জনযুদ্ধের গণযোদ্ধাদের গল্প


শ্রীমঙ্গলের চারদিকে বিস্তীর্ণ কালেঙ্গা অরণ্য – আমাদের গেরিলাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। মাঝে মধ্যে ভুল করে পা মাড়ালেও মুক্তিবাহিনীর এমব্যুশে ফিরে যেতে বাধ্য হয় পাকিস্তানীদের। ২৪ শে সেপ্টেম্বর ১৯৭১; বড় একটি পাকিস্তানী কলাম এগিয়ে আসছে বুনো পথ ধরে। পথ দেখিয়ে আনছে রাজাকার নাম্নী ২০/২৫ জনের এদেশীয় কিছু প্রভুভক্ত কুকুর।



শ্রীমঙ্গলের চারদিকে বিস্তীর্ণ কালেঙ্গা অরণ্য – আমাদের গেরিলাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। মাঝে মধ্যে ভুল করে পা মাড়ালেও মুক্তিবাহিনীর এমব্যুশে ফিরে যেতে বাধ্য হয় পাকিস্তানীদের। ২৪ শে সেপ্টেম্বর ১৯৭১; বড় একটি পাকিস্তানী কলাম এগিয়ে আসছে বুনো পথ ধরে। পথ দেখিয়ে আনছে রাজাকার নাম্নী ২০/২৫ জনের এদেশীয় কিছু প্রভুভক্ত কুকুর।

নায়েব সুবেদার আবদুল মান্নানের নেতৃত্ব রাস্তার দুপাশে এমবুশে প্রস্তুত একটি গেরিলা দল। রুদ্ধশ্বাস নীরবতা, দৃষ্টি নিবদ্ধ রাস্তার দিকে। রাজাকারের দল হেঁটে চলছে রাস্তা দিয়ে, পাশেই রাস্তার ঠিক নীচে এসএমজি নিয়ে পজিশনে মুক্তিবাহিনী। নিরাপদেই রাজাকাররা হেঁটে পার হয়ে যায়, কারণ মুক্তিবাহিনীর লক্ষ্য রাজাকারদলের পেছনে থাকা পাকিস্তানী দলটি, নীচু গোত্রীয় রাজকাররা নয়।

এক সময় পাকিস্তানী সৈন্য দলটি দৃষ্টিগোচর হয় যোদ্ধাদের, কিন্তু গেরিলাদের উপর আদেশ রয়েছে শত্রুর চোখের সাদা অংশটি না দেখা পর্যন্ত অর্থাৎ একেবারে কাছে না আসা পর্যন্ত গুলি না চালাতে। এক সময় পুরো দলটিই এসে ঢুকে পড়ে আমাদের গেরিলাদের পাতা ফাঁদে। নিস্তব্ধ বনাঞ্চলের নীরবতা ভেঙ্গে দিয়ে এক যোগে গর্জে ওঠে আমাদের সব অস্ত্র। ঢলে পড়ে মৃত পাকিস্তানীদের দেহ রাস্তার দুপাশে। বেশ বড় দল হওয়াতে এক সময় পাকিস্তানীরা নিজেদের ক্ষতি সামলে শুরু করে পাল্টা আক্রমণ।

এরই মাঝে নায়েব সুবেদার আবদুল মান্নান জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে নিজের নিরাপদ অবস্থান থেকে উঠে দাঁড়িয়ে এক আহত পাকিস্তানীর কাছে এসে চিৎকার করতে থাকে, “আমি ক্যাপ্টেন আজীজকে কথা দিয়েছি এক পাকিস্তানীকে জীবিত নিয়ে আসবো, তিনি আমাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেবেন।”

নাহ্‌, সুবেদার মান্নানের আর ফেরা হলো না সেই পাকিস্তানীকে নিয়ে, শত্রুর গুলিতে ঢলে পড়লেন সেই আহত সৈনিকের পাশেই।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কেবলই একটি যুদ্ধ ছিল না; ছিল সাধারণ মানুষের দেশপ্রেমের এক অপুর্ব নিদর্শন। যে কোন যুদ্ধে এক বা একাধিক নিয়মিত সামরিক বাহিনীর মধ্যেই যুদ্ধ সংগঠিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের বিপুল অংশগ্রহণ এই যুদ্ধকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গণযুদ্ধে রূপান্তরিত করেছে। সম্মুখসমরের গনযোদ্ধাদের প্রায় সবাই ছিল গ্রামাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষ; ছাত্র, শ্রমজীবী, পকেটমার, সিঁধেল চোর, চরদখলের লড়াকু, গেরস্থের কামলা। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় ইতিহাসে সাধারণ মানুষের এই বিপুল আত্মত্যাগের কাহিনী খুব কমই পাওয়া যায়। তাই আমাদের কাছে অজানা থেকে যায় আজীবন ফার্স্ট হওয়া দশম শ্রেণীর ছাত্র ফারুকের নাম যে তার বাবাকে জীবনের শেষ চিঠিতে লিখেছিল – Mother and Motherland are superior to heaven.

মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের বীরোচিত আত্মত্যাগের কাহিনী যতই পড়েছি ততই স্তম্ভিত হয়েছি আমাদের পূর্বপুরুষদের সাহস দেখে। চোখের অশ্রুকে বাঁধ মানাতে পারি নি কোনভাবেই। সেই নাম না জানা কিশোরের কথা পড়ছিলাম। যুদ্ধ করতে এসে ধরা পড়েছে। পাকিস্তানী ক্যাপ্টেন তাঁর দিকে বন্দুক তাক করে জিগ্যেস করছে, মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ ইচ্ছা কি? সেই কিশোর গভীর মমতায় মাটিতে চুমু খেয়ে উত্তর দিচ্ছে, “চালাও গুলি। আমার রক্ত আমার মাতৃভূমিকে পবিত্র করবে, স্বাধীন করবে।“ এই বীরোচিত কিশোরের প্রদীপ্ত কণ্ঠ শুনে কি চোখের অশ্রু বাঁধ মানানো যায়?

কিংবা ফেনীর বিলোনিয়া যুদ্ধের ১৮-১৯ বছরের কিশোর আক্তারের কথাই ধরুন। সন্মুখ যুদ্ধে প্রচন্ড আহত সে। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। অবিশ্রান্ত ধারায় রক্ত ঝরছে শরীর থেকে। গ্রাম্য ডাক্তারের কাছে ঔষধ, সরঞ্জাম কিছুই নেই। ছেলেটি নিশ্চিত মারা যাচ্ছে। মৃত্যুর আগে সহযোদ্ধাকে শুধু একটা কথাই বলে গেল যেন তাঁর বড় ভাইকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে সে যুদ্ধের মাঠে কাপুরুষের মত মরে নি। এলএমজি নিয়ে শত্রু হত্যা করতে করতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মরেছে। তাঁর ভাইও কোন এক সেক্টরে যুদ্ধ করছে। জানা নেই সেই ভাই বেঁচে আছে কি না মরে গেছে।

পাত্রখোলা চা বাগানের কুলি হরির কথাই ধরুন। ১ম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের ৩৫ জনের একটি প্লাটুন সিলেটের শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশনে পাকিস্তানী আর্মির অবস্থানে আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত। একজন গাইড দরকার। হরি এগিয়ে আসল। তাঁর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। যাত্রা শুরু হয়েছে বিকেলে। সন্ধ্যায় খবর আসল হরির স্ত্রী একটি মৃত সন্তান প্রসব করে মারা গেছে। সবাই মর্মাহত এবং একইসাথে উদ্বিগ্ন কেননা হরিকে ছাড়া শ্রীমঙ্গল যাওয়া যাবে না। রেইড দলের কমান্ডার ক্যাপ্টেন হাফিজ হরিকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেন। জিগ্যেস করলেন শ্রীমঙ্গল যাওয়ার জন্য অন্য কোন গাইড পাওয়া যাবে কি না। হরি চোখ মুছতে মুছতে জবাব দিল, “স্যার, বউ মরছে তো কিতা অইছে। চিন্তা কইরেন না। আমিই লইয়া যামু শ্রীমঙ্গল।“ হরিরা হারিয়ে গেছে। তাঁদের খোঁজ কেউ রাখ নি।

ভারতীয়রা অনেক গর্ব করে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে তাঁদের সাফল্যের কথা প্রচার করে বেড়ায়। কিন্তু একবারও তাঁরা তাঁদের সাফল্যের পিছনে মুক্তিবাহিনী কিংবা সাধারণ বাংলাদেশীদের অবদানের কথা বলে না। ভারতীয় সেনানায়করা কোথাও তাঁদের বইতে লিখেন নি – মুক্তিবাহিনী কিভাবে শত্রুকে ‘অন্ধ ও বধির’ করে ফেলেছিল। তাঁরা সেই ‘অন্ধ ও বধির’ শত্রুদেরকে কেবল নিধন করেছিলেন। তাঁরা লিখেন নি, তাঁদের পিটি-৭৬ উভচর ট্যাঙ্ক মেঘনা নদী সাঁতরে পার হতে পারছিল না যখন (আধা ঘন্টা পানিতে চললে এই ট্যাঙ্কের ইঞ্জিন গরম হয়ে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়) তখন গ্রামবাসী কি করে দেশী নৌকা দিয়ে এগুলো টেনে পার করে। তাঁর লিখেন নি কাঁদার রাস্তায় আশুগঞ্জ-ভৈরবের যুদ্ধে কিভাবে তাঁদের ভারী মর্টার, ভারী সরঞ্জাম গ্রামের লোক বয়ে নিয়ে গেছে তাঁদের জন্য। একবারও তাঁরা উল্লেখ করেন নি কিভাবে রংপুরের বদরগঞ্জে হারিকেন হাতে আমাদের ছেলেরা ট্যাঙ্কের সামনে হেঁটে হেঁটে ওদের পথ দেখিয়েছে। অথচ তাঁরা ঠিকই লিখলেন কি করে ১.৮ : ১ আনুপাতিক সৈন্যের হারে তাঁরা যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশীদের প্রশংসা না করার ব্যাপারে ভারতীয়দের দৃষ্টিভঙ্গি পাকিস্তানীদের চেয়ে ভিন্ন ছিল না।

এই যুদ্ধ ছিল একান্তই আমাদের যুদ্ধ। আমাদের যুদ্ধ ছিল বলেই দোহার থানার বাগড়া বাজারের চায়ের দোকানদার চুন্নু নিজের জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানী আর্মিদের খবরাখবর পৌঁছে দিত মুক্তিবাহিনীর কাছে। সেই খবরের উপর ভিত্তি করে মুক্তিবাহিনী অপারেশন চালাত। চুন্নুর ইচ্ছে ছিল দেশ স্বাধীন হলে কোন একটা সরকারী অফিসে পিয়নের চাকরি করবে। তাঁর সেই ইচ্ছে পূরণ হয় নি। চুন্নু হারিয়ে যায়। অনেকদিন পর যখন তাঁর খোঁজ পাওয়া যায় তখন সে ফুলার রোড আর তৎসংলগ্ন এলাকায় রিকশা চালায়।

রাখাইন মেয়ে প্রিনছার কথা না বললে মুক্তিযুদ্ধে সব জাতি-গোষ্ঠীর ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণের ব্যাপারটি আড়ালে থেকে যায়। টেকনাফের মেয়ে প্রিনছা খে একটা মেডিকেল টিম এর সাথে কাজ করত পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকত এলাকায়। জুলাই মাসে পাকিস্তানী বাহিনী যখন পাথরঘাটা আক্রমণ করে তখন প্রিনছা বন্দী হয় পাকিস্তানীদের হাতে। অবধারিতভাবেই পাকিস্তানীদের ভোগের সামগ্রীতে পরিণত হয় সে। তবে প্রিনছা ছিল বুদ্ধিমতী। সে পাকিস্তানী বাহিনীর সাথে মিশে যায়, তাঁদের বিশ্বাস অর্জন করে। প্রিনছার রান্নার হাত ছিল খুবই ভাল। একদিন সুযোগ বুঝে সে খাবারে বিষ মিশিয়ে পরিবেশন করে পাকিস্তান আর্মির সৈন্যদের কাছে। ৪২ জন সৈন্যের ১৪ জনই মারা যায়। বাকিরা গুরুতর আহত হয়ে পড়ে থাকে। বীরাঙ্গনা প্রিনছার কোন খোঁজ কি আমরা এখন জানি?

একজন মুক্তিযোদ্ধার চিঠি পড়ুন। দেখুন দেশের প্রতি আবেগ আর ভালোবাসা কাকে বলে। পারছি কি আমরা দেশটাকে এইভাবে ভালবাসতে?

মা,

তুমি আজ কোথায় জানি না। তোমার মত শত শত মায়ের চোখের জল মুছে ফেলার জন্য বাংলার বুকে জন্ম নিয়েছে লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা। আমি যদি মরে যাই তুমি দুঃখ করো না মা। তোমার জন্য আমার যোদ্ধাজীবনের ডায়েরি রেখে গেলাম আর রেখে গেলাম লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা। তাঁরা সবাই তোমার ছেলে। আজ হাসপাতালে শুয়ে তোমার স্নেহমাখা মুখখানি বারবার মনে পড়ছে। আমার ডায়েরিটা তোমার হাতে গেলে তোমার সকল দুঃখ দূর হয়ে যাবে। দেখবে তোমার ছেলে শত্রুকে পেছনে রেখে কোনোদিন পালায় নি। যেদিন তুমি আমাকে বিদায় দিয়েছিলে আর বলেছিলে , শত্রু দেখে কোনোদিন পেছনে আসিসনে বাবা। তুমি বিশ্বাস কর মা, শত্রু দেখে আমি কোনোদিন পালাই নি। শত্রুর বুলেট যেদিন আমার বুকের বা দিকে বিঁধল সেদিনও তোমার কথা স্মরণ করেছিলাম। মা, আমার সবচেয়ে আনন্দ কোথায় জান? আজ থেকে চারদিন পূর্বে একটা গ্রামের পাশ দিয়ে যাচ্ছি, হঠাত বেদনাক্লিষ্ট একটা নারীকন্ঠ ভেসে এলো। কালবিলম্ব না করে সেদিকে দৌড়ে গেলাম। একটা গুলি আমার মাথার উপর দিয়ে চলে গেল – আবার একটা। এবার বুঝলাম শত্রুরা আমাকে লক্ষ করেই গুলি ছুঁড়ছে। তবুও আমি এগিয়ে চলছি। বাড়িটার পেছনে একটা বাঁশঝাড়ের পেছনে আড়াল নিলাম। দেখলাম বিবস্ত্র একটা নাড়ীর দেহ নিয়ে কয়েকজন পৈশাচিক খেলায় মেতে উঠেছে। আমি আর স্থির থাকতে পারলাম না না। মনে পড়ে গেল বাংলার লক্ষ লক্ষ মায়ের কথা। শত্রুকে লক্ষ করে গুলি ছুঁড়লাম। ওরাও অনবরত গুলিবর্ষণ শুরু করল। জ্ঞান ফিরে দেখি আমি হাসপাতালে। জানতে পারলাম আমার গুলিতে ৫ জন নরখাদক পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে। দোয়া করো মা। ভাল হয়ে আবার যেন তোমার শত শত সন্তানের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মায়ের অপমানের প্রতিশোধ নিতে পারি।

ইতি
তোমার ছেলে
বাংলাদেশ, ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১

লিখলে শেষ করা যাবে না। প্রচণ্ড কষ্ট হয় যখন দেখি জনযুদ্ধের এই মহান গনযোদ্ধারা করুণ অবস্থায় দিন কাটায় আর স্বাধীনতার ফসল ঘরে তুলে সুবিধাবাদী কিছু গোষ্ঠী যারা জানতই না যুদ্ধ কাকে বলে। তিরিশের কোঠায় যে কৃষক স্ত্রী মিরাশের মা অসীম বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে সে নেত্রকোনায় স্বামী-সন্তানহারা পথের ভিখিরি হয়ে ঘুরে বেড়ায়। আখাউরার চোরাকারবারি বীর্যধারী যোদ্ধা তাজুল আবার তাঁর পুরাতন কাজেই ফিরে যায়। ট্রেনের পকেটমার ফজলু যুদ্ধ শেষে ময়মনসিংহের রেলস্টেশনে চা-বিস্কুটের দোকান করে। ফেনীর যুদ্ধাহত যোদ্ধা বীর প্রতীক তাহের হতাশায় পিজি হাসপাতালের ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে। আর পাকিস্তানীদের দোসর রাজাকারগুলো গাড়িতে জাতীয় পতাকা লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পায়। কত দীন হলে একটি জাতি তাঁর মুক্তিযোদ্ধাদের এমন অবজ্ঞা প্রদর্শন করতে পারে। যে দেশে বীরদের শ্রদ্ধা করা হয় না সে দেশে বীর তৈরিও হয় না। এ প্রবচন আমাদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সত্য।

শেষ কথা

আরেকটি বিজয় দিবস আমাদের জাতির দরজায় কড়া নাড়ছে। মাঝে মাঝে ভাবি, আজ যদি এইসব গনযোদ্ধারা আমাদের দুয়ারে এসে জিগ্যেস করেন “ফিরিয়ে দাও আমাদের সোনালী সময়গুলো যেগুলো আমরা তোমাদের ভবিষ্যতের জন্য উৎসর্গ করেছিলাম।“ আজ যদি মুক্তিযুদ্ধের শহীদরা এসে আমাদের কাছে জানতে চান, “কিসের জন্য জীবন দিয়েছিলাম আর কি পরিণতি করেছ তোমরা দেশটার?” আমরা কি জবাব দিব বলবেন? একজন কাদের মোল্লা কে ফাঁসি দিলেই কি সব শোধ হয়ে যায়? না, যায় না। তাই আজ আমাদের দৃপ্ত শপথ নেওয়ার দিন। চলুন শপথ নেই, নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই দেশকে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। আমৃত্যু কাজ করে যাব একটি অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়বার জন্য। একাত্তরে শহীদদের আত্মারা তা না হলে আমাদের কোনদিনই ক্ষমা করবে না।

তথ্যসূত্রঃ
১. জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা – মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া
২. বিজয়ী হয়ে ফিরব নইলে ফিরবই না – মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া
৩. Bangladesh at War – মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ
৪. প্রাগুক্ত (একাদশ খন্ড), পৃষ্ঠাঃ ৮৫০-৮৫১
৫. ছবি কৃতজ্ঞতাঃ জন্মযুদ্ধ’৭১

৩৮ thoughts on “জনযুদ্ধের গণযোদ্ধাদের গল্প

  1. অনেক দিন পর একটা আবেগী লেখা
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    অনেক দিন পর একটা আবেগী লেখা পেলাম আপনার থেকে। শেয়ার দিলাম……

    1. ধন্যবাদ দুলাল ভাই। লেখাটা
      ধন্যবাদ দুলাল ভাই। লেখাটা লিখতে গিয়ে আবেগাক্রান্ত হয়েছি বার বার। বইগুলো পড়লে চোখের পানি ধরে রাখা মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়।

  2. বেশ কিছু অজানা জানা হল । কি
    বেশ কিছু অজানা জানা হল । কি করেছি আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ? কিছুই না । আর বিপরীতে কি করেন নি তারা আমাদের জন্য ? সব করেছেন । জীবন দিয়েছেন , বাজী রেখেছন ।

    লিখায় ভালো লাগা জানিয়ে গেলাম ।

    বিজয়ের শুভেচ্ছা

    1. কি করেছি আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের

      কি করেছি আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ? কিছুই না । আর বিপরীতে কি করেন নি তারা আমাদের জন্য ? সব করেছেন । জীবন দিয়েছেন , বাজী রেখেছন ।

      :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ:

  3. সত্যিই হৃদয়গ্রাহী লেখা। এমন
    সত্যিই হৃদয়গ্রাহী লেখা। এমন দিনে এরকম একটা লেখা দিয়ে সত্যিই আপনি একটা দারুণ কাজ করেছেন। লেখাটা যদি এদেশের প্রতিটা শিশুকে পড়ানোর ব্যবস্থা করা যেতো, অন্তত আমাদের প্রজন্মের মতো বিভ্রান্ত আর মিশ্র একটা প্রজন্ম হওয়া থেকে তারা রক্ষা পেতো।

    1. লেখাটা লিখতে গিয়ে আমি নিজেও
      লেখাটা লিখতে গিয়ে আমি নিজেও বার বার আবেগাক্রান্ত হয়েছি। আফসোস হয় যখন দেখি শিবিরের খপ্প্রে পড়ে আমাদের প্রজন্মের একটা বিশাল অংশ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তির আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই বেশি বেশি কিভাবে সবার হাতে পৌঁছানো যায় সে ব্যাপারে আমাদের চিন্তা করা দরকার। ইষ্টিশন এর পক্ষ থেকে এমন কোন পদক্ষেপ কি নেওয়া যায়? আপনার মাথায় কিছু আসে এই ব্যাপারে?

  4. অনেক অনেক ধন্যবাদ
    শঙ্খচিলের

    অনেক অনেক ধন্যবাদ

    শঙ্খচিলের ডানা

    ভাইয়া।
    বিজয় দিবসের এই দিনে, আপনার এই লিখাটি পড়ে অনেক অনেক ভালো লাগলো।
    “জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা” বইটি আমি যে কত কত বার পড়েছি নিজেও জানি না।
    আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়, এই দেশের সাধারন মানুষগুলোই কেমন করে দেশপ্রেমের কারণে অসাধারণ ত্যাগ স্বীকার করে দেশমাতা’কে পাকিস্তানি দানবদের হাত থেকে রক্ষা করতে পেরেছিলো~ তা ভাবলে তাদের প্রতি শ্রদ্ধায় আপনাআপনিই মাথা নুয়ে আসে… :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:
    বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা রইলো,ভাইয়া… শুভ বিজয় দিবস।

    1. লেখাটি ভাল লেগেছে জেনে ভাল
      লেখাটি ভাল লেগেছে জেনে ভাল লাগলো। আপনাকেও বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা। সম্ভব হলে একই লেখকের “বিজয়ী হয়ে ফিরব নইলে ফিরবই না” পড়ে দেখবেন। জনযুদ্ধের গণযোদ্ধাদের আরও অনেক কাহিনী জানতে পারবেন।

  5. “ফিরিয়ে দাও আমাদের সোনালী

    “ফিরিয়ে দাও আমাদের সোনালী সময়গুলো যেগুলো আমরা তোমাদের ভবিষ্যতের জন্য উৎসর্গ করেছিলাম।“ –

    এভাবে বলেন কেন ভাই কি জবাব দেব।

    তবে আমরাও ছাড়বো না। দেখি কিছু টা হলেই চেষ্টা করে দেখি। স্যালুট দেশের এই সন্তান দের। :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

    1. প্রত্যেকের নিজের অবস্থান থেকে
      প্রত্যেকের নিজের অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করে যেতে হবে। তাহলেই দেশ এগিয়ে যাবে। পূরণ হবে একাত্তুরের শহীদদের স্বপ্ন। :salute:

  6. এই লেখাটা পড়তে গিয়ে আমার
    এই লেখাটা পড়তে গিয়ে আমার দেহের প্রতিটা লোম খাড়া হয়ে গেছে……….

    ………সেই সব নাম না জানা গণযোদ্ধাদের প্রতি রইল সশস্ত্র শ্রদ্ধা……. :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট:

    ধন্যবাদ শঙ্খচিল ভাই এধরনের একটি অসাধারণ পোস্ট দেবার জন্য……

    1. তথ্যসূত্রে যেইসব বই এর নাম
      তথ্যসূত্রে যেইসব বই এর নাম লিখেছি সেগুলো পড়ে দেখবেন। একেকটা ঘটনা পড়বেন আর আবেগ ও বিস্ময়ে শিউরে উঠবেন।

  7. আমরা কিছুই করতে পারি নি
    আমরা কিছুই করতে পারি নি তাঁদের জন্য। তাঁদের ত্যাগকে আমরা এতো সাধারণ বানিয়ে ফেলেছি যে লজ্জাও বোধহয় আমাদের চোখে নাই আর।
    এ আমাদের প্রতি এক চরম ধিক্কার।

    1. আমরা কিছুই করতে পারি নি

      আমরা কিছুই করতে পারি নি তাঁদের জন্য। তাঁদের ত্যাগকে আমরা এতো সাধারণ বানিয়ে ফেলেছি যে লজ্জাও বোধহয় আমাদের চোখে নাই আর।

      :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ:

  8. খুব কষ্ট হয় ভাই এই কথগুলো মনে
    খুব কষ্ট হয় ভাই এই কথগুলো মনে পড়লে… এই মানুষগুলো এতটা কষ্ট স্বীকার করে আমাদের জন্য একটা স্বাধীন দেশ দিয়ে গেলো, আর আমরা তাদের মাথায় তুলে রাখা তোঁ দূরে থাক, মনে রাখতেও চাই না… অনেকেই আজ বৃদ্ধবয়সে বাঁচার কোন অবলম্বন না পেয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষা করে… কি লজ্জা কি লজ্জা… উনাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় আর বস্তু উনারা আমাদের জন্য উৎসর্গ করলেন, আর আমরা তাদের কি অদ্ভুত ভাবেই না ভুলে গিয়েছি… মাঝে মাঝে কথাগুলো মনে হলে মাথা হেঁট হয়ে আসে… স্বাধীন দেশের রুপকাররাই যদি এভাবে ধুকে ধুকে মারা যায়, তবে আর এই স্বাধীনতার মূল্য কি দাঁড়াল??

    আপনার এই পোস্টটাকে কোন মাপকাঠিতে মাপা সম্ভব নয়। “জনযুদ্ধের গনযোদ্ধারা” বইটা আমার পুরোপুরি পড়ার সুযোগ হয়নি। খুব শীঘ্র পুরোটা শেষ করব… আপনার এই পোস্টের জন্য অশেষ :bow: :bow: :bow: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :ফুল:
    আর জনযুদ্ধের গনযোদ্ধাদের :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

    1. স্বাধীন দেশের রুপকাররাই যদি

      স্বাধীন দেশের রুপকাররাই যদি এভাবে ধুকে ধুকে মারা যায়, তবে আর এই স্বাধীনতার মূল্য কি দাঁড়াল??

      দুঃখ তো সেইখানেই রে ভাই। আর কতদিন আমরা চুপ করে থাকব? :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *