অনিয়ম টা কি এক প্রকার নিয়ম নাকি ?

ডাক্তারের চেম্বারে এসে ঘন ঘন টয়লেটে যাওয়া আসা করতে দেখে রিসিপসনের মেয়েটি আমাকে পুরনো আমসয়ের রোগী ভাবছে কিনা বুজতে পারছি নাহ । তবে তার চোখ জোড়া যে আমার দিকে বিস্ময়য়ের সাথে দেখছে তা বুজতে পারছি। ৫ম বারের মত যখন বাথরুম থেকে বের হলাম তখন আমার ডাক পড়ল। ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন…
– কি সমস্যা ?
* সমস্যা ভয়াভহ …… পেটের বেদনায় অস্থির।
-কোন সাইডে বাথা করে ?
* সবদিকে…
– হুম… পুরাটা ভরে গেসে তাহলে…
*কি ভরে গেসে ডাক্তার সাব ???
– পিত্তথলি। এটা কি জিনিস বুঝেন??
* বুজলে কি আর আপনার কাসে আসছি??
-ভাল … এখন টাকা বার করেন। পিত্তথলি থেকে পাথর বের করতে হবে।

ডাক্তারের চেম্বারে এসে ঘন ঘন টয়লেটে যাওয়া আসা করতে দেখে রিসিপসনের মেয়েটি আমাকে পুরনো আমসয়ের রোগী ভাবছে কিনা বুজতে পারছি নাহ । তবে তার চোখ জোড়া যে আমার দিকে বিস্ময়য়ের সাথে দেখছে তা বুজতে পারছি। ৫ম বারের মত যখন বাথরুম থেকে বের হলাম তখন আমার ডাক পড়ল। ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন…
– কি সমস্যা ?
* সমস্যা ভয়াভহ …… পেটের বেদনায় অস্থির।
-কোন সাইডে বাথা করে ?
* সবদিকে…
– হুম… পুরাটা ভরে গেসে তাহলে…
*কি ভরে গেসে ডাক্তার সাব ???
– পিত্তথলি। এটা কি জিনিস বুঝেন??
* বুজলে কি আর আপনার কাসে আসছি??
-ভাল … এখন টাকা বার করেন। পিত্তথলি থেকে পাথর বের করতে হবে।
* কিভাবে বের করবেন ??? পেট কাইটা ??
– না – না … কাটাকাটির ভিতর আমি নাই… এমন ওষুধ দিব,পেটের সব পাথর আপনার পায়খানার রাস্তা দেয়া বের হএয়া যাবে ।
* একটা কথা জিজ্ঞাস করি ??
– এক্সরে না করে কিভাবে বুজলেন যে আমার পেটে পাথর হইসে????
*আমার এসবের দরকার নাই…আমি চোখে দেখেই বলে দিতে পারি কোন ধানে কয়টা চাল আছে ।এত কথার দরকার কি ?? আপনার দরকার রোগমুক্তি। আল্লাহর দুনিয়ায় আরও থাকতে চাইলে পাথর বের করার বেবস্থা করেন। এ জন্য মোট ১লাখ টাকা খরচ হবে…
…… আমার ভিতর ভিতর একটা আরতনাদ শোনা গেল। পাথর বঝাই পেটের যন্ত্রণা নেয়া বের হএয়া আসলাম। টলমল পায়ে ফুটপাথ ধরে হাটার সময় এক বন্ধুর সাথে দেখা। সে আমার টেনশন মাখা দেহারা দেখে আতকে উঠে বলেন
– কি হইসে তোর ??
আমি ঠোটে হুমায়ন আহমেদের হিমুর মত একটা বায়বীয় হাসি ফুটিয়ে বললাম
* দোস্ত … রাস্তার জিনিস পেটে ঢুকাইতে ঢুকাইতে এক বিশাল ঝামেলা কইরা ফেলছি…বাচার আসা অতি ক্ষীণ।
-কেন ?? কি হইল তোর??
বিষয় ব্রিতান্ত শোনার পর সে একজন বিশেষজ্ঞর কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া বলল…
– সবসম্য ভাল ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত…
আমি আত্মপক্ষ সমরথন করে বললাম…
* ভাইরে , বড় ডাক্তারের কাছে গেলে মুখের কোন কথা না শুনে এক বস্তা টেস্ট দেয়। তাই ভাবলাম…
-কি ভাবছস… এর কাছে গেলে কচু উপায়ে ১৫ মিনিটে রেসালট আর ২ দিনে নিরাময় হয়ে যাবি…
…আমি কাঁচুমাচু করে বললাম…
* ঠিক তা নাহ…অর্থ + সময় বাঁচানোর জন্যই বলতে পারস…
– শালা কিপ্তা, দেখ অর্থ বাঁচাইতে যাইয়া কি হইল…আজ্রাইলের সাথে দেখা করার বেবস্থা করছে। আর জীবনের চেয়ে নিশ্চয়ই সময় বেশি Importent না । একদিনেই তো তোর আয়ু অর্ধেকে নাইম্মা গেসে।

জীবন মাত্র শুরু করলাম……নামাজ কালাম ও বেশি পরা হয় না… তাই এত গুনা নিয়া মরতে ভয় লাগলো। গেলাম টাকা রে গুল্লি মাইরা বিশেষজ্ঞের কাছে। তিনি আমার রোগ টাকে এপেন ডি এক্স এর বাথা হিসিবে চিনিত করে প্রয়োজনীয় বাবস্থা নিলেন… সব শুনে তিনি বললেন
– দেখলেন, এয়ারপোর্ট কই আর প্লেন কই ?? সব ফাকিবাজি। আপনি এক কাজ করেন, থানায় যান, এর বিরুধে মামলা করেন।
* বাদ দেন…
– বাদ দিব মানে !! এভাবে বাদ দিতে দিতে এ দেশে ভণ্ড প্রাতরক দের সঙ্খা কত বারছে চিন্তা করছেন?? বাদ দেয়া যাবে নাহ…এদের শাস্তি দেয়া আমদের সামাজিক কর্তব্য।

আমার অই বন্ধুর পিড়াপীড়িতে অবশেষে গেলাম থানায়। ওসি সাহেব আমাদের কথা শুনে বললেন
-এই ধরনের অভিযক আমরা প্রুচুর পাই। কিন্তু এদের সেলটার দেয় স্থানীয় প্রভাবশালী আর রাজনৈতিক নেতারা। ফুটপাথের এক বিড়ির দকানের কিছু করতে গেলে দেখা যাবে সেখানে রাজনিতি জড়িত। রাজনিতির পাশ কাটাইয়া এই দেশের পুলিশএর যে কিচ্ছু করার ক্ষমতা নাই এটা নিশ্চয়ই জানেন। আপনি বরং এক কাজ করেন…আদালতে একটা প্রতারনার মামলা করেন।

আমার অই বন্ধু লাফ দিয়া উটলো। তার কাছে ইহা এক মস্ত বুদ্ধি বলে মনে হল।
– আদালতে যাইতে বলসে। চল যাই উকিলের কাছে…
* উকিলের কাছে গেলেই হবে… খরচাপাতি দিতে হবে না
-আরে , অই প্রতারকটার নামে একটা ক্ষতিপূরণের মামলা কলে, খরচাপাতি তো উটবেই…সাথে একটা শিক্ষাও হবে বেতার। কালকে আমার বাসায় চলে আসবি। নিয়ে জাব তোকে কোর্টে। বাকিটা আমার উপর ছাড়।

উকিলের কাছে যাওয়ার পর উনি বললেন
– আদালতের কাছে যথাজথ প্রমান উপস্থাপন করলেই অবশ্যই তার শাস্তি হবে…
তিনি আমার সাক্ষর নিলেন তার হলফনামায়…বল্লেন “”তিন দিন আগে sms এর মাধমে শুনানির তারিক জানিয়ে দেয়া হবে””

sms পাওয়ার পর আমি আমার বন্ধু কে নিয়া কোর্টে গেলাম… কিন্তু আমার উকিল সাহেবের কোন খবর নাই..এমন কি তার মুহুরিরও কোন দেখা নাই। অনেক্ষন অপেক্ষা করে পাশের টেবিলের মুহুরির কাছে গেলাম…… শুনে তিনি হাসতে হাসতে বললেন
-এই লোক তো পলাতক। জাল সারটিফিকেট নিয়া উকিল হইসে। এই কথা জানাজানি হবার পর থেকে সে আর এখানে পাও রাখেনি। আপ্নারা অন্য উকিল ধরেন।

আমরা বিস্ফোরিত নয়নে পরস্পরের দিকে তাকেয়া থাক্লাম…আর ভাবলাম “””””””এইটা কি হইল???!!!! “””””

রাস্তায় হাটছি…আর একটা কথা মনে পড়ছে “””” কোন অনিয়মের প্রতিকার পাবার আশায় আমরা যার দারস্থ হই, দেখা যায়- সে আরও বড় অনিয়ম পকেটে নেয়া ঘুরছে”””

৯ thoughts on “অনিয়ম টা কি এক প্রকার নিয়ম নাকি ?

  1. মনে হয় আপনি ইস্টিশিনে নতুন
    মনে হয় আপনি ইস্টিশিনে নতুন এবং এই লিখাটি আপনার প্রথম লিখা খারাপ না ভালোয় হয়েছে কিন্তু বানানের দিকে খুব বেশি নজর দিয়েন আপনার এখানে অনেক বানান ভুল আছে …… স্বাগতম :ফুল:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *