শহিদের ফুলবাগান

১৯৯৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাতে পায়চারী করছেন ইয়াসিন সাহেব।তার ঘুম আসছে না
ছেলেরা এখনও আসেনি কেন?ওরা কি ঘুমিয়ে পড়ে গেল নাকি?না ঘুমাবে না কাল বিজয় দিবস ফুল চুরি না করলে তুরা বানাবে কি করে,ইস এখনও যে কেন আসছে না।আজ পরিবারের সবাইকে রাত আসতে না আসতেই রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ার জন্য তাগাদা দিলেন।সবাই ঘুমিয়েও পড়ল কিন্তু বাহিরে বাগান ভর্তি ফুল আর ফুল সব ফুল আজ চুরি হয়ে যাবে।ভাবতেই আনন্দ আর আনন্দ,আনন্দ কেন,আরে এই ফুলগুলো দিয়ে শহীদ মিনারে তরে তরে সাজানো হবে।এই বয়সে প্রভাত ফেরী করে শহীদ মিনারে ফুল দিতে পারেননা তিনি।সারারাতে জেগে থেকে সকালে আর উঠা হয় না।আবার এই আমি কিনা ৩০৩ রাইফেল নিয়ে গ্রামের পর গ্রামে রাত কাটিয়েছি খেয়ে না খেয়ে,সেই মুক্তিযুদ্ধের সময় কি আর কিছু ভেবে যুদ্ধ করেছি এই দেশ স্বাধীন হবে



১৯৯৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাতে পায়চারী করছেন ইয়াসিন সাহেব।তার ঘুম আসছে না
ছেলেরা এখনও আসেনি কেন?ওরা কি ঘুমিয়ে পড়ে গেল নাকি?না ঘুমাবে না কাল বিজয় দিবস ফুল চুরি না করলে তুরা বানাবে কি করে,ইস এখনও যে কেন আসছে না।আজ পরিবারের সবাইকে রাত আসতে না আসতেই রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ার জন্য তাগাদা দিলেন।সবাই ঘুমিয়েও পড়ল কিন্তু বাহিরে বাগান ভর্তি ফুল আর ফুল সব ফুল আজ চুরি হয়ে যাবে।ভাবতেই আনন্দ আর আনন্দ,আনন্দ কেন,আরে এই ফুলগুলো দিয়ে শহীদ মিনারে তরে তরে সাজানো হবে।এই বয়সে প্রভাত ফেরী করে শহীদ মিনারে ফুল দিতে পারেননা তিনি।সারারাতে জেগে থেকে সকালে আর উঠা হয় না।আবার এই আমি কিনা ৩০৩ রাইফেল নিয়ে গ্রামের পর গ্রামে রাত কাটিয়েছি খেয়ে না খেয়ে,সেই মুক্তিযুদ্ধের সময় কি আর কিছু ভেবে যুদ্ধ করেছি এই দেশ স্বাধীন হবে আমরা একটা মানচিত্র পাবো আমাদের একটি নতুন জাতি হবে?দেশকে ভালবাসার টানে কিছু ভাবনার অবকাশ ছিল না।আজ আমরা একটি রাষ্ট্র, স্বাধীন বাংলাদেশ।
চিন্তার এক পর্যায়ে বাধা পড়ে গেল বাহিরে ফিসফাস শব্দে,চমকিয়ে জানালার ফাঁক গলে তাকিয়ে দেখেন পাড়ার ছেলেরা তার বাগান প্রায় সাফ করে ফেলছে।আনন্দে বুকটা ভরে উঠল,না পাড়ার ছেলেরা বেশ কষ্ট করে সারা রাত্রি জেগে এই ফুল তুরা শহিদ মিনার নিয়ে মেতে থাকে,এভাবেই তো দেশপ্রেম বেড়ে উঠে।অনেক ভাবনার পর মনে পড়ল তার বন্ধু নিখিলবাবু তার মতই বাগান পাহারা দেন চুরি হবার জন্য।ভাবলেন টেলিফোন করে দেখি কি অবস্থা।প্রায় এক রিং হতে না হতেই নিখিলবাবুর গলা শুনা গেল।খবর কি… ওপাশ থেকে অট্টহাসি দিয়ে জানালেন বাগান সাফ, একটিও ফুল অবশিষ্ট নেই।
যাক নিশ্চিন্তে এখন ঘুমাতে পারবেন।দেরি না করে শুতে গেলেন।
আজ ২০১৩ ১৫ ডিসেম্বর বিকাল বেলা।
ইয়াসিন সাহেব আর নিখিলবাবু দুজনেই বয়সে একেবারে ন্যুব্জ।দুজনে ছেলেমেয়েদের ফ্লাটে থাকেন,পুরনো কথাগুলু খুব মনে পড়ছে আর লম্বা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন।কোথায় সেই দিন কোথায় সেই দেশ।জাতি,দেশ আজ দুভাগে বিভক্ত।স্বাধীনতা আর স্বাধীনতা বিরোধী।মাত্র ৪২ বৎসর সব কেমন হয়ে গেছে।সেই দিন আর নেই, যুদ্ধ দেশপ্রেম এখন অনেকে শুনতে চায় না।মুক্তিযুদ্ধের দিনরাত গেছে এই বুঝি মারা পড়েন এই বুঝি একটি বুলেট এগিয়ে আসছে কিন্তু পিছেয়ে আসেননি।আজ স্বাধীন দেশে থেকেও কেমন পরাধিন।খুব কষ্ট খুউউউব।

৩ thoughts on “শহিদের ফুলবাগান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *