতা। তার সর্বশেষ তথ্যচিত্র, “নস্টালজিয়া ফর দ্যা লাইট” ২০১১ সালের মার্চ মাসের ১৮ তারিখে নিউ ইয়র্কের আই এফ সি সেন্টারে প্রথমবার প্রদর্শিত হয়।
প্যাট্রিসিয়া গাজম্যান, পিনোচেটের অভ্যুত্থান করে ক্ষমতায় আসার ঘটনাবলী বর্ননা করে নির্মিত তার মহাকাব্যিক ত্রিলজি তথ্যচিত্র “দ্যা বেটল অফ চিলি” এর মাধ্যমে ১৯৭০ সালে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। এই তথ্যচিত্রটি এর নির্মাতাকে নতুন করে বিকাশ লাভ করা ল্যাটিন আমেরিকান চলচ্চিত্রের অন্যতম পুরোধা ব্যাক্তিত্ব, স্বাধীন গন আন্দোলনগুলোতে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এবং সামাজিকভাবে সচেতন একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে যে ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোকে চলচ্চিত্রের সম্ভাবনার মধ্যদিয়ে চ্যালেঞ্জ, প্রশ্নবিদ্ধ এবং ব্যাখ্যা করে।

“নস্টালজিয়া ফর দ্যা লাইট” সম্ভবত গাজম্যানের এখন পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে শক্তিশালী তথ্যচিত্র। এটা যেমনভাবে অন্তর্বীক্ষণিক ঠিক তেমনিভাবে মহা-বৈশ্বিকও বটে, গাজম্যানের লেন্স স্মৃতি, ইতিহাস, চিরন্তনতা এবং মহাবিশ্বের পারস্পারিক ছেদবিন্দুকে চিলির আটাকামা মরুভূমির মধ্যে খুঁজে ফেরে। সে এখানে উপস্থাপন করে জ্যোতির্বিদদেরকে যারা এই মহাবিশ্বের উৎপত্তি বোঝার জন্য এবং পিনোচেটের একনায়কত্বের নৃশংস নির্যাতনের শিকার হয়েও বেঁচে থাকা সেই সমস্ত উপদ্রুত মানুষদের মূল জায়গাটি ধরার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যায়, যখন তারা তাদের ভালোবাসার মানুষগুলোর দেহাবশেষ খুঁজে বেড়ায়। এই মরুভূমিটি দেখতে নক্ষত্রগুলোর সাথে অতুলনীয়ভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ। এছাড়াও এটা অসংখ্য অচিহ্নিত মানুষের গনকবর হিসেবে কুপ্রসিদ্ধ হয়ে আছে যেখানে পিনোচেটের নির্যাতনের শিকার মানুষদের লাশ এনে ফেলা হয়েছিল।
গাজমেনের প্রশ্নগুলোর উত্তর, হয় পুরো-মহাবিশ্বের মধ্যে ছড়ানো-ছিটানো অথবা মরুভূমির বালির নীচে চাপা পড়া। সাক্ষ্য-প্রমাণাদিগুলো অসম্পূর্ণ, একপেশে এবং অনিশ্চায়ক। সে উন্মোচিত করে যে, একমাত্র বাস্তব সত্য কেবল অতীতবিধুরতার(the nostalgia) মধ্যেই বাস করে। গাজমেনের জন্য, অগ্রগতি এমন কোন ধারনা নয় যা অতীতের বাইরে ঘোরাফেরা করে এবং ভবিষ্যতের উপর নিবদ্ধ হয়, তবে তা চিলির একনায়কত্বের প্রেতাত্মার সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে অতীতকে মেনে নিয়ে।
এই দুই খন্ডের সাক্ষাৎকারে, তথ্যচিত্র নির্মাতা তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র সমন্ধে উপরন্তু ল্যাটিন আমেরিকান চলচ্চিত্রের বর্তমান সময় এবং প্রামান্যচিত্রকে যে ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয় সেগুলো সমন্ধে কথা বলেছেন।

কি এমন যা আটাকামা মরুভূমির ব্যাপারে আপনাকে আগ্রহী করে তোলে?
অনেকদিন ধরেই আমি চাচ্ছিলাম, আটাকামা মরুভূমি সমন্ধে একটি তথ্যচিত্র নির্মান করতে। অবশেষে যখন সুযোগটি হাতের কাছে এল তখন আমি মরুভূমিটির পর্যবেক্ষনে চারটি বছর ব্যয় করি; এটার সমন্ধীয় সবকিছু আমি খুঁজে পাই খনি অঞ্চল এবং মানমন্দির(observatories) থেকে। আমি বেশ কিছু বছর ধরেই সেখানকার এই নারীদের সমন্ধে জানতাম। আশির দশকে তারা বেশ পরিচিত হয়ে উঠে, যখন একশ সদস্য বিশিষ্ট একটি স্বেচ্ছাসেবক-বাহিনী সন্ধানী দলের ত্রিশজন মূল সন্ধানকারীর সাথে যোগ দেয়। গনকবরের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার প্রত্যাশায় তারা মরুভূমিটি তন্ন তন্ন করে খুঁজে বেড়ায়। ইতিমধ্যে তাদের অনেকেই মারা গেলে, তারা পনেরজনের কাছাকাছি নেমে আসে যারা পরবর্তী সময়েও তাদের সন্ধানকার্য অব্যাহত রাখে।
কিভাবে আপনি এই চারবছরের গভেষণা কার্যটি সম্পন্ন করলেন এবং সত্যিকারভাবেই তথ্যচিত্রটি নির্মান করে ফেললেন?

আমি কাজটি শুরু করি চিত্রনাট্য রচনার মধ্য দিয়ে। আমি সর্বদাই একটি চলচ্চিত্রের নির্মানকার্য শুরু করার আগে প্রচুর লেখি কারন আমার কাছে মনে হয় বিষয়বস্তুর উপর তোমার প্রচুর বোঝা-পড়া থাকা ভালো যাতে করে তুমি পরবর্তীতে এটা নিয়ে যা খুশি তাই করার স্বাধীনতায় নিজেকে পর্যবসিত করতে পারো। এখানে আসল বিপদটি হল মাঝে মাঝেই তুমি এমন কিছু কল্পনা করে বসতে পারো বাস্তবে যার আসলে কোন অস্তিত্ব নেই। একজন হয়তো প্রবলভাবে উৎসাহী হয়ে উঠল এবং অস্তিত্ব থাকতে পারে এমন কিছুর সাথে সংযোগ তৈরী করতে শুরু করে দিল তবে তুমি তো জানো না তারা নিঃসন্দেহে অস্তিত্বময় কি না। সুতরাং প্রথমেই যেটা করেছি তা হল দুইটা মাস আমি কাটিয়েছি মরুভূমিতে এটা দেখতে যে আমার যে ধারনাগুলো ছিল সেগুলো সত্য কি না।
এই চলচ্চিত্রে আপনার বিষয়বস্তু অনেক চমৎকার। এগুলোকে আপনার নিজের মধ্যে ফুটিয়ে তুলতে আপনি কি বিশেষভাবে কিছু করেছেন?
আমার চলচ্চিত্রের মধ্যে মানুষজনের নিকট থেকে সুনির্দিষ্ট কোন উত্তর আদায় করতে তাদেরকে চেপে ধরতে পছন্দ করি না। সাক্ষাৎকারটি কোন দিকে অগ্রসর হচ্ছে এটা বুঝতে না দিয়েই আমি তাদের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলি। নির্মাতারা যখন সুনির্দিষ্ট কিছু প্রশ্নের উত্তর- যেগুলো তারা খুঁজছে, সেগুলোকে- পাওয়ার জন্য সাক্ষাৎকার দাতা ব্যক্তিকে চেপে ধরে তখন আমার ভালো লাগেনা, আমার কখনই মনে হয় না যে তথ্যচিত্রে এ ধরনের কিছু ঘটা উচিত।
মরুভূমিতে তথ্যচিত্রটির চিত্রগ্রহন করতে সবচেয়ে বড় বাঁধা ছিল কোনটি? অথবা সেটের বাইরে প্রকল্পটি নিয়ে কি ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়েছিল?

আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ ছিল দুইটা। প্রথমটা হচ্ছে অর্থ জোগাড় করা। যখন আমি এই প্রকল্পটি টেলিভিশন স্টেশনগুলোতে দাখিল করি, তারা এটাকে মোটেই বুঝতে পারেনি। আমরা আঠারটি টেলিভিশন স্টেশনের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হই। আজকের দিনের প্রোগ্রামাররা চিন্তাহীন বিষয়বস্তুতে অনেক বেশী অভ্যস্ত এবং ফলে তুমি যদি তাদের কাছে দার্শনিক/ অধিবিদ্যামূলক/ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোন কাজ নিয়ে যাও তাহলে তারা ভাববে তুমি পাগল হয়ে গেছো। আমরা শুধুমাত্র যা শুনেছি তা হল “ না, না, না,” যতক্ষন পর্যন্ত না আমরা অল্পসংখ্যক কিছু নানা ধরনের উৎস থেকে টাকা জোগাড় করতে সমর্থ হই, তবে এটা আমাদের পুরো বাজেটকে মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। আমার স্ত্রী(যে প্রযোজকের দায়িত্বটি পালন করে), আমাদের নির্বাহী প্রযোজক এবং আমাকে কোন ধরনের বেতন গ্রহন ছাড়াই তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করতে হয়েছে। অন্যথায় তথ্যচিত্রটি নির্মিত হত না।
দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জটি ছিল ভ্যালেন্টিনা, সেই যুবতী নারীটি যে তথ্যচিত্রটির শেষের দিকে উপস্থাপিত হয়। সে আমাকে বলে যে, আমাদের প্রকল্পটি তার পছন্দ হয়েছে তবে সে তার কাহিনী জনসম্মুখে প্রকাশ করার জন্য প্রস্তুত না। আমি তাকে বললাম, আচ্ছা ঠিক আছে তবে তাকে অনুরোধ করলাম এই বলে যে যেহেতু একটি তথ্যচিত্র নির্মান করতে প্রচুর সময় লাগে ফলে সে আমাদের আমাদের ক্যামেরার সামনে কথা বলতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে সে আমাকে জানাতে পারে যদি তখনও সে এই প্রক্রিয়ার মধ্যে এই বিষয়ে অস্বস্তি বোধ করে। চলচ্চিত্রটির প্রথম অংশ শেষ করার পর আমাদের ফুটেজগুলো দেখাতে তার কাছে গেলাম এবং সে তৎক্ষণাৎ রাজী হয়ে গেল। তাকে এই প্রকল্পে নিয়ে আসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার ছিল, তাকে ছাড়া এই তথ্যচিত্রটি শেষ করা যেত না।
যদিও আপনার এই তথ্যচিত্রটি(আক্ষরিকভাবেই) মহা-বৈশ্বিক বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করে, তারপরেও বলা যায় এটা অপরিহার্যভাবেই চিলি সমন্ধে একান্ত নিজস্ব একটি চলচ্চিত্র। কেন আপনি এই চলচ্চিত্রটিকে চিলির সাথে প্রাসঙ্গিক অন্য কোন বিষয়বস্তুর বদলে জ্যোতির্বিদ্যার মধ্য দিয়ে উপস্থাপন করেছেন?

কারন জ্যোতির্বিদ্যা হচ্ছে মনোমুগ্ধকর একটা বিষয়। আমাদের নিজস্ব অস্তিত্বের সাথে মহাবিশ্বের অস্তিত্বকে তুলনা করার জন্য এটাই হচ্ছে একমাত্র পথ। আমরা একা নই, আমরা মহাবিশ্বের অঙ্গীভূত, এটা বলার জন্যও এটা একটা মোক্ষম রাস্তা। আমরা যে জিনিস দিয়ে তৈরী, নক্ষত্রগুলোও সেই একই জিনিস দিয়ে প্রস্তুত। প্যারিসে থাকাকালীন সময়ে আমি গ্রহাণুপুঞ্জের উপর একটা বই কিনেছিলাম এবং হাড়ের ছবি তোলা শুরু করেছিলাম, তাদের মধ্যকার মিলগুলো দেখতে এই দুটিকে তুলনা করে দেখেছিলাম। তারা যে কি পরিমান একই ধরনের তা দেখে আমি সম্মোহিত হয়ে গিয়েছিলাম। সুতরাং আমরা যখন সান্তিয়াগোতে এই চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহন করছিলাম, আমরা একটি মাথার খুলি চেয়ে নিয়েছিলাম এবং এটার সকল ছোট ছোট হাড়ের টুকরোগুলোর ছবি তুলে রেখেছিলাম। যা আমি জানতাম না তা হল “লাস কাম্পানাস” এ আমরা খুঁজে পাব জ্যোতির্বিদ জর্জ প্রেস্টনকে যে ইতিমধ্যে এমন একটি নক্ষত্রপুঞ্জ নিয়ে গভেষনা কার্য চালাচ্ছে যেটি ক্যালসিয়াম দিয়ে তৈরী; যা আমাদের মেরুদন্ডের মধ্যে খুঁজে পাওয়া ক্যালসিয়ামের মত।

৫ thoughts on “সাক্ষাৎকার।একটি চিরন্তন স্মৃতিঃ প্যাট্রিসিয়া গাজম্যানস এর “নস্টালজিয়া ফর দ্যা লাইট”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *