‘মেরি ক্রিস্টমাস’ বলতে পারেন । :)

ঘটনা ১ : আপনার অফিসের দু’জন কলিগ খ্রিস্টান । আপনি প্রতি বছর তাদের উইশ করেছেন, তারাও আপনাকে ঈদ-পূজাতে সুবেচ্ছা জানিয়েছে । আপনি এবারও তাদের সুবেচ্ছা জানিয়েছেন কিন্তু দ্বিধায় আছেন এতে গুনাহ হল কিনা.. আপনার জনৈক বন্ধু আপনাকে যুক্তি দেখিয়েছে যে এই উইশ করা যাবে না ।

ঘটনা ২ : আপনার বাড়ির সবচেয়ে ছোট সদস্য বায়না ধরেছে ‘ক্রিস্টমাস ট্রি’ দেখবে বলে! আপনি প্রতিবার তাকে নিয়ে গিয়েছেন । কিন্তু এবার দ্বিধায় পরেছেন ।


ঘটনা ১ : আপনার অফিসের দু’জন কলিগ খ্রিস্টান । আপনি প্রতি বছর তাদের উইশ করেছেন, তারাও আপনাকে ঈদ-পূজাতে সুবেচ্ছা জানিয়েছে । আপনি এবারও তাদের সুবেচ্ছা জানিয়েছেন কিন্তু দ্বিধায় আছেন এতে গুনাহ হল কিনা.. আপনার জনৈক বন্ধু আপনাকে যুক্তি দেখিয়েছে যে এই উইশ করা যাবে না ।

ঘটনা ২ : আপনার বাড়ির সবচেয়ে ছোট সদস্য বায়না ধরেছে ‘ক্রিস্টমাস ট্রি’ দেখবে বলে! আপনি প্রতিবার তাকে নিয়ে গিয়েছেন । কিন্তু এবার দ্বিধায় পরেছেন ।

ঘটনা ৩: আপনি বাইরের কান্ট্রিতে থাকেন । কাজের ক্ষেত্রে তাই খ্রিস্টানরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ । প্রতিবার তারা আপনাকে উইশ করেছে । আপনিও তাদের ফেস্টিভাল গুলোই আগেও অংশ নিয়েছেন.. এবার একটু দ্বিধায় পরেছেন! যাওয়া ঠিক হবে কিনা!

সত্যি বলতে এমন ঘটনা একটি-দুটি নয়! অনেক!

প্রতিবারের মত আমি গতকালও বড়দিন উৎযাপন করেছি 🙂 চট্টগ্রামের কোতোয়ালিতে একটা গীরজাই গিয়েছিলাম বন্ধুরা মিলে.. ঊইশ করেছি সবাইকে । এক্টুয়ালি আমার মতে “ধর্ম যার যার! উৎসব সবার”

বাঙালী-অবাঙালী সবাই মিলে এই অঞ্চলে আগেও মানুষ উৎসব পালন করেছে! কখনো মানুষ এসব বলেন নি! হিন্দু-মুসলিম-ক্রিস্টান সবাই মিলেমিশে থাকতাম আমরা! বরং অতিথিপরায়ণ জাতি হিসেবেও আমরা সবসময়ই সুপরিচিত!
কিন্তু সাম্প্রতিক কালে আমরা কারণে অকারণে বিভক্ত হচ্ছি!
বাঙালীর প্রাণের উৎসব ‘পহেলা বৈশাখ’ নিয়েও অনেকে কথা বলেন.. এটা ঠিক নাহ! হেন-তেন!
সত্যি বলতে মোঘল সম্রাট আকবরই এই অঞ্চলে সর্বপ্রথম বাংলা নববর্ষ উৎযাপন করাটা শুরু করেন । জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালীরা এটা পালন করত!
আর আমরা নতুন কুতুব উঠছি যারা পুরবপুরুষদেরই চ্যালেঞ্জ করি..

ঈদ, প্রবারণা.. বড়দিন! বন্ধুদের সাথে উৎযাপন করা হয় প্রতিবছরই! বাসা থেকে কখনো কিছু বলেনি ।
গতকাল দেখলাম অনেকেই ‘মেরি খ্রিস্টমাস’ জানিয়ে বিপাকে পরেছেন! অনেকেই বলছেন ‘এতে গুনাহ হবে’ ।

আমার কথা হচ্ছে গুনাহ কিভাবে হবে? বিতর্কই বা হবে কেন? আপনি তোহ আর খ্রিস্টান হয়ে উইশ করছেন নাহ! আপনি শুধুমাত্র সুবেচ্ছা জানাচ্ছেন..
তাদের ধর্মমত আর আপনার ধর্মমত আলাদা । মত আলাদা, মতবাদ আলাদা, বিশ্বাস আলাদা, সব আলাদা!
তারা আপনাকে ঈদ, পূজার উইশ করলে কিংবা আপনি তাদের বড়দিনের উইশ করলে গুনাহ হওয়ার প্রশ্নই আসে নাহ!

এভাবে বলাতে অনেকে আমাকে বলেছেন! “যেটা জান না,ওটা নিয়ে কথা বলবে নাহ! কুরানে আছে।”

যা হোক! আমি যতটুকু জানি কুরানে এমন কিছু নেই, যেখানে বলা আছে উইশ করা যাবে নাহ । হ্যাঁ! সুরা ইখলাসে এই ব্যাপারে একটা যুক্তি আছে।

কিন্তু কথা হচ্ছে আপনি মুসলিম। আমি হিন্দু । আমি আপনি তোহ আর তাদের মতবাদ, আদর্শ বিশ্বাস করতে যাচ্ছি নাহ । শুধুমাত্র তাদের ফেস্টিভালে তাদের উইশ করছি! ‘শিরক’ কি করে হয়!

সুরা ইখলাস অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, ” তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তিনি কারো সন্তান নন, তাঁর কোনো সন্তান নেই, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন বরং সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী ”

আপনি শুধুমাত্র খ্রিস্টানদের, তাদের উৎসবে উইশ করছেন! এতে গুনাহ কি করে হবে!
যাইহোক! কারা এসব বলছেন। স্পেশালি গুনাহ হবে বলছেন। হেফাজতে ইসলামের ব্যপারে তাদের মতবাদ কি?

কুরানে আল্লাহ এটাও বলেছেন, তিনি নিজেই ইসলামের হেফাজত করবেন । তাহলে হেফাজত কি করছে?

কয়েকদিন পরেই দেখবেন! যারা আজ এসব বলছে তাদের অনেকেই ‘পহেলা বৈশাখ’ নিয়েও একই কথা বলছে!

বাদ দেন!
এই অঞ্চলে আগেও বাঙালীরা উৎসব পালন করেছে.. জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একসাথে আনন্দ করেছে! বাঙালী হিসেবেও অন্য বাঙালীকে উৎসবে আপনি উইশ করতে পারেন ।

এরপরেও যদি বলেন! তাহলে এক কাজ করেন.. লিখুন “Merry Christmas to all my Christian Friends ” এমন লিখলে হয়ত আর কোন যুক্তির প্রয়োজন হবে নাহ 🙂

এক থাকুন! একসাথে থাকুন 🙂
Merry Christmas! 🙂

Choice is yours! – Kirtiman 🙂

৪ thoughts on “‘মেরি ক্রিস্টমাস’ বলতে পারেন । :)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *