একটি রচনাময় আহবান!

সুচণাঃ দাবী জানাবো, কিন্ত দাবী পুরণ করতে গিয়ে যে নেত্রী নিজের জীবনকে বিপন্ন করেছেন তাঁর সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসবোনা, এ কেমন কথা! আম্রিকা, ব্রিটিশ বলেছে, কে নির্বাচনে আসলো তাঁর চাইতে বড় কথা হল সেই নির্বাচনে জনতার পার্টিসিপেশন কতটা ছিল! তাই যতই একতরফার নির্বাচন হোক, কিংবা যতই তামশার নির্বাচন হোক, আমি ভোট দিতে যাব।


সুচণাঃ দাবী জানাবো, কিন্ত দাবী পুরণ করতে গিয়ে যে নেত্রী নিজের জীবনকে বিপন্ন করেছেন তাঁর সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসবোনা, এ কেমন কথা! আম্রিকা, ব্রিটিশ বলেছে, কে নির্বাচনে আসলো তাঁর চাইতে বড় কথা হল সেই নির্বাচনে জনতার পার্টিসিপেশন কতটা ছিল! তাই যতই একতরফার নির্বাচন হোক, কিংবা যতই তামশার নির্বাচন হোক, আমি ভোট দিতে যাব।

প্রাক কথাঃ যখন যুদ্ধাপরাধীদের প্রথম গ্রেপ্তার করা হল, তখন আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে, স্বাধীনতার ৪২ বছর পরে প্রতিষ্ঠিত জামাতী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। সাকার মত গডফাদারের বিচার হবে এটাতো আমার কল্পনার অতীত ছিল। সালাম শেখ হাসিনা! কাদের মোল্লাকে ফাঁসীতে ঝুলিয়ে আপনি আমার মত বিশ্বাস-হারাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, আপনার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ওয়াদা কোন কথার কথা ছিল না।
তারা কি বাঙ্গালীর শত্রুদের পক্ষে নন?ঃ বিএনপি! তারা আবার ভালই পলিসি নিয়েছিলেন। উনারাও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান, তবে, স্বচ্ছতার বিচার চান! তবে বিচার শুরুর আগেই উনারা কাদের মোল্লা, মুজাহিদ, সাকা নিজামীদের মত যুদ্ধাপরাধীদের রাজবন্দী দাবী করে উনাদের মুক্তি দাবী করে বসেন। সাকা-মোল্লারা যে যুদ্ধাপরাধী নন, এই রায় খালেদা জিয়া আগেই দিয়ে রাখেন। কি দারুন স্বচ্ছতা! একবারে সার্ফ এক্সেলের ধোলাই!

এই গরু সেই গরু নয়!ঃ যুদ্ধাপরাধের প্রতিটি মামলাতেই দেখা গেছে, আসামী যুদ্ধাপরাধের ঘটনাকে অস্বীকার করছেন না, তারা হয় বলছেন এই কাদের মোল্লা সেই কসাই কাদের নন, কিংবা সঙ্ঘটিত যুদ্ধাপরাধের সময় সাকা বাবু তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্থানে ছিলেন। আইনের ভাষায় এই দুটি ডিফেন্সকে বলে, ‘ডিফেন্স এস টু মিসটেইকেন আইডেন্টি’ এবং ‘ডিফেন্স অফ এলিবাই’। আমি চট্টগ্রামের মানুষ এবং খোদ রাউজানের। যখন কেউ বলে সাকা নাকি দেশে ছিলেন না, তখন আমি শরীরের সমস্ত শক্তি এক করে বলি, ‘না না না! এটা মিথ্যা!’; এই বোধ আমার আসে কারণ রাউজানের অসংখ্য ভুক্তভোগী এখনও জীবিত আছে যাদের কাছে তাদের কষ্টের কথা, অত্যাচারিত হওয়ার কথা শুনে শুনেই আমি বড় হয়েছি। সাকার পায়ে গুলি করে সাকাকে আহত করেছিলেন যে মুক্তিযোদ্ধা সে সৌরেন্দ্র সেন আমার পাশের বাসায় থাকেন এবং সবলভাবেই বেঁচে আছেন! চট্টগ্রাম বাড়ি আমার, আমার বিশ্বাসে কোন ঘাটতি নাই! শপথ আল্লাহর! যে সমস্ত হৃদয়বিদারক স্বাক্ষ্য ট্রাইবুনালে এসেছে, যেমন ধরুন শহীদুল হক মামা, সেই সুইডেন থেকে এসে স্বাক্ষ্য দিয়েছেন, কাদের মোল্লার হত্যাযজ্জের বর্ণণা দিয়েছেন! কারণ তিনি শুধু ঐ এলাকার মানুষই নন তিনি কাদের মোল্লার শিকার। তাই স্বচ্ছতার কথা তুলে বিএনপি আর বিদেশী লবিস্টরা যে ধুম্রজাল তৈরী করছেন, তার জন্য আমি তাদের অভিসম্পাত দেই।
বিশ্বাস করুন এটা পাকিস্থান নয়, এটা স্বাধীন বাংলাদেশঃ যুদ্ধের ৪২ বছর পরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা চারটিখানি কথাতো নয়ই, বরং ষোলটি খানি কথাও নয়। যারা যুদ্ধাপরাধী তারা অর্থ বিত্তে আজ বিল গেটসকেও হার মানায়! তারা কোটি কোটি ডলার খরচ করে ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’, আম্রিকা ব্রিটেনের মত দেশের এম্পিদের লবিস্ট নিয়োগ দিয়েছে! তার চাইতে অনেক কম খরচ করে তারা গাড়ি পোড়াচ্ছে, মানুষ মারছে। আমার স্বাধীন বাংলায় তারা আমার ভাই বোনদের পুড়িয়ে মারছে আর আমি নিজের চামড়া বাচিয়ে চলছি কেন? পাকিস্থানীর নাগপাশের ভেতরে থেকে নয় মাসে দেশ স্বাধীন করতে পারলে, কিসের ভয়ে স্বাধীন বাংলায় তাদের অত্যাচার সহ্য করছি?

উপসংহারঃ হে আমার বন্ধুরা! আমরা তো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবী করেই সাড়া! বঙ্গবন্ধুর পরে আরেক সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী নেতা আমরা পেয়েছি, যার নাম শেখ হাসিনা! বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর অনেক পরে আমরা জেনেছিলাম বঙ্গবন্ধুকে ফারুখ রশীদ শুধু হত্যা করেনি। তাঁকে হত্যা করেছিল বিদেশী প্রতিক্রিয়াশীল চক্র কারণ তিনি বাঙ্গালীকে ভালবাসতেন, বাঙ্গালী বলে শুধু গর্ব না দম্ভ করতেন। আজ আমাদের সময় এসেছে, শুধু কলমসর্বস্ব না থেকে শেখ হাসিনার পাশে এসে দাড়ানোর। যে নেত্রী, তাঁর দেশের স্বার্থে আম্রিকা-ব্রিটিষ-মধ্যপ্রাচ্যর চোখ রাঙ্গানোকে উপেক্ষা করতে পারে যে নেত্রী বাঙ্গালীর স্বার্থে, বাংগালীপনার দুর্বার দম্ভে জন কেরীদের রুখে দাঁড়ায় সেই নেত্রীর পাশে বাঙ্গালী যেন থাকে সবসময়! টক শো’র অলস কর্ম বীরদের কথায় বিভ্রান্ত হবেন না! শেখ হাসিনার শক্তি তাঁর বাঙ্গালীপনা, তাঁর দেশের মানুষের ভালবাসা! এই একগুনেই তাঁর হাজারো দোষ ক্ষমা করে দিতে পারি আমি। আমরা যেন তাঁর পাশে থাকি।

৪ thoughts on “একটি রচনাময় আহবান!

  1. এই একগুনেই তাঁর হাজারো দোষ

    এই একগুনেই তাঁর হাজারো দোষ ক্ষমা করে দিতে পারি আমি।

    রাজাকারের বিচারের জন্য অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর ভুমিকা প্রশংসনীয়।
    তাই বলে আওয়ামীলীগের গনবিরোধী সব কর্মকান্ড আমি নাও পছন্দ করতে পারি।
    আওয়ামীলীগের বিকল্প বিএনপি-জামাত ও হতে পারে না।

  2. এই মুহুর্তে শেখ হাসিনার পাশে
    এই মুহুর্তে শেখ হাসিনার পাশে থাকার পক্ষে আমি জোর মতামত ব্যক্ত করছি। আমি অন্ধ নই। দেশে কার কি ভূমিকা সেটা খুব ভালো করেই দেখতে পাচ্ছি। দুর্নিতি আর অনিয়মের ধোঁয়া তুলে যারা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলে তারা যেইসব বিকল্প নেতৃত্বের কথা প্রস্তাব করবেন তারা শেখ হাসিনার চেয়ে ভালো নেতা হবেন এমনটা ভাবার মতো যথেষ্ট প্রমাণ তাদের হাতে নেই। সুতরাং… জয় বাংলা…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *