অবশেষে প্রজন্মের বিজয়…..

ক’তে – কসাই কাদের। তুই রাজাকার তুই রাজাকার
আজ রাতেই হয়তো ফাঁসি হতে যাচ্ছে কুখ্যাত রাজাকার কাদের মোল্লার। সমগ্র জাতি (কিছু কুলাঙ্গার রাজাকার,জামাত-শিবির ব্যতীত) গভীর আগ্রহভরে অপেক্ষা করছে এই ফাঁসির জন্য। বাংলাদেশে এই প্রথম ‘৭১ এর যুদ্ধাপরাধের মামলার চূড়ান্ত কোন রায় কার্যকর হতে যাচ্ছে।



ক’তে – কসাই কাদের। তুই রাজাকার তুই রাজাকার
আজ রাতেই হয়তো ফাঁসি হতে যাচ্ছে কুখ্যাত রাজাকার কাদের মোল্লার। সমগ্র জাতি (কিছু কুলাঙ্গার রাজাকার,জামাত-শিবির ব্যতীত) গভীর আগ্রহভরে অপেক্ষা করছে এই ফাঁসির জন্য। বাংলাদেশে এই প্রথম ‘৭১ এর যুদ্ধাপরাধের মামলার চূড়ান্ত কোন রায় কার্যকর হতে যাচ্ছে।

আসুন জেনে নেই এই কসাইয়ের কান্ডঃ

১৯৭১ সালে মিরপুর এলাকার মানুষদের কাছে আবদুল কাদের মোল্লা একজন কসাই হিসেবে পরিচিত ছিল। সে সময় মিরপুরে ভারত থেকে আগত বিহারী মুসলমানদের আধিক্য ছিল, এই বিহারীরা বাংলাদেশে পাকিস্তানী দখলদারিত্বের অতি উৎসাহী সমর্থক ছিল।

পাকিস্তানী বাহিনী ও তার সহযোগীদের হাতে নৃশংসভাবে নিহত মানুষদের অন্যতম বৃহৎ গণকবর স্বধীনতার পর মিরপুরের শিয়ালবাড়ী এলাকায় আবিষ্কৃত হয়। মিরপুর এলাকার স্থানীয়দের মতে, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মিরপুর এলাকার শিয়ালবাড়ী এবং রূপনগরে হাজার হাজার বাঙ্গালী হত্যায় কাদের মোল্লা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিল। তাদের অনেকেই নিশ্চিত করেছিল যে, সেনাবাহিনী তাদের কর্মকান্ড শুরু করার আগেই কাদের মোল্লা তার হত্যার আনন্দ শুরু করে।

৬ই মার্চ মিরপুর ৬নং সেক্টরের সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি’র গেট এর সামনে বাঙ্গালী মানুষদের দাবী পেশ করার জন্য একটি জনসমাবেশ আয়োজন করা হয়। যখনই মানুষ জাতীয় স্লোগান জয় বাংলা ধ্বনি দেয়া শুরু করল, সভায় উপস্থিত মোঃ শহিদুর রহমান, কাদের মোল্লা এবং তার বাহিনী তলোয়ার এবং অন্যান্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে সভায় আক্রমণ করে।

মিরপুর ১নং সেক্টরের বি-ব্লক নিবাসী মোঃ ফিরোজ আলীর মতে, কাদের মোল্লা ফিরোজ আলীর ভাই ১৮ বছরের ছাত্র পল্লব টুনটুনি হত্যার সাথে জড়িত ছিল। কিশোর টুনটুনি জাতীয় নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের সক্রিয় সমর্থক ছিল এবং সে কারণে তার নাম কাদের মোল্লার হত্যা তালিকায় যোগ হয়। ২৯শে মার্চ মোল্লার ঘাতক দল শহরের অন্য প্রান্ত থেকে টুনটুনিকে অপহরণ করে এবং তাক মিরপুরে নিয়ে আসে। এরপর ছেলেটিকে হাত পেছন থেকে বাঁধা অবস্থায় টেনে-হিঁচড়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিয়ে আসা হয় এবং আবার ফেরত নেয়া হয়। ধর্মীয় সমাবেশে ব্যবহৃত একটি বড় খেলার মাঠে তাকে গাছের সাথে বেঁধে দুইদিন ফেলে রাখা হয়। পরে মোল্লার লোকেরা ফিরে আসে এবং ছেলেটির আঙ্গুল কেটে ফেলে। ৫ই এপ্রিল অপহরণের এক সপ্তাহ পরে মোল্লা টুনটুনিকে গুলি করে হত্যা করার জন্য তার লোকদেরকে নির্দেশ দেয়। ফিরোজ আলী বলেন, গণকবরে আরো ৭টি লাশের সাথে নিক্ষেপ করার আগে এলাকার অন্যদের জন্য সতর্কতার নিদর্শন হিসেবে ছেলেটির লাশ সেই গাছের সাথে দুইদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়।

মোঃ শহীদুর রহমান চৌধুরী ছিলেন ১৯৭১ সালে কাদের মোল্লার অপরাধ কার্যক্রমের আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি বলেন, অক্টোবরে রাজাকারবাহিনী কাদের মোল্লার নির্দেশে মিরপুর ৬নং সেক্টরে মহিলা কবি মেহেরুন্নেসাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। তিনি বলেন, সিরাজ নামের এক ব্যক্তি, যিনি কবির ঘরে থাকতেন, তিনি হত্যাকান্ডের এই দৃশ্য দেখে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। জনাব চৌধুরী আরো বলেন যে, সিরাজ এখনও মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছে।

মিরপুর এলাকার অধিবাসীদের আরো অভিযোগ আছে যে, কাদের মোল্লা মিরপুরের মনিপুর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়ার অবাঙ্গালী লোকদেরকে তার আদেশাধীন সশ্রস্ত বাহিনীতে সংগঠিত করে। ঐসব বিহারী সশ্রস্ত বাহিনীর সাহায্যে কাদের মোল্লা মিরপুরের বিভিন্ন বধ্যভূমিতে হাজার হাজার বাঙ্গালী হত্যাকান্ড সংঘটিত করত।

রাষ্ট্রপক্ষ কাদের মোল্লার বিরোদ্ধে যুদ্ধাপরাধের যেসব অভিযোগ আনেন সেগুলো হলো
১. ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল তার নির্দেশে মিরপুর বাঙলা কলেজের ছাত্র পল্লবকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
২. ২৭ মার্চ কাদের মোল্লা ও তার সহযোগীরা মিরপুরে কবি মেহেরুননিসা, তার মা এবং দুই ভাইকে তাদের নিজ বাসায় হত্যা করেন।
৩. ২৯ মার্চ আরামবাগ থেকে সাংবাদিক খন্দকার আবু তালেবকে অপহরন করে নিয়ে যান এবং পাম্পহাউস জল্লাদখানায় জবাই করে হত্যা করেন।
৪. ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর কাদের মোল্লা রাজাকার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে কেরানীগঞ্জের ভাওয়াল খানবাড়ি এবং ঘাটারচরে শতাধিক গ্রামবাসীকে হত্যা করেন। রায়ে বলা হয়, প্রসিকিউশন এই অভিযোগ প্রমান করতে পারেননি।
৫. ১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে মিরপুরের আলোকদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৩৪৪ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করেন।
৬. ২৬ মার্চ কাদের মোল্লা ও তার সহযোগীরা মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনে হযরত আলী লস্করের বাসায় গিয়ে লস্করের স্ত্রী, দুই মেয়ে, দুই বছরের এক ছেলেকে হত্যা ও ১১ বছরের এক মেয়ে ধর্ষণের শিকার হন। যেখানে কাদের মোল্লা নেতৃত্ব দেন।

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, কাদের মোল্লাকে মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধের জন্য আনীত ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটিতে দোষী সাবস্থ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার স্বাধীনতা বিরোধী বাহিনী আল বদরের সদস্য মোল্লাকে ৩৪৪ জন নিরীহ ব্যাক্তি হত্যা ও অনান্য অপরাধের জন্য দোষী সাবস্থ করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এই রায় প্রত্যাখান করে শাহবাগে হয় জনতার বিস্ফোরন…

আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রায়ের বিরোদ্ধে আপিলের সুযোগ রেখে ১৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) সংশোধন বিল, ২০১৩ জাতীয় সংসদে পাস হয়। ৩রা মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ তার সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করে এবং ৪ঠা মার্চ কাদের মোল্লার পক্ষ থেকে রায়ের বিরোদ্ধে তাকে খালাস দেওয়ার জন্য আপিল করা হয়। ১লা এপ্রিল আপিলের শুনানি শুরু হয় এবং শুনানি শেষে ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সালে সর্বোচ্চ আদালত মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমানিত হওয়ায় যাবজ্জীবন করাদন্ডের পরিবর্তে মৃত্যুদন্ডাদেশের নির্দেশ দেন।

অবশেষে প্রজন্মের বিজয়…..

আজ রাত ১২টা ১ মিনিটে কসাই কাদেরের ফাঁসি। জয় বাংলা।

তথ্যসুত্রঃ
১। http://www.somewhereinblog.net/blog/nayeemewudhkblog/29876788
২। http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B2_%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE
৩। http://www.poriborton.com/article_details.php?article_id=40686

১২ thoughts on “অবশেষে প্রজন্মের বিজয়…..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *