তাই এগিয়ে আসুন, বিজয় উল্লাসে আনন্দে , নৃত্যে মেতে না উঠে সেইসব মুক্তি যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ান।

আজ ১৬ ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের বিজয় দিবস আর সেই পথ ধরে বিপুল উৎসাহের সাথে মানুষ এই দিনটি প্রতি বৎসর পালন করে।ভোর হতেই সবাই ছোটে স্মৃতিসৌধের পথে।হাজার হাজার মানুষ হাতে ফুল নিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে খালি পায়ে ছুটে যায় সেখানে।


আজ ১৬ ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের বিজয় দিবস আর সেই পথ ধরে বিপুল উৎসাহের সাথে মানুষ এই দিনটি প্রতি বৎসর পালন করে।ভোর হতেই সবাই ছোটে স্মৃতিসৌধের পথে।হাজার হাজার মানুষ হাতে ফুল নিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে খালি পায়ে ছুটে যায় সেখানে।

হ্যা সেই স্মৃতিসৌধে যেখানে মানুষ বছরের অন্য দিনগুলোতে জুতা পরে পায়ের উপর পা তুলে সিগারেট টানে বা আড্ডা মারে। কিংবা এক কোনায় চলে গাঁজার আড্ডা, কি লাভ এই একদিনের লোকদেখানো দেশ প্রেম দিয়ে। এই আমার কথায় ধরুন না সারাবছর কত কিছু নিয়ে লেখালেখি করি কিন্তু এদের কথা বেমালুম ভুলে যাই, কিন্তু এই নিবেদিত প্রাণ গুলোর কারনে আজ বাংলায় লিখতে পারছি । আর তাছাড়া আমার মনে হয় আমরা স্বাধীন না। আজ ও হয়ত সেই ৩০ লাখ প্রান উপর থেকে দেখে দেখে আফসোস করছে কার জন্যে, কাদের জন্যে তারা এই প্রান দিয়েছিল।সেই সব দেশ প্রেমিকরা হয়ত আজ বেচে থাকলে আত্মহত্যা করত দেশের এই অবস্থা দেখে।কিংবা এখনও ওই পাড়ে বসে হাহাকার করছে কাদের জন্যে তারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে মাটির জন্যে লড়েছিল, সেই মাটিতে কি তাদের প্রজন্ম রা ভালো আছে ??

আর সেই মুক্তিযোদ্ধারা যারা এখনও বেঁচে আছে তারা কি ভালো আছে ??? আমরা কেউ কি কখনও ছুটে গিয়েছি তাদের কাছে ??? হ্যা হয়ত ২৬ এ মার্চ কিংবা ১৬ ডিসেম্বর আসলে সাংবাদিকরা ছুটে যায় কারো কারো কাছে ওই অতটুকুই এর পর আর খবর নেই, বেঁচে থাকা বেশিরভাগ মুক্তিযোদ্ধায় জীবিকার তাগিদে পরাজিত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে, আর যারা শারীরিক ভাবে অক্ষম তাদের কথা নাই বা বললাম, সেই অক্ষম দের মাঝে অনেকেই আবার জীবনের তাগিদে ভিক্ষাবৃত্তি তে জড়িয়েছেন, কি করবেন তারা কিছু তো করার নেই, পেটে তো ভাত দিতে হবে, যতক্ষন শ্বাস চলছে ততক্ষন।

আমি লেখাপড়া বেশি করিনি কিন্তু এতটুক জানি বিজয় মানে হল মুক্তি। কারো অধীনে না থাকা স্বাধীন ভাবে বেঁচে থাকা। কিন্তু আসলেই কি আমরা স্বাধীন ??????????

আমার তো মনে হয় না। আমরা এতটুকুন স্বাধীন। আমরা এখনও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের গণ্ডির ভিতর আবদ্ধ। আপনি যদি ভাল করে থাকতে চান তাহলে আপনাকে যে কোন একটি দলের কথায় নাচতে হবে। তাহলেই আপনি নিরাপদ এর মানে হল আপনাকে অন্যের অধীনে থাকতে হচ্ছে। আমরা রাস্তায় হাঁটার সময় ভয়ে থাকি। চোরের মত এদিক ওদিক তাকিয়ে তাকিয়ে হাঁটতে হয় বলা তো যায় না কখন কোন দিক থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধিত কোন পিস্তল থেকে গুলি এসে লাগে।কিংবা কে কোন দিক থেকে গায়ের উপর চাপাতি চালিয়ে দেয়। কিংবা কে কখন ককটেল ছুড়ে মারে। আমরা এখন গাড়ি তে চড়ার সময় ভয়ে থাকি বলা তো যায় না কখন গাড়ির কাঁচ ভাঙ্গা শুরু হয় অথবা পাথর বৃষ্টি। অথবা কখন জীবন্ত আগুনে পুড়তে হয়। এর নাম কি স্বাধীনতা ???????

আমরা তো কেউ মুক্ত না। রাজনৈতিক দলগুলো যখন যার ইচ্ছে মত তাদের কর্মসূচি দিচ্ছে আর আমরা বলির পাঁঠার মত নিরবে তাকিয়ে দেখছি। আর আপনি যখন যেখানে মুখ ফুটে কিছু বলতে যাবেন সেইটা রাস্তা হোক বা কোন সামাজিক গণমাধ্যম হোক তখনই একদল মিলে আপনাকে কোন একদলের বানিয়ে দিবে। অথবা আপনার উপর হয়ে যাবে দেশদ্রোহের মামলা। তাহলে আমরা কিভাবে স্বাধীন হলাম যেখানে আমাদের নির্ভয়ে কথা বলার অধিকার নেই সেখানে ???? হয়ত আমার এই লেখা দেখে অনেকেই আমাকে এতক্ষনে অসুস্থ মস্তিস্কের মানুষ ভাবছেন যে কিনা দেশের বিজয় দিবস পালন করার পক্ষে নয়। হা আমি আমি নির্দ্বিধায় বলব আমি এই বিজয় দিবস পালন করার পক্ষে নই। যেদিন আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর ঘৃণ্য খেলা মুক্ত হতে পারব , যেদিন আমাদের দেশে রাজাকার বলে কেউ থাকবে না, রাজাকারের দলের কোন অস্তিত্ব থাকবে না সেইদিন আমরা মুক্ত। সেই দিন বলতে পারবো আমরা স্বাধীন।

সেই বিদেশি মনিষী বলেছিলেন, বা আমাদের ছোট থেকে শেখানো হয় পাঠ্য পুস্তকে,

“ GOVERMENT FOR THE PEOPLE, BY THE PEOPLE ”

আসলেই কি আমরা তাই ??? উহু মোটেও না, এখনও পর্যন্ত আমাদের দেশের জন্যে এটা হবে,

“ GOVERMENT FOR THE PARTY, BY THE MONEY ”

বিশ্বাস করুন আর নাই বা করুন এটাই বাস্তবতা।

সবার প্রতি অনুরোধ থাকবে এই যে বিজয় দিবসে বিশাল বিশাল অনুস্টান, কনসার্ট না করে, সেই সব মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকজন , কয়েকজন করে পুনর্বাসিত করুন, তাদের প্রাপ্তি টুকু একটু হলেও শোধ করুন, । আমার মনে হয় একটা কনসার্ট বা বড় কোন অনুস্টানের পিছনে যত টাকা খরচ হয় তা দিয়ে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার পুরা বছর খুব ভালো ভাবেই চলে যায়। কিছু অনুস্টান না করলে কিইবা আসে যায়, কিন্তু সেই একবেলা ওই বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধার সাথে পাশে বসে ডাল দিয়ে ভাত খেয়ে দেখুন জীবন টা পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। আমরা যদি ওদের ঋণ শোধ না করি কারা করবে ????

তাই এগিয়ে আসুন, বিজয় উল্লাসে আনন্দে , নৃত্যে মেতে না উঠে সেইসব মুক্তি যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ান।

৫ thoughts on “তাই এগিয়ে আসুন, বিজয় উল্লাসে আনন্দে , নৃত্যে মেতে না উঠে সেইসব মুক্তি যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ান।

  1. বিজয় উৎসব হোক এটা আমিও চাই,
    বিজয় উৎসব হোক এটা আমিও চাই, মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন করুক এইটাও আমি চাই।

    DEMOCRATIC GOVERMENT IS
    OF THE PEOPLE, FOR THE PEOPLE, BY THE PEOPLE

    কিন্তু এই সুত্র গনতন্ত্রমনরা মানে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *