‘আমার ভাবনায় রাজনীতি ও ধর্মের দুষ্টতা’

রাজনীতিতে ধর্মের প্রবেশ কতটা গ্রহণযোগ্য!!! আসলে রাজনীতিতে ধর্মের প্রবেশটাকে বলা যায় অনুপ্রবেশ । বলা যায় রাজনীতি একটা সংঘাতের কেন্দ্র । আর ধর্মকে বলা যায় একটা শ্বাশত বিষয় । রাজনীতির লক্ষ্য মানুষের কল্যান আর রাজনীতিবিদদের কাজ গণমানুষের হয়ে আর গণমানুষের পক্ষে কথা বলা ।কিন্তু এখন রাজনীতি মানেই খারাপ একটা বিষয় আর রাজনীতিবিদ মানে আমরা খারাপ মানুষ হিসেবে সংজ্ঞা সাজাই । ধর্মের একটা উদ্দেশ্যও রাজনীতির মত । মানুষের কল্যান করা মানুষকে সৎ পথে রাখা ধর্মের কাজ । প্রায় সব ধর্মই বলে যুদ্ধ নয় শান্তি চাই । কিন্তু আজকাল ধর্মের রাজনীতি মানেই সবাই তা আড়চোখে দেখে । ধর্মীয় রাজনীতি আজ সংঘাতের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ।



রাজনীতিতে ধর্মের প্রবেশ কতটা গ্রহণযোগ্য!!! আসলে রাজনীতিতে ধর্মের প্রবেশটাকে বলা যায় অনুপ্রবেশ । বলা যায় রাজনীতি একটা সংঘাতের কেন্দ্র । আর ধর্মকে বলা যায় একটা শ্বাশত বিষয় । রাজনীতির লক্ষ্য মানুষের কল্যান আর রাজনীতিবিদদের কাজ গণমানুষের হয়ে আর গণমানুষের পক্ষে কথা বলা ।কিন্তু এখন রাজনীতি মানেই খারাপ একটা বিষয় আর রাজনীতিবিদ মানে আমরা খারাপ মানুষ হিসেবে সংজ্ঞা সাজাই । ধর্মের একটা উদ্দেশ্যও রাজনীতির মত । মানুষের কল্যান করা মানুষকে সৎ পথে রাখা ধর্মের কাজ । প্রায় সব ধর্মই বলে যুদ্ধ নয় শান্তি চাই । কিন্তু আজকাল ধর্মের রাজনীতি মানেই সবাই তা আড়চোখে দেখে । ধর্মীয় রাজনীতি আজ সংঘাতের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে । হেফাজতে ইসলামের ৫ই মের তাণ্ডব বা জামাত-শিবিরের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড তাই বলে । একটা বোতলে ১ লিটার পানি ধরে কিন্তু সেখানে যদি আমরা ২ লিটার পানি ঢালি তবে তা পড়ে যাবে । রাজনীতি আর ধর্মের উদ্দেশ্যও যেখানে মানুষের কল্যান সেখানে সেই ১ লিটার বোতলের মত যদি এ দুটোকেও এক করা হয় তবে সেখানে সংঘাত অবশ্যম্ভাবী । অথচ রাজনীতির সাথে ধর্মের সম্পর্কটা আমাদের দেশে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে । মাওলানা ভাসানী যখন ‘ন্যাশনা্ল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)’ গঠন করেন তখন সেটা ছিল বাংলাদেশের অন্যতম এক বাম প্রগতিশীল দল । সমাজতন্ত্র আদর্শ হলেও এদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচন করে তিনি এক অদ্ভুত ধর্মীয় সমাজতন্ত্রে্র প্রচলন করেছিলেন । আপাত দৃষ্টিতে ব্যাপারটা ভাল মনে হলেও এটাতেও কিন্তু তিনি ধর্মকে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের বাইরে না এনে দুটোকে এক করে রাখেন । শুধু মাওলানা ভাসানী কেন আমাদের কোন রাষ্ট্রনেতাই পারেননি রাজনীতির মত একটা জটিল জায়গা থেকে ধর্মকে সরিয়ে রাখতে । বরং তারা আরো নানা ভাবে নানা তত্ত্ব দিয়ে রাজনীতির সাথে ধর্মকে অষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখেন ।
’৭২ এর সংবিধান প্রতিষ্ঠা করে তৎকা্লীন আওয়ামী লীগ সরকার মোটামুটি সুন্দর একটা সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে ছিলেন । কিন্তু সহসাই ঘাতক কাঁটা পথ রোধ করে দাঁড়ালো । একের পর এক সংশোধনী দিয়ে সেই সুন্দর সংবিধানটাতেও সাম্প্রদায়িকতা আনা হল । এদেশের মোটামুটি ৮০-৮৫ শতাংশ মানুষ মুসলমান । সংবিধানে বিসমিল্লাহহির রাহমানির রাহীম বা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ইত্যাদি ট্যাগ লাগানোর পর সেটা মুসলমানদের জন্য খুশির হতেই পারে । কিন্তু একটি দেশের ৮০ না ১০০ শতাংশ মানুশের কথাই বিবেচনা করতে হবে শাসকগোষ্ঠিকে । রাষ্ট্র কখনই বিশেষ কোন ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারে না । আমাদের দেশে ইসলামকে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয় না এখানে ইসলামকে রাজনীতির একটা অংশ হিসেবেও বিবেচনা করা হয় । অথচ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১২নং অনুচ্ছেদের স্পষ্টতই বলা হয়েছে।[……] খ,রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান গ,রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার[……]; বিলোপ করা হবে।
এ সরকার বিগত কিছু সময় ধরে আপ্রাণভাবে বোঝাতে চেষ্টা করছে তারা ধর্ম নিরপেক্ষায় বিশ্বাসী।কিন্তু বাস্তবে কোন প্রতিফলন নেই।
আজ রাজনীতিতে জামায়েত ইসলামীর মত কতিপয় অসাংবিধানিক দলের জন্যে দেশজুড়ে চলছে নানা নৈরাজ্য,হানাহানি,রক্তারক্তি।এক্টা গণতান্ত্রিক সংবিধানের মধ্যে একটা বিশেষ ধর্মের মত কোন একতরফা বিষয় থাকতে পারে না । থাকলে সেটা গণতান্ত্রিক হবে না । সেটা কোন গণতন্ত্র না । এমন গণতন্ত্র আমরা চাই না । গণতন্ত্র হবে সবার জন্য সমান । সেক্ষেত্রে আমরা চাইবো সমাজতন্ত্রকে । সব ধর্মই সমান অধিকার পাবে । নয়তো কোন ধর্মই রাষ্ট্র থেকে কোন সুযোগ সুবিধা পাবে না । ফ্রান্স কমিউনে আমরা যেটা দেখেছিলাম । ধর্ম থাকবে ধর্মের জায়গায় । থাকবে মনের মধ্যে,থাকবে নিজেদের বিশ্বাসে,থাকবে নিজের কল্যাণ সাধনা্য়।ধর্ম লোক দেখানোর জন্য হবে না ধর্ম ঘটা করে বলে বেড়ানোর মত কিছু হবে না ।
রাজনীতিতে এই ধর্মের প্রবেশ এভাবেই অনাকাঙ্খিত ভাবে সংবিধানে প্রবেশ করে আমাদের জাতীয় জীবনে,ব্যক্তি জীবনে ভয়ংকর ও সংঘাত্ময় পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছে । এটা আমাদের জন্য হুমকি । বিশেষ করে আমাদের দেশে হিজবুত তাওহীদ,জেএমবি বা জামাত ইসলামের মত দলগুলোর চটি টাইপ কথিত জিহাদ বা বিদ্রোহী মনোভাব এরই সংকেত দেয় । অথচ এই বাংলা একদিন এমন ছিল না । এসব আমাদের জন্য লজ্জার এসব আমাদের জন্য লজ্জার ।
ধর্ম থাকবে ধর্মের জায়গায় আর রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় । দুটোরই এক উদ্দেশ্য আর দুটোই তাদের স্ব স্ব জায়গায় থেকে মানুষের কল্যাণ সাধনে নিয়োজিত থাকবে । রাজনীতিতে ধর্ম বলে কিছু থাকবে না । সংবিধানে সাম্প্রদায়িক কোন বিষয় থাকবে না । ধর্মের এই অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ হোক।হুমায়ুন আজাদ স্যারের কথায় বলতে হয় ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার ।
ছোটবেলায় মা যেভাবে বলত দুষ্টুমি করে না । তেমন আমাদেরও উচিৎ ধর্মকে বলা রাজনীতিতে তোমার দুষ্টুতা নিয়ে দুষ্টুমি করতে এসো না ।

আমরা রাজনীতি আর ধর্মকে নিয়ে এই বাঙলায় থাকতে চাই না । আমরা রাজনীতি থেকে ধর্ম কে সরিয়ে তাকে আস্তাকুড়ে ফেলে বাঙঙলার এই মুক্ত আকাশে নিঃশ্বাস ফেলতে চাই । আমরা ধর্মকে না বাঙলাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চাই ।

৩ thoughts on “‘আমার ভাবনায় রাজনীতি ও ধর্মের দুষ্টতা’

  1. ধর্ম থাকবে ধর্মের জায়গায় আর

    ধর্ম থাকবে ধর্মের জায়গায় আর রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় ।

    সহমত।

    ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে আমারও একটি প্রবন্ধ লেখার ইচ্ছা আছে, আপনার লেখার জন্য ধন্যবাদ।

  2. বিষয়বস্তুর সামগ্রিক আলোচনার
    বিষয়বস্তুর সামগ্রিক আলোচনার সাথে শেষটা একটু অস্পষ্ট আর গোলমেলে মনে হল।
    যৌক্তিক বিষয়বস্তুর জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *