হায় জাতিসংঘ হায় মানবতা!! তুমিও এরশাদ হয়ে গেলা!!!!

ঘটনাটা ২০১০ সালের। সেবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন চীনের লেখক ও মানবাধিকারকর্মী লিও সিয়াওবো। চীনের রাজনৈতিক সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির পক্ষে আন্দোলন পরিচালনা করতে গিয়ে কারারুদ্ধ হন তিনি। কারারুদ্ধ অবস্থাতেই তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। ডিসেম্বরে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে নোবেল বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়, তখনও লিও চীনের কারাগারে আটক। আর তাঁর স্ত্রী গৃহবন্দি। নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লাইকে। মিস পিল্লাই সে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে অসম্মতি জানান। তাঁকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল, তাঁর পক্ষে বা জাতিসংঘের পক্ষে যে কোনো পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা যেন ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন। অন্তত জাতিসংঘের কোনো একজন কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হয়েছিল বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকেও। কিন্তু নাভি পিল্লাই তাতেও সম্মতি দেননি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তাঁর বা জাতিসংঘের কোনো প্রতিনিধি ওই অনুষ্ঠানে যাবেন না।

চীনের নিপীড়িত মানুষের মানবাধিকার রক্ষায় লড়াই করতে গিয়ে একজন মানবাধিকারকর্মী যখন বিপন্ন, জাতিসংঘ কিংবা জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার তাঁর পাশে দাঁড়াতে সরাসরি অসম্মতি জানিয়েছেন! তাহলে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন কাদের জন্য কাজ করে? যে নাভি পিল্লাই মানবতার বিরুদ্ধে পৈশাচিক অপরাধের দায়ে সর্বোচ্চ দণ্ডপ্রাপ্ত একজন অপরাধীর পক্ষে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দেনদরবারে নেমেছেন, সেই ব্যক্তিই কিনা নোবেল পুরস্কার পাওয়া একজন মানবাধিকারকর্মীর পক্ষে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন!

চলতি বছরের জুলাই কী আগস্ট মাসের ঘটনা। তামিল গেরিলাদের সঙ্গে চলমান দীর্ঘদিনের সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত শ্রীলঙ্কার মানবাধিকার পরিস্থিতি দেখতে সে দেশ সফরে যান নাভি পিল্লাই। শ্রীলঙ্কান সেনাবাহিনীর হাতে নিহত লিবারেশন টাইগার অব তামিল ইলম (এলটিটিই) সদস্যদের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচি নেন তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, নিহত তামিল গেরিলাদের সমাধিতে ফুল দেওয়ার মতো কোনো কর্মসূচি নেওয়া হলে তার পরিণাম হবে খুবই খারাপ। কিন্ত ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত মিজ পিল্লাই তাঁর কর্মসূচিতে অটল থাকেন এবং তা চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেন। শ্রীলঙ্কান সরকারও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, তিনি তাদের অনুমোদিত কর্মসূচির বাইরে কোনো কিছু নিতে চাইলে পুরো সফরটিই বাতিল করে দেওয়া হবে। বাধ্য হয়ে পিল্লাই তার কর্মসূচি বাদ দেন।

কানাডার অন্যতম প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দ্য মেট্টোপলিটন’-এর কলামিস্ট ব্যারিল ওয়াজসম্যান বলেছিলেন-

“And what of Pillay herself? As Adrien Pouliot has pointed out, did she bother to talk about the Chinese repression of Tibet where a monk recently set himself on fire in protest? He was the thirtieth such suicide since 2009. Did she protest the jailing and torture of a Cuban dissident after he had testified in front of an American Senate Committee? Did she express concern over the 13 year prison sentence meted out to Iranian dissident leader Addolfattah Soltani? No! Her reaction, and that of the UN, has been total silence on China, on Iran, on North Korea on Zimbabwe, and the list goes on. But somehow Pillay found the time for Quebec.

Pillay is the perfect ethically bankrupt mouthpiece for a morally bankrupt organization.
( সূত্র- #bdnews24)

কাদের মোল্লার ফাঁসি চায় না জাতিসংঘ। :/
নাভি পিল্লাই কাদের মোল্লাকে একজন রাজনীতিক হিসেবে উল্লেখ করে তাকে এখনি ফাঁসিতে না ঝোলানোর অনুরোধ করেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি লিখেছিল জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান নাভি পিল্লাই। বিবৃতিতে বলা হয়, “জাতিসংঘ যে কোনো মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে, সেটা যে পরিস্থিতিতে হোক না কেন, এমনকি সবচেয়ে জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে হলেও।”
একটা যুদ্ধাপরাধী গনহত্যাকারী কসাইকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের চিঠি– হা হা হা!!!
১৯৭১’যুদ্ধে মানুষ হত্যার সময় তোমাদের মানবাধিকার কি বেড়াইতে গেসিল ??

পৃথিবীর এত এত মুসলিম রাজনীতিবিদদের আমেরিকা হত্যা করল অথচ কসাইয়ের বেলায় জাতিসংঘ মানবাধিকার দেখাইল। ইসরাইল পালেসটানিদের মারতেছে, ইরাক আক্রমণ করে সাধারণ জনগনকে হত্যা করা হল, সৌদি আরবে যখন মানুষ বলি দেয়া হয়, নাভি পিল্লাইরা তখন ঘরে বসে মুরি চিবায়। সাদ্দামকে ফাসি না দিতে জাতিসংঘ বুশকে…ত কোন চিঠি দেয় নাই।
সে সময় জাতিসংঘের মানবতা উধাও হয়েছিল?

জামাত সন্ত্রাসিরা সাধারণ জনগণকে পুড়িয়ে হত্যা করতেছে বিরোধী জোটের ডাকা বিগত ৪২ দিনে অবরোধ আর হরতালে দগ্ধ হয়েছে ১৫৪ জন। মৃত্যু বরণ করেছে ৫০-এর অধিক ব্যক্তি কিন্তু জাতিসংঘ টু শব্দ করেনা। আগুনে পুরা মনির কি দোষ করসিল, দেইল্লার সাক্ষীরে হত্যা করার সময় কই ছিল মানবতা????

‘জাতিসংঘ কোন অবস্থাতেই মৃত্যুদন্ড সমর্থন করে না’।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০১২ সালের মৃত্যুদন্ডের পরিসংখ্যান মোট ৪৩টি মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে, রায় দেয়া হয়েছে আরো ৭৭ জনের বিরুদ্ধে। ১৯৭৬ সাল থেকে মোট মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে ১,৩২০ জন কে। যুক্তরাষ্ট্রের ৩২টি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদন্ড বৈধ, ১৮টিতে অবৈধ।
১৯৩০ থেকে ২০০২ পর্যন্ত ৪,৬৬১ জনকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে, যার দুই-তৃতীয়াংশ হয়েছে প্রথম ২০ বছরে।
১৯১৬ থেকে ২০১২ পর্যন্ত শুধুমাত্র ইউএস আর্মি ১৩৫ জনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র করলে ন্যায়বিচার আর এই দেশে হলে করলে মানবাধিকার লঙ্ঘন ? ? ?

২০১২ সালে ফাঁসি কার্যকরের তালিকা-

১ – চীন ( ১০০০ এর বেশী )

২- ইরান ( ৩১৪ + জনের )

৩- ইরাক ( ১২৯+ জনের)

৪- সৌদি আরব ( ৭৯+ জনের)

৫- আমেরিকা ( ৪৩ জনের )

৬ – ইয়েমেন ( ২৮+ জনের )

৭- সুদান ( ১৯+ জনের )

৮ – আফগানিস্তান ( ১৪ জনের )

৯ – গাম্বিয়া ( ৯ জনের)

১০ – জাপান ( ৭ জনের)

বাংলাদেশ মাত্র ১ জনের ফাঁসি কার্যকর করে ২০১২ সালে। ( সূত্র – #Amnesty_International)

জাতিসংঘের মানবাধিকার এসব দেশে কিছু করতে পারে না, তাই ছোট গরীব দেশ মনে করে এরা রাজাকারের ফাঁসি ঠেকাতে শেখ হাসিনার কাছে চিঠি পাঠায়……………

হায় জাতিসংঘ হায় মানবতা!!
তুমিও এরশাদ হয়ে গেলা!!!!

১ thought on “হায় জাতিসংঘ হায় মানবতা!! তুমিও এরশাদ হয়ে গেলা!!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *