হুমকির মুখে দেশঃ প্রত্যাশা যখন সামরিক শাসন

হুমকির মুখে দেশঃ প্রত্যাশা যখন সামরিক শাসন

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর যেকোন সময়। জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমদ ঘোষণা দিয়েছেন, কাদের মোল্লাকে হত্যা করা হলে তার প্রতিটি রক্তবিন্দুর মূল্য আদায় করা হবে। জামায়াতে ইসলামীর এই প্রকাশ্য হুমকিকে গুরুত্ব না দেয়া বোকামীর এক বিশেষ স্তরের কাজ হবে। কারণ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের সক্ষমতার প্রমাণ ইতোমধ্যে দিতে সক্ষম হয়েছে। যদি এই সত্যকে কেউ অস্বীকার করতে চায়, তাহলে মনে রাখা দরকার গ্যালিলিওকে হত্যা করা হয়েছিল এমন সত্য বলার কারণে যা তখনকার মানুষ বুঝেনাই এবং পরবর্তীতে সত্য বলে তা প্রমাণিত হয়েছে।



হুমকির মুখে দেশঃ প্রত্যাশা যখন সামরিক শাসন

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর যেকোন সময়। জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমদ ঘোষণা দিয়েছেন, কাদের মোল্লাকে হত্যা করা হলে তার প্রতিটি রক্তবিন্দুর মূল্য আদায় করা হবে। জামায়াতে ইসলামীর এই প্রকাশ্য হুমকিকে গুরুত্ব না দেয়া বোকামীর এক বিশেষ স্তরের কাজ হবে। কারণ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের সক্ষমতার প্রমাণ ইতোমধ্যে দিতে সক্ষম হয়েছে। যদি এই সত্যকে কেউ অস্বীকার করতে চায়, তাহলে মনে রাখা দরকার গ্যালিলিওকে হত্যা করা হয়েছিল এমন সত্য বলার কারণে যা তখনকার মানুষ বুঝেনাই এবং পরবর্তীতে সত্য বলে তা প্রমাণিত হয়েছে।

এমতাবস্থায় বুঝাই যাচ্ছে দেশ এক কঠিন সহিংস পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে যার লাগাম টেনে ধরার ক্ষমতা দেশের রাজনীতিবিদের (তাদের বুঝানোর জন্য আর কোন পরিভাষা জানা না থাকায় এই শব্দ ব্যবহার করতে বাধ্য হলাম, নয়তো রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা অনুযায়ী তারা কেউই রাজনীতিবিদ নন) থাকবে না। অপ্রত্যাশিত সংকটের দিকে দেশ যাচ্ছে ফেরারী স্পীডে। সুগভীর গহ্বরের তলানিতে পড়তে যাচ্ছে এই দেশের অসংখ্য মানুষের ভাগ্য।

এই কঠিন সময়ে দেশের হাল ধরার ও দেশকে কঠিন সহিংস পরিস্থিতি থেকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোন বিকল্প খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ভাদারা অবশ্য মনমোহন কিংবা প্রণবকে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন দেশকে বাঁচানোর(?) জন্য।

সেনা শাসনের বিরোধী যারা তাদের বলছি, আমিও চাইনা সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা যাক। কিন্তু বলুনতো,
সেনাবাহিনী কি পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারির মত কিছু করেছে?
সেনাবাহিনী কি শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ঘটিয়েছিল?
সেনাবাহিনী কি দেশকে বিদেশীদের হাতে বিক্রির কোন পদক্ষেপ নিয়েছিল?
সেনাবাহিনী কি দেশের নাগরিকদের সীমান্তে ঝুলতে দেখেও চুপ থেকেছিল?
কি দিয়েছে আপনাকে এই অকার্যকর সংবিধান? পেরেছে কি রাস্তায় বেরুতে নিরাপত্তা দিতে? পেরেছে নিজের কথা দ্বিধাহীন চিত্তে বলতে পারার সুযোগ দিতে?
খালেদা হাসিনা কি এই দেশের মানুষকে তাদের রাজনীতির মাঠের ফুটবল বানিয়ে খেলছে না?

কি উত্তর দিবেন আপনি এই সব প্রশ্নের?
আছে কোন উত্তর আপনার কাছে? দেশের চুশীল সমাজের কাছে?

যারা নিজ দেশের নাগরিকদের কাঁটাতারে ঝুলতে দেখেও চুপ থাকে, দেশের মানুষকে নিজেদের রাজনীতির বলির পাঁঠা বানাতেও দ্বিধা করেনা, দেশের অসংখ্য মানুষের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের অর্জিত ফসল কয়েক হাজার কোটি টাকাকে কিছুই মনে করেনা, আপনাকে রাস্তায় বের হওয়ার নিরাপত্তাও দিতে পারেনা, নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে বিদেশীদের হাতে দেশের স্বাধীনতাকে বন্দক দিতেও দ্বিধা করে না, তাদের হাতে দেশকে তুলে দিতে তো আপনাদের কোন দ্বিধা দেখি না। তাহলে কেন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে আপনাদের এত ভয়?

জবাব দেয়ার কেউ কি আছেন?

২২ thoughts on “হুমকির মুখে দেশঃ প্রত্যাশা যখন সামরিক শাসন

  1. আপনাকে রাস্তায় বের হওয়ার

    আপনাকে রাস্তায় বের হওয়ার নিরাপত্তাও দিতে পারেনা

    সেনাবাহিনী আসলে কি নিরাপত্তা দিতে পারবে??

    1. আচ্ছা ভাই, আপনি একটু কষ্ট করে
      আচ্ছা ভাই, আপনি একটু কষ্ট করে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিবেন?
      তাহলে আমি জানতে পারতাম হয়তো নতুন কিছু। আপনি হয়তো বলবেন, “দেশের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি যে কোণ সময়ের চাইতে ভাল”। নাকি?

    1. আর এখন তো মানুষ রাস্তায় বের
      আর এখন তো মানুষ রাস্তায় বের হতেও পারছেনা। আর আমি স্থায়ী সেনা শাসনের কথা বলছিনা, বলছি এই সংকট কাটানোর জন্য সেনাবাহিনীর প্রয়োজন।

  2. গত পাঁচ বছর দেশে বিগত যেকোনো
    গত পাঁচ বছর দেশে বিগত যেকোনো সরকারের চেয়ে বেশী উন্নতি হবার পরেও আপনি যখন সেনা শাসনের জন্য ম্যাৎকার করেন, তখন আমার কেন যেন সুখে থাকতে ভুতে কিলায় প্রবাদটা মনে পড়ে যায়… :মানেকি: :মানেকি: :এখানেআয়:

    1. সেটা অবশ্য ঠিক বলছেন। দেশে
      সেটা অবশ্য ঠিক বলছেন। দেশে এখন যে হারে লাশ পড়তেছে, তাতে মনে হচ্ছে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতিও পূর্বের যে কোন সময়ের চাইতে ভাল

  3. প্রথমত সরকার সামরিক শাসন আসতে
    প্রথমত সরকার সামরিক শাসন আসতে দিবে না।
    দ্বিতীয়তও, সামরিক শাসন আসা মানে যে কতটা ভয়াবহ আপনি মনে হয় বুঝেন না ।

    1. সরকার আসতে দিবে না, এটা ঠিক।
      সরকার আসতে দিবে না, এটা ঠিক। কারণ সেনাবাহিনী আসলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় রক্তচোষা রাজনীতিবিদদের।
      আর ভয়াবহতা বলছেন? এখন যা দেখছি, তাতে এর চাইতে আর কি ভয়াবহ হতে পারে?

    1. ঝামেলা তো এখানেই, সমস্যা হল
      ঝামেলা তো এখানেই, সমস্যা হল রাজনীতিবিদদের, কিন্তু তারা কাটছে জনগণের। তাই তাদের কাছে ব্যথা সারানোর ঔষধ হিসেবে জনগণের মাথা কাটাই সবচেয়ে পছন্দনীয়।

          1. সেনাশাসন লাগবে কি লাগবে না
            সেনাশাসন লাগবে কি লাগবে না সরকার এই ব্যাপারটা আমার আপনার থেকে হয়ত বেশি বুঝতে পারছেন তাই বিষয় নিয়ে কথা বলা উচিত বলে মনে হয়না !! আর একটি কথা বলি অনেকেই বলছেন নির্বাচনের আগে সেনা মোতায়েন করা যেতে পারে কিন্তু এই সরকারের আমলে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে সবগুলিই হয়েছে সুষ্ট এবং শান্তিপূর্ণ সুতরাং এখন কেনো সেনা মোতায়েনের মত বিশাল সিন্ধান্ত নিতে হবে ব্যাপারাটা মাথায় আসছে না ……

          2. স্থানিয় সরকার নির্বাচন আর
            স্থানিয় সরকার নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন এক নয়। জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতা হাতবদল হয়, যা স্থানিয় নির্বাচনে হয় না।

          3. সেনা শাসন আসলে ঝামেলায় পড়ে
            সেনা শাসন আসলে ঝামেলায় পড়ে রাজনীতিবিদরা। কোনমতে যদি তারা সাইজ হয়ে ঠিক হয়, আপাতত তাহলেই চলবে, সব মানুষকে সচেতন করা অনেক কঠিন কাজ, যা সময়ের ব্যাপার। তবে অবশ্যই প্রয়োজনীয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *