জোৎস্নাস্নান

:কি ব্যাপার ! চুপ করে আছো কেন ? কিছু বল !
:কি বলবো ? সুমন্ত আমি আর পারছি না । বাসা থেকে বিয়ের জন্য পচুর চাপ দিচ্ছে । কিছু একটা করো না প্লিজ ।
:কি করবো আমি বল ! তোমার বাবা মা আমাকে মানছে না । আর তুমি ভালমতই জানো এরচেয়ে ভালো চাকুরি করা আমার পক্ষে এখন সম্ভব নয় ।
:বাবা মা কে কিছুতেই রাজি করাতে পারছি না । ওই ছেলেকে না দেখেই তাদের পছন্দ ।
:নীলা ! একটা বুদ্ধি দেই ?
:’কি ?’-নীলার চোখ চকচক করে উঠলো ।
:তুমি ওই ছেলেকেই বিয়ে করে ফেল ।
:হুহ…তুমি মানুষ হলে না । আমি এদিকে টেনশনে মরে যাচ্ছি । আর তুমি !
:হা হা হা …
:তোমার হাসিও পাচ্ছে !
:কাঁদবো নাকি !

:কি ব্যাপার ! চুপ করে আছো কেন ? কিছু বল !
:কি বলবো ? সুমন্ত আমি আর পারছি না । বাসা থেকে বিয়ের জন্য পচুর চাপ দিচ্ছে । কিছু একটা করো না প্লিজ ।
:কি করবো আমি বল ! তোমার বাবা মা আমাকে মানছে না । আর তুমি ভালমতই জানো এরচেয়ে ভালো চাকুরি করা আমার পক্ষে এখন সম্ভব নয় ।
:বাবা মা কে কিছুতেই রাজি করাতে পারছি না । ওই ছেলেকে না দেখেই তাদের পছন্দ ।
:নীলা ! একটা বুদ্ধি দেই ?
:’কি ?’-নীলার চোখ চকচক করে উঠলো ।
:তুমি ওই ছেলেকেই বিয়ে করে ফেল ।
:হুহ…তুমি মানুষ হলে না । আমি এদিকে টেনশনে মরে যাচ্ছি । আর তুমি !
:হা হা হা …
:তোমার হাসিও পাচ্ছে !
:কাঁদবো নাকি !
:এখন তো মনে হচ্ছে সত্যি সেই ছেলেটাকেই বিয়ে করে ফেলি ।
:হ্যা । তাই তো বললাম ।
:’তাই না ! ওকে থাকো,আমি গেলাম ।’-নীলা ব্যাগ হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো ।
:আরে কই যাও ?
:জাহান্নামে । তুমি মর ।
নীলা সত্যি গটগট করে হেঁটে চলে গেল । সুমন্ত তাকিয়ে আছে । মেয়েটা ওকে এত ভালোবাসে কেন !!!
সুমন্ত ফোন দিল নীলাকে ।
:এই তুমি কোথায় গেলা ?
:’কেন কি দরকার ?’-নীলা রেগে আছে ।
:আরে এত রেগে আছো কেন ? সরি বাবা ! আসো তো ।
:’তুমি চলে যাও আমার ক্লাস আছে ।’-বলে ফোনটা কেটে দিল নীলা ।

প্রায় তিন বছরের প্রেম ওদের । সুমন্ত পড়ে ঢাকা ভার্সিটিতে । আর নীলা চারুকলায় । দুজনই থার্ড ইয়ারে । হঠাৎ একদিন দেখা ছবির হাটে । তারপর হঠাৎ করেই প্রেম শুরু । সুমন্ত একটা এ্যাড ফার্মে কাজ করে । পার্ট টাইম । মাইনে মোটামুটি ভাল হলেও তা সংসার চালানোর মত না । নীলার বাবা মা বড়লোক টাইপ একটা পাত্র পেয়েছে । ছাড়তে চাচ্ছেন না । এখনই বিয়ে দিতে চাচ্ছেন । সুমন্তকে কেন জানি তাদের পছন্দ না । আর সুমন্তের বাসাতেও এখনই বিয়ে করলে রাজি হবে না । ফলে দুজনই আছে মধুর সমস্যায় । কিন্তু একটা কথা ঠিক যে ওরা একজন আরেকজনকে ছাড়া থাকতে পারবে না ।

———————-
দু তিনদিন পর ।
হঠাৎ রাতে সুমন্তের কাছে নীলার ফোন !
:সুমন্ত !
:হুম । কেমন আছো ? কই ছিলে সারাদিন ? তোমাকে কতবার ফোনে ট্রাই করলাম !
:কোথাও না । তুমি ভালো আছো ?
নীলা কাঁদছে ।
:হুম । কাঁদছো কেন ?
:আবার বলে কাঁদছো কেন ! এই তুমি কি কিছু বোঝো না ?
:কি বুঝবো !!
:তোমাকে কিছু বুঝতে হবে না । আমাকে পরশু দেখতে আসছে ।
:ওহ
:ওহ । মানে ? শুন আমি ওই ছেলেকে দেখতেই চাই না ।
:কেন ? দেখলেই তো আর বিয়ে হচ্ছে না ।
:সুমন্ত ! তুমি আমাকে ভালোবাস তো ?
:কেন সন্দেহ আছে নাকি ?
:আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে ?
:’নাহ ।’-সুমন্ত আস্তে করে একটা দ্বীর্ঘশ্বাস ছাড়লো
:তাহলে শুন আমরা পরশু পালিয়ে বিয়ে করছি ।
:’কি?’-কথাটা শুনে সুমন্ত আকাশ থেকে পড়লো ।
:কি মানে ! এছাড়া আর কোন উপায় নেই ।
:তাই বলে এত তাড়াতাড়ি ! আমার বাবা মা এ বিয়ে কখনো মেনে নিবে না ।
:তাহলে আমি ওই ছেলেকেই বিয়ে করি । কি বল ?
:’না ।’-সুমন্ত সিরিয়াস হয়ে বললো । ‘আচ্ছা আমরা নাহয় পালিয়ে বিয়ে করলাম । কিন্তু থাকবো কই ? খাবো কি ?’
আরো কিছু কথা বলে ফোনটা রেখে দিল । সুমন্তের মাথায় ঝড় বইছে । সব ভেবে সিদ্ধান্ত নিল ওরা পরশুই বিয়ে করবে । তারপর ওর বন্ধুদের সাথে কথা বললো । ওরা সব ব্যবস্থা করবে বলে আশ্বাস দিল । থাকার ব্যবস্থাও হয়ে গেল । জাহিদের বাবার একটা বাংলো বাড়ি আছে গাজীপুরে । কয়েকটা দিন ওখানেই থাকবে ।
—————————–

বিয়ের দিন ।
সুমন্ত কাজী অফিসে । সাথে চার পাঁচজন বন্ধু বান্ধবও আছে । সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে । একটু পল নীলাও এল । সাথে ওর এক বান্ধবী ।
নীলা খুব সুন্দর করে সেজেছে । সুমন্ত অবাক হয়ে দেখছে । নীলাকে নিয়ে একটু পাশে গেল । আজ ওদের জীবনের সবচেয়ে খুশির একটা দিন ।
:’নীলা ! তোমাকে আজ এত সুন্দর লাগছে কেন তো ?’-নীলার হাতে একটা মৃদু চাপ দিয়ে সুমন্ত ।
:”কেন আমি কি সুন্দর না নাকি !”-নীলার ঠোঁটে হাসি ।
:তা তো বলিনি ।
পাশ থেকে বন্ধুরা ডাকছে ।
:কি রে ! বিয়েটা করে নে । তারপর যত ইচ্ছা প্রেম করিস । শালা…
নীলা একটু লজ্জা পেল । একটা লাজুক হাসি দিয়ে বললো,
:চল ওরা ডাকছে ।
:বিয়ে করার এত শখ !
:হুম…খুব শখ । চল…

দুজন বন্ধুকে সাক্ষি রেখে সেদিন দুপুরে নীলা আর সুমন্তের বিয়েটা হয়েই গেল । আজ থেকে ওরা স্বামী স্ত্রী ।
বিয়ে শেষে ওরা সেদিনই জাহিদের বাংলো বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হল । ওদের সাথে বন্ধু বান্ধবেরাও গেল ।

———————–
শরতের এক সন্ধ্যায় ওদের ছোট দলটা বাংলো বাড়িতে প্রবেশ করলো । এক অনাড়ম্বর আয়োজনে ওদের ভিতরে নেয়া হল । ছোটখাটো একটা উৎসব ।
বাংলো বাড়িটা ছোট হলেও খুব সুন্দর । একজন কেয়ারটেকার সব দেখাশোনা করে । জাহিদ আগে থেকেই সব বলে রেখেছিল ।

তখন প্রায় মধ্যরাত ।
সৌভাগ্যক্রমে সেদিন ছিল পূর্ণিমা । আর শরতের পরিস্কার আকাশ । সুমন্ত আর নীলা তখনও জেগে । সুমন্ত নীলার চোখ ঢেকে তাকে বাইরে নিয়ে এল ।
:কি হয়েছে ? হাত সরাও না !
সুমন্ত হাত সরাল । নীলা চোখ খুলে দেখলো সামনে থালার মত বিশাল এক পঞ্চদশী পূর্ণিমার চাঁদ । ‘আজকের রাতটা এত সুন্দর…!!!’ নীলার চোখে পানি চলে এল ।
:”একি আমার বউ কাঁদছে কেন !”-নীলার চোখ মুছতে মুছতে সুমন্ত ।
ওরা দুজন বাংলো বাড়ির উঠানে গিয়ে বসলো । জোছনার আলো বাগান বাড়িতে চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে ।
সুমন্তের বুকে মাথা দিয়ে নীলা বসে আছে । কেউ জানে না কাল কি হব ! দুজনের সামনে এক অনিশ্চিৎ ভবিষ্যৎ । কিন্তু সব ভুলে আজ,এ মুহূর্ত্বে ওরা একসাথে জোৎস্নাস্নান করছে । দুজনের সব ভালোবাসা আর চাঁদের আলো মিলে এক মায়াময় পরিবেশ সৃষ্টি করেছে । এ মুহূর্ত্বে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী ওরা দুজন । দু একটা তারাও জ্বলছে । যেন ওদের হাসছে মিটমিট করে ।
:”সুমন্ত !”-চাপা স্বরে ডাকলো নীলা
:কি ?
:আমাকে এভাবেই আগলে রাখবে তো !
:হ্যাঁ রাখবো । এই রাতটা জোছনার আলোকে যতটা আপন

৫ thoughts on “জোৎস্নাস্নান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *