এ জার্নি বাই বাস

একা একা বিরক্তিকর জার্নি, একেবারে শেষ সারিতে আসন, রাস্তায় প্রচুর জ্যাম, ভাঙাচোরা উচুনিচু রাস্তা, এর কোনটার বিশেষ গুরুত্ব থাকে না, যে বয়সে পাশের সিটে সুন্দরী মেয়ে বসলে, সেই বয়স টা এখনও অতিক্রম করতে পারি নি। বরং মনে মনে একটা ক্ষীন আশা থেকেই যায়, যতক্ষন পর্যন্ত না দেখি যে, পাশের সিটে হাতির মত এক আঙ্কেল বসে ফোসফোস করে দুনিয়ার সব জটিল ধাঁধার সমাধান করে চলেছেন নিমিষেই আর মাঝে মাঝে ঘুমে ঢলে পড়ছেন কাধের উপর। আজকের গল্পটি প্রথম লাইনগুলোর জন্য।


একা একা বিরক্তিকর জার্নি, একেবারে শেষ সারিতে আসন, রাস্তায় প্রচুর জ্যাম, ভাঙাচোরা উচুনিচু রাস্তা, এর কোনটার বিশেষ গুরুত্ব থাকে না, যে বয়সে পাশের সিটে সুন্দরী মেয়ে বসলে, সেই বয়স টা এখনও অতিক্রম করতে পারি নি। বরং মনে মনে একটা ক্ষীন আশা থেকেই যায়, যতক্ষন পর্যন্ত না দেখি যে, পাশের সিটে হাতির মত এক আঙ্কেল বসে ফোসফোস করে দুনিয়ার সব জটিল ধাঁধার সমাধান করে চলেছেন নিমিষেই আর মাঝে মাঝে ঘুমে ঢলে পড়ছেন কাধের উপর। আজকের গল্পটি প্রথম লাইনগুলোর জন্য।

কিভাবে শুরু করা যায়, ভাবতে হবে। সারারাত একটা মেয়ে মূর্তির মত বসে থাকবে পাশে, আর আমি শুধু জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে সাইনবোর্ড মুখস্ত করব, তা তো হয় না। কিছু একটা বলে কথা শুরু করতে পারলেই হয়। তারপর গল্পে গল্পে ভালোই কেটে যাবে পরবর্তী কয়েক ঘন্টা, এমনকি সে গল্প চলতে পারে, দিন পেরিয়ে মাস অথবা আরও অনেক বেশি।

আস্তে করে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাব, তারপর ছোট্ট একটা হাসি দিয়ে বলবো, নাম কি তোমার? না না, শুরুটা অন্য কিছু দিয়ে হতে পারে, স্মার্ট হওয়া চাই, প্রথম উপস্থাপন বলে কথা। এমনটা হতে পারে, আমি কি আপনার সাথে কথা বলতে পারি অথবা পরিচিত হতে পারি?

তুমি কি খুলনায় যাবে? হঠাৎ ওর এই প্রশ্নে পুলকিত হলাম। সাথে সাথে মেজাজ খারাপ হলো প্রচন্ড রকমে, যখন বুঝতে পারলাম সে কথাগুলো হিন্দিতে বলেছে। সব হিন্দি সিরিয়ালের ফলাফল। মেয়েগুলো ইদানিং বাংলার পরিবর্তে দু’চার লাইন হিন্দি বলে নিজেকে অহেতুক স্মার্ট করে তুলতে চায়।

দেখ, যদি বাংলায় কথা বলতে পারো, তাইলে বলো, নইলে চুপ করে বসে থাক।

তুমি আমার উপর রেগে যাচ্ছ কেন? ঠান্ডা গলায় এবার ইংরেজিতে বললো।

মানে কি? মেয়েটা বাংলা জানে না, না কি? দেখতে তো বাঙ্গালী মনে হচ্ছে। আমি এবার ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজীতে প্রশ্ন করলাম, তুমি কোথা থেকে এসেছ?

মুচকি হেসে শুরু করলো, আমি চুপচাপ তাকিয়ে রইলাম, অনেকক্ষন চললো সে গল্প। জানতে পারলাম ইন্ডিয়ার পাঠনায় জন্ম, বেড়ে ওঠা ইউরোপে, এদেশে ঘুরছে গত কয়েকদিন, মা বাবা সাথে ছিলো, এখন তারা ঢাকা হয়ে ফিরে যাচ্ছে, ও খুলনায় যাবে দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের সাথে দেখা করতে।

নাম থেকে গ্রিক পুরান, জ্যাম থেকে উন্নয়ন, যুদ্ধাপরাধীর বিচার থেকে সৌরভ গাঙ্গুলি, কাঁটাতার থেকে আকাশের চাঁদ, এভাবে কেটে গেল কয়েকটি ঘন্টা। অধিকাংশ মেয়েরা সাধারনত সুযোগ পেলে কথা বলে একটু বেশি, তাই বলে সম্পূর্ন অপরিচিত একজন মানুষ কে এত সহজে যে আপন করে নেয়া যায়, তা নতুন করে শিখলাম।

ফেরিতে নেমে প্রথমে অস্বস্তির ভাব করলাম, যখন সে আমার হাত ধরে এদিক ওদিক ঘুরতে লাগল। জানতে পারলাম, এটা তার প্রথম ফেরিতে চড়ার অভিজ্ঞতা। একটা বাচ্চা যখন প্রথম প্রথম কথা বলতে পারে, তখন তার যেমন প্রশ্নের শেষ থাকে না, ঠিক তেমনি একটার পর একটা প্রশ্ন করে যেতে লাগল। বলার সাথে চোখের উপস্থাপনে তার কথাগুলো বুঝতে কষ্ট হয় নি। না বোঝার কথা ও নয়, বিশেষ করে ওর মত চোখ যাদের আছে, তারা অনেক কথাই বোঝাতে পারে সহজে।

ফ্রেশ হওয়া, চা পর্ব শেষ করে আমরা উপরে গিয়ে রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছি। কারো মুখে কোন কথা নেই, আছে শুধু পদ্মার নির্মল বাতাস, রুপোর প্রলেপে চাঁদ, সার্চ লাইটের আলোয় ছোট ছোট মাছ ধরার নৌকা, বাতাসে চুল, ডাগর ডাগর চোখ, লালচে লিপিস্টিক, আমি আর ইরা। খুব ইচ্ছে করছে, ওকে কিছু বলি। কি যে বলবো, শব্দ খুজে পাচ্ছি না। এই মুহুর্তে মুন, লাইট, ওয়েভ, আই (চোখ), লাভ, ব্লাক, সরি এর বাইরে আমি কিছু মনে করতে পারছি না। কিভাবে সাজানো যায় শব্দ গুলো, হচ্ছে না। একটা কবিতা শোনাতে খুব ইচ্ছে করছে।

তুমি তাকিয়ে আছ।
তুমি তাকিয়ে আছ অতি দূর থেকে,
সজল তোমার চোখ,
কোন এক শান্ত দিঘীর ঠিক মাঝখানে
ফুটে থাকা শাপলাজুটি, লালচে
আর তুমি তাকিয়ে আছ।

বার বার মনে হচ্ছে, ও যদি বাংলা বুঝতো। যদি বলতে পারতাম… বালিকা তোমার চোখের উপর চোখ একে দিব…

৪ thoughts on “এ জার্নি বাই বাস

  1. তারপর গল্পে গল্পে ভালোই কেটে

    তারপর গল্পে গল্পে ভালোই কেটে যাবে পরবর্তী কয়েক ঘন্টা, এমনকি সে গল্প চলতে পারে, দিন পেরিয়ে মাস অথবা আরও অনেক বেশি।

    এহেম! এহেম! :দেখুমনা:
    ক্যাম্পাস থেকে গিয়াই এই অবস্থা!
    ভাল তো! ভাল না? :ভেংচি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *