কৈশোর

মৃদু মন কাড়ানো বাতাস বইছে।মেঘমুক্ত আকাশ ।রাস্তার ওপাশে রক্তলাল কৃষ্ণচূড়া ফুটে আছে।ওপাশের কৃষ্ণচূড়ার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ধ্রব।মনে মনে প্রস্ফুটিত কৃষ্ণচূড়ার সাথে নিলিকার সাদৃশ্যতা খোঁজার চেষ্টা করছে।
সিগারেটের তৃষ্ণা পাওয়ায় পকেটে হাত দেয় ধ্রুব,সিগারেট না পাওয়ায় মোবাইল বের করে স্ক্রিনে চোখ বুলায় ।দুইটা মিসকল উঠা;দিয়েছে নিলিকা।আজ প্রাইভেটে গেলে নিলিকা ওর চুল টেনে ছিঁড়বে।

মৃদু মন কাড়ানো বাতাস বইছে।মেঘমুক্ত আকাশ ।রাস্তার ওপাশে রক্তলাল কৃষ্ণচূড়া ফুটে আছে।ওপাশের কৃষ্ণচূড়ার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ধ্রব।মনে মনে প্রস্ফুটিত কৃষ্ণচূড়ার সাথে নিলিকার সাদৃশ্যতা খোঁজার চেষ্টা করছে।
সিগারেটের তৃষ্ণা পাওয়ায় পকেটে হাত দেয় ধ্রুব,সিগারেট না পাওয়ায় মোবাইল বের করে স্ক্রিনে চোখ বুলায় ।দুইটা মিসকল উঠা;দিয়েছে নিলিকা।আজ প্রাইভেটে গেলে নিলিকা ওর চুল টেনে ছিঁড়বে।
কলেজে পা দেওয়ার পর থেকেই বন্ধুত্বের সুত্রপাত ধ্রুব-নিলিকার।এখন সেই বন্ধুত্ব দিনকে দিন আরও গাড় হচ্ছে।প্রতিদিন নিলিকার সাথে দেখা করা,এক সাথে প্রাইভেট পড়া,মোবাইলে নিয়মিত কথা বলা,রাত জেগে ফেসবুকএ আড্ডা দেওয়া মাতিয়ে রেখেছে ধ্রুব কে।
পরীক্ষার জন্য অনেক রাত অব্দি জেগে ছিল ধ্রুব।শরীরে ক্যামন জানি ম্যাজম্যাজে ভাব।ঘুমে দু চোখ এলিয়ে আসছে।আজ মনে হয় বেচেরা প্রাইভেট মিস করবেই।
ওদিকে নিলিকা গাল ফুলিয়ে বসে আছে।মনে মনে বলছে হারামি বোধয় পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে,কোন দায়িত্ববোধ নেই ছেলেটার।দুইবার ফোন দিলাম রিসিভ করল না আবার প্রাইভেটে আসার নাম গন্ধও নাই।
কি যেন মনে করে স্যারর বাসা থেকে চলে আসে নিলিকা।ওর পাশে বসা সহপাঠী আলোর ডাকে ওর কোন ভ্রূক্ষেপই নেই।
সময় মধ্যরাত,আজ থেকে হারামিটার ফোন রিসিভ না করার প্রতিজ্ঞা করে নিলিকা।একটু পরেই ধ্রুবর ফোন।
কেন জানি ছেলেটার সাথে রাগ করে থাকতে পারে না নিলিকা।তারপরও রাগ নিয়ে ফোন তা রিসিভ করে,ধ্রুবর মুখ থেকে মিষ্টি পেত্নী ডাকটা শুনার পর সব রাগ কোথায় যেন উবে যায় ওর।
এখন দুজনের আলাপচারিতা শুনে মনে হবে এরা পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।
মাঝে মাঝে অজান্তেই ধ্রুবকে নিয়ে ভাবতে থাকে নিলিকা,কেন জানি ওকে আগলে রাখতে ইচ্ছে করে নিলিকার।তবে কি ও ধ্রুবকে…………না এটা বোধয় গভীর বন্ধুত্ব।তবুও মাঝে মাঝে নিলিকার খুব ইচ্ছে করে ধ্রুবর হাতটি বুকের সাথে চেপে ধরে রাস্তা হাঁটতে।
আজ সন্ধার পর ধ্রুব তার প্রিয় জায়গা পুকুর ঘাটের পাশে বসে জোছনা দেখছে।জোছনা দেখলেই কেমন জানি উদাস হয়ে যায় ছেলেটা।একটু আগেই ও কথা বলছিল নিলিকার সাথে।
জোছনার আলো আশ্চর্য এক বিভ্রম সৃষ্টি করেছে।ধ্রুবর মনে হচ্ছে,নিলিকা তার কোলে মাথা রেখে জোছনা দেখছে।জোছনার আলোয় চোখ দুটো ছলছল করছে তার। মনে হচ্ছে এক্ষুনি কেঁদে দিবে।ধ্রুব ওর দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।জোছনার আলোয় অসম্ভব রূপবতী লাগছে মেয়েটাকে।এই সময়টাকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে ধ্রুব।
কৈশোরের আবেগে রঙ্গিন স্বপ্ন আর ভালোবাসার সমন্বয় থাকে।মনের চাপ কুলতে না পেরে ধ্রুব তার ভাললাগার মানুষের কাছে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ করে।নিলিকার মনেজুড়ে শুধু ধ্রুবর অস্তিত্ব থাকলেও ঐ পরিস্থিতিতে নিজেকে দ্রুত সামলে নিয়ে মাটি চাপা দেয় একটি শ্বার্শত ভালোবাসার।
সে তুলে আনে বাস্তবতা,তাদের অবস্থান,বয়সের দিক দিয়ে সামাজিক মূল্যবোধ।

পরিশিষ্ট
নিলিকার বিয়ের কথা চলছে।দীর্ঘদিন যাবৎ ফোন বন্ধ।ফেসবুক থেকেও ধ্রুবর আইডি ডিলেট দেওয়া হয়েছে।
ছেলেটা আগের মত আর হাসে না।অনুভূতি শূন্য হয়ে গেছে বোধয়।সামনে পরীক্ষা,ভালো ছাত্র হওয়ায় পড়াশুনার যথেস্থ চাপ তার ওপর।

চিমসে গরম।মেঘমুক্ত আকাশ। ধ্রুব হাঁটছে…হাতে একটা জলন্ত গোল্ডলিফ সিগারেট,সিগারেটের ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশের বিশাল ক্যানভাসে মিলিয়ে যাচ্ছে ।রাস্তার ওপাশে কৃষ্ণচূড়া ফুটে আছে তবে রক্তলাল না ধূসর।

২ thoughts on “কৈশোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *