নামহীন

মেয়ে দেখা শেষ হলো সবার, পছন্দ হয়েছে। আজই বিয়ের দিন ঠিকঠাক হবে।

বিয়ের পাত্র আমি, একজন গোবেচারা, নিরীহ এবং বেশ বোকাসোকা একজন ছেলে।যারা ঠিকভাবে চেনেন না, তারা দেখেই বলে দিতো পিতার সুপুত্র আমি। নিজের ঘরে আমিই সুপ্যারম্যান, বাইরের পৃথিবীতে নিরীহ ভদ্র মানুষ।
যেহেতু নিজের কথা বলছি, প্রথমেই নিজের পরিচয় দেয়া যাক। আমার নাম রাকিব, রাকিব আহমেদ। মানুষ হিসেবে নগন্য, ছাত্র হিসেবে জঘন্য এই আমি ছিলাম নিজের রুমটিতেই রাজা। রাণী, প্রজার সন্ধান যদিও তখনো পাই নি, রাজার পিতা – মাতা প্রায়ই রাজত্বে হামলা চালাতেন, স্নেহের হামলা। কিন্তু স্নেহদায়ক হামলাতেই কি দুঃখ আমার!


মেয়ে দেখা শেষ হলো সবার, পছন্দ হয়েছে। আজই বিয়ের দিন ঠিকঠাক হবে।

বিয়ের পাত্র আমি, একজন গোবেচারা, নিরীহ এবং বেশ বোকাসোকা একজন ছেলে।যারা ঠিকভাবে চেনেন না, তারা দেখেই বলে দিতো পিতার সুপুত্র আমি। নিজের ঘরে আমিই সুপ্যারম্যান, বাইরের পৃথিবীতে নিরীহ ভদ্র মানুষ।
যেহেতু নিজের কথা বলছি, প্রথমেই নিজের পরিচয় দেয়া যাক। আমার নাম রাকিব, রাকিব আহমেদ। মানুষ হিসেবে নগন্য, ছাত্র হিসেবে জঘন্য এই আমি ছিলাম নিজের রুমটিতেই রাজা। রাণী, প্রজার সন্ধান যদিও তখনো পাই নি, রাজার পিতা – মাতা প্রায়ই রাজত্বে হামলা চালাতেন, স্নেহের হামলা। কিন্তু স্নেহদায়ক হামলাতেই কি দুঃখ আমার!

মেয়েরা নাকি ঘরকুনো স্বভাবের হয়। কিন্তু সীমাহীন দুঃখের কথা হলো, আমি ছেলে হয়েও ঘরকুনো স্বভাবের। মেধাবী ছাত্র ছিলাম না বটে, কিন্তু বই ঠিকই পড়তাম। উল্লেখ্য বইগুলো যদি পড়ার বই হতো, পিতামাতা সর্বকাল গর্ববোধ করতেন। কিন্তু বইগুলো সব নানা ধরনের, তাই রাত্রিরে খাবার টেবিলে পিতা মহাশয়ের ছোটোখাটো লেকচার শোনা আমার জন্য অনিবার্য ছিলো… আমার রোগের ঔষধ!

সে যাই হোক, অধ্যয়ন জীবন সমাপ্তি টানার পর যখন মুক্ত হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসলাম, নতুন দ্বার খুলে গেল সম্মুখে। কত মানুষ ব্যস্ততার সাথে ছুটাছুটি করছে, সবাই উপার্জনের নেশায়। বুঝতে পারলাম, আমারও সময় হয়েছে।

অবশেষে আমার চাকুরী হওয়ার পর বড় মামা মার মাথায় পোকা ডুকিয়ে দিলো। ছেলেকে বিয়ে করাও। পাত্রীও পছন্দ করলেন। নাম জুঁই। বেশ মিষ্টি চেহারা!

সেই পাত্রী দেখতেই আজ এখানে আসা। সবার পছন্দ, তাই নিজেদের মাঝে কথা বলার জন্য অন্যত্র পাঠিয়ে দিলেন , আসার সময় মামার গলা শুনলাম, ” …ফাইনাল। ”
মেয়েটার সামনে আমি একটু অস্বস্তি বোধ করছি। মেয়ে বেশ গাম্ভীর্য বজায় রাখছে। আমার দিকে চেয়ার এগিয়ে দিলো, ” বসুন ”

চেয়ারটা ঠিক করে নিয়ে বসে পড়লাম। অন্যদিকে তাকিয়ে রইলাম। বোধ করছিলাম, মেয়ে আমার দিকেই তাকিয়ে আছে। হঠাৎ ফিক করে হেসে দিলো মেয়েটা ,” পেঁচার মত মুখ কেনো জনাবের? ”
ওর দিকে তাকিয়ে বললাম, ” নাহ্! ”
– খুশি হও নাই?
– উহু!

চোখ সরু করে তাকালো জুঁই, ” মানে কি? ”
হেসে দিলাম এবার, ” আমি আসলে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেছি! ”
– হু
– দেখলা, বললাম না বড় মামা সব ম্যানেজ করে নেবেন।
– হুম!
– কি হুম?
– বড় মামাকে স্পেশাল ট্রিট দিতে হবে দেখছি!

আমি হেসে দিলাম, ” আচ্ছা! ”

উঠে এসে হাত ধরে টান দিলো জুঁই , ” আসো, আমার সাথে। ”
– কোথায়?
– ছাদে, আমার ছোট্ট বাগানটা দেখাই।

জুঁইয়ের সাথে সিড়ি দিয়ে উঠে এলাম ছাদে। আমাদের প্রায় আট বছরের ভালোবাসা আজ পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে … কিছুদিন পরেই হয়তো চূড়ান্ত পূর্ণতা পাবে!
বড় মামাকে ধরেছিলাম , সব বলতেই বড় মামা হেসে দিয়েছিলেন। বিশাল থাবার হাত দিয়ে পিঠে আঘাত দিয়ে বলেছিলেন, ” ভাগ্নে, সব দায়িত্ব আমার …”
মামা তা সঠিকভাবেই সুসম্পন্ন করছেন!!

ছাদটা বেশ বড়, বাগানটা ছোট্ট তবে বেশ সুন্দর! গোলাপ গাছ থেকে একটা গোলাপ ছিড়ে নিলাম, এগিয়ে গেলাম জুঁইয়ের দিকে।

– জুঁই?
– হুম?

জুঁই পেছনে তাকাতেই হাঁটু গেড়ে বসলাম ফুলটা বাড়িয়ে দিয়ে, ” will you marry me? ”
জুঁই উল্টো বললো, ” ফুল কখন আনলা !! ”
– গাছ থেকে ছিঁড়ে নিলাম।
– কি!! তুমি….

একটু পর…
আমি দৌড়াচ্ছি , পিছে জুঁই। আমার পিঠে কিল মারবে! অপরাধ একটাই, ওর প্রিয় গাছ থেকে ফুল ছিঁড়েছি!!

এ মেয়েকে নিয়ে বাকি জীবন থাকবো কিভাবে!!

৬ thoughts on “নামহীন

  1. আট বছর ধরে গোপনে প্রেম করে
    আট বছর ধরে গোপনে প্রেম করে ঘরকুনো ভদ্র ছেলেটা শেষপর্যন্ত,
    সফল সমাপ্তি টানতে পারলো…
    :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে:
    :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি:
    অভিনন্দন…
    :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

    ভালো লিখেছেন… :খুশি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *