ভালোবাসি তোমায় বাংলাদেশ…

২০১০ সালে দেশ ছেরে বিদেশে আসি যারা বিদেশে আসছে তারাই একমাত্র বুঝছে দেশ ছাইরে বিদেশে থাকার ঠেলা কেমন। যারা ঘুরতে আসে ১ মাস বা ৬ মাস এর ভিসা নিয়ে তারা অবশ্য বুঝে না। অনেকেই বিদেশের ভিসা পাওয়ার পর গদ গদ কইরে আনন্দে আটখানা হয়ে যান লাফাইতে লাফাইতে এয়ারপোর্টে আসেন খুশিতে কিন্তু এয়ারপোর্ট এ পা দেয়ার পরি আসে তাদের হুশ এইরে!!! এই ত দেশ থেকে চইলে যাচ্ছি আর কবে আসব? অদ্য আসতে পারব কিনা? দেশ থেকে দূরে গিয়েও অনেকের মন পরে থাকে থাকে এই দেশেই। ২০১০ সালে আমি বাংলাদেশ থেকে আসার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে আসি সারাদিন খুশি থাকলেও আমার টনক নরে যখন বিমানবন্দরে আমাদের গাড়ী ঢুকে খালি পিছনে চোখ ফিরাইতাম আর ভাবতাম এই শেষ আমার চিরচেনা খেলাঘর থেকে দূরে সইরে আসলাম আর কিছুক্ষণ হয়ত থাকবো তবে সেটা ত শুধুই পিছনের ইতিহাস হাতরানোর জন্য কিছু অবশিষ্ট সময়। আমাদের বিমান খুব সম্ভবত দুই ঘণ্টার মতন ডিলে করছিলো তাই আমি অপেক্ষা করতে ছিলাম বোর্ডিং এরিয়াতে টেক অফ এর জন্য রাত শেষ হয়ে তখন সূর্য উঠি উঠি করতেছে আর আমি বসে বসে শেষ সৃতি ভাজতেছি শেষ পর্যন্ত নিজের টেলিফোন উঠায় লেখতে বসলাম আসলে রিমাইন্ডার হিসেবে বানায় রাখছিলাম লেখাটার শেষ লাইনটা লেখতে গিয়ে সবচেয়ে খারাপ লাগছিলো। যখন আমি শেষ লাইনটা লেখতে ছিলাম তখন রাতের ঘুমন্ত ঢাকা আবার আরেকটা দিনের জন্য সজাগ হচ্ছে আর আমার প্লেন ঢাকার আকাশের উপর উঠতেছে। আমি শেষ বার প্লেন এর জানালা দিয়ে ঢাকা কে দেখি এবং কতটা যে খারাপ লাগছিলো বলার না।

আমার এই মাতৃভূমি আমাকে বাঙালী পরিচয়ে তৈরি করে প্রতিটা মুহূর্ত। এই মাতৃভূমি আমাকে আমার আপন মায়ের মমতার মতন পরম স্নেহে প্রতিটা মুহূর্তে আমার পাশে থাকে। এই মাতৃভূমি আমায় বলে পৃথিবীর যেকোনো দেশ তোমাকে দূরে সরালেও আমার দুয়ার তোমার জন্য সবসময় খোলা থাকবে। আমার এই মাতৃভূমি আমার সাথে রদ্র-ছায়ার খেলা খেলে প্রতিদিন। এই মাতৃভূমি শেষ বিকালের আলোয় আমার একাকি সময়ের সঙ্গী হয়। এই মাতৃভূমি বাতাসের ঝাঁপটা হয়ে বার বার শেখায় পেছনে নয় সামনে আগাও। এই মাতৃভূমি আমার মন খারাপের সময় বৃষ্টি হয়ে আমার সাথে অঝোরে কাঁদে। আর মন ভালো থাকলে সাগরের উত্তাল ঢেউ হয়ে আনন্দে মেতে উঠে। এই মাতৃভূমি আমাকে শান্ত প্রকৃতি হয়ে শিক্ষা দেয় ভদ্রতার। আর বৈশাখী হয়ে শেখায় প্রতিবাদ করা। আমার এই মাতৃভুমি’ই জন্ম দেয় সালাম,রফিক,বরকত এর মতন সাহসী সন্তান যারা তার মায়ের ভাষার জন্য বিনা দ্বিধায় বুকের রক্ত দেয়। আবার এই মাতৃভুমিতেই জন্ম নেয় মতিউর,আব্দুর রব আর নুর মোহাম্মদ এর মতন দামাল ছেলেরা যারা নিজের মায়ের সম্মানের জন্য হাসতে হাসতে জীবন দিতে পারে। আমার এই মাতৃভুমি প্রতি সকাল বেলায় পাখির মধুর কণ্ঠ হয়ে তার প্রত্যেকটি সন্তান কে ঘুম থেকে জাগায় আবার এই মাতৃভূমিই রাত শেষে আধারের চাদর ঢেকে তার ক্লান্ত সন্তানদের ঘুম পারায়। আমার এই মাতৃভূমি তার শতকোটি সন্তানকে ধর্ম,বর্ণ আর বিভেদ ভুলে নির্বিশেষে সবাইকে একই কাতারে আনে নববর্ষের উৎসবে। আমার এই মাতৃভূমিই স্মরণ করে তার ভাষার সম্মান রক্ষার জন্য তার সন্তানদের প্রথম জীবন দেয়ার কথা। আমার এই মাতৃভূমিই মার্চের ২৬ তারিখ মনে করিয়ে দেয় তার আর তার সন্তানের উপর প্রথম হাত তোলা হানাদার আর তার সন্তানদের তার মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য প্রথম প্রতিরোধ এর কথা। আমার এই মাতৃভুমি ডিসেম্বারের ১৪ তারিখ স্মরণ করে তার সেরা সূর্য সন্তানদের হারিয়ে যাওয়ার শোক। আমার এই মাতৃভূমিই মনে করিয়ে দেয় নয় মাস রক্ত ঝরার পর আবার তার সন্তানের সাথে এক হয়ে সারা বাংলায় তার লাল-সবুজের আচল ফেলে তার সন্তানদের আগলে রাখার কথা। এই মাতৃভূমিই প্রতিদিন মায়ের মতন মুখ বুজে সহ্য করে তার অবুঝ সন্তানদের যন্ত্রনা কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলেনা। এই মাতৃভুমিই তার সন্তান তাকে ছেরে দূরের দেশে পারি দেয়ার সময় পরম স্নেহে তার দিকে চেয়ে হাসি মুখে বিদায় দেয় আর বলে ভয় করনা আমি আছি পৃথিবীর আরেক প্রান্তে তুমি চাইলেই আসতে পারো আমার কাছে।

ভালোবাসি তোমায় মাতৃভূমি, ভালোবাসি তোমায় বাংলাদেশ…

৩ thoughts on “ভালোবাসি তোমায় বাংলাদেশ…

  1. আমার এই মাতৃভুমি’ই জন্ম দেয়

    আমার এই মাতৃভুমি’ই জন্ম দেয় সালাম,রফিক,বরকত এর মতন সাহসী সন্তান যারা তার মায়ের ভাষার জন্য বিনা দ্বিধায় বুকের রক্ত দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *