শুভ জন্মদিন জাফর স্যার।


গভীর রাতে কান্নার শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল আয়েশা ফায়েজের। শঙ্কিত মন নিয়ে তাড়াহুড়ো করে ঘর থেকে বের হয়ে এলেন তিনি। এসে দেখেন তাঁর মেজো ছেলে ইকবাল কাঁদছে। সেই কান্নার শব্দে আস্তে আস্তে বাড়ির সবার ঘুম ভেঙ্গে গেল এবং সবাই উঠে এলেন ইকবালের কাছে। ইকবাল কাঁদছে কারণ- আশি বছর পর তাকে মরে যেতে হবে। ঘুমাতে যাবার আগে তার বাবা তার হাত দেখে বলেছেন- “তুমি তো দীর্ঘজীবী। প্রায় আশি বছর আয়ু তোমার।” আশি বছর পর সে মরে যাবে, এ কথা ভাবতেই ইকবালের কান্না পাচ্ছে। ইকবালের কান্না দেখে তার বাবা আবার তার হাতটা টেনে নিয়ে ভাল করে দেখলেন এবং তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, ‘তুমি একশ বছর বাঁচবে।’ একশ সংখ্যাটি বালক ইকবালের কাছে অনেক বেশি মনে হওয়ায় মুহুর্তেই খুশি হয়ে উঠল সে।

সেদিনের ইকবাল নামের সেই ছোট্ট ছেলেটিই আজ বাংলাদেশের অন্যতম লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। যার লেখক হওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু সেই মানুষটিই লেখালেখি দিয়ে তৈরি করেছেন দেশজোড়া খ্যাতি। জাফর ইকবালের প্রথম প্রকাশিত লেখা ‘ছেলেমানুষ’ নামে একটি গল্প। সায়েন্স ফিকশন তিনি লিখবেন এমন কোন ইচ্ছা তখনও মনের গোপনে স্থায়ী বাসা বাঁধেনি। ‘কপোট্রনিক ভালোবাসা’ গল্পটি অল্প একটু লেখা হয়েছে এমন সময়ে বড়ো ভাই হুমায়ূন আহমেদ এলেন, দেখলেন, পড়লেন। মুখে বললেন, ‘তুই নিজে লিখেছিস না ট্রানস্লেট করেছিস?’ গল্পটির লেখক উত্তরে জানালেন যে, তিনি নিজেই লিখেছেন। বড়ভাই হুমায়ূন আহমেদ ছোটভাই-এর চমত্‍কার লেখায় মনে মনে সেদিনই মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, ‘বেশ ভালো হচ্ছে।’ ওই শুরু। কিন্তু ‘কপোট্রনিক ভালোবাসা’ গল্পটি তখনকার একমাত্র ম্যাগাজিন ‘বিচিত্রা’-তে প্রকাশিত হলে এক পাঠক প্রতিবাদ জানায় যে, লেখাটি নকল করে লেখা। বিষয়টি জাফর ইকবালের আত্মসম্মানে লাগে। আসলে এটি একটি রোবটের গল্প। তিনি এর প্রতিবাদ করার জন্য অভিনব পদ্ধতি বের করলেন। আরো কয়েকটি সায়েন্স ফিকশন লিখে কপোট্রনিক সিরিজ করলেন। নকল করে তো একটা লেখা যায় কিন্তু অনেকগুলো লেখা যায় না। বের হলো তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘কপোট্রনিকের সুখ দুঃখ’। এর পরপরই ‘হাত কাটা রবিন’-এর কাজ শেষ করেন। তারপর ‘দীপু নাম্বার টু’, ‘তিন্নী ও বন্যা’, ‘নয় নয় শূন্য তিন’, ‘জলমানব’, ‘অবনীল’সহ আরও অনেক মজার মজার বই শিশু-কিশোররা জাফর ইকবালের কাছ থেকে পেতে থাকে। এভাবে শিশু-কিশোরদের জন্য একের পর এক বই সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যের ভুবনে জাফর ইকবাল হয়ে ওঠেন এক অবশ্যম্ভাবী নাম।

জাফর ইকবালের ‘দীপু নাম্বার টু’-উপন্যাসের কাহিনী অবলম্বনে মোরশেদুল ইসলাম-এর তৈরি চলচ্চিত্র খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে দস্যি দু’জনসহ বেশকিছু জনপ্রিয় নাটকের রচয়িতা জাফর ইকবাল। বিটিভির সিসিমপুরের নিয়মিত লেখক তিনি।

কেবল শিশুসাহিত্য নয় জাফর ইকবাল কলম ধরেছেন বড়দের জন্যও। ফলে একজন কলামিস্ট জাফর ইকবালের কলম অথবা কলাম আমাদের জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে সমাজকে দেখিয়েছে পথ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় তাঁর লেখনি সোচ্চার হয়ে ওঠে। জাফর ইকবাল কখোনোই সমাজের অসংগতিগুলোকেও নীরবে মেনে নেননা। কানসার্টে পুলিশের গুলিতে নিহত কিশোর আনোয়ারের রক্ত মাখা শার্ট নিয়ে তাঁর অনবদ্য কলাম কারো চোখ এড়িয়ে যায়নি। শিক্ষকদের অনশন বিষয়ে কারো যখন মাথাব্যথা ছিল না তখন তাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে জাফর ইকবালের কলাম। এস.এস.সি.-তে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি খারাপ ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নিয়ে আবার শংকিত হয়ে কলামও তিনি লিখেছেন। যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবীতে শাহবাগে যে গন জোয়ারের সৃস্টি সেখানেও তিনি প্রেরণা যুগিয়েছিলেন নবপ্রজন্মের অভিভাবক হয়ে। গত ২৬ নভেম্বর গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরিক্ষা ব্যাবস্থা বাতিলের প্রতিবাদে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্ত্রী সহ স্ব স্ব পদ থেকে সড়ে দাঁড়ান ড. জাফর ইকবাল। এছাড়াও, শাবির ভর্তি পরীক্ষায় সিলেটিদের জন্য ৫০% কোটা বরাদ্দের জন্য রাজনৈতিক চাপেরও তীব্র প্রতিবাদ করেন। তার পদত্যাগ পত্রের খবরে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ক্যাম্পসে আন্দোলন শুরু করে। তারা জাফর ইকবালকে পদত্যাগ সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসার অনুরোধ জানায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. আমিনুল হক ভুঁইয়াও জাফর ইকবাল দম্পতিকে একই অনুরোধ করেন।

পরে একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে স্বমন্বিত পরীক্ষা পদ্ধতি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিলে তারা পদত্যাগ পত্র তুলে নেন।

তিনি যেমন রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিরোধীতা করেছেন,তেমনি পাকিস্তানের পার্লামেন্টে কাদের মোল্লার রায় সংক্রান্ত নিন্দা প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।তিনি বার বার প্রমান করেছেন তিনি যেন সমাজের মানুষকে সচেতনতার দিকে এগিয়ে নিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

ছেলেবেলায় প্রচুর বই পড়ার নেশা ছিল জাফর ইকবালের। স্বপন কুমার, দস্যু বাহারাম, মাসুদ রানাসহ দেশি-বিদেশী অনেক লেখকের বই পড়তে পড়তে বড় হয়েছেন তিনি। আর এসব বই পড়তে পড়তে একসময় তিনি লেখালেখি শুরু করেন। তিনি পড়ার এই অভ্যাসটা পেয়েছেন বাবা ও তাঁর বড় ভাই জনপ্রিয় সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের কাছ থেকেই। কারণ তাঁদের নেশার বড় একটা অংশ জুড়ে ছিল বই পড়া। ছেলেবেলা থেকে একটা সম্পদের ছড়াছড়ি দেখে বড় হয়েছেন জাফর ইকবাল, আর তা হলো বই।

জাফর ইকবালের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া থানার কুতুবপুরে। কিন্তু সেখানে স্থির থাকেননি তিনি। বাবা পুলিশ অফিসার হওয়ায় ছেলেবেলা কেটেছে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঘুরে। বাবার চাকরির সুবাদে বাবা-মা এবং ভাইবোনদের সাথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল দেখার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সিলেটের কিশোর মোহন পাঠশালায় পড়াশুনার শুরু হলেও সেখানে বেশি দিন স্থির হননি। বাবার বদলির কারণে ঘুরতে হয়েছে বিভিন্ন স্কুলে। চলতি পথে অনেক সহপাঠীদের সাথে হয়েছে বন্ধুত্ব। সিলেটের বেশ কয়েকটি স্কুল ঘুরে চলে যান জগদ্দল, দিনাজপুর। সেখান থেকে চলে যান পঞ্চগড়। তারপর প্রথমে রাঙামাটি, পরে বান্দরবান। বান্দরবান থেকে চট্টগ্রাম। এরপর যান বগুড়া, সেখান থেকে কুমিল্লা। কুমিল্লা থেকে সোজা পিরোজপুর। সেখানে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। সব শেষে চলে আসেন ঢাকায়। জাফর ইকবালের নিজের ভাষায় – “দীপু নাম্বার টু- বই-এ দীপু যেসব জায়গায় গিয়েছিল আমার স্কুলগুলোর নাম ওইখানে দেওয়া আছে।”

বিভিন্ন স্কুল ঘুরে মাধ্যমিক পাশের পর উচ্চ মাধ্যমিকে এসে স্থির হন ঢাকা কলেজে। উচ্চ মাধ্যমিক সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে পদার্থ বিজ্ঞানে ভর্তি হন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭৩ সালে অনার্সে দুই নম্বরের ব্যবধানে প্রথম শ্রেণীতে ২য় স্থান অধিকার করেন এবং ১৯৭৪ সালে লাভ করেন মাস্টার্স ডিগ্রি।

যুক্তরাষ্ট্রেPh.D. করার সুযোগটাও মেধা দিয়ে জয় করেছিলেন জাফর ইকবাল। সে সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অধ্যাপকেরা ফেলোশিপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে আসতেন সদ্য স্বাধীনতা লাভ করা বাংলাদেশে। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকেরা ভাইভা নিতে এলে অনেকের সাথে জাফর ইকবালও সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কয়েকমাস পরের ঘটনা। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে Ph.D. করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠায়। ঠিক করেন যুক্তরাষ্ট্র যাবেন। কিন্তু যাবেন যে, সমস্যা হলো প্লেন ভাড়া। এতগুলো টাকা কোথায় পাবেন! জাপান প্রবাসী এক বন্ধু এগিয়ে এলেন। সেই বন্ধুর কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে জাফর ইকবাল পৌঁছলেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে মেধাবী ছাত্র হিসেবে ব্যাপক পরিচিতির সাথে সাথে ১৯৮২ সালে এক্সপেরিমেন্টাল ফিজিক্সে অর্জন করলেন Ph.D. ডিগ্রি। তাঁর বিষয় ছিল – ‘Parity violation in Hydrogen Atom.

Ph.D. ডিগ্রি অর্জনের পর একজন তরুণ বিজ্ঞানী হিসেবে আমেরিকায় পেশাগত জীবন শুরু করেছিলেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তরুণ সফল গবেষকের স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন ছিল যুক্তরাষ্ট্রে। পনেরো বছরের নিশ্চিন্ত জীবন ছিল তাঁর। উপার্জনও ছিল অনেক ভালো। কিন্তু অন্যদেশে রাজার মতো জীবন কাটাতে তাঁর মন টানেনি। মাতৃভূমিতে ফেরার জন্য ছটফট করেছেন প্রতি মুহূর্তে। স্বজনেরা দেশে ফিরে আসতে না করেছেন বারবার। সেই সময় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন দীর্ঘসময়ের বন্ধু, স্ত্রী ইয়াসমিন হক। বিদেশের মাটিতে নানা সময়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- University of Washington- এ Research Assistant হিসেবে ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের Caltech- এ Research Faculty তে ছিলেন ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত। ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত কৃতিত্বে সঙ্গে ‘Member of Technical staff ‘- এর দায়িত্ব পালন করেছেন Bell Communications Research এ। এরপর পরই মাতৃভূমির টানে স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে নিয়ে দেশে চলে আসেন। বর্তমানে তিনি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এণ্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব ছাড়াও তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সেন্টারের পরিচালকের পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের Research Journal ‘SUST Studies’ এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। Research Initiatives Bangladesh এবংFreedom Foundation এর বোর্ড মেম্বার হিসেবে আছেন। ‘বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ‘Bangladesh Informatics Olympiad Committee-র প্রেসিডেন্ট পদে আসীন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

বাঙালি জাতিকে গল্পের মাধ্যমে বিজ্ঞানমনস্ক করে তুলতে জাফর ইকবালের অবদান অনস্বীকার্য। এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি দেশপ্রেমিক, ইতিহাস সচেতন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বল মানুষ তৈরি করার ক্ষেত্রেও এই ব্যক্তিত্বের অবদান আজ সর্বজনবিদিত। যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি তাদের জন্য জাফর ইকবাল ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোন’ নামে এক কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। তাঁর মতে- নিজের দেশকে চিনতে হবে, জানতে হবে এই দেশটির বাংলাদেশ হয়ে ওঠার সঠিক ইতিহাস। আর ইতিহাস জানা মানেই শুধু কিছু দিন, তারিখ এবং কিছু মানুষের নাম মুখস্থ করা নয়। শুধুমাত্র এ জন্যই এতগুলো জীবন থেকে রক্ত ঝরেনি। নতুন প্রজন্মের কাছে তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্বলিত তথ্য নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধকে অনুভব করাতে, তাদের উপলদ্ধিতে সেদিনের ত্যাগ, বীরত্ব, নির্যাতনের নির্মমতা সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে শুরু করেছিলেন এই অভিনব কার্যক্রম। আর এই অনুষ্ঠানটি অসম্ভব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধারা এই অনুষ্ঠানে এসে শিশু-কিশোরদের সামনে স্বীয় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে। শিশু-কিশোররা বিভিন্ন প্রশ্ন করে, মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নানা বিষয় নিয়ে কথা বলে। নতুন প্রজন্ম সেইসব দিন মনের জগতে কল্পনায় সাজিয়ে নেয়, উপলদ্ধি করে।

একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণসচেতনা সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। সচেতন সমাজের সমর্থন আদায় করে এটি প্রতিরোধ করেন জাফর ইকবাল। দেশের সাধারণ মানুষ, শিক্ষক সবাই তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছিল। সাংবাদিক সম্মেলন করে, কলাম লিখে দেশের মানুষকে একমুখী শিক্ষা সম্পর্কে তথ্য দিয়ে শিক্ষার সর্বনাশ রোধ করতে সমর্থ হয়েছেন। আবার জাফর ইকবাল গণিতের মতো কঠিন বিষয়ের ওপর সাধারণ জনগণের আগ্রহ তৈরি করেছেন। গণিতের সাথে যেন বাঙালিদের আড়ি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের গণিতের সাথে দুরত্ব নিজেই উপলদ্ধি করেছেন। কিন্তু ভালো বিজ্ঞানী বা ভালো প্রকৌশলী হতে হলে বিজ্ঞানের পাশাপাশি ভালোভাবে অংকের ওপর দক্ষতার প্রয়োজন। তাই অংক ভীতি দূর করতে বন্ধু কায়কোবাদকে সাথে নিয়ে প্রথমদিকে শিশু-কিশোরদের জন্য ‘দৈনিক প্রথম আলো’-তে গণিত বিষয়ে পাঁচটি করে প্রশ্ন দিতেন। ‘দৈনিক প্রথম আলো’তে ‘এই নিউরনে অনুরণন’ নামের এই অংশটি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। পরে এ দলে মুনির হাসান যোগ দেন।

ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের গণিতে আগ্রহী করার জন্য পরবর্তীতে শুরু করেন ‘গণিত অলিম্পিয়াড’ কার্যক্রম। ধীরে ধীরে এই গণিত অলিম্পিয়াড কার্যক্রমটি গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা মহা উত্‍সাহ নিয়ে জটিল জটিল অংকের সমাধান করছে। মুখে তৃপ্তির হাসি নিয়ে তাই দেখতে গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে চলেছেন জাফর ইকবাল। তিনি শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। কখনো প্রশ্ন জটিল হলে চিন্তিত হয়ে পড়ছেন এই ভেবে যে, কঠিন দেখে ছেলে-মেয়েরা যদি উত্‍সাহ হারিয়ে ফেলে। আবার ছেলে-মেয়েদের ‘অংক’ বিষয়ে উত্‍সাহ দিতে ‘আমি তপু’র মতো গল্পও লিখেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড-এ অংশগ্রহণ করছে। গণিত অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে তিনি এদেশের শিশুকিশোরদের মনে তৈরি করেছেন গণিতের প্রতি ভালোবাসা। দূর করেছেন গণিতের প্রতি মানুষের আজীবনের ভয়। আজ তারা গণিতের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে নিজেদের স্বপ্নকে দূরদূরান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার সাহস দেখাতে পারছে।

লেখক জাফর ইকবালের সাহিত্যিক জীবনে ছড়িয়ে আছে প্রেরণার এবং মজাদার অনেক কাহিনী। প্রেরণার একটি হলো- ১৯৭৫ সালের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এক পত্রিকায় শহীদ বাবাকে নিয়ে একটা আর্টিকেল লিখেছিলেন তিনি। লেখাটি প্রকাশের কিছুদিন পরেই বাংলা সাহিত্যের আরেক স্তম্ভ আহমেদ ছফার সাথে রাস্তায় দেখা। তিনি জাফর ইকবালের রিকশা থামিয়ে বললেন, “তোমার লেখাটা আমার ভালো লেগেছে। নাও, এক টাকা নাও।” লেখা থেকে সেই প্রথম উপার্জন। জাফর ইকবাল সেদিন অসম্ভব প্রাণিত হয়েছিলেন অগ্রজের এই স্বীকৃতিতে। অপরদিকে মজার কাহিনী হলো তাঁর জন্মদিন এবং পিতৃদত্ত নামটি নিয়ে। প্রত্যেক মানুষের তো জন্মদিন একটা। তাঁর কিন্তু দু’টো। স্কুলের শিক্ষকেরা জাফর ইকবাল নামের ছাত্রটির জন্ম তারিখের স্থানে ১৯৫৩ সালের ৩ অক্টোবর দিয়ে দেন। তবে তিনি নিজের সাহিত্যকর্মে বা সাক্ষাত্‍কারে আসল জন্মদিনটা উল্লেখ করেন। আর সেটা ভাষা আন্দোলনের বছর, ১৯৫২-র ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের মীরা বাজারে। দুই জন্মদিনের বিষয়টা বেশ উপভোগ করেন জাফর ইকবাল। নামের ক্ষেত্রে হয়েছে আরেক ঘটনা। আগে নামের বানানে তিনি ‘মোহাম্মদ’ লিখতেন। আহমেদ ছফা তাঁকে বললেন, “এভাবে লিখলে চলবে না। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ যেভাবে লেখে সেভাবে লেখো।” তারপর থেকে নিজের নামের বানানে ‘মুহম্মদ জাফর ইকবাল’ লিখতে শুরু করেন।

শুধুমাত্র দেশেই নয় ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল দেশের বাইরেও একটি পরিচিত নাম। আর তাঁর সে পরিচয়টা বিজ্ঞানী হিসেবে। এক্সপেরিমেন্টাল পদার্থবিদ্যায় তাঁর দক্ষতা ও মেধার স্ফূরণ দেখে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড্যামলেট তাঁকে নিজের সঙ্গে কাজ করার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ক্যালটেকের বেল ল্যাবরেটরিতে তাঁর সহকর্মী ছিলেন বারোজন নোবেল লরেট। তিনি নিযুক্ত ছিলেন ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ে তৈরির কাজে। তাঁর উদ্ভাবিত টাইম প্রজেকশন সুইজারল্যান্ডের এক পাহাড়ের নিচে বহুদিন যাবত্‍ ডাটা সংগ্রহের কাজ করছে। গবেষণার কাজকে প্রচণ্ড আনন্দদায়ক বলে মনে হয় এই গবেষকের কাছে। বিজ্ঞানী জাফর ইকবাল Electronics, Computer Science and Engineering, Bangla Computerization, Networking, Non-Linear Optics এবং পদার্থ বিজ্ঞানের ওপর বিভিন্ন গবেষণামূলক কাজ করেছেন।

এই সফল মানুষটির জীবনেও রয়েছে বেদনার গভীর ক্ষত। যে বেদনাকে তিনি ধারণ করেন গর্বের সাথে। ঘটনাটি ১৯৭১ সালের। বাঙালি জাতির স্বাধীনতার বছর। জাফর ইকবাল তখন প্রায় আঠারো বছরের তরুণ। ১৯৭১ সালে তাঁর বাবার পোস্টিং ছিল পিরোজপুরে। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করার অপরাধে তাঁর পুলিশ অফিসার বাবাকে পাকবাহিনী ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করার পর মৃতদেহ ফেলে দেয় ধলেশ্বরীর পানিতে। পিরোজপুর ভাটি অঞ্চল। নদীর জোয়ার ভাটায় সেই মৃত শরীর একবার এদিক আরেকবার ওদিক ভেসে বেড়াচ্ছিল। কখনও ঠেকে যাচ্ছিল পাড়ে। নদী থেকে সেই মৃত শরীরটি তুলে আশপাশের মানুষজন নদীর পাড়েই দাফন করে। আর জুতো জোড়া রেখে দেয় পরিবারের লোকজনকে দেখানোর জন্য। যুদ্ধ শেষে জাফর ইকবাল বাবার মৃতদেহ শনাক্ত করে মায়ের কাছে নিয়ে আসে। তাই মুক্তিযুদ্ধ মানেই বাবাকে হারিয়ে ফেলার কষ্ট, আর কোনদিন বাবাকে দেখতে না পাওয়ার গভীর যন্ত্রণা।

নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া থানার বিখ্যাত পীর জাঙ্গির মুনশি’র ছেলে মৌলানা আজিমুদ্দিন মুহম্মদ জাফর ইকবালের দাদা। তিনি ছিলেন একজন উঁচুদরের আলেম এবং মৌলানা। জাফর ইকবালের বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ অফিসার এবং মা গৃহিনী। তিন ভাই দুই বোনের মাঝে তিনি দ্বিতীয়। তাঁর বড়ভাই বাংলাদেশের লেখালেখির ভুবনে প্রবাদ পুরুষ হুমায়ূন আহমেদ। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট এবং রম্য লেখক। দেশের একমাত্র রম্য পত্রিকা উন্মাদ’ এর কার্যনির্বাহী সম্পাদক। জাফর ইকবালের স্ত্রী ইয়াসমীন হক। ব্যক্তিগত জীবনে ড. ইয়াসমীন হক জাফর ইকবালের সহপাঠী। তিনিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে এম.এ. শেষে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি থেকে Ph.D. করেছেন। এখন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন। এই দম্পতির দু’সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে নাবিল ইকবাল এবং একমাত্র মেয়ে ইয়েশিম ইকবাল।

জাফর ইকবাল ২০০২ সালে কাজী মাহবুবুল্লা জেবুন্নেছা পদক পান। ১৪১০-এ খালেদা চৌধুরি সাহিত্য পদক লাভ করেন। ২০০৩ সালে লাভ করেন শেলটেক সাহিত্য পদক। এরপরের বছর অর্থাত্‍ ২০০৪ সালে শিশু সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাফর ইকবালকে ইউরো শিশুসাহিত্য পদক দেওয়া হয়। জনগণের ভোটের মাধ্যমে ২০০৫ সালে জীবিত ১০ জন শ্রেষ্ঠ বাঙালির মধ্যে জাফর ইকবালের নাম উঠে এসেছে। ২০০৫ সালে তাঁর সাহিত্য জিতে নেয় মোহা. মুদাব্বর-হুসনে আরা সাহিত্য পদক। এই বছরই মার্কেন্টাইল ব্যাংক তাঁকে সম্মাননা পদক প্রদান করে। একই বছরে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বড় স্বীকৃতি জাফর ইকবালের ভাণ্ডারে জমা হয়। বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০০৫ লাভ করেন তিনি। ২০০৫ সালে আমেরিকা এ্যালামনি এসোসিয়েশন পদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ্যালামনি এসোসিয়েশন পদক ২০০৫ লাভ করেন।

তিনি কখনই অন্যায় এর সাথে আপোষ করেননা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় সোচ্চার হয়ে ওঠেন তাঁর লেখনীর মাধ্যমে। সমাজে কোনো অন্যায় দেখার সাথে সাথে তাঁর কলম সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করে ওঠে। আর এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাঁর বাড়িতে বোমা মারা হয়েছে। পাঠানো হয়েছে কাফনের কাপড়। ছেলেবেলায় একদিন যে বালকটি মৃত্যু ভয়ে ভীত হয়ে কেঁদে সারা হয়েছিল বড় হয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাঁকে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সাথে পথ চলতে হচ্ছে। কিন্তু তিনি একমুহুর্তের জন্যও থেমে যাননি। হাজারও হুমকি-ধামকি আর কাফনের কাপড়ের মধ্যে বাস করেও ছেলেবেলার সেই ছোট্ট ইকবাল মৃত্যু ভয়ে ভীত না হয়ে পথ চলছেন নির্ভয়ে। আর অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বলিষ্ঠ কন্ঠে।

সংক্ষিপ্ত জীবনী:
জন্ম: জাফর ইকবালের প্রকৃত জন্ম তারিখ ১৯৫২ সালের ২৩ ডিসেম্বর। এ দিনটিতেই তিনি জন্মগ্রহণ করেন। মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় শিক্ষকরা নিজেদের খেয়াল খুশিমতো সেটা করেছেন ১৯৫৩ সালের ৬ অক্টোবর। আর শিক্ষকদের দেওয়া এই তারিখটিই তাঁকে বহন করতে হয়েছে সব সার্টিফিকেটে, পাসপোর্টে এবং সবধরনের দাপ্তরিক কাজে।

বাবা-মা: জাফর ইকবালের বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন একজন পুলিশ অফিসার এবং আয়েশা ফায়েজ গৃহিনী। তিন ভাই দুই বোনের মাঝে তিনি দ্বিতীয়।নন্দিত কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদ ও উন্মাদ পত্রিকার সম্পাদক আহসান হাবীব তার ভাই।

পড়াশুনা: সিলেটের কিশোর মোহন পাঠশালায় পড়াশুনার শুরু হলেও সেখানে বেশি দিন স্থির হননি। বাবার বদলির কারণে ঘুরতে হয়েছে বিভিন্ন স্কুলে। বিভিন্ন স্কুল ঘুরে মাধ্যমিক পাশের পর উচ্চ মাধ্যমিকে এসে স্থির হন ঢাকা কলেজে। উচ্চ মাধ্যমিক সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে পদার্থ বিজ্ঞানে ভর্তি হন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭৩ সালে অনার্সে দুই নম্বরের ব্যবধানে প্রথম শ্রেণীতে ২য় স্থান অধিকার করেন এবং ১৯৭৪ সালে লাভ করেন মাস্টার্স ডিগ্রি। এরপর ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৮২ সালে এক্সপেরিমেন্টাল ফিজিক্স অর্জন করলেন Ph.D. ডিগ্রি। তাঁর বিষয় ছিল – ‘Parity violation in Hydrogen Atom.

কর্মজীবন: Ph.D. ডিগ্রি অর্জনের পর একজন তরুণ বিজ্ঞানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত জীবন শুরু করেছিলেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। বিদেশের মাটিতে নানা সময়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- University of Washington- এ Research Assistant হিসেবে ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর Caltech- এ Research Faculty তে ছিলেন ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত। ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত কৃতিত্বে সঙ্গে ‘Member of Technical staff ‘- এর দায়িত্ব পালন করেছেন Bell Communications Research এ। এরপর পরই মাতৃভূমির টানে স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে নিয়ে দেশে চলে আসেন। বর্তমানে তিনি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এণ্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব ছাড়াও তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সেন্টারের পরিচালকের পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের Research Journal ‘SUST Studies’ এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। Research Initiatives Bangladesh এবংFreedom Foundation এর বোর্ড মেম্বার হিসেবে আছেন। ‘বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ‘Bangladesh Informatics Olympiad Committee-র প্রেসিডেন্ট পদে আসীন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে: জাফর ইকবালের স্ত্রী ইয়াসমীন হক। ব্যক্তিগত জীবনে ড. ইয়াসমীন হক জাফর ইকবালের সহপাঠী। তিনিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে এম.এ. শেষে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি থেকে Ph.D.করেছেন। এখন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন। এই দম্পতির দু’সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে নাবিল ইকবাল এবং একমাত্র মেয়ে ইয়েশিম
ইকবাল।
উল্লেখযোগ্য রচনাবলী :
উপন্যাস :

আকাশ বাড়িয়ে দাও (১৯৮৭)

বিবর্ণ তুষার (১৯৯৩)

দুঃস্বপ্নের দ্বিতীয় প্রহর (১৯৯৪)

কাচসমুদ্র(১৯৯৯)

সবুজ ভেলভেট (২০০৩)

ক্যাম্প (২০০৪)

মহব্বত আলীর একদিন (২০০৬)

ছোট গল্প :

একজন দুর্বল মানুষ-(১৯৯২)

ক্যাম্প

ছেলেমানুষী-(১৯৯৩)

নুরূল ও তার নোটবই-(১৯৯৬)

মধ্যরাত্রিতে তিন দূর্ভাগা তরুণ-(২০০৪)

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী :

কপোট্রনিক সুখ দুঃখ (১৯৭৬)
মহাকাশে মহাত্রাস (১৯৭৭)
ক্রুগো (১৯৮৮)
ট্রাইটন একটি গ্রহের নাম (১৯৮৮)
বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিস্কার (১৯৯২)
ওমিক্রমিক রূপান্তর (১৯৯২)
টুকুনজিল (১৯৯৩)
যারা বায়োবট (১৯৯৩)
নি:সঙ্গ গ্রহচারী (১৯৯৪)
ক্রোমিয়াম অরণ্য (১৯৯৫)
ত্রিনিত্রি রাশিমালা (১৯৯৫)
নয় নয় শূন্য তিন (১৯৯৬)
অনুরণ গোলক (১৯৯৬)
টুকি ও ঝায়ের (প্রায়) দুঃসাহসিক অভিযান (১৯৯৭)
পৃ (১৯৯৭)
রবো নগরী (১৯৯৭)
একজন অতিমানবী (১৯৯৮)
সিস্টেম এডিফাস (১৯৯৮)
মেতসিস (১৯৯৯)
ইরন (২০০০)
জলজ (২০০০)
ফোবিয়ানের যাত্রী (২০০১)
প্রজেক্ট নেবুলা (২০০১)
ত্রাতুলের জগৎ (২০০২)
বেজি (২০০২)
শাহনাজ ও ক্যাপ্টেন ডাবলু (২০০৩)
সায়রা সায়েন্টিস্ট (২০০৩)
ফিনিক্স (২০০৩)
সুহানের স্বপ্ন (২০০৪)
অবনীল (২০০৪)
নায়ীরা (২০০৫)
বিজ্ঞানী অনিক লুম্বা (২০০৫)
রুহান রুহান (২০০৬)
জলমানব (২০০৭)
অন্ধকারের গ্রহ (২০০৮)
অক্টোপাসের চোখ (২০০৯)
ইকারাস (২০০৯)
রবোনিশি (২০১০)
প্রডিজি (২০১১)
কেপলার টুটুবি (২০১২)
ব্ল্যাক হোলের বাচ্চা (২০১৩)

কিশোর সাহিত্য কিশোর উপন্যাস :

হাতকাটা রবিন-(১৯৭৬)
দীপু নাম্বার টু (উপন্যাস)-(১৯৮৪) (চলচ্চিত্র রূপ, ১৯৯৬)
দুষ্টু ছেলের দল-(১৯৮৬)
আমার বন্ধু রাশেদ-(১৯৯৪) (চলচ্চিত্র রূপ, ২০১১)
টি-রেক্সের সন্ধানে-(১৯৯৪)
স্কুলের নাম পথচারী-(১৯৯৫)
জারুল চৌধুরীর মানিকজোড়-(১৯৯৫)
রাজু ও আগুনালির ভুত-(১৯৯৬)
বকুলাপ্পু-(১৯৯৭)
বুবুনের বাবা-(১৯৯৮)
বাচ্চা ভয়ংকর কাচ্চা ভয়ংকর-(১৯৯৮)
নিতু ও তার বন্ধুরা-(১৯৯৯)
মেকু কাহিনী-(২০০০)
শান্তা পরিবার-(২০০২)
কাজলের দিনরাত্রি-(২০০২)
কাবিল কোহকাফী-(২০০৩)
দস্যি ক’জন-(২০০৪)
আমি তপু-(২০০৫)
লিটু বৃত্তান্ত-(২০০৬)
লাবু এল শহরে-(২০০৭)
বৃষ্টির ঠিকানা-(২০০৭)
নাট বল্টু-(২০০৮)
মেয়েটির নাম নারীনা-(২০০৯)
রাশা-(২০১০)
আঁখি এবং আমরা ক’জন-(২০১১)
দলের নাম ব্ল্যাক ড্রাগন-(২০১১)
রাতুলের রাত রাতুলের দিন-(২০১২)
রূপ-রূপালী-(২০১২)
ইস্টিশন-(২০১৩)
গাব্বু-(২০১৩)

কিশোর গল্প :

আমড়া ও ক্র্যাব নেবুলা-(১৯৯৬)
আধুনিক ঈশপের গল্প-(১৯৯৬)
তিন্নি ও বন্যা-(১৯৯৮)

শিশুতোষ :

বুগাবুগা-(২০০১)
সাগরের যত খেলনা-(২০০২)
রতন-(২০০৮)
ঘাস ফড়িং-(২০০৮)
হাকাহাকি ডাকাডাকি-(২০০৮)
ভূতের বাচ্চা কটকটি-(২০১১)

ভ্রমণ ও স্মৃতিচারণ :

আমেরিকা-(১৯৯৭)

সঙ্গি সাথী পশু পাখি-(১৯৯৩)
আধ ডজন স্কুল-(১৯৯৬)
তোমাদের প্রশ্ন আমার উত্তর-(২০০৪)
রঙিন চশমা-(২০০৭)
আরো প্রশ্ন আরো উত্তর-(২০১২)

বিজ্ঞান ও গনিত বিষয়ক :

দেখা আলো না দেখা রূপ-(১৯৮৬)
বিজ্ঞানের একশ মজার খেলা-(১৯৯৪)
নিউরণে অনুরণন-(২০০২)
নিউরণে আবারো অনুরণন-(২০০৩)
গনিত এবং আরও গণিত-(২০০৩)
আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড: প্রশ্ন ও উত্তর-(২০০৪)
একটু খানি বিজ্ঞান-(২০০৭)
গণিতের মজা মজার গণিত-(২০০৭)
থিওরি অফ রিলেটিভিটি-(২০০৮)
কোয়ান্টাম মেকানিক্স-(২০০৯)
আরো একটু খানি বিজ্ঞান-(২০১০)

কলাম সংকলন :

দেশের বাইরে দেশ-(১৯৯৩)
সাদাসিধে কথা-(১৯৯৫)
নিঃসঙ্গ বচন-(১৯৯৮)
প্রিয় গগন ও অন্যান্য-(১৯৯৯)
হিমঘরে ঘুম ও অন্যান্য-(২০০০)
পৃথিবীর সৌন্দর্য এবং আলফ্রেড সরেন-(২০০১)
২০৩০ সালের একদিন ও অন্যান্য-(২০০২)
দুঃস্বপ্নের রাত এবং দুর্ভাবনার দিন-(২০০৩)
এখনো স্বপ্ন দেখায়-(২০০৪)
ক্রসফায়ার এবং অন্যান্য-(২০০৫)
আরো একটি বিজয় চাই-(২০০৬)
ভবদহের গল্প এবং অন্যান্য-(২০০৭)
বৈশাখের হাহাকার ও অন্যান্য-(২০০৮)
স্বপ্নের দেশ ও অন্যান্য-(২০০৯)
ঢাকা নামের শহর ও অন্যান্য-(২০১০)
এক টুকরো লাল সবুজ কাপড়-(২০১১)
বদনখানি মলিন হলে-(২০১২)
রাজনীতি নিয়ে ভাবনা ও অন্যান্য-(২০১৩)

ভৌতিক সাহিত্য :

প্রেত-(১৯৮৩)
পিশাচিনী-(১৯৯২)
নিশিকন্যা-(২০০৩)
ছায়ালীন-(২০০৬)
ও-(২০০৮)
দানব-(২০০৯)
তথ্যসূত্র :
১। ড.মুহম্মদ জাফর ইকবাল -উইকিপিডিয়া
২। গুনিজন পোর্টাল
৩। তানজিনা হোসেন ও সিমু নাসের (ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০০২ খ্রিস্টাব্দ)। “নতুন প্রজন্ম: বই ও অন্যান্য”। ছুটির দিনে, দৈনিক প্রথম আলো (প্রিন্ট) (বাংলা ভাষায়) (ঢাকা)। পৃ: ৫, ৬।

৫২ thoughts on “শুভ জন্মদিন জাফর স্যার।

  1. শুভ জন্মদিন হে আলোর পথের
    শুভ জন্মদিন হে আলোর পথের দিশারী… :পার্টি: :পার্টি: :bow: :bow: :বুখেআয়বাবুল: বেঁচে থকুন আমাদের মাঝে হাজার বছর… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে যান আলোকমালা… :bow: :bow: :bow: :গোলাপ:

  2. দুনিয়াতে কিছু মানুষ আসেন
    দুনিয়াতে কিছু মানুষ আসেন অন্ধকার দূর করার জন্য, আর কিছু মানুষ আসেন আলোকিত দুনিয়াকে অন্ধকার করার জন্য। স্যার হচ্ছেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি দুনিয়াকে আলোকিত করার পাশাপাশি আমাদের ভিতর লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনাকে জন্ম দেন॥

  3. শুভ জন্মদিন জাফর স্যার । যা
    শুভ জন্মদিন জাফর স্যার । যা কিছু ভালো তার সাথে চিরোদিন আপনি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন এই কামনাই করি ।

  4. হাতে গোনা গুটিকয়েক মহান
    হাতে গোনা গুটিকয়েক মহান ব্যক্তি আছে যারা নিজের জন্যে না মানুষের জন্যে বেঁচে থাকেন জাফর ইকবাল স্যার তেমনি একজন মহান মানুষের নাম। স্যার আপনার বেঁচে থাকা, বাঙলায় ফিরে আশা এই প্রজন্মকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে নিজের দেশকে ভালবাসতে শিখিয়েছে। আপনি বেঁচে থাকবেন আপনার কাজের মাঝে চেতনার মাঝে, ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।। শুভ জন্মদিন স্যার…
    অফুরন্ত স্যালুট স্যারকে… :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:
    আর শঙ্খনীল ভাই আপনাকে এই ধারুন এবং সময়োপযুগী কাজটির জন্য :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ভালুবাশি: :ভালুবাশি:

    পোস্টটি স্টিকি করা হোক…

  5. খুব সুন্দর পোস্ট শঙ্খনীল ভাই।
    খুব সুন্দর পোস্ট শঙ্খনীল ভাই। :থাম্বসআপ:
    জাফর ইকবালের জীবনী আমি কিছুই বাদ দিই নি (উনার অন্ধ ভক্তও বলা যায় আমাকে :ভালুবাশি: )। তারপরও এখান থেকে নতুন তথ্য জানলাম :ফুল:

      1. স্যারকে সরাসরি দেখবার অনেক
        স্যারকে সরাসরি দেখবার অনেক ইচ্ছে ছিল গত ১৬ই ডিসেম্বর সেই ইচ্ছে পূর্ন হল। সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে দেখা হয়েছে স্যারের সাথে

  6. শুভ জন্মদিন স্যার।
    শুভ জন্মদিন স্যার। :পার্টি:

    …….এভাবেই জাতির বিবেক হয়ে বাঙ্গালী জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগিয়ে রাখুন আরো শত বছর। :স্যালুট:

  7. কমলাপুর রেল স্টেশনে স্যার এর
    কমলাপুর রেল স্টেশনে স্যার এর সাথে আমার সামনা সামনি দেখা ! স্যার মাথায় হাত রাখলেন! বই পড়ি শুনে কি খুশি হলেন! আহা! আমি বড় ভাগ্যবতী! :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:

  8. জন্মদিনের ইউশ নিয়ে স্যারের
    জন্মদিনের ইউশ নিয়ে স্যারের কিছুটা ট্যাবু আছে। ট্যাবুর কারন হলো, জন্মদিনের ইউশ স্যারকে তারঁ বার্ধক্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। তিনি তারঁ একটা লেখাও বলেওছিলেন যে, ঘটনাটা এরকম, একবার ট্রেনে একটা শিশু তাকে বুড়ো দাদু বলেছিলো, স্যার সাধারনত শিশুদের অসম্ভব ভালবাসেন কিন্তু সেদিন সে শিশুটির উপর তিনি অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছিলেন। পরে স্বগোক্তি করে বলেছেন, শিশুটি তো ঠিকই বলেছে। তিনি বুড়ো হয়ে গেছেন, এটা সে স্বীকার করুক বা না করুক, সেটা সত্যি।

    স্যারের মতো একজন প্রানবন্ত মানুষ, প্রচন্ড জীবনময় মানুষ যে বার্ধক্য হওয়াকে অপছন্দ করবেন বা মৃত্যুর স্বাভাবিক সময় চলে আসছে – এই তথ্য ভুলে থাকতে চাইবেন – সেটা বলাই বাহুল্য। স্যারের সাথে একবার ব্যক্তিগত আলাপচারিতায়ও তিনি একবার ইঙ্গিতে এ কথা বলেছিলেন। সেদিনের পর থেকে আমি স্যারকে ইউশ করি না। তবে মনে মনে কামনা করি, স্যার দীর্ঘায়ু হোন।

      1. হতে পারে। আমি যেদিন স্যরকে
        হতে পারে। আমি যেদিন স্যরকে উইশ করলাম, স্যার উপস্থিত সবার দিকে ঘুরে হাসিমুখে বল্ল – ”আমার বয়স হয়ে যাচ্ছে। এইটা যতই ভুলে থাকতে চাই তোমাদের কারনে পারি না। তোমারা শুভ জন্মদিন বলে মনে করিয়ে দাও!” স্যার হয়তো মজা করেই বলেছেন। পুরোটা সময় স্যার হাসি ঠাট্টা রসিকতা করলেন। স্যারের সেন্স অব হিউমার অসমান্য!

        আপনি একটা দারুন কাজ করেছেন। আমি স্যারকে নিয়ে এত বিশদ লেখা আর কোথাও পড়িনি। ইউকিতেও নাই। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *