”আমার, তোমার বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই”- অভিনন্দন শাহবাগ…….

৫ই ফেব্রুয়ারী দিনটা অন্য আট-দশটা দিনের থেকে একটু আলাদা সবাই অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে আছে টিভি সেটের সামনে।সবাই টিভির চ্যানেল একটু এদিক করে দেখার চেষ্টা করছে কোথায় ব্রেকিং নিউজ দেখাচ্ছে কিনা।
সবার তখন একটাই প্রার্থনা যেন কসাই কাদেরকে মৃত্যুদন্ড ঘোষনা করা হয়।

……এমন সময় টিভিতে ব্রেকিং নিউজ কাদের মোল্লাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড।

……..বাংলাদেশের মানুষ এ রায়ে হতবাক।বুঝতে পারছেনা এটা কি হল! কেউ এই রায় মেনে নিতে পারছে না। বুঝতে পারছেনা এখন তাদের করণীয় কি…….


৫ই ফেব্রুয়ারী দিনটা অন্য আট-দশটা দিনের থেকে একটু আলাদা সবাই অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে আছে টিভি সেটের সামনে।সবাই টিভির চ্যানেল একটু এদিক করে দেখার চেষ্টা করছে কোথায় ব্রেকিং নিউজ দেখাচ্ছে কিনা।
সবার তখন একটাই প্রার্থনা যেন কসাই কাদেরকে মৃত্যুদন্ড ঘোষনা করা হয়।

……এমন সময় টিভিতে ব্রেকিং নিউজ কাদের মোল্লাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড।

……..বাংলাদেশের মানুষ এ রায়ে হতবাক।বুঝতে পারছেনা এটা কি হল! কেউ এই রায় মেনে নিতে পারছে না। বুঝতে পারছেনা এখন তাদের করণীয় কি…….

…….ঠিক সন্ধ্যার দিকে আবারও ব্রেকিং নিউজ ”মানবতাবিরোধী মামলায় কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায়ের প্রতিবাদের কিছু ব্লগারের ডাকে শাহবাগে জড়ো হচ্ছে সাধারণ মানুষ”।

আবারো সাধারণ মানুষ একটা আশার আলো দেখতে পেল।সাধারণ মানুষ দলে দলে যোগ দিল সেই আন্দোলনে।শুরু হল এক অপ্রতিরোধ্য আন্দোলন।গড়ে উঠল গণজাগরণ মঞ্চ।দাবি উঠল রাজাকারের সর্বোচ্চ বিচার ফাঁসি চাই।এই দাবি আস্তে আস্তে পরিণত হল বাঙ্গালীর প্রাণের দাবিতে।এই আন্দোলন আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ল দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে।
বুদ্ধিজীব থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই একাত্মতা ঘোষনা করল এই আন্দোলনের সাথে।
দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ল এই আন্দোলনের খবর, এমনকি বিদেশী মিডিয়াগুলোও ফলাও করে প্রচার করল শাহবাগ আন্দোলনের খবর।

……….বাঙ্গালী চেতনা ধারী সকলে তখন ফিরে গেছে একাত্তরের উত্তাল দিনগুলোতে।সকলেই হয়ে উঠেছেন এক একজন যোদ্ধা।সকলের মুখে রাজাকারের বিচার চেয়ে স্লোগান।
শাহবাগ চত্বরও সেইমুহূর্তে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত।
সকলের মুখে রক্তে আগুন জ্বালানো একাত্তরের সেই স্লোগানগুলো।একটুকরো একাত্তর যেন উঠে এসেছে শাহবাগ চত্বরে।
সকলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ।সকলেই যেন দেশের জন্য কিছু একটা করতে চাই।

…….ছাত্র-শিক্ষক,চাকুরে,গৃহিণী,দিনমজুর, কামার-কুমোর, সকলেই তখন দাবরে বেড়াচ্ছে শাহবাগ চত্বর।সকলের যেন একটাই ঠিকানা আর তা শাহবাগের মোহনা।

…….প্রায় একমাস ধরে চলল এই আন্দোলন পরিবর্তন করা হল ICT আইন।আন্দোলন অনেকটাই সফল হল।

……..আর আজ পেতে চলেছি সেই স্বপ্রণোদিত শাহবাগ আন্দোলনের ফলস।আজ কার্যকর হতে চলেছে ইতিহাসের কুখ্যাত নরপশু কসাই কাদেরের মৃত্যুদন্ড।

অভিনন্দন সকল যোদ্ধাকে, অভিনন্দন সেই শাহবাগ আন্দোলনের কান্ডারি সেই ব্লগারদের।অভিনন্দন বাঙ্গালী জাতিকে কে।
অভিনন্দন হে নতুন বাংলাদেশ।
অভিনন্দন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগকে রাজাকারে সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করার জন্য।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
জয় হোক তারুণ্যের………

[উল্লেখ্য শাহবাগ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে কাদের মোল্লার রায়ের বিরোদ্ধে আপিলের সুযোগ রেখে ১৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস)সংশোধন বিল, ২০১৩ জাতীয় সংসদে পাস হয়।
এবং ৩রা মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ তার সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করে এবং ৪ঠা মার্চ কাদের মোল্লার পক্ষ থেকে রায়ের বিরোদ্ধে তাকে খালাস দেওয়ার জন্য আপিল করা হয়। ১লা এপ্রিল আপিলের শুনানি শুরু হয় এবং শুনানি শেষে ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৩সালে সর্বোচ্চ আদালত মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমানিত হওয়ায় যাবজ্জীবন করাদন্ডের পরিবর্তে মৃত্যুদন্ডাদেশের নির্দেশ দেন।
এরপর শুরু হয় কাদের কসাই এর পূর্ণাঙ্গ রায়ের প্রতিক্ষা।
গত ৫ই ডিসেম্বর এই কুখ্যাত রাজাকারের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করে আপিল বিভাগ।]
এবং এরই পেক্ষিতে আজ রাতে কসাই কাদের উরফে কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন সরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ব্রেকিং নিউজ: কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর আগামীকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত স্থগিত……..

৩৭ thoughts on “”আমার, তোমার বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই”- অভিনন্দন শাহবাগ…….

    1. হ্যা তাইতো দেখলাম।ভিষন মন
      হ্যা তাইতো দেখলাম।ভিষন মন খারাপ লাগছে।…ওইটা “ঠায়” না হয়ে “ঠাঁই” হবে।শিরোনাম ঠিক করে নাও।….

      1. সহমত রাজু ভাই। বানান ভুল
        সহমত রাজু ভাই। বানান ভুল দেখলেই আমার আবার এলার্জি লাগে। ইস্টিশনের প্রতিটা যাত্রী মাতৃভাষা বাংলায় চৌকশ হবেন আমি মনেপ্রাণে এমনটাই প্রত্যাশা করি। এই “য়” আর “ই” এর ব্যবহার নিয়ে অনেকেরই ভুল হতে দেখি। এটা ঠিক হওয়া দরকার। আমি নিজেও অনেক বানান ভুল করি। কিন্তু চোখে পড়ামাত্র তা শুধরে দেবার চেষ্টা করি।

  1. সরাসরি আমার ফেভু স্ট্যাটাস
    সরাসরি আমার ফেভু স্ট্যাটাস তুলে দিলাম —

    ভাইয়া এবং আপুরা , এক মিনিট – মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন হইছে দীর্ঘ নয়মাসে । এই নয়মাস আমাদের ভাই বোন বাবা মায়ের উপর চলছে নির্মম অত্যাচার । লাশের পর লাশ বিছানো ছিল বাংলার মাটিতে । কই সেই সময়ে কি আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা হতাশ হয়ে লড়াই করা ছেড়ে দিয়েছিল ?
    না । কেউ হতাশ হয় নাই । তারা সামান্য স্টেনগান নিয়েই দুনিয়ার অন্যতম শক্তিশালী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেছে । তাদের বিশ্বাস ছিল বিজয় আসবে । জি , বাংলাদেশের বিজয় এসেছিল ।
    ডিয়ার ব্রাদার এবং সিস্টার – ৪২ বছর অপেক্ষা করতে পারছি , আর কয়েকটা মুহূর্ত পারবো না ? ভুলে যাবেন না , আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের বংশধর । কাদের মোল্লার ফাঁসি বাংলাদেশের মাটিতেই হবে ।

    মনে রাখবেন , অস্ত্র জমা দিছি , ট্রেনিং জমা দেই নাই ।

  2. মনে রাখবেন, অস্ত্র জমা দিছি,

    মনে রাখবেন, অস্ত্র জমা দিছি, ট্রেনিং জমা দেই নাই

    মুক্তি যুদ্ধের হাতিয়ার গর্জে ওঠো আর একবার :থাম্বসআপ:

        1. অন্ধকারের যাত্রী, আপনি কি
          অন্ধকারের যাত্রী, আপনি কি আমাকে বললেন?? যদি আমকে বলে থাকেন তাহলে উত্তরটা হল- আমি আসলে এরকমই, একটু উলটা। :ভেংচি: আসলে ভর্তির ঝামেলাও ছিল আবার বাবার অনুমতিরও অপেক্ষায় ছিলাম। যেই অনুমতি পেলাম সেই অ্যাকাউন্ট খুলে ফেললাম… 😀 😀

          1. @ ফাতেমা জোহরা
            হ্যাঁ আপনাকেই

            @ ফাতেমা জোহরা
            হ্যাঁ আপনাকেই বলছিলাম, আমার দেখা আপনি প্রথম এই নিয়মে।
            দেখা হবে ফেইসবুকে
            শুভ কামনা রইলো। :গোলাপ: :: :গোলাপ:

    1. ৪২ বছর ধরে যখন অপেক্ষা করতে
      ৪২ বছর ধরে যখন অপেক্ষা করতে পেরেছি তখন একটা সকাল কি আর অপেক্ষা করতে পারব নাহ্!!!!!!

      এত রাগ করছেন কেন???? জানেন তো রাগ মানুষকে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য করে ফেলে।
      আর এখন আমাদের কে অত্যন্ত ধর্যের সাথে আমাদের করণীয় ঠিক করতে হবে…….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *