সম্মুখে রুমী’র স্বপ্ন স্বাধীন বিজয়ী বাংলা : সদ্য স্বামীহারা জাহানারা’র বিজয় সকাল,১৯৭১

কিছুদিন আগেই আই.এস.সি পাস করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হয়েছে জাহানারা’র বড়ো ছেলে রুমী। ও একদিন বড়ো মাপের একজন ইঞ্জিনিয়ার হবে; কেবল দেশেরই না সারা বিশ্বেও অনেক সম্মানিত হবে~ এমনটাই প্রত্যাশা পরিচিত সকলের।

ছেলের সাথে জাহানার’র ব্যাপক সখ্য, তাই ছেলে’র সবকিছু নিয়েই তার উৎসাহ উদ্দীপনারও কোন শেষ নেই ! ছেলেও কম যায় না, মা’র সাথে তার কতোকিছু নিয়েই না গল্প; শিল্প-সাহিত্য-সমাজ-রাজনীতি কিছুই বাদ যায় না।


কিছুদিন আগেই আই.এস.সি পাস করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হয়েছে জাহানারা’র বড়ো ছেলে রুমী। ও একদিন বড়ো মাপের একজন ইঞ্জিনিয়ার হবে; কেবল দেশেরই না সারা বিশ্বেও অনেক সম্মানিত হবে~ এমনটাই প্রত্যাশা পরিচিত সকলের।

ছেলের সাথে জাহানার’র ব্যাপক সখ্য, তাই ছেলে’র সবকিছু নিয়েই তার উৎসাহ উদ্দীপনারও কোন শেষ নেই ! ছেলেও কম যায় না, মা’র সাথে তার কতোকিছু নিয়েই না গল্প; শিল্প-সাহিত্য-সমাজ-রাজনীতি কিছুই বাদ যায় না।

আসলে ওদের পরিবারটাই এমন, শিক্ষিত এবং সমাজসচেতন, শিল্পমনস্ক আধুনিক চিন্তার ধারক-বাহক। সবাই ওদের পরিবারটাকে এমন করেই জানে, মানে। তাইতো, জাহানারা নিজ ছেলে’র বুদ্ধিমত্তা, চৌকষ ভাব-ভঙ্গিতে হতবাক হয়ে যায় না; কিন্তু বেশ গর্ববোধ করে। এমনটাতো হতেই পারে, না?

রুমী’র বয়স মাত্র সতের। এই বয়সেই তার জানাশোনা’র পরিধি, আর দশজনের কাছে বেশ হকচকিয়ে যাবার মতন। এর মধ্যেই তার ভাবনার জগৎ-কে আচ্ছন্ন করে আছে “মার্ক্স-এংগেলস”, মাও সেতুং-র মিলিটারি রচনাবলী’র সবগুলোই তার পড়া শেষ !
কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন বিতর্ক প্রতিযোগিতার উজ্জ্বল নাম “রুমী”- তার ছেলে। বিতর্কে আজ পর্যন্ত এই ছেলে কোন প্রতিপক্ষের কাছেই পরাজিত হয়নি।কেমন যেনো অদম্য, অপরাজিত একটা মনোভাব !

জাহানারা’র ভাবনা’র জগৎ-কে আচ্ছন্ন করে রাখে রুমী। কারণটা অমূলকও নয়। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হয়েছে ঠিকই; কিন্তু সেই সাথে সাথে আমেরিকার “ইলিনয় ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি”-তে স্কলারশীপ পাওয়ার জন্যও আবেদন করা ছিলো। আবেদন গৃহীত হয়েছে। ভর্তি প্রক্রিয়া’র সবটাই ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে। এখন শুধু যাবার অপেক্ষা ! এই বছরেরই ২ সেপ্টেম্বর থেকে সেখানে ক্লাস শুরু, তাই ঠিক হয়েছে আগস্টের শেষ সপ্তাহেই ওর ফ্লাইট।

জাহানারা তাইতো আজকাল ছেলেকে দেখাশোনায় অনেক বেশি মনযোগী। কিন্তু দেশে’র যা অবস্থা ! কখন যে কি হয়, সবাই খুব আতংকে দিন কাটাচ্ছে। যাওয়ার আগে রুমী’র জন্মদিনটা পরিবারের সবাইকে নিয়ে বেশ একটা আনন্দঘন পরিবেশে করার ইচ্ছা তার। ২৯ মার্চ রুমী’র জন্মদিন। আগস্টে যদি রুমী আমেরিকাতে চলে যায়; চার বছরের পড়াশোনা শেষ করে, তবেই না সে ইঞ্জিনিয়ার হয়ে দেশে ফিরবে। এর মাঝের জন্মদিনগুলোতে ওকে পাওয়া যায় কি না যায়, কে জানে?

এর মাঝেই ছেলের অদ্ভুত এক পাগলামিতে সেদিন সে ভীষণ অবাক। যে ছেলে আর কয়টা দিন পরেই আমেরিকা পাড়ি দিবে, সেই ছেলের মনজগৎ ঘিরে আছে, এ কেমন পাগলামি ! এমনিতেও তার ছেলেটা যে আর দশটা ছেলেদের মতন নয়, তা সে ভালো করেই জানে। সন্তানদের সে এবং তার স্বামী শরীফ সেভাবেই বড়ো করতে চেয়েছে, ওরা দুই ভাই রুমী আর জামী হয়েছেও তাই। রুমী যেমন এই বয়সের বড়ো লোক ঘরের ছেলে-ছোকড়াদের মতন যখন-তখন বেপরোয়া গতিতে গাড়ি হাঁকিয়ে বেড়ায় না, চোঙ্গা প্যান্ট পরে না, তেমনি গ্যাট গ্যাট করে ইংরেজিও বলে না। ওর মনজগৎ-র সবটা জুড়েই আছে সবুজ বাংলার কাদামাটিভেজা সোঁদা গন্ধ !

ছেলের এই পাগলামি ভালোই টের পাওয়া গেলো, এই ঘটনাটাতে। ঘটনা’র সূত্রপাত হয়েছে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া ৭ মার্চের শেখ মুজিবের ভাষণ থেকে এবং তার আগে-পরের দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায়। তার ছেলের রাজনৈতিক ভাবনা, বিশ্লেষণ বেশ পরিষ্কার, জাহানারা আজকাল মাঝে মাঝেই এই বিষয় নিয়ে ছেলে’র চুলচেরা বিচার-বিশ্লেষণ এবং ভবিষৎ বাণী’র কাছে পরাস্ত হয়ে যাচ্ছে।

দিনটা ছিলো ১৯ মার্চ।ছেলেটা এইদিনে কোথা থেকে পটুয়া শিল্পী বলে খ্যাত শিল্পী কামরুল হাসানের পরিকল্পনা এবং ডিজাইনে করা, বাংলায় লেখা একটি স্টিকার এনে~ সেটি যত্ন করে তাদের গাড়ি’র পেছনের কাঁচে সেঁটে দিলো। সেই স্টিকারে লেখা ছিলো~
“একেকটা বাংলা অক্ষর একেকটা বাঙ্গালীর জীবন।”

এই সোঁদা মাটি’র গন্ধে আচ্ছন্ন অদম্য ছেলে রুমী এবং তার মা জাহানারা’র মতো ৭ কোটি বাঙ্গালীর আতংককে ভাবনার চেয়েও লক্ষগুণ বেশি আতংকে পরিণত করে সামনে আসে পাক হানাদার বাহিনী আয়োজিত ঘৃণ্য কাল রাত্রি ২৫ মার্চ,১৯৭১।
সেদিনের সেই হত্যাকান্ডের ভয়াবহতার স্বরূপ এলিফ্যান্ট রোডের বাড়িতে অবস্থানরত অবস্থায় ভালোই টের পাচ্ছিলো ওরা। রুমীকে নামিয়ে ফেলতে হলো তার নিজ হাতে ওড়ানো স্বাধীন বাংলার পতাকা। ২৬ মার্চ গণহত্যার ভয়াবহতার বিবরণ জেনে নিজ হাতে উঠিয়ে নিতে হলো, তার খুব যত্নে গাড়ি’র পেছনের কাঁচে সেঁটে দেওয়া প্রিয় স্টিকারটি !

নিষ্ঠুরভাবে থমকে যাওয়া সময়ের আবর্তে, নিস্ফল আক্রোশে ভেতরটা তার ফুঁসছে ৭ কোটি জনতার মতই। কিন্তু, উপায় আজানা ! আসলেই কি তাই? না, তাই কি আর হতে পারে? অদম্য রুমীকে সে শিক্ষায়তো জাহানারা শিক্ষিত করেনি। রুমী কিছুটা সময়ের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো। পরমুহুর্তেই ভেবে নিলো তার গন্তব্য, ঠিক করে নিলো তার চলার পথ। সে যুদ্ধে যাবে, এই দেশকে শত্রু মুক্ত করবেই।

২১ এপ্রিল,১৯৭১; আগস্ট মাস সামনেই, ছেলে যেতে চাইছে যুদ্ধে। কি করবে জাহানারা, ছেলে যে তারই আদর্শে বড়ো হয়েছে। তাইতো এখন সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য দ্বিধানিত মা’য়ের সামনে দাঁড়িয়েই অপেক্ষা করছে। ছেলের এই সিদ্ধান্তে, মা যখন তার পড়াশোনার জন্য আমেরিকাতে যাওয়ার কথা তুললো; জবাবটা তাই ছেলে তার প্রত্যাশিত ভাষাতেই দিলো; যুক্তি দিয়ে বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে~

“ আম্মা শোন, ছত্রজীবন লেখাপড়া করার সময় এইসবই চিককালীন সত্য; কিন্তু ১৯৭১ সালের এই এপ্রিল মাসে এই চিরকালীন সত্যটা কি মিথ্যা হয়ে যায়নি? চেয়ে দেখ, দেশের কোথায় সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনধারা বজায় আছে? কোথাও নেই। সমস্ত দেশটা পাকিস্তানি মিলিটারি জান্তা’র টার্গেট প্রাকটিসের জায়গা হয়ে উঠেছে। রোমান গ্ল্যাডিয়েটরের চেয়েও আমাদের অবস্থা খারাপ। একটা গ্ল্যাডিয়েটরের তবু কিছুটা আশা থাক্ত, একটা সিংহের সঙ্গে ঝুটোপুটি করতে করতে সে জিতেও যেতে পারে। কিন্তু এখানে? সেই ঝুটোপুটি করার সুযোগটুকু পর্যন্ত নেই। হাত আর চোখ বেঁধে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে, কটকট করে কতগুলো গুলি ছুটে যাচ্ছে, মুহুর্তেই লোকগুলো মরে যাচ্ছে। এইরকম অবস্থার মধ্য থেকে লেখাপড়া করে মানুষ হবার প্রক্রিয়াটা খুব বেশি সেকেলে বলে মনে হচ্ছে না কি?”

জাহানারা তার শেষ চেষ্টা হিসেবে মরিয়া হয়ে যখন যুক্তি দাঁড় করাতে চাইলো~
“তুই তো আর এই দেশে পড়বি না। আই.আই.টি’তে তোর ক্লাস শুরু হবে সেপ্টেম্বরে, তোকে না হয় কয়েক মাস আগেই আমেরিকা পাঠিয়ে দেব।”

রুমী তখন আরো দৃঢ়প্রতিজ্ঞায় সে যুক্তি খন্ডন করে মা’ইয়ের দ্বিধা দূর করে দিলো।
মা’কে জানালো এই কাপুরুষতা, এই বিবেকহীনতা সে করতে পারবে না। কারণ, এই শিক্ষা যে তার মা’ই তাকে শেখায়নি। জাহানারা শুনছে তার ছেলে’র মুখ থেকে কি সাহসী, বিবেকবোধসম্পন্ন বক্তব্য যোগাচ্ছে; দুর্দমনীয়, অজেয়। ছেলে বলছে~

“ আম্মা, দেশের এই রকম অবস্থায় তুমি যদি আমাকে জোর করে আমেরিকায় পাঠিয়ে দাও, আমি হয়তো যাব শেষ পর্যন্ত। কিন্তু, তাহলে আমার বিবেক চিরকালের মতো অপরাধী করে রাখবে আমাকে। আমেরিকা থেকে হয়ত বড়ো ডিগ্রি নিয়ে এসে বড় ইঞ্জিনিয়ার হবো; কিন্তু বিবেকের ভ্রুকুটির সামনে কোনদিনও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব না। তুমি কি তাই চাও আম্মা?”

না, জাহানারা তা চায় না। সে নিজে একজন বিচারবোধসম্পন্ন চমৎকার ব্যক্তিত্বের অধিকারী সজ্জন এবং সচেতন মানুষ হিসেবে সবার কাছে সুপরিচিত, তার সন্তানরা কাপুরুষের মত হবে, এটা সে কখনই চায়নি। তাইতো দেশের এই কঠিন সময়ে দেশের জন্য তার এই অপার সম্ভাবনাময় সন্তানটি’কে যুদ্ধে পাঠাতে সে বাঁধা দিতে পারে না। মা’য়ের মন যতই সন্তানের জন্য ব্যাকুল আর কোমল হোক না কেনো; তাকে যে শক্ত হতে হবে। কারণ, কোন কাপুরুষ সন্তানের মা সে কখনই হতে চায়নি। আর আজ যখন তার সন্তান সত্যিকারের মানুষের মতন সঠিক একটি দাবী নিয়ে এসেছে; সময়ের প্রয়োজনে তখন সব দ্বিধা’র পাহাড় পেছনে ফেলে, সে জানিয়ে দেয় তার সিদ্ধান্ত। ছেলেকে অনুমোদন দিয়ে দেয় যুদ্ধে কোরবান হবার~

“না, তা চাই নে। ঠিক আছে, তোর কথাই মেনে নিলাম। দিলাম তোকে দেশের জন্য কোরবান করে। যা, তুই যুদ্ধে যা।”

রুমী যেদিন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য বাড়ি থেকে রওনা দেয় সেদিন ছিলো ৭ মে,১৯৭১। জাহানারা বুঝে নিলো, এই ছেলেকে এই জীবনে হয়তো আর সে নাও দেখতে পারে। তার আরেক ছেলে এগারো বছরের জামী। তাকে নিয়েই সে নিজেকে প্রবোধ দেয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু তাই কি আর প্রবোধ দেয়া যায়? যায় না।

সবাইকে অবাক করে দিয়ে রুমী ১১ মে,১৯৭১ এ আবার বাড়ি ফিরে আসে। কারণ, পথের প্রতিবন্ধকতা, সিদ্ধান্ত হয় সময় এলে জানানো হবে পরবর্তী যাবার সংকেত। পুরো সময়টাই ছিলো অনেক বিপদসংকুল, তার পরেও জাহানারা ছেলেকে আবার কাছে পেয়েই খুব খুশি। সংকেত পাওয়ার পরে সেই তার ছেলেকে আবার সাজিয়ে-গুছিয়ে পাঠিয়ে দিবে !

হ্যাঁ, সময় এলো। সেদিনটা ছিলো ১৪ জুন,১৯৭১।
যুদ্ধে যাওয়ার পরের প্রায় দু’মাস প্রতিদিনই সে আশায় আশায় ছিলো, কবে আবার ছেলে’র দেখা পাবে; আদৌ কি কখনো এই জীবনে পাওয়া হবে ! কিছুদিন হলো স্বাধীন বাংলা বেতারে পাঠ করা চরমপত্র থেকে সে জানতে পেরেছে, একদল বিচ্ছু ছেলে-ছোকড়া্র দল নাকি ঘন ঘনই ঢাকাতে পাকিস্তানী হানাদার আর তার দোসর বাহিনীকে যারপরনাই নাস্তানাবুদ করে ছাড়ছে। এতোসব অস্থিরতার মাঝে এই সুসংবাদগুলো তাকে অনেক বেশি উদ্বেলিত করে। ছেলেগুলো’র জন্য অন্তরের অন্তস্থল থেকে সে দোয়া করে।

এদিকে ঢাকা থেকে আগরতলা’র দিকের বর্ডারটা সবচেয়ে কাছে বলে ঢাকা থকে যারাই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছিলো সবাই এই পথেই যাওয়ার চেষ্টা করে। রুমীরাও তাই করেছে। বর্ডার ক্রস করেই সীমান্তের ওপারে ভারতে বাংলাদেশের সবগুলো সেক্টরের হেড কোয়ার্টার্স। ঢাকা ছিলো সেক্টর টু’য়ের অধীনে, যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন অকুতোভয় অসীম সাহসী কর্ণেল খালেদ মোশাররফ। বাংলাদেশের রেগুলার সেনাবাহিনী’র পাশাপাশি রুমী’রা ছিলো তখন গেরিলা বাহিনী, যার নাম ছিলো~ ক্র্যাক প্লাটুন।

খুবই দুর্ধর্ষ আর ক্ষিপ্র গতির ধুর্ত প্লাটুন এই ক্র্যাক প্লাটুন। যাদের মূল মন্ত্র ছিলো সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল খালেদ মোশাররফের শেখানো বুলি~

“কোন স্বাধীন দেশ জীবিত গেরিলা চায় না; চায় রক্তস্নাত শহীদ।”

রুমী’দের ক্র্যাক প্লাটুনের সবাই সেই শহীদ হবার মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েই আবার ঢাকার বুকে ফিরে এসেছে। এইসব কথা জাহানারা জানতে পারে ৮ আগস্ট,১৯৭১ –এ রুমী’র বাসায় পদার্পণ-পরবর্তী বেশ কয়েকদিনে বলা নানান গল্প থেকে। জাহানারাও সেসব সব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ছেলের কাছ থেকে শোনে অপার বিস্ময়ে, সে যে এখন একজন মুক্তিযোদ্ধার গর্বিত মা !

৯ আগস্ট ছিলো জাহানারা আর তার স্বামী শরিফের ২৪ তম বিবাহবার্ষিকী। রুমী’কে যে এইদিনে পাশে পাবে এটা তার ধারণাতেই এবার ছিলো না। অবশ্য রুমী জানিয়েছে, এখন থেকে ওদেরকে বাড়িতে থেকে কিংবা ঢাকার ভেতরে থেকেই গেরিলা অপারেশনগুলো চালাতে হবে। তার মানে, এখন থেকে ওর কাছ থেকে কেবল ওদের সশস্ত্র সংগ্রামের কাহিনী শুনে দিন গুজার করলেই হবে না, যথাসাধ্য সাহায্য করার জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে।

হ্যাঁ, জাহানারা ঠিক তাই করেছিলো। দুর্ধর্ষ গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা রুমী’র মা’য়ের অক্লান্ত চেষ্টায় রুমীরা ঢাকাতে অনেকগুলো সফল অপারেশন সম্পন্ন করতে পেরেছে। টনক নড়ে উঠে পাকিস্তানী হায়েনাদের। আতংকিত হয়ে উঠে রাজাকার-আল বদর-আল শামস বাহিনী ! উঠে পড়ে লাগে রুমী’দের সন্ধানে।

২৯ আগস্ট,১৯৭১।
আগস্টের এই শেষ সপ্তাহেই রুমী’র আই.আই.টি-তে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য আমেরিকার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার কথা ছিলো। কিন্তু, এই দিন সন্ধ্যায় রুমী বাড়িতে খাটের উপর শুয়ে আছে। ছেলেটার নাকি কেমন অস্থির লাগছে, মা’কে বলেছে মাথায় বিলি কেটে দিতে; তাইতো জাহানারা ছেলের মাথায় বিলি কেটে দিচ্ছে, পাশেই ছোট ছেলে জামী বসে আছে। সাইড টেবিলে রাখা রেডিও থেকে ফাঁসির মঞ্চে গাওয়া ক্ষুদিরামের বিখ্যাত গানের দু’লাইন কানে গেলো রুমী’র~

“ একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি।
ওমা হাসি হাসি পরব ফাঁসি
দেখবে জগৎবাসী।”

হঠাৎ রুমী আশ্চর্য কন্ঠে তার মা’কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠল, “কি আশ্চর্য আম্মা ~ আজকেই দুপুরে এই গানটা শুনেছি। রেডিওতেই, কোন স্টেশন থেকে-জানি না। আবার এখনো-রেডওতে। একই দিনে দু’বার গানটা শুনলাম, না জানি কপালে কি আছে।”

রুমী’র আশংকা সত্য করে রাতেই বাড়িতে হাজির হয় পাকবাহিনী, নেতৃত্বে ছিলো আর্মি অফিসার ক্যাপ্টেন কাইয়ুম। রুটিন চেকাপের নাম করে সেদিন সেই যে রুমী’কে ওরা নিয়ে যায়, জাহানারার কোলে তার অসীম সাহসী সন্তানটি আর কোনদিনও ফিরে আসেনি! অসম্ভব নিষ্ঠুর নির্যাতনের পরেও তার ছেলে নাকি পাকিস্তানি নরপশুদের কাছে কোন মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধ-সংক্রান্ত কোন তথ্য ফাঁস করেনি। নিষ্ঠুর নির্যাতনের ভয়ঙ্কর বর্ণনা পরবর্তী সময়ে সে জানতে পারে তারই ছোট ছেলে জামী’র কাছ থেকে, যাকেও সেদিন তার স্বামী আর বড়ো ছেলের সাথে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। আর অমানুষিক নির্যাতন শেষে ওদেরকে পাকবাহিনী শেষপর্যন্ত ছেড়ে দিলেও, রুমী’কে ছাড়েনি !

“ছেলে বেঁচে আছে কি মরে গেছে”-এই বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত কোন তথ্য জাহানারার কাছে মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্তও ছিলো না। তাই তার প্রতিটি দিনই ছেলের আশায় আশায় দিন গোজার করে কেটেছে। সেই সাথে সাথে যুদ্ধের বাকিটা সময় নানান ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সাধ্যমত সাহায্য করার চেষ্টাও সে অব্যাহত রেখেছে। সে যে রুমী’র মতন সাহসী সন্তানের মা !

দিনটি ছিলো ১৩ ডিসেম্বর,১৯৭১।
সবদিক থেকেই শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশের বিজয়বার্তার কানাঘুষা। বিজয় যখন দ্বারপ্রান্তে, তখনই শরীফের হার্ট এটার্ক ! অবশ্যসম্ভাবী পরাজিতশক্তি হাসপাতালের মেইন সুইচ বনধ করে রেখে ব্ল্যাক আউট করে রাখার খেসারত হিসেবে, হাসপাতালে ডাক্তার- নার্স সব থাকা স্তত্ত্বেও বিনা চিকিৎসায় মারা যায় জাহানারার প্রাণপ্রিয় স্বামী শরীফ।

১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১।
সারা বাংলাদেশের প্রতি প্রান্তের মত, ঢাকা শহরেরও সবখানে ভীষণ উত্তেজনা আর আশান্বিত চাঞ্চল্যতা কাজ করছে সবার চোখে মুখে। এতো বিপর্যস্ততার মধ্যেও জাহানারাকেও কি তা একটুও ছুঁয়ে যায়নি?

ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে যে এইদিন স্বর্ণাক্ষরে লিখা হচ্ছে, বাংলাদেশের ইতিহাসের অর্জিত স্বাধীনতার স্বীকৃতি। নব্বই হাজার পাকিস্তানি সৈন্য নিয়ে বিকাল তিনটায় জেনারেল নিয়াজী এইদিন মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

স্বামী’র কুলখানির আয়োজন।কিন্তু, সদ্য স্বামীহারা জাহানারা নিজ বাড়িতে ৪৫ জন আতংকিত বাস্তুহারা মানুষকে আশ্রয় দিয়ে, আর সব সময়ের মতই ঠায় দাঁড়িয়ে আছে~

সন্তান রুমী’র স্বপ্ন স্বাধীন বিজয়ী বাংলাদেশকে স্বাগত জানাতে…
(তথ্যসূত্রঃ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ” একাত্তরের দিনগুলি”-র ছায়া অবলম্বনে রচিত।)

২৭ thoughts on “সম্মুখে রুমী’র স্বপ্ন স্বাধীন বিজয়ী বাংলা : সদ্য স্বামীহারা জাহানারা’র বিজয় সকাল,১৯৭১

  1. ধন্যবাদ শহীদ রুমিকে নিয়ে এই
    ধন্যবাদ শহীদ রুমিকে নিয়ে এই পোস্টের জন্য। :salute:
    জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি বইটা আমার কাছে আছে/

    1. আপনাকেও ধন্যবাদ,
      অন্ধকারের

      আপনাকেও ধন্যবাদ,

      অন্ধকারের যাত্রী

      ভাইয়া… :খুশি: :ধইন্যাপাতা:
      বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা রইলো,ভাইয়া… শুভ বিজয় দিবস।
      :খুশি: :খুশি: :ফুল:

  2. হৃদয় ছুয়ে গেল আবার। ধন্য
    হৃদয় ছুয়ে গেল আবার। ধন্য জননীর ধন্য সন্তান রুমী। এ বাস্তব গল্প মা সন্তানের। যে গল্পে দেশ মাতৃকার রক্ষার্থে শহীদ হন সন্তান। এরকম লাখো চেতনাধারী মা আর সন্তানের আত্মত্যাগের কারণেই স্বাধীন বংলাদেশ। জননী লাখো সালাম মাগো এমন সন্তানের জন্ম দিয়েছিলে। :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

    1. ধন্যবাদ
      কিরন শেখর
      ভাইয়া।

      ধন্যবাদ

      কিরন শেখর

      ভাইয়া।
      :খুশি: :ধইন্যাপাতা:
      আপনি যথার্থই বলেছেন~ লক্ষ কোটি সালাম এই বীর মাতা আর তার সন্তানের প্রতি।
      আজকের এই স্বাধীন বাংলায় বিজয় পতাকা ওড়ানোর অধিকার এনে দেয়ার জন্য আমরা তাঁদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ।
      ধন্য মা’য়ের ধন্য সন্তান রুমী।
      :salute: :salute: :salute:
      বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা রইলো,ভাইয়া… শুভ বিজয় দিবস।
      :খুশি: :খুশি: :ফুল:

  3. স্টিক করলে খুশি হতাম।
    সবাই

    স্টিক করলে খুশি হতাম।
    সবাই জানুক শহীদ রুমির কথা। যেখানে আজকালের ছেলে মেয়েরা সুযোগ পেলেই বিদেশে পাড়ি জমায় , বলে- এ দেশে থেকে কি হবে ? তাদের দেখা উচিত।

    শহীদ রুমি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য যাবার সুযোগ থাকা শর্তেও দেশ মৃত্তীকার প্রতি দায়িত্ববোধের কারণে সেই সুযোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেশ স্বাধীন করতে প্রান বাজি রেখে যুদ্ধে নেমেছিল।

    সুন্দর পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ আপু। মাঝখানে কয়েকটি বানা ভুল আছে লেখার ক্ষেত্রে ভুল । যেমন থাকত এর জায়গায় থাক্ত । ঠিক করে নিন ।

    1. ধন্যবাদ
      দুরন্ত জয়
      ,
      আমার

      ধন্যবাদ

      দুরন্ত জয়

      ,
      আমার বানান ভুলগুলো’র বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষ্ণ করেছিস বলে, আমি ঠিক করে নিব।
      আর হ্যাঁ, তুই একেবারে ঠিক ধরেছিস~
      আমি কিন্তু তোর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের কথা মাথায় রেখেই মূলত এই পোস্টটি লিখার চেষ্টা করেছিলাম।কারণ, শহীদ রুমী ছিলেম সদ্য কৈশোর-উত্তীর্ণ একজন যুবক।
      দৃঢ়চেতা মা’য়ের সাথে পারিবারিক আবহে দেশপ্রেম-সংক্রান্ত তার মানসিক আদান-প্রদান’টাই আমি এখানে ফুতিয়ে তুলতে চেয়েছিলাম, কতটা পেরেছি জানি না।
      মূল বইটা পড়লেই কেবল ভালো করে বোঝা সম্ভব, কিভাবে রুমী তার মা’য়ের কাছ থেকে দেশপ্রেমের শিক্ষা পেয়েছিলো, আর কতটা আত্মত্যাগী হলে একজন মা’য়ের পক্ষে দেশের জন্য তার সম্ভাবনাময়ী সন্তানকে দ্বিধাহীন বিবেচনায় কুরবানি দেওয়া সম্ভব হয় !
      অথচ, আমরা কি দূর্ভাগা জাতি~
      সেই মা’য়ের বিরুদ্ধে আমরা দেশদ্রোহিতা’র মামলা করেছিলাম !!!
      স্বয়ং বিচারকেরা সেদিন অপারগতা প্রকাশ করেন~
      তাঁর বিরুদ্ধে আনা বিচারের মামলায় বিচারকের চেয়ারে বসতে…কি ছিলো সেই ইতিহাস, তা আমাদের সবাইকেই জানতে হবে।
      ভালো থাকিস…বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা রইলো… :ফুল: :ফুল: :ফুল:

  4. খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ
    খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ করেছেন!! আপনাকে ধন্যবাদ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ফুল: :ফুল:

    আর জননীকে অফুরন্ত :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

    তোমার মত মা ছিল বলেই আজ বাঙলা মা আমাদের হল।

    1. ধন্যবাদ
      তারিক লিংকন
      ভাইয়া।

      ধন্যবাদ

      তারিক লিংকন

      ভাইয়া।
      :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
      আসল কৃতিত্বটা কিন্তু আপনার আর ডনের পাওনা। আমি খুবই অলস মানুষ, এতো দীর্ঘ পোস্ট লিখা আমার কাজ নয়। আপনাদের উৎসাহেই কিন্তু আমি এই লিখাটা লেখার সাহস করেছি।
      বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি…শুভ বিজয় দিবস।
      :খুশি: :ধইন্যাপাতা: :ফুল:

  5. “একাত্তরের দিনগুলি” বইটা
    “একাত্তরের দিনগুলি” বইটা এদেশের প্রতিটি কৈশর উত্তির্ণদের ধরে ধরে পড়ান উচিৎ।
    শহীদ রুমির বয়স একাত্তরে মাত্র ১৭ বছর ছিল ভাবতেই অবাক লাগে না?

    1. ধন্যবাদ
      ডাঃ আতিক

      ধন্যবাদ

      ডাঃ আতিক

      ভাইয়া।
      আপনার সাথে আমি সম্পুর্ণ একমত, এই দেশের প্রতিটা কৈশোর-উত্তীর্ণ ছেলে-মেয়েদের এই বইটা অবশ্য পাঠ্য করা উচিৎ।
      ১৯৭১ সালে রুমী’র বয়স ১৭ বছর ছিলো~ এই কথাটা ভাবলে সত্যি অবাক লাগে।
      বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা রইলো,ভাইয়া… শুভ বিজয় দিবস।
      :খুশি: :খুশি: :ফুল:

    1. খুব ভাল লাগলো, এতো সুন্দর
      খুব ভাল লাগলো, এতো সুন্দর একটা উপস্থাপনা দেখে…
      ধন্যবাদ, ভাইয়া… :খুশি: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ফুল:

  6. আমি মনে করি “একাত্তুরের
    আমি মনে করি “একাত্তুরের দিনগুলি” নবম-দশম শ্রেণীতেই পাঠ্য করা উচিৎ। আপনার লেখা খুব ভাল হয়েছে সোমেশ্বরী। চালিয়ে যান।

    1. ধন্যবাদ
      শঙ্খচিলের ডানা

      ধন্যবাদ

      শঙ্খচিলের ডানা

      ভাইয়া।
      আপনার সাথে আমি সম্পুর্ণ একাত্মতা পোষণ করছি।আসলেই তাই করা উচিৎ।
      আমাকে উৎসাহিত করার জন্য আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।আমি চেষ্টা করবো… :খুশি: :খুশি: :খুশি: :ধইন্যাপাতা: :ফুল:
      বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা রইলো আপনার প্রতি… :ফুল:

    1. অদিতি
      আপুনি,
      আপনি দেখি আমার

      অদিতি

      আপুনি,
      আপনি দেখি আমার মনের কথাটাই বাক্যে উপস্থাপন করলেন !
      তাঁর ভাবনার দৃঢ়তা আমাকে সবসময় খুব প্রভাবিত করে… :খুশি: :ফুল: :গোলাপ:

  7. অকুত ভয় বীরযোদ্ধা রুমি, আর
    অকুত ভয় বীরযোদ্ধা রুমি, আর শহীদ জননী মা জাহানারা ইমামের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট: :স্যালুট:

    ……..ইতিহাসের কি নির্মম পরিহাস দেখুন, এই মহিয়সী নারী ”মা জাহানারা ইমাম”
    কেও আখ্যায়িত করা হয়েছিল দেশদ্রোহী হিসাবে…… :ক্ষেপছি:

    …….ধন্যবাদ আপুনি এই অসাধারণ পোস্টটি দেবার জন্য।

  8. স্বামী’র কুলখানির

    স্বামী’র কুলখানির আয়োজন।কিন্তু, সদ্য স্বামীহারা জাহানারা নিজ বাড়িতে ৪৫ জন আতংকিত বাস্তুহারা মানুষকে আশ্রয় দিয়ে, আর সব সময়ের মতই ঠায় দাঁড়িয়ে আছে~

    সন্তান রুমী’র স্বপ্ন স্বাধীন বিজয়ী বাংলাদেশকে স্বাগত জানাতে…

    অজান্তেই কখন যেন চোখের কোনে দুফোঁটা অশ্রু এসে ভিড় করেছে… :ভাঙামন:

    আমি তোমাকে বলেছিলাম আপু, তুমি খুব চমৎকার লিখতে পার, জাস্ট লেখা শুরু কর, তাহলেই বুঝবে। তোমাকে কি বলে ধন্যবাদ দেব বুঝতে পারছি না। তুমি আমার কথা রেখেছ,আর বাংলাদেশের ইতিহাসে অভূতপূর্ব এক বীরযোদ্ধাকে নিয়ে অসম্ভব চমৎকার এই লেখাটা লিখেছ… তোমাকে অজস্র :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ফুল: :ফুল: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

    আর শহীদ জননী জাহানারা ইমাম এবং তার বীরপুত্র শহীদ রুমি ইমামের জন্য হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

    1. ডন মাইকেল কর্লিওনি
      ,
      জানি না

      ডন মাইকেল কর্লিওনি

      ,
      জানি না কেমন কি লিখেছি…তবে, তুই, লিংকন ভাই উৎসাহ না দিলে এই লেখাটা আসলেই লিখতে পারতাম না…যদি আসলে কিছু হয়ে থাকে, তার পুরো কৃতিত্বটাই তোদের… :খুশি: :ফুল: :গোলাপ:

  9. দু চোখ গড়িয়ে অঝোরে জল আসে,
    দু চোখ গড়িয়ে অঝোরে জল আসে, কষ্ট লাগে… রুমী ইমাম কে নিয়ে লিখার জন্য ধন্যবাদ। নোট টা নিলাম, ফেইসবুকে নিজের প্রোফাইলের নোট এ রেখে দিবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *