বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নারী



বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয় নয় মাসের সংগ্রামের ফসল । এই যুদ্ধে নারী পুরুষ নির্বিশেষে অনেক অবদান রেখেছেন । বাংলাদেশের যুদ্ধে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সশস্ত্র ভূমিকা রেখেছেন । তাদের এখনো যতাযথ সম্মান দেয়া হয়নি । যুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহন কারী কিছু নারী মুক্তি যোদ্ধার কথা এখানে তুলে ধরছি ।

ফোরকান বেগম মুক্তি যুদ্ধের একজন সংগঠক । ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসাবে মুক্তিযুদ্ধের আগে তিনি গ্রামে গঞ্জে ঘুরে ঘুরে স্বাধী্নতার পক্ষে জনমত সৃষ্টি করেছেন । ২৩ মার্চ পতাকা উত্তোলন উপলক্ষ্যে আয়োজিত মিছিলের পুরোভাগে ছিলেন । ২৫ মার্চ রাতে রোকেয়া হলে পাক সেনা বাহিনী তার খোঁজ করেছিল, কিন্তু ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন । এর পর তিনি নিজ গ্রাম কালিগঞ্জে চলে যান এবং সেখানে তরুন দের সংগঠিত করে মুক্তিযুদ্ধে পাঠান । প্রাক্তন আর্মি অফিসার শামসুল হূদার নেতৃত্বে কালিগঞ্জের পুটিনা মঠে তরুন দের গেরিলা ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করেন । ১৯৭১ এর জুনে ভারতে চলে যান এবং আগরতলায় তরুন দের সংগঠিত করে গেরিলা স্কোয়াড , নাসিদ স্কোয়াড এবং আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী গঠন করেন । এ সময় তার সহযোদ্ধা ছিলেন শামসুন্নাহার হক মমতাজ বেগম মিনারা বেগম ঝুনু প্রমুখ । এরা প্রত্যেকে সুইসাইড স্কোয়াড এর সদস্য ছিলেন । বিশিষ্ট সাংবাদিক রাশেদা বেগম মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভাবে অংশ নিয়েছিলেন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্ত্র চালনা শেখার ট্রেনিং কোর্সে অংশ নেন । এখানে ইডেন কলেজের ছাত্রীরাও অশ নেন । ২৫ মার্চের পর রশিদা আমিন এবং অধ্যাপক খালেদা খানম নিজ জেলা মাদারী পুরের শরীয়তপুর চলে যান । সেখান কার আদরিয়া সিনেমা হলে প্রায় পাচঁশ মেয়ের উপস্থিতিতে এক বিরাট সমাবেশে গ্রামের সহজ সরল মেয়েরা দূর দুরান্ত থেকে ফ্ল্যাগ উড়িয়ে অংশ নেয় । মাদারীপুরে পাকিস্তানী ক্যাম্প থাকা সত্বেও তাঁরা ভয় পাইনি । রশিদা আমিন দের বাড়ির ক্যাআম্প থেকেই প্রথম থানায় অপারেশন করা হয় । এই অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন রশিদা আমিন , খালেদা খানম, স্টুয়ার্ট মুজিব , িরাজ সরদার, কালু ও ফজল মাস্টার । শান্তি কমিটির এক চেয়ারম্যান ও দুজন রাজাকার কে হত্যা করা হয় । এই দুই বোন ভারতে না যেয়ে বিভিন্ন অপারেশনে মুক্তিযোদধাদের সাহাক্স্য করেন । এই সময়ে এই এলাকার মেয়েরা তরকারির থলেতে গ্রেনেড নিয়ে মুক্তি যোদ্ধাদের ক্যাম্পে পৌছে দিতেন । মুক্তি যোদ্ধাদের জন্য বড় বড় হাঁড়িতে রান্না করে তাদের জন্য অপেক্ষা করতেন । সেই এলাকার মেয়েরা খালেদা খানম কে মুক্তি আপা বলে ডাকত ।

ডাক্তার সাজেদা চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ছিলেন ঢাকা মেডিকেলের ছাত্রী । আগরতলা সূর্য মান নগর ক্যাম্পে তিনি আহত মুক্তি যোদ্ধা দের পরিচর্যা করেন । অঙ্গ প্রত্যঙ্গ হারিয়ে হতাশ মুক্তি সেনাদের মানুষিক ভাবে চাঙ্গা রাখতে নানা উদ্যোগ নেন । প্রতি সপ্তাহেই কোন না কোন ক্যাম্পে গিয়ে তাঁদের গান শো্নাতেন । মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফ মেজর হায়দার তাদের ক্যাম্পে যেতেন পরামর্শ দেয়ার জন্য ।

নারীদের এই বিরত্বগাথা আশেষ ।শ্রদ্ধা ভরে তাঁদের স্মরন করছি !

(সম্পাদিত)

সুত্র- দৈনিক জনকন্ঠ

১২ thoughts on “বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নারী

  1. মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া সকল
    মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া সকল নারীদের জন্য বিনম্র :bow: :bow: :bow: ও :salute: :salute:

    আপু, লেখাটা ভালো লেগেছে… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :বুখেআয়বাবুল: :গোলাপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *