পাকিস্তানী পণ্য বর্জন, সময়ের দাবী

অনেকদিন পরে বড় লেখা লিখতে বসা, একটা সিরিজ লিখে শুরু করেছিলাম, হটাত করে আমার পিসিতে সব লেখা হারিয়ে দিলো আর অলসতার জন্য লেখা গুলো নতুন করে লেখা হচ্ছে না । যাই হোক, আবার লিখতে বসা, এবার লেখা জাতীয়তাবাদ ইস্যু নিয়ে, পাকিস্তান নিয়ে, পাক পণ্য বর্জন নিয়ে ।


অনেকদিন পরে বড় লেখা লিখতে বসা, একটা সিরিজ লিখে শুরু করেছিলাম, হটাত করে আমার পিসিতে সব লেখা হারিয়ে দিলো আর অলসতার জন্য লেখা গুলো নতুন করে লেখা হচ্ছে না । যাই হোক, আবার লিখতে বসা, এবার লেখা জাতীয়তাবাদ ইস্যু নিয়ে, পাকিস্তান নিয়ে, পাক পণ্য বর্জন নিয়ে ।

একটা কথা সব সময় শোনা যায়, ঢাকায় এমন কিছু লোক আছে যারা এখনো পিন্ডিতে বৃষ্টি হলে ঢাকায় ছাতা মাথায় দেয় । কথা অবান্তর নয়, পাকি বীজ যে বঙ্গাল মুল্লুকে এখনো আছে তা নতুন করে বর্ণনা করার প্রয়োজন নেই । কাঁদের মোল্লার ফাঁসি ইস্যু নিয়ে পাকি পার্লামেন্টে [আমার কাছে ছাগলের গোয়াল ঘর] শোক প্রস্তাব আর পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পার্লামেন্টের আচারনের জন্য তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে বাংলাদেশে । বিচ্ছুরা যাতে চ্যাগায়া শাহাবাগে না বসে পড়ে সেই ভয়ে সরকারের পক্ষ হতে পাকি দূতকে ডেকে আচ্ছা মতো বকে দিয়েছিলো পররাষ্ট্র মন্ত্রী । শাহাবাগের বিচ্ছুরা তো ভালো ছেলে না, বখাটে ছেলে গুলো ফেব্রুয়ারী হতেই রথী আর মহারথীদের যেভাবে পুটু মারা দিয়েছে তা বঙ্গাল মুল্লকের সবার মনে জানে । গোল্ডফিশ মেমোরী যাদের তাঁদের এসব না আনি বা নতুন করে বলি ।

শাহাবাগের বিচ্ছু গুলো পাকি দূতাবাস ঘেরাও করেই ক্ষান্ত হলো না, শুরু করে দিলো পাকি পণ্য বর্জনের । এমনিতে ৪২ বছরে বাংলাদেশের চাইতে পাকিদের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে খারাপ হয়েছে । তাঁর উপরে এমন পেটে লাত্থি মারার কাজ যখন শুরু করেছে তখন সাধুবাদ জানাতেই হয় ।

প্রথমেই আসা যাক কেন পাকি পণ্য বর্জন করা হবে ?
উত্তরঃ
একজন বাঙালী কিংবা বাংলাদেশী আপনি যে জাতীয়তাবাদের কথাই বলেন না কেন তাতে পাকিদের সাথে আপনার সম্পর্ক হবে শত্রুময় !!! এই বেঈমান জাতি আমাদের কাছে ৭১ এর জন্য ক্ষমা চায়নি, সিমলা চুক্তি অনুযায়ী ১৯৫ জন পাকি সেনার বিচার করেনি, তাঁর উপরে কূটনীতিক সীমা লঙ্ঘন করে কাঁদের মোল্লার বিচার নিয়ে পার্লামেন্টে কথা বলেছে !!! এতো কিছুর সাথে সম্পর্ক আমাদের জাতীয়তাবাদ, নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে তাই পাকি পণ্য বর্জন করাই সময়ের কাজ ।

ভাই, ইন্ডিয়ার………..
হুম, ভাই ইন্ডিয়ার পণ্য বর্জন না করে আমি কেন পাকিদের কথা বলতে চাইছি, কেন ফেলানী নিয়ে না ভেবে পাকিদের কথা বলতে চাইছি??? ভাই ৩০ লক্ষ শহীদ আর ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জত নিয়ে কি আমার মাথা ব্যাথা হয় না? নাকি মালাউন ইন্ডিয়া ফেলানী কে হত্যা করেছে তাই ইন্ডিয়া এটাক করতে হবে আর সাচ্চা মুমিনের জাত পাকিদের ঐটা হচ্ছে জিহাদের অংশ !!!
পাকিদের মুসলিম অবস্থান নিয়ে কি আর বলা যায়? পাঞ্জাবীরা সারাটা সময় মদ পান করেই কাটায় ।

“আমি বাঙালি মুসলমানদের অন্যত্র বসবাসকারী মুসলমান সম্প্রদায়ের চেয়ে বেশি মাত্রায় ধর্মভীরু দেখেছি। তারা পশ্চিম পাকিস্তানের প্রধান নগরীর সহধর্মাবলম্বীদের থেকে মনে হয়েছে রক্ষনশীল ও ধর্মের প্রতি অনুরক্ত।

পুর্ব বাংলায় মদ বিক্রি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুমোদিত মদের দোকান গুলো শুক্রবারেও খোলা থাকতে দেখেছি, যা পুর্ব বাংলায় কখনোই ঘটেনি।

লাহরে ও করাচিতে যৌনো আবেদনমুলক চলচিত্র প্রদর্শিত হত যা ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে দেখানো হলে বা চালু করা হলে সঙ্গে সঙ্গে জনতার রুদ্র প্রতিবাদের শিকার হত।

১৯৭০ সনে কষ্টকর নির্বাচনি প্রচার অভিজানের মাঝেও আমি মুজিবকে রোজা রাখতে দেখেছি কিন্তু করাচিতে অন্য নেতাদের সাথে বৈঠক করার সময় আমার অন্য অভিজ্ঞতা হয়ছিল, এরা মদ্য পান করত…… আমিও শরিক হয়েছিলাম।

এসব সত্তেও মুজিব ও তার লোকদের বলা হত কাফের” -অ্যান্থনী মাসকারেণহাস। ”

আর একটা ঐতিহাসিক জিনিস দেয়া যায়,
পূর্ব বাংলার পাকি গভর্নর ফিরোজ খান নূন একদিন বাঙালিদের ব্যাপারে কটূক্তি করে বললেন, ‘বাঙালি মুসলমানেরা প্রকৃত মুসলমান না, কারণ তাদের ঠিক করে সুন্নতে খত্না হয় না।’ ২ দিন না পেরোতেই মানিক মিয়া উত্তর দিলেন, ‘সবার মনে একটাই প্রশ্ন যে, বাঙালি মুসলমানদের গোপন এই কথা ফিরোজ জানলো কীভাবে? উত্তরটা হলো, ফিরোজকে ফিরোজের বউ ভিকারুন্নেসা জানিয়েছে।’

পাকি পণ্য বর্জন করলে কি ওদের সন্ত্রাসী কাজ বন্ধ হয়ে যাবে????
এমন প্রশ্ন অনেকেই করেছেন,
মোহাম্মদ পুরের জেনেভা ক্যাম্পে পাকিস্তানী বিহারীদের সাথে জামায়াত-শিবির এবং পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর গোপন মিটিং, দেশের মধ্যে নাশকতা তৈরির পরিকল্পনা ফাঁশ। টার্গেট ছিল গণজাগরণ মঞ্চ এবং রাজনৈতিক নেতারা।
আইএসআই এর পকেটের টাকা এসেছে আমাদের কাছে হতেই, কারন আমরা পাকিস্তানে রপ্তানী করি মোট ৫৫০ কোটি টাকা আর আমদানী করি ৩৯০৪ কোটি টাকা। আমরা যা রপ্তানী করি যেমনঃ পাট, তা নেয়ার মতো অনেক দেশ আছে তবে পাকিস্তানে রপ্তানী না করলে তাদের পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। আর যা আমদানী করি তা সেখান থেকে আমদানী না করলে কোনো সমস্যাই হবে না কারণ সেগুলো আমদানী করার মতো অনেক দেশ আছে। তাই এই বিপুল টাকা চলে যাচ্ছে জঙ্গী আর স্বাধীনতা বিরোধীদেরই হাতে !!!
পাকিস্তানের এসব কোম্পানিগুলো আপনার কাছে পন্য বিক্রী করে লাভ করে। সেই লাভের ৩০% (Commercial Tax) পাকিস্তান সরকার নেয়। সেই ৩০% এর ১০০% দেশটি কাজে লাগায় ISI এর অর্থায়িত করার কাজে যারা উপমহাদেশের অস্থিরতার জন্য এককভাবে দায়ী। বাংলাদেশের দক্ষিন পূর্বের জেলাগুলোতে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ দেয় এরাই। যে সংগঠনটি জড়িত ছিলো বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডেও ।।

পাকিস্তানী কি কি পণ্য বর্জন করতে বলা হয়েছে তাঁর লিস্ট কিন্তু বেশি নয়,
মোস্ট ওয়ান্টেড জামাত শিবিরের পণ্যর সাথে নিচের গুলো,
১. জেনারেল (General) ফ্যান, (GFC) এসি, হিটার, ফ্রিজ, টিভি। তাছাড়াও জিএফসি (GFC) ফ্যান তো আছেই।

২. ব্লেড – সুপার ম্যাক্স (Super Max), ট্রীট (Treat)…আরও বেশ কয়েকটা কোম্পানি আছে। কেনার সময় দেখে এড়িয়ে যান।

৩. বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের বায়োলজি বক্স, ম্যাগনিফায়িইন গ্লাস ইত্যাদি। কেনার সময় দেখে কিনুন ফাকিস্তানী কিনা।

৪. পাকিস্তানি বোরকা, চাদর, খদ্দর, শাল।

৫.সেজান জুস ও জ্যাম জেলী ।

৬.কুলসন সেমাই ও ম্যাকারনী।

৭. ক্যান্ডিল্যান্ড, কিডকো সহ বেশ কিছু চুইংগাম
৮. বানিজ্য মেলায় পাকিস্তানের স্টলের পন্য
৯. ঈন্ডাস ( Indas ) ফ্যান
১০. পাকিস্তানী লেহেঙ্গা, লন কামিজ,
১১. বনানীতে অবস্থিত ইদিয়ান (আফ্রিদীর ফ্যাশন হাউস)
১২. পাকিস্তানী টিভি চ্যানেল (PTV, ARY, GEO)
১৩. বুম বুম, শাহ, মালিক ব্র্যান্ড এর ক্রিকেট ব্যাট
১৪. DC ক্রিকেট বল
১৫. আনমোল সহ বিভিন্ন পাকিস্তানী মেহেদী

অনেকেই বলেছেন পাকিস্তানী পণ্য গুলোর বিকল্প পণ্য নাকি পাওয়া যাবে, আর দামের মাঝেও ফারাক হবে !!!

হাস্যকর হলেও সত্যি আমরা পাকিস্তান হতে যে পণ্য গুলো নিয়ে আসি তাঁর বিকল্প পণ্য আমাদের দেশীও পণ্য গুলোই বানিয়ে থাকে !!! ইন্ডিয়া হতে আনা অনেক পণ্য আমাদের দেশে না প্রস্তুত হলেও পাকিস্তান হতে আনা পণ্য গুলোর চাইতে ভালো পণ্য আমাদের দেশেই প্রস্তুত হয়, আর দেশে প্রস্তুত বলে পণ্য গুলোর দাম ও কম !!!
আমাদের দেশেই উন্নত মানের ফায়ন তৈরি করে ন্যাশনাল, র‌্যাংগস, সিঙ্গার এর মতো কোম্পানী গুলো !!!
ব্লেডের কথা বলতে চাইলে আমাদের দেশে আছে শার্প এর মতো ব্র্যান্ড !!!
সেজান জুস না খেয়ে এর চাইতে আমরা প্রান কিংবা ড্যানিশ আড়ং এর জুস পান করতে পারি !!! মান কিন্তু খারাপ না !!! প্রানের জেলি জ্যাম ব্যবহার করতে পারি,
কুলসন ভারমিসল সেমাই এর চাইতে ভালো সেমাই তৈরি করেছে প্রান অহ অনেক গুলো বাংলাদেশী ব্র্যান্ড !!!

বাংলাদেশী অনেক ভালো বুটিক হাউস রয়েছে , আড়ং, কে ক্রাফট, দেশাল, বুনন, নিপুন, অঞ্জন’স, OG, সাদা কালো, বিবিয়ানা, লাল সবুজ ।
ক্রীড়া সামগ্রী অনেক রয়েছে, দাম একই দিয়ে পাকিস্তানী পণ্য কেনা হবে কেন?

হাস্যকর হলেও সত্যি কথা, আমাদের দেশে যে দলটি জাতীয়তা বাদের কথা বলে রাজনীতি করে তাঁদের মাঝেই পাকি পণ্য বর্জন নিয়ে কোন কথা শোনা যায়নি !!! দেশের টাকা দেশে রাখা আর পাকি পণ্য বর্জন করা এখন শুধুই সময়ের দাবী !!!

এই ব্যাপারে পাকিস্তানের ভেতরেই প্রতিবাদ জানানোর ব্যবস্থা হচ্ছে, আমরা আগেই এ ব্যাপারে বক্তব্য দিয়েছি।

-যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে পাকিস্তানের ধৃষ্টতার ব্যাপারে বাংলাদেশের একজন নেতার বক্তব্য!

আর একটি প্রসঙ্গ আজকাল বল হচ্ছে আওয়ামীলীগ যে পাকিস্তান বিরোধী কথা বলেছে, সেই দলের আওয়ামী শব্দটি নাকি পাকিস্তানী !!!

আওয়ামী শব্দটি উর্দু কিংবা পাকিস্তানীঃ
উর্দু একটি আধুনিক ভাষা, যার জন্ম হয়েছে মুঘল আমলে । ভারতবর্ষের উৎকর্ষ হয়েছে মুঘল আমলে, ব্যবশা, খাদ্য, স্থাপত্য, ক্যালেন্ডার এর ক্ষেত্রে ইউনিক আইডেন্টিটি মুঘলদের জন্যই সম্ভব হয়েছে ।
সম্রাট আকবরের সৈন্য সিপাহী দলে পারসিক, টার্কিশ, এরাবিক, পাঞ্জাবী, বেলুচ, হাশমী সহ অনেক বর্ণ আর আর জাতের মানুষ ছিলো । এতো মানুষের সাথে যোগাযোগের জন্য একটি কমন ল্যাঙ্গুয়েজ এর প্রচলন করা হয়ে উঠেছিলো সময়ের দাবী । আরব সাইডের এরাবিক আলফা আর হিন্দী ধারার উচ্চারনের সমন্বয়ে গড়ে উঠে উর্দু শব্দ । রাজা বাদশাহ আর শাহেরী এর জন্য পারফেক্ট ভাষা ।
উর্দুর মজার স্থান হচ্ছে এর লেখন ভাষা হচ্ছে আরবী আর পার্শি এর মিশ্রণ আর ফোনেটিক হচ্ছে হিন্দী ধারার । উর্দু যেহেতু কোন আদি ভাষা কিংবা মৌলিক ভাষা নয় তাই এর অধিকাংশ শব্দ এসেছে আরবি, পার্শি সহ আফগান বিভিন্ন ভাষা হতে ।

এটা ছিলো উর্দুকে নিয়ে কিছু বুগিচুগি কথা,
এবার আসা যাক আওয়ামী শব্দটি নিয়ে, আওয়ামী শব্দটি হচ্ছে পার্শি কিংবা ফার্সি শব্দ । এটিকে কোন ভাবেই উর্দু কিংবা পাকিস্তানী বয়ান বলে চালিয়ে দেয়া জায়েজ না, আর কারো ইন্টেলেকচুয়াল লেভেল খারাপ হলে এটাকে সে পাকিস্তানী বলেই চালিয়ে দিতে পারে ।

মডেল ফারিয়া কিন্তু এখনই বলে দিয়েছে সে আর পাকিস্তানী লন কামিজ ব্যবহার করবে না !!! আর কেউ যদি পাকিস্তানী মেহেজাবিন হয়ে ত্থাকে তবে কিছুই বলার থাকবে না ।
বসুন্ধরা সিটির সবাই বল বলে দিয়েছে তারা আর পাকি পণ্য বিক্রয় করবে না ।
সময়ের দাবী এখন পাকি পণ্য বর্জন করা, নিজের জাতীয়তাবাদ ঠিক থাকলে তাই আর ভুল করে পাকি পণ্যতে হাত লাগাবেন না !!!

৩ thoughts on “পাকিস্তানী পণ্য বর্জন, সময়ের দাবী

  1. ফেবুতে আগেই শেয়ার করছিলাম,
    ফেবুতে আগেই শেয়ার করছিলাম, আমার কাছে কিছু ফাইল মিসিং ছিলো। আপনার পোস্টের কারনে বাকি গুলা জানতে পারলাম 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *