দেখা যাক, ওরা আইনের কোন ফাঁকটা বের করেছে।

আমাদের আবেগটা অমূলক নয়,কিন্তু বাস্তবতাটাও আমাদেরকেই বুঝতে হবে। ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা সম্ভব হতো। কিন্তু এইখানেই সমস্যা এবং একই সাথে আমাদের যৌক্তিক সফলতার জায়গাটা হল এইখানে যে~ আসামীপক্ষ ট্রাইব্যুনালের বিশেষ আইনকে উপেক্ষা করে, প্রচলিত সাধারণ আইনের ধারাকে সামনে এনে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে বসেছে এবং তিনি সবটা না জেনেই এই ব্যাপারে কোন মতামত দিয়ে দিতে পারেন না। আর তাই তিনি শুনানী’র জন্য এই স্থগিত আদেশ দিয়েছেন।


আমাদের আবেগটা অমূলক নয়,কিন্তু বাস্তবতাটাও আমাদেরকেই বুঝতে হবে। ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা সম্ভব হতো। কিন্তু এইখানেই সমস্যা এবং একই সাথে আমাদের যৌক্তিক সফলতার জায়গাটা হল এইখানে যে~ আসামীপক্ষ ট্রাইব্যুনালের বিশেষ আইনকে উপেক্ষা করে, প্রচলিত সাধারণ আইনের ধারাকে সামনে এনে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে বসেছে এবং তিনি সবটা না জেনেই এই ব্যাপারে কোন মতামত দিয়ে দিতে পারেন না। আর তাই তিনি শুনানী’র জন্য এই স্থগিত আদেশ দিয়েছেন।

কিন্তু, এই স্থগিত আদেশটার মানে এই নয় যে~ আসামীপক্ষের দাবীর সাথে সরকার আপোষ করেছে বা তিনি এককভাবে তাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করেছেন। এর মানে হলো~ আমাদের দেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন। বিচারবহির্ভূতভাবে যা খুশি তাই করে ফেলতে পারার সুযোগ এই দেশে নেই। যেকেউ যখন-তখন বিচারবিভাগের কাছে স্বাধীনভাবে( এমন কি কুখ্যাত কসাই কাদেরও) এই স্বাধীন বিচার বিভাগের সহযোগিতা পেতে পারে, আর তা যেকোন সময়েই। এইখানেই আমাদের সফলতা।

আবার এইখানে এই প্রসঙ্গে আমাদের আক্ষেপের জায়গাটা। কারণ, আমরা সবাই জানি এবং বুঝি যে~ এই কসাই’য়ের জন্য এতো দরদ, এতো আইনের কোন প্রয়োজন পড়ে না! এতো মানবতা এই জারজটা’র প্রাপ্য হয় না। কিন্তু এই বিবেচনাটা সঠিক নয়।একটি সভ্য এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে এই ধারণাটা পোষণ করাটা সম্পুর্ণ ভুল। এইজন্যই যে~ অপরাধী বা সন্ত্রাসী হলেও গণতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্রে, যেখানে আইনের শাসন বিদ্যমান সেখানে তার সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার অধিকার থাকে। কারণ, সে অপরাধী হলেও; একইভাবে স্বয়ং রাষ্ট্র তার প্রতি অপরাধী কিংবা সন্ত্রাসী আচরণ করতে পারে না।

রাষ্ট্রকে একটি সুনির্দিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনতে হয়। আর তারপরেই সেই শাস্তি কার্যকর করতে হয়। কেবল একটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে সম্পুর্ণ বিচারব্যবস্থা চলে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে গেলে বিচার বিভাগকে অনেক দিক বিবেচনায় রাখতে হয়। বিচারিক বাস্তবতায় একটি প্রামাণ্য সত্য হলো এমন~ আইনের ফাঁক-ফোকর গলে কোন অপরাধী বের হয়ে যাওয়াটা ব্যর্থতা হয় না,বরং আইনের অমর্যাদা তখনি হয় যখন একজন নিরপরাধী শাস্তি ভোগ করে।

আর এই কারণেই,এই বিবেচনাতেই সকল প্রণীত আইনেই অনেক ধরণের ফাঁক-ফোকর থেকে যায়। এখন দেখার বিষয় এটাই যে~ শুনানী শেষে প্রধান বিচারপতির রায় কি হয়।তাঁর রায় পেলেই~ প্রমাণিত হবে, তাদের দাবীটা কতটা যৌক্তিক। সেই সাথে বিভ্রান্তি থেকে নিজেদের দূরে রাখতে এই বিষয়ে আমাদের সচেতনতা প্রয়োজন যে~ সংবিধানে উল্লেখিত সব ধরণের আইনী ধারা, কখনোই বিশেষ আইনে সর্বোতভাবে প্রযোজ্য হয় না। আর এই জন্যই এটি বিশেষ আইন, কোন ফৌজদারী আইন নয়।

আসামীপক্ষের দাবীকৃত আপীল রিভিউ সংক্রান্ত বিধান সংবিধানের সাধারণ ফৌজদারী আইনে প্রচলিত আছে, আর তারা সেটি’র কথাই বারবার উল্লেখ করে যাচ্ছে। অপরপক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের দাবী অনুযায়ী, এর কোন সুযোগ নেই।কারণ হিসেবে তাঁরা উল্লেখ করেছেন~ বিশেষ আইনে এই আপীল রিভিউ করার কোন সুযোগ রাখা হয়নি। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে~ এই স্থলে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক যেকোন ক্ষেত্রে প্রণীত বিশেষ আইনটিই প্রাধান্য পাবে।অর্থাৎ এখানে প্রচলিত আইনের আওতায় প্রধান বিচারপতির কাছে আপীল রিভিউ চাওয়ার কোন সুযোগ রাখা হয়নি।

এই দু’টি পরস্পরবিরোধী অবস্থা বিস্তারিত না জেনে প্রধান বিচারপতি তাই কোন মতামত বা রায় দিতে পারেন না। আর এইজন্যই এই স্থগিত আদেশ এসেছে। তিনি সবটা শুনবেন, তারপর রায় দিবেন~ কোন পক্ষের অবস্থান সঠিক। যে পক্ষের অবস্থান সঠিক থাকে(আইন অনুযায়ী) সেই পক্ষের আবেদনই গৃহীত হবে। এই স্থগিত আদেশ কেবল আপীল রিভিউ করা যাবে কি যাবে না~ সেই অবস্থান সুস্পষ্ট করার জন্য।

যদি আসামীপক্ষের অবস্থান যৌক্তিক হয় তবে, তারা আপীল রিভিউ করার সুযোগ পাবে,অন্যথায় পাবে না। আর তখন তাদের দাবী অযৌক্তিক বলে বিবেচিত হবে এবং এই যে তারা বিচারের নামে প্রহসন হচ্ছে বলে দাবী করে আসছে~ তা অবান্তর বলে প্রমাণিত হবে। আমাদের এখন উচিৎ হবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের যৌক্তিক আবেদনটা যেনো গৃহীত হয়, সেই প্রার্থনা করা।

এই আবেদন গৃহীত হওয়ার উপর নির্ভর করছে অনেক কিছু।দেখা যাক, ওরা আইনের কোন ফাঁকটা বের করেছে।

আসলে আইনের ফাঁক আসল কথা নয়,সময়ক্ষেপণটাই আসল !!!
তারপরেও আমরা অপেক্ষা করে দেখি, ওদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপটা কতটুকু যৌক্তিক বলে প্রতীয়মান হয়।
দেখা যাক।

১৪ thoughts on “দেখা যাক, ওরা আইনের কোন ফাঁকটা বের করেছে।

  1. সব কিছুই ঠিক আছে কিন্তু একটি
    সব কিছুই ঠিক আছে কিন্তু একটি ব্যাপার আমার কাছে অবাক লেগেছে মাননীয় এটর্নি জেনারেলকে না জানিয়ে কি ভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপারে এত জলদি এই রকম সিন্ধান্ত গ্রহণ করা যায় আর যদিও গ্রহণ করা হয়ে থাকে তাহলে তা অবশ্যই কি প্রেস ব্রিফিং অথবা লিখিত আকারে প্রকাশ করা উচিত ছিলনা …… ??

    1. ওরা এতো বদমাইশ…চেম্বার
      ওরা এতো বদমাইশ…চেম্বার জজ’কে বুঝিয়েছে~ এটর্ণী জেনারেলের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে, কিন্তু করেনি।সাথে সাথে মিডিয়াকে বিভ্রান্ত করে ঢেরা পিটিয়েছে~এটর্ণী জেনারেল চেম্বার জজের সাথে আলোচনায় বসেছেন।
      সব মিলিয়ে এমন একটা আবহ তৈরী করেছিলো যে, আসলেই রাষ্ট্রপক্ষ গোঁজামিলের রায় দিয়েছে !
      অথচ পুরোটাই পুর্বপরিকল্পিত একটা ছলনার নাটক।
      রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের অজান্তে এইসব করে চেম্বার জজকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে একটা আদেশ ওরা হাজির করে।
      কারা কর্তৃপক্ষ দিশেহারা বোধ করে সাজা কার্যকর করতে পারেনি।
      আর এই দিকে রাষ্ট্রপক্ষও হঠাৎ করা এই নাটকের মাথা মুন্ডু বুঝে উঠতে উঠতেই সাজা কার্যকরের সময় পার হয়ে যায়।
      যদিও এটর্ণী জেনারেল ওভার ফোন মিডিয়ার কাছে এটা নিশ্চিত করেছিলেন, তিনি কিছুই জানেন না।
      কিন্তু, বিভ্রান্তির নানান ছলনায় তাঁর বক্তব্যটিও অখন গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারছিলো না।
      এইরকম একটি পরিস্থিতিতে সরকার চাইলে রায় কার্যকর করতে পারতো~কিন্তু, ওরা অপপ্রচারের ছলনা দিয়ে এই সাজাকে অন্যায় বলে চালানোর সুযোগটা পেয়ে যেতো।
      তাই সেই সুযোগটা রাষ্ট্রপক্ষ আর দিতে চায়নি।
      এরপরেও ওদের প্রস্তুতি না থাকার নাটক এখনো চলছে…যাতে করে শীতকালীন ছুটিটা ওরা পেয়ে যেতে পারে; যখন উচ্চ আদালত এক মাসের ছুটি থাকবে।
      আর এর মধ্যেই এই সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যাবে।
      সরকারের আর কিছুই করার থাকবে না।
      হিসাব সহজ~ ওদের সাজা হবে না।
      কারণ, জাতিসংঘ ওদের জন্য সুপারিশ করে, বান-কি-মুন, জন কেরী ওদের নিয়ে চিন্তা করে, তারনকো’র সফরের মূল উদ্দেশ্য ওদের ভিত বাঁচানো…
      ওদেরকে এর পর আর কে ছুঁতে পারবে…!!!
      তারপরও আমি আশা রাখতে চাই…দেখা যাক কি হয়…

  2. আসলে আইনের ফাঁক আসল কথা

    আসলে আইনের ফাঁক আসল কথা নয়,সময়ক্ষেপণটাই আসল !!!

    সহমত,
    তারা জানে ফাঁসি আটকানো যাবে না, তবুও আইনের ফাঁক খুজে দুই দিন দেরি করলো!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *