মেঘের ডায়েরি

খুব ঠাণ্ডা বিকেলগুলো যেমন স্মৃতিচারণ করার জন্য উপযুক্ত,তেমনি ভোরের আকাশও অনেক বেশি আবেগমাখা!

মেঘের অনেক ভালো লাগে এই সময়গুলো।এবং অবশ্যই একা কাটাতে।অনেকদিন ধরেই সময়গুলোকে আলাদা করে পাওয়া হচ্ছে না।পৃথিবীর সবচেয়ে বিরক্তিকর কাজ হচ্ছে মার্কেটিং।এবং সব মার্কেটিং জিনিয়াসদের মাথায় চুল থাকে না।মেঘ কি জিনিয়াস?মনে হয় হ্যাঁ!চুলগুলোকে ধরে রাখার সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তার মাথায় এখন বিশ্বকাপের মাঠ ধীরে ধীরে উদীয়মান!


খুব ঠাণ্ডা বিকেলগুলো যেমন স্মৃতিচারণ করার জন্য উপযুক্ত,তেমনি ভোরের আকাশও অনেক বেশি আবেগমাখা!

মেঘের অনেক ভালো লাগে এই সময়গুলো।এবং অবশ্যই একা কাটাতে।অনেকদিন ধরেই সময়গুলোকে আলাদা করে পাওয়া হচ্ছে না।পৃথিবীর সবচেয়ে বিরক্তিকর কাজ হচ্ছে মার্কেটিং।এবং সব মার্কেটিং জিনিয়াসদের মাথায় চুল থাকে না।মেঘ কি জিনিয়াস?মনে হয় হ্যাঁ!চুলগুলোকে ধরে রাখার সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তার মাথায় এখন বিশ্বকাপের মাঠ ধীরে ধীরে উদীয়মান!

গত মাসের সেলস রিপোর্ট হাতে নিয়ে বারান্দায় বসে বসে কফি খাচ্ছে মেঘ!আজ মাসের ২৭ তারিখ।টার্গেট পূরণ করায় সব অফিসাররা আরামে বাসায় বসে বৌ-বাচ্চার সাথে সময় কাটাতে ব্যস্ত।তাদের মত মেঘও আরামে সময় কাটাতে পারত।কিন্তু গত ছয় বছর ধরে এরিয়া অফিসার হওয়ার দরুণ সে সুযোগও নেই!মাসের শেষে এখন হিসাব মেলাতেই জান বের হয়ে যায়।
কলিং বেলের শব্দে বাদতবে ফিরে আসে মেঘ।মৌমিক এসেছে,উঠে যেয়ে দরজা খুলে দিতেই এলো চুলের ছেলেটা মেঘের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

“আরে আব্বুসোনা,ছাড়ো!ফ্রেশ হয়ে আসো প্লিজ!”

“আচ্ছা বাবাতু” বলেই স্কুল ব্যাগ নিয়ে নিজের ঘরে রেখে দৌড়ে বাথরুমে যায় মৌমিক!বাবা বাসায় থাকলে সে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।

মেঘ আবার বারান্দায় এসে বসে।বারান্দায় রাখা ক্যাকটাসের চারাগাছ দেখে খুব মায়া লাগে কেন জানি!আচ্ছা সারা শরীরে এত কাটা নিয়ে থাকতে কি ক্যাকটাসের কষ্ট হয়?কেউ যে আলতো করেও ক্যাকটাসকে ছুঁয়ে দিতে পারে না,পারে না তাকে জড়িয়ে ধরে পুরনো দিনের গল্প শোনাতে।ছুঁতে গেলেই যে ব্যথা পায়।মানুষ নিজে কখনও কষ্টে থাকতে চায় না।মেঘ নিজেও কষ্টে থাকতে পারেনি।একা একা আর কত দিন চলা যায়?শেষমেশ মৌমিককে টুপ করে নিয়ে আসে মেঘ একটা হাসপাতাল থেকে।মৌমিক মেঘের নিজের ছেলে নয়।মেঘ এতগুলো বছরেও বিয়ে করেনি।কেবল ছেলেটাকে আঁকড়ে বেঁচে আছে।খুব ঝুটঝামেলা পোহাতে হয়েছে।ছোট্ট মৌমিককে কিভাবে এত বড় করেছে মেঘ তা কেবল সে নিজেই জানে।

ত্রিপা থাকলে কি এমনটা হত?এত কষ্ট করতে হত মেঘকে?ঠিক ধরেছেন পাঠক,মৌমিকের মা হবার কথা ছিল এই মেয়েটির যার নাম ত্রিপা।সে গল্প আরেকদিন বলা যাবে!

মৌমিক বাথরুম থেকে ডাকছে বাবাকে,
“বাবাতু!বাবাতু!আমি প্যান্ট আনতে ভুলে গেছি।প্লিজ একটা প্যান্ট দাও!”
মেঘ পোলো শার্টের কোণায় চোখ মুছে বারান্দা থেকে উঠে যায়,
“আসছি আব্বুসোনা!”

২ thoughts on “মেঘের ডায়েরি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *