সত্যিই কি আমি স্বাধীন দেশের নাগরিক?

প্রিয় বাংলাদেশ, তোর অস্তিত্ব আজ আমার কাছে সঙ্কটাপন্ন মনে হয়।
কেন জানিস?

যখন জনগণের টাকায় কেনা গুলি জনগণের উপরই বর্ষিত হয়,
যখন স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিককে রাস্তায় পিঠিয়ে হত্যা করে তার উপর নৃত্য করা হয়,
যখন এদেশে প্রতিনিয়ত কত বোন ধর্ষিত হচ্ছে, অথচ এই ব্যাপারে কারো কোন প্রকারেই মাথাব্যথা নেই,
যখন এই দেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দিন দুপুরে প্রকাশ্যে হত্যা করলেও তার কোন বিচার হয়না,
যখন সীমান্তে ঝুলছে আমার বোন ফেলানীর লাশ,
যখন হাবিবুরকে উলঙ্গ করে বর্বরোচিত নির্যাতিত হতে হয় বিএসএফ এর হাতে,
যখন দেখি পার্শ্ববর্তী বন্ধুপ্রতিম দেশ(?) নববর্ষের উপহার হিসেবে পাঠায় এই দেশেরই নাগরিকের লাশ,

প্রিয় বাংলাদেশ, তোর অস্তিত্ব আজ আমার কাছে সঙ্কটাপন্ন মনে হয়।
কেন জানিস?

যখন জনগণের টাকায় কেনা গুলি জনগণের উপরই বর্ষিত হয়,
যখন স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিককে রাস্তায় পিঠিয়ে হত্যা করে তার উপর নৃত্য করা হয়,
যখন এদেশে প্রতিনিয়ত কত বোন ধর্ষিত হচ্ছে, অথচ এই ব্যাপারে কারো কোন প্রকারেই মাথাব্যথা নেই,
যখন এই দেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দিন দুপুরে প্রকাশ্যে হত্যা করলেও তার কোন বিচার হয়না,
যখন সীমান্তে ঝুলছে আমার বোন ফেলানীর লাশ,
যখন হাবিবুরকে উলঙ্গ করে বর্বরোচিত নির্যাতিত হতে হয় বিএসএফ এর হাতে,
যখন দেখি পার্শ্ববর্তী বন্ধুপ্রতিম দেশ(?) নববর্ষের উপহার হিসেবে পাঠায় এই দেশেরই নাগরিকের লাশ,
যখন শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবসেও আমার দেশকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র জোড়া লাশ উপহার পাঠায়,
যখন এই বিশ্ব শান্তি রক্ষায় সবার শীর্ষে যে দেশ, সে দেশের দুই শীর্ষ দলকে এক জায়গায় বসাতে বিদেশীদের আসতে হয়,
যখন বিদেশীরা এসে আমাদের দেশের ক্ষমতায় কে আসবে তা নিয়ে এই দেশের নেতাদের সাথে গোপনে আলোচনা করে,
যখন আমার দেশের জনগণের হাজার কোটি টাকা লোপাট হলেও তাতে ক্ষমতাসীনদের কিছুই যায় আসে না,
যখন আমার স্বাধীন দেশের স্বাধীন মানুষেরা মৃত্যুর ভয়ে রাস্তায় বের হতেও পারেনা,
যখন এদেশে মানববন্ধন, জাতীয় প্রেসক্লাবের আলোচনা সভাকে নাশকতামূলক কর্মকান্ড বলে চালানো হয়,
যখন নিজবাড়ি থেকে অন্তঃসত্ত্বাকে গ্রেফতার করে কোর্টের সিড়ি বেয়ে বেয়ে ৫ তলায় তোলা হয়,
যখন রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে নাশকতা দমনের নামে মাসুম শিশুকে গুলি করে দিন দুপুরে দেশের আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী(?) হত্যা করে,
যখন গভীর রাতে র‍্যাব গিয়ে কেবলমাত্র রাজনৈতিক বিরোধের কারণে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধকে গুলি করে হত্যা করে তিন তলা থেকে ফেলে দেয়,
যখন সাম্রাজ্যবাদী প্রভূদের চক্রান্তে আমার দেশের গর্ব পোশাক শিল্পের সেরা কারখানা গুলো আগুন দিয়ে জালিয়ে দেয়া হয় এবং তারপর ক্ষমতাসীনরা মিডিয়ার সামনে এসে ন্যাকা কান্না করে,
যখন এদেশে নির্বাচনের নামে জনগনের কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্বাচনের নামে নাটক করা হয়,
যখন বিশ্বব্যাংক স্বীকৃত চোরকে আমার দেশে দেশপ্রেমিক সার্টিফিকেট দেয়া হয়,
যখন কেবলমাত্র বিরোধী মতের হওয়ার কারনে ২৮ বছরের টগবগে যুবককে রেকর্ড ৪৬ দিনের রিমান্ডের নামে নির্যাতন করে করে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে ও শরীরের সকল মেশিনারিজ নষ্ট করে দেয়া হয়,
যখন কেবলমাত্র তিক্ত সত্য বলার অপরাধে(?) মাহমুদুর রহমানের মত সাংবাদিককে রিমান্ডের নামে অমানুষিক নির্যাতন করা হয় এবং জেলখানার অভ্যন্তরে আটকে রাখা হয়,
যখন বাঘা সিদ্দিকী, জিয়ার মত বীর মুক্তিযুদ্ধাদের গায়ে মুরগী ব্যবসায়ীরা রাজাকারের ট্যাগ লাগানোর চেষ্টা করে,
যখন ধর্ষণের সেঞ্চুরী করে মিষ্টি বিতরণ করা হয়,
যখন দেখি রাজনীতিবিদ নামের দেশের জাতীয় অমানুষগুলো অনর্গল মিথ্যা বলে দেশের জনগণের সাথে বেঈমানী করে,
যখন দেখি শিশুদের মিষ্টি কথা শেখানোর বদলে ফাঁসি চাই ফাঁসি চাই বলে মস্তিষ্কের মধ্যে বিচারকার্যকে প্রভাবিত করানো শেখানো হয়,
যখন এই সবকিছুই আমাদের চোখের সামনে ঘটে এবং আমরা তারপরও চুপ থাকি, তখন সত্যিই তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই মনে আমি চিন্তিত হই।

আমি কিভাবে নিশ্চিত হতে পারছি, যে আমি একজন স্বাধীন দেশের নাগরিক?
কোথায় আজ বাক স্বাধীনতা?
কোথায় আজ চলাচলের স্বাধীনতা?
কোথায় আজ সভা সমাবেশের স্বাধীনতা?
কোথায় আজ রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচারের স্বাধীনতা?
সর্বোপরি, কোথায় আজ একজন মানুষ হিসেবে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার স্বাধীনতা?

মনে প্রশ্ন জাগে এইসব যারা করছে, তারা কি সত্যিই এই দেশের দেশের নাগরিক?
কিন্তু হ্যা, তারা সকলেই বাংলাদেশের নাগরিক।
তাহলে কি তারা কারো ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছে?
কোন বিদেশী সাম্রাজ্যবাদী শক্তির? যারা এই দেশের কোন প্রকার অগ্রগতি কোন মতেই সহ্য করতে পারে না?

আমি বিদেশী আগ্রাসনের আশংঙ্কা করি। কারণ আমি জানি,
কাদের হাতে বিপন্ন আজ আমার দেশের স্বাধীনতা।
কারা আমার দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার পাকিস্তানিদের রেখে যাওয়া সব অস্ত্র নিয়ে গিয়েছিল।
কারা আমার বোন ফেলানীকে ঝুলিয়ে দিয়েছিল কাঁটাতারের বেড়ায়।
কারা আমার ভাই হাবিবকে ধরে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করেছিল, যার ভিডিও আমি নিজ চোখে দেখেছি,
কারা মানের দিক থেকে এদেশের পোশাক শিল্পের সাথে টেক্কা দিতে না পেরে পোশাক শিল্প ধ্বংসের ঘৃণ্য অপচেষ্টা চালায়।
কারা এই দেশের মানুষের মধ্যে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ইস্যু তৈরীর মাধ্যমে বিভক্তি সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

আমরা সব জানি, কিন্তু হয়তো সবসময় সবকিছু বলি না।

এই দেশ আমাদের। দেশের গর্ব মুক্তিযোদ্ধারা এই দেশকে স্বাধীন করে আমাদের হাতে অর্থাৎ এই প্রজন্মের হাতে তুলে দিয়েছেন।
তারা দেশকে স্বাধীন করেছেন। আমাদের উপর এখন দায়িত্ব এসেছে এই স্বাধীনতা রক্ষা করার।

তাই আমাদের শপথ নিতে হবে, এই দেশ সংগ্রামীদের দেশ।
এই দেশ পাকিস্তানকে দেইনাই, ভারতকেও দেবনা।

৭ thoughts on “সত্যিই কি আমি স্বাধীন দেশের নাগরিক?

  1. আপনার লেখাটা পড়ে মনে হলো
    আপনার লেখাটা পড়ে মনে হলো আসলেই আপনি বড়ই বিপদের মধ্যে আছেন । এমন একটি দেশ খুঁজুন যেখানে গিয়ে আপনি নিঃচিন্তায় জীবন কাটাতে পারবেন । উন্নত দেশ গুলোর তো ভিসাই পাওয়া যায় না, তাই কাছের কোনও সাধার দেশে চলে যান । পাকিস্তান গিয়েও শান্তি পাবেন না । কারণ, জাতিগত এবং ধর্মীয় হানাহানি বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্তানে অনেক বেশি । ঐ দেশে তো ১০/১২ জন মানুষকে রোজই গুলি করে মারা হয় । তাছাড়া বাঙালিদের পাকিস্তানিরা একেবারেই দেখতে পারে না, শত্রু মনে করে । তার চেয়ে ভালো আপনি ভারত চলে যান । ওখানে হানাহানি কম, বাঙালিরাও ভারতে পূর্ণ অধিকারের সাথে বাস করছে । আবার শুনেছি ভারতের প্রেসিডেন্টও নাকি বাঙালি । কষ্ট পেলাম, আমাদের বাংলাদেশ আপনার পছন্দ হচ্ছে না জেনে । তবে একটু সময় দিন, এই স্বাধীনতা বিরোধী শুকর গুলোকে কবর দিতে পারলে অবশ্যই দেশে শান্তি ফিরে আসবে ।

    1. বাংলাদেশ আমার পছন্দ হয়নি, এই
      বাংলাদেশ আমার পছন্দ হয়নি, এই জিনিস আপনি কোত্থেকে আবিষ্কার করলেন?

      এই দেশ আমাদের। দেশের গর্ব মুক্তিযোদ্ধারা এই দেশকে স্বাধীন করে আমাদের হাতে অর্থাৎ এই প্রজন্মের হাতে তুলে দিয়েছেন। তারা দেশকে স্বাধীন করেছেন। আমাদের উপর এখন দায়িত্ব এসেছে এই স্বাধীনতা রক্ষা করার।

      বাংলা ভাষা নিশ্চয়ই ভালই বুঝেন?

  2. হ ভাই ঠিকই কইছেন আপনি। আমি
    হ ভাই ঠিকই কইছেন আপনি। আমি কিভাবে বলি আমি স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক যখন দেখি যারা এদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, লক্ষ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করেছিলো, যারা এই দেশের জন্মেরই বিরুদ্ধে ছিল, তাদেরই গাড়িতে ওরে এদেশের জাতীয় পতাকা? যখন দেখি এদেশের মহান সংসদে বসে হুংকার ছাড়ে রাজাকার শিরোমণি? যখন রাজনৈতিক বিরোধিতার জন্য যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় প্রাণপাত করে এই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। লজ্জায় আমার মাথা নত হয়ে আসে।

    ছাগু চিনেন? শুধু কাজে না, কথায়ও ছাগু চেনা যায়।

    1. যখন দেখি লক্ষ লক্ষ মা বোনের
      যখন দেখি লক্ষ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা,
      সেই স্বাধীন দেশেও দেদারসে ধর্ষন হচ্ছে, কেউ কেউ ধর্ষণের সেঞ্চুরী করে উৎসব করছে

      তখন সত্যিই আমাকে চিন্তিত হতে হয়, তাদের সেই ত্যাগের কি কোন মূল্যই আমরা দিতে পারলাম না?

  3. যখন কেবলমাত্র তিক্ত সত্য বলার

    যখন কেবলমাত্র তিক্ত সত্য বলার অপরাধে(?) মাহমুদুর রহমানের মত সাংবাদিককে রিমান্ডের নামে অমানুষিক নির্যাতন করা হয় এবং জেলখানার অভ্যন্তরে আটকে রাখা হয়,

    খুব ভালো লাগলো, উনি কঠিন সত্য বলেচিলো, বাংলাদেশে এতো পত্রিকা কেও এমন সত্য বললো না,

    কোথায় জানি দেখছিলাম একটা লেখা, মিথ্যা তিন প্রকার,
    ১/ মিথ্যা
    ২/ ডাহা মিথ্যা
    ৩/ আমার দেশ (মাহমুদুর ররমানের পত্রিকা)

    1. ১/ মিথ্যা
      ২/ ডাহা মিথ্যা
      ৩/

      ১/ মিথ্যা
      ২/ ডাহা মিথ্যা
      ৩/ আমার দেশ (মাহমুদুর ররমানের পত্রিকা)

      সহ্মত যাত্রী দা ।। আবরার ভাই আপনার লিখার ক্যাটাগরি কি তা উল্লেখ করেন নি ………

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *