১৬ ডিসেম্বর: বিজয় দিবস অথবা নিজেকে ফিরে পাওয়া

গতকাল একটা দিন গেলো বটে !!! আমি আমার এই বয়সে এসে এভাবে বিজয় দিবস উদযাপণ করিনি। আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম, ‘৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি যখন দেশটা হায়েনার হাত থেকে মুক্ত করলো, সেই সময় তাঁদের অনুভূতিটা কেমন ছিলো। আমার প্রতিটি স্নায়ুতে অনুভব করছিলাম প্রতিটি যুদ্ধফেরত মুক্তিযোদ্ধার প্রশান্তিভরা অনুভূতি, স্বজন হারানোর বেদনা, ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রিয় দেশ…সব।


গতকাল একটা দিন গেলো বটে !!! আমি আমার এই বয়সে এসে এভাবে বিজয় দিবস উদযাপণ করিনি। আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম, ‘৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি যখন দেশটা হায়েনার হাত থেকে মুক্ত করলো, সেই সময় তাঁদের অনুভূতিটা কেমন ছিলো। আমার প্রতিটি স্নায়ুতে অনুভব করছিলাম প্রতিটি যুদ্ধফেরত মুক্তিযোদ্ধার প্রশান্তিভরা অনুভূতি, স্বজন হারানোর বেদনা, ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রিয় দেশ…সব।

আমি রাজপথে হেঁটে বেড়িয়েছি সকাল থেকে, দেশটাকে দেখছিলাম নতুন দৃষ্টিতে।খুব বুঝতে পারছিলাম এই দেশটাকে আমি কতো বেশি ভালোবাসি। আমি আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে সেই ভালোবাসার অনুভূতি ব্যক্ত করছিলাম আমার প্রিয় বাঙলাদেশের কাছে। শীতের সকালের মৃদু ঠান্ডা বাতাস আর মিঠে রোদ গায়ে মেখে কখনো রিকশা, কখনো পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়িয়েছি আমার প্রিয় শহরটার অলি গলি। এই অনুভূতির সাথে আমার কখনো পরিচয় ছিলো না।

সকালে আমি ফুল হাতে বেরোইনি এবার। আমি জানি না, কেন বেরোইনি। একটা ঘোরের মধ্যে শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। নিচে দাঁড়িয়ে দেখেছি ঋজু ভঙ্গিতে মাথা উঁচু করে দৃপ্ত দাঁড়িয়ে থাকা চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, লাখো শহীদের রক্তস্নাত যুদ্ধে অর্জিত এই মাটির বুকে দাঁড়ানো পর্বতসম উচ্চতা আর গৌরব মিশ্রিত এই শহীদ মিনার। আমি যখন প্রতিটি ধাপের শিহরণ আমার সর্বাঙ্গে মেখে মেখে উঠছিলাম, আমি জানি সেই সব বীর মুক্তিযোদ্ধারও একই অনুভূতি হয়েছিলো, যখন তাঁরা একের পর এক শত্রু শিবির ধ্বংস করে এগিয়ে যাচ্ছিলো বীরদর্পে। আমি তখনো জানতাম না, কীভাবে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবো। বেদীর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। শ’ত মানুষের ভীড় এবং ধাক্কাধাক্কি অগ্রাহ্য করে নত মস্তকে বেদীর সামনে গিয়ে ভূমিতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করলাম লাখো শহীদের উদ্দেশ্যে। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার আর কোন উপায় আমার জানা ছিলো না। মনে মনে গাইছিলাম- “যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে, লক্ষ মুক্তি সেনা, দে না তোরা দে না, সে মাটি আমার, অঙ্গে মাখিয়ে দে না…” চোখ ভিজে এলো হঠাৎই……..

শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে বসে ছিলাম বহুক্ষণ, নিজেকে মুক্ত স্বাধীন দেশের অতি ক্ষুদ্র একটা স্বত্ত্বা হিসেবে আবিষ্কার করলাম। সারাদিন হেঁটে হেঁটে দেখেছি মানুষের জোয়ার আর তাদের বিজয়োল্লাস। আবার বিকেল ৪:৩১ মিনিটে হাজারো মানুষের সাথে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম গণজাগরণ মঞ্চে গাইলাম সেই রক্ত উছলে দেয়ো জাতীয় সঙ্গীত- “আমার সোনার বাঙলা, আমি তোমায় ভালোবাসি…” আবার আমার চোখগুলো ভিজে এলো। দেশ-মাটি-স্বাধীনতা-বিজয়-মানুষ আর ৩০ লাখ শহীদ এবং ৩ লক্ষ মা বোন- সব আমার আত্মায় ধারণ করলাম যেন এক নিমিষেই। আমি তাঁদের প্রতি আবারো সশ্রদ্ধ সালাম জানালাম। ‘দেশপ্রেম’ এর শক্তি হৃদয়ে অনুভব করলাম। এই অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম। কোন কিছুর সাথেই তুলনীয় নয়।

১৩ thoughts on “১৬ ডিসেম্বর: বিজয় দিবস অথবা নিজেকে ফিরে পাওয়া

  1. —————————–
    :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

    ——————————————————————————————————————————————————————————————————————————————————————————
    যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিয়োজিত, সেই ইসলাম ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন।

    আর-যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্ব অ-শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিয়োজিত, সেই অ-ইসলাম ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। সেরু পাগলার বাণী।।

    সত্য সহায়। গুরুজী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *