আম ছিলে খাওয়া যায় আবার জুস করেও খাওয়া যায়

গত ১২ তারিখ কুখ্যাত রাজাকার কাদের মোল্লার ফাসি হয়েছে । ট্রাইব্যুনাল পেয়েছে তাদের প্রথম জয়, ৯০ এর পরে আমরাও পেয়েছি আরেক জয় ।
৭১ এ মুক্তিযোদ্ধারা যেমন ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল, ঠিক তেমনি গত ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা ১০ মাস আপোষহীন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরাও আরেকটি যুদ্ধে জয়ী হলাম । তবে পথ এখনো অনেক বাকি ।
খেলায় এক পক্ষ হারলে আরেক পক্ষ কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক । এখানেও তেমন হল । মোল্লার ফাসি নিয়ে আবার স্বাধীনতা বিরোধীরা নেমে পড়লো নানা নোংরা খেলা আর নানা রকম নোংরা বচন নিয়ে । শুরু হল নানা আন্তর্জাতিক চাপ আর ষড়যন্ত্র ।

গত ১২ তারিখ কুখ্যাত রাজাকার কাদের মোল্লার ফাসি হয়েছে । ট্রাইব্যুনাল পেয়েছে তাদের প্রথম জয়, ৯০ এর পরে আমরাও পেয়েছি আরেক জয় ।
৭১ এ মুক্তিযোদ্ধারা যেমন ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল, ঠিক তেমনি গত ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা ১০ মাস আপোষহীন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরাও আরেকটি যুদ্ধে জয়ী হলাম । তবে পথ এখনো অনেক বাকি ।
খেলায় এক পক্ষ হারলে আরেক পক্ষ কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক । এখানেও তেমন হল । মোল্লার ফাসি নিয়ে আবার স্বাধীনতা বিরোধীরা নেমে পড়লো নানা নোংরা খেলা আর নানা রকম নোংরা বচন নিয়ে । শুরু হল নানা আন্তর্জাতিক চাপ আর ষড়যন্ত্র ।
চটি রাষ্ট্র পাকিস্তান আবার এক মহৎ কাজ করে রাখলো । পার্লামেন্টে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করে বিশ্বকে তারা দেখিয়ে দিল, জাতি হিসেবে তারা কতটা নিচু মানের আর প্রমাণ করল এই মোল্লাই আসল অপরাধী কসাই কাদের মোল্লা । এতবড় অপমান আর লজ্জা কখনো সহ্য করে নেয়া যায় না ।
আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিশ্বাস করি, বাংলাকে ভালবাসি তারা আবার নেমে পড়লাম আরেক নতুন যুদ্ধে । এর প্রতিশোধ নিতে হবেই হবে ।
গনজাগরণ মঞ্চের নেতৃত্বে তাই গুলশান-২ গোলচত্বরে বসে পড়লাম । লক্ষ এমন হীন কাজের জন্য পাকিস্তান সরকারকে ক্ষমা চাইতে হবে । এরপরেও কাহিনী আমাদের সবার জানা । কাঁটা ঘায়ে লবণ লাগালো সরকারের অনুগত পুলিশ বাহিনী । পুলিশ সেদিন শুধু মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা আর আমাদের উপরেই আঘাত করেনি । আঘাত করেছিল এদেশের স্বাধীনতার উপর, লাল সবুজ পতাকার উপর ।
ঠিক তার পরের দিন শাহবাগে গনজাগরণ মঞ্চের সমাবেশে মঞ্চ থেকে নতুন কর্মসূচি দেয়া হল যে,”আজ থেকে আমরা সব রকম পাকিস্তানি পণ্য বর্জন করব ।” সবাই বসে পড়লো পাকিস্তানি পণ্যের লিস্ট তৈরি করতে । পরেরদিন লিস্টসহ নানা জায়গায় প্রচারণা চালানো হল । তাদের উপর ককটেল হামলাও হল । পরে চিন্তা করে কিছু ব্যাপারে খটকা লাগলো ।
গনজাগরণ মঞ্চ থেকে নানা সময় নানা রকম হাস্যরসাত্বক কর্মসূচি দেয়া হয়েছিল । যেমন ১০-৫টা আন্দোলন(যেন সেটাই একটা অফিস) , মোমবাতি জ্বালানো, জাতীয় পতাকা ওরানো, শহীদদের উদ্দেশ্যে চিঠি লিখে উড়ানো ইত্যাদি ইত্যাদি । এসব অনেকটাই হাস্যকর ছিল । আবার আমি এটাও বলব না যে আমি এসবের বিরুদ্ধে ছিলাম । গণঐক্যের জন্য অবশ্যই এসবের দরকার ছিল । কিন্তু তারা যে উদ্দেশ্য নিয়ে এসব করেছিল তা ঠিকভাবে ধরে রাখতে পারেনি নানা কারণে । সেসব আর নাই বলি । আস্তে আস্তে গনজাগরণ মঞ্চ থেকে মানুষ তাদের আস্থা সরিয়ে নিতে থাকলো । এমনি এক অবস্থায় তারা নতুন এক প্রচারণা শুরু করলো, “সব রকম পাকিস্তানি পণ্য বর্জন। ”
কেন??? আমাদের উদ্দেশ্য তো এটা ছিল না । এটা করে কি পাকিস্তানি সরকার আমাদের কাছে ক্ষমা চাইবে ? বা যেসব পুলিশ আমাদের উপর হামলা করেছিল তারা মাফ চাইবে ??? না । কক্ষনো না ।এসব করে আমরা খুব বেশি হলে আমাদের ঘৃণা প্রকাশ করতে পারবো এর বেশি কিছু না ।
আমার মনে সন্দেহ জাগে একদিন মার খেয়েই কি গনজাগরণ মঞ্চের নেতারা নেতিয়ে পড়লো ??? চিন্তাটা অমূলক নয় । প্রথম কথা একটি দেশের পণ্য বর্জনের সাথে শুধু জাতীয়তাবাদ নয় আরো অনেক কিছু জড়িত রয়েছে । যেমন মুক্তবাজার অর্থনীতি । এছাড়া এদেশের যারা পাকিস্তানি পণ্যের ডিলার ! অথচ সবার আগে আমাদের বলা উচিৎ ছিল যে, আজ থেকে আমরা পাকিস্তানে কোন রকম পণ্য রপ্তানি করবো না । এটা বলা হল না কারণ এটা থেকে আমাদের সরকার বেশি শুল্ক আদায় করে । যদিও আমদানি থেকে কিছু শুল্ক আদায় করে কিন্তু তা কম ।
আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, প্রথম দিকে আমাদের দাবী ছিল জামাত-শিবির নিষিদ্ধ সহ তাদের সব রকম অঙ্গসংগঠন বন্ধ করতে হবে । আমরা পরিষ্কার করে বললে আমাদের সরকার এখন পর্যন্ত তাদের একটা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে পারলো না । এমনকি রেটিনা বন্ধ করছি করছি করে তাও এখনো বন্ধ করলো না । আর জামাত শিবির নিষিদ্ধের নামে নানা টালবাহানা শুরু করে দিল । প্রথম পর্যায়ে গনজাগরণ মঞ্চ তাদের দাবী নিয়ে খুব সুন্দর ভাবে পরাজিত হল সরকারের নানা রকম দালালিতে । আমাদের নৈতিক পরাজয় ঘটলো । এরপর সময় গড়ালো । সবাই ভুলে গেল দ্রোহে আগুন লাগানো এসব দাবী দাওয়াকে । এমনকি গণজাগরণ মঞ্চের ৬ দফার একটিও পুরণ হল না । কিন্তু এ নিয়ে মঞ্চের নেতাদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যাথা নেই । কোনও ক্ষোভ নেই ।
এখন যখন পাকিস্তানকে ক্ষমা চাওয়ার জোড়ালো একটা দাবী উঠলো তখন সরকারের সাথে সাথে মঞ্চও লুতুপুতু শুরু করলো । একদিন মার খেয়েছি তো কি হয়েছে !!! খেলাম নাহয় মার একদিন । কিন্তু পাকিস্তান সরকার যে আমার বাংলার উপর আবার আঘাত করলো ! তালেবানরা যে বাংলার উপর হামলার হুমকি দিল ! পুলিশ যে মুক্তিযোদ্ধা,বীরাঙ্গনাদের উপর হামলা করলো এসবের কি হবে ???? আস্তে আস্তে !!! ধৈর্য্য ধরে !!! না এভাবে হবে না কখনোই । সবার আগে পাকিস্তানিদের ক্ষমা চাওয়াতে হবে আমাদের কাছে,বাংলাদেশ সরকারের কাছে । আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সাহস তারা কোথা থেকে পায় তার জবাব দিতে হবে । আপোষ না মানা আন্দোলনে নামতে হবে এক দফা নিয়ে । পাকিস্তানকে অবিলম্বে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে । আর ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তাদের সাথে সব রকম কূতনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করতে হবে । এই দাবী পুরণ না করে এত তাড়াতাড়ি নতুন কর্মসূচি “পাকিস্তানি পণ্য বর্জন ” দেয়াটা আমার কাছে ঠিক মনে হয়নি । এতে আবার আগের দাবীগুলোর মত এই মৌলিক দাবীটাও ধূলোয় মিশে যেতে পারে । আর তারপর নামতে হবে কার নির্দেশে এবং ঠিক কি কারণে পুলিশ এই জঘণ্য হামলাটা চালালো সেই রহস্য উদঘাটনে । হঠাত নতুন কর্মসূচি দিয়ে তো আমরা নিজেরাই নিজেদের দিগভ্রান্ত করছি ।
আম ছিলে খাওয়া যায় আবার জুস করেও খাওয়া যায় । তবে জুস করে খেতে খরচা একটু বেশিই হয় । সরকারের মত গণজাগরণ মঞ্চও একরকম পিছন পথ ধরেছে । এটা কাম্য নয় । সবার আগে সম্মুখে যে দাবী তা পূরণ করতে হবে । বেশি মাইনে দিয়ে জুস করে আম খাওয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই । আমরা আম ছিলেই খাবো ।
ব্যাপক প্রচারণায় হয়ত পাকিস্তানি পণ্য বর্জনও হবে কিন্তু মাঝে বাংলার লাল সবুজ পতাকাটা অপমানিত হয়ে পরে থাকবে । তাহলে লাভ কি হল ! শেষমেষ আমরাই তো হেরে গেলাম !!!
আমার মনে হয় জাগরণ মঞ্চের নেতাদের এসব ভেবে চিন্তে কর্মসূচি দেয়া উচিৎ । আমরা কক্ষনো হারতে চাই না । আজ থেকে এবং সবার আগে আমাদের একটাই দাবী হওয়া উচিৎ যে, অবিলম্বে পাকিস্তান সরকারকে আমাদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে । আর অন্যকিছুতে আপোষ নয় ।
সরকারের নানারূপ টালবাহানা দেখতে দেখতে আমরা ক্লান্তি হয়ে পড়েছি । আর কোন টালবাহানা চাই না ।
বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়ে আমরা বতে চাই,
Pakistan Oil Your Own Machine.
যতই মার খাই আমরা আমাদের দাবি থেকে সরে দাঁড়াবো না ।
জয় বাংলা

৩ thoughts on “আম ছিলে খাওয়া যায় আবার জুস করেও খাওয়া যায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *