পাকিদের নিরাপত্তায় কেন আমাদের উপর পুলিশী লাঠিচার্জ?

খবরঃ গণজাগরণ মঞ্চের নেতা কর্মীদের লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। প্রবল পুলিশি বাধায় তারা পাকিস্তানী হাইকমিশনের সামনে অবস্থান নিতে পারেনি। তাদেরকে লাঠি চার্জ করে সরিয়ে দেয়া হয়েছে! – সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪.কম

যে পুলিশরা লাঠিচার্জ করেছে, তারা কি জানে, আজ যে পাকিদের তারা ’প্রটেকশান’ দিতে মুক্তিযুদ্ধের এই শান্তিপ্রিয় প্রজন্মের গায়ে লাঠি তুললো, সেই পাকিরা ৪২ বছর আগে ২৫ শে মার্চ রাতের অন্ধকারে সবার আগে বাঙ্গালী পুলিশদের বাসায় এবং থানায় গিয়ে গিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে সপরিবারে তাদেরকে হত্যা করেছিলো?


খবরঃ গণজাগরণ মঞ্চের নেতা কর্মীদের লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। প্রবল পুলিশি বাধায় তারা পাকিস্তানী হাইকমিশনের সামনে অবস্থান নিতে পারেনি। তাদেরকে লাঠি চার্জ করে সরিয়ে দেয়া হয়েছে! – সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪.কম

যে পুলিশরা লাঠিচার্জ করেছে, তারা কি জানে, আজ যে পাকিদের তারা ’প্রটেকশান’ দিতে মুক্তিযুদ্ধের এই শান্তিপ্রিয় প্রজন্মের গায়ে লাঠি তুললো, সেই পাকিরা ৪২ বছর আগে ২৫ শে মার্চ রাতের অন্ধকারে সবার আগে বাঙ্গালী পুলিশদের বাসায় এবং থানায় গিয়ে গিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে সপরিবারে তাদেরকে হত্যা করেছিলো?

হয়তো আজকে লাঠি চার্জ করা পুলিশেরা এই তথ্য জানে, কিন্তু লাঠি চার্জ করার সময় সেটা হয়তো কিছুক্ষনের জন্য ভুলে গেছিলো। তাদেরই বা দোষ কি? তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের আজ্ঞাবহ। উপর থেকে যে নির্দেশ আসে, সেটা পালন করাই তাদের ডিউটি। পাকি নন-পাকি দেখা তো তাদের ডিউটি না।

তাহলে গণজাগরণ মঞ্চের নেতা কর্মীদের লাঠিচার্জ করার এই দায়ভার কার? হুম, দোষ এবং দায় উভয়ই সরকারের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের। কি রকম? তাহলে আরেকটা নিউজ পড়ি। আজকেরই।

খবরঃ ভারতীয় কনসুলেটকে গ্রেপ্তার ও হেনস্তার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নয়াদিল্লি। এর অংশ হিসেবে দিল্লিতে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য বিমানবন্দরের বিশেষ পাস গতকাল প্রত্যাহার করেছে ভারত। মার্কিন দূতাবাসের জন্য আমদানি ছাড়পত্র স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নয়াদিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের বাইরে ব্যারিকেড তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রত্যাহার করা হয়েছে পুলিশ। – সূত্রঃ প্রথমালো।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে দেশটা তাদের পার্লামেন্টে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করলো, তাদের আমরা কি করলাম? পাকি হাইকমিশনারকে খানিকটা বকে দিলাম। ব্যস এইটুকুই। না আরেকটা কাজও তো করা হয়েছে। আমাদের সরকার পাকি দূতাবাসকে পরিপূর্ণ নিরাপত্তার দেবার ব্যাপারে এতটাই বদ্ধ পরিকর যে নিজের দেশের ছেলেদের উপর লাঠিচার্জ করতেও তারা দ্বিধা করেনি।

কিন্তু ভারতের মতো আমাদের সরকারও যদি নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত হবার সাথে সাথেই পাকি হাইকমিশন থেকে সব রকম পুলিশি ব্যারিকেড ও নিরাপত্তা উঠিয়ে নিতো। পরিনতি কি হতো? পরিনতিতে অবশ্যাম্ভাবিভাবে, আমরা, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মরা সরকারকে আরো একটাবার বাহবা দিতাম। আমরা আবারো বুঝতাম, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার আছে আমাদের পাশে সব সময়।

আচ্ছা, সাথে সাথে না হোক, যখন মঞ্চের ছেলেগুলো সেখানে গেলো। তখনই কি টনক নড়লো না তাদের? তারা তো তখনই তৎক্ষনাৎ নিরাপত্তা সরাবার সিন্ধান্ত নিতে পারতো। তারপর পুলিশকে ওয়াকিটকিতে সরে আসার নির্দেশ দিলেই হয়ে যেতো। আমাদের মঞ্চের ছেলেমেয়েরা শান্তিপ্রিয়। তারা বড়জোর হাইকমিশনের সামনের গেটের সামনে বসে পড়তো। কোনরকম ভাংচুর বা অরাজকতা করতো না। তাহলে কিসের ভয়ে তারা পুলিশি লাঠি চার্জের শিকার হলো?

পাকিস্তানের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট হবার ভয়? হা হা হা। যদি তাই হয় তবে এর চে বড় বিনোদন আর হয় না। কেন হয় না? বাকীটা কোট করছি আরিফ জেবতিক ভাই থেকে। কমেন্ট বক্সে।

পাকিদের সাথে আমাদের কুটনৈতিক সম্পর্ক রেখে কি লাভ আমার কোনদিন সেইটা বুঝে আসে নাই। কি অর্থনৈতিক, কি রাজনৈতিক কি সামাজিক – কোনভাবেই পাকিরা আমাদের কোন উপকারে আসে নাই। তাহলে আমাদের দেশের পুলিশ দিয়ে, আমাদের পয়সা খরচ করে পাকি শুয়োরদের কেন বছরের পর বছর ধরে নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে?

বাংলাদেশে কবে পাকিস্তানের সাথে ঘোষনা দিয়ে সব রকম সম্পর্ক ছিন্ন করবে? কবে পাকি পাসপোর্টধারী প্রতিটা মানুষের জন্য বাংলাদেশে ঢোকা অবৈধ ঘোষনা করা হবে? কবে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানী হাইকমিশনকে উচ্ছেদ করা হবে। আমার ক্ষমতা থাকলে আমি এই মূহুর্তে একটা বুলডোজার নিয়ে গিয়ে পাকি হাইকমিশন গুড়া করে দিয়ে আসতাম। তারপর বসে বসে অপেক্ষা করতাম পাকি পার্লামেন্টে আমার বিরুদ্ধে আরেকটা নিন্দা প্রস্তাব পাস হবার।

৫ thoughts on “পাকিদের নিরাপত্তায় কেন আমাদের উপর পুলিশী লাঠিচার্জ?

  1. আমার ক্ষমতা থাকলে আমি এই

    আমার ক্ষমতা থাকলে আমি এই মূহুর্তে একটা বুলডোজার নিয়ে গিয়ে পাকি হাইকমিশন গুড়া করে দিয়ে আসতাম। তারপর বসে বসে অপেক্ষা করতাম পাকি পার্লামেন্টে আমার বিরুদ্ধে আরেকটা নিন্দা প্রস্তাব পাস হবার।

    সুন্দর বলেছেন ।। নিন্দা প্রস্তাব শুনলেই হাঁসি পায় পাকি কুত্তাগুলোর ডানা গজাইছে ভাঙা দরকার ……

  2. যেভাবে তাদের উপর লাঠি চার্জ
    যেভাবে তাদের উপর লাঠি চার্জ করা হয়ছে তা কখনই মেনে নেয়া যায় না ! পাকিরা আমাদের এশের অভ্যন্তরে মাথা গলাবে আর আরা তাদের কিছু বলতে পারব না তা ত হয়না ! আজব দেশ একটা !

  3. আমাদের মধ্য আর ভারতের মধ্য
    আমাদের মধ্য আর ভারতের মধ্য বিশাল ব্যবধান! তারা নিজেরা কামড়া কামড়ি করলেও জাতীয় বিষয়ে সব এক , আমরা!! নিজেরা কামড়া কামড়ি তো করিই নিজেদের স্বার্থের জন্য জাতীয় স্বার্থের কথা ভাবি না।

    দু:খ লাগে ভারতকে দেখলে যেখানে দিল্লীতে এক মেডিকেল ছাত্রীর ধর্ষনের প্রতিবাদে ফুসে ওঠে সমগ্র দিল্লী আর শত শত মা বোনের ধর্ষন কারীদের রক্ষার জন্য আমাদের দেশে জন্ম নেয়া কিছু কীট দেশের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *