ডুবছে আদি স্বৈরাচার বাড়ছে আশা

১৯৭১-এ সুদীর্ঘ ২০ বছরের প্রস্তুতি শেষে বাংলার জনগন তাদের স্বাধীনতার অনিবার্যতা বুঝতে পেরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে। এরপর ১৬ ডিসেম্বর গৌরবময় কিন্তু রক্তক্ষয়ী ৮ মাস ২০ দিনের যুদ্ধ শেষে বাংলার সেরা অর্জন স্বাধীনতার সূর্যটি ছিনিয়ে আনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে। এই প্রক্রিয়ায় আর সকল মুক্তি সংগ্রামের মতই দেশের একদল স্বার্থান্বেষী মহল পাকিস্তানী হানাদারদের সহায়তা করে। তারপর?


১৯৭১-এ সুদীর্ঘ ২০ বছরের প্রস্তুতি শেষে বাংলার জনগন তাদের স্বাধীনতার অনিবার্যতা বুঝতে পেরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে। এরপর ১৬ ডিসেম্বর গৌরবময় কিন্তু রক্তক্ষয়ী ৮ মাস ২০ দিনের যুদ্ধ শেষে বাংলার সেরা অর্জন স্বাধীনতার সূর্যটি ছিনিয়ে আনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে। এই প্রক্রিয়ায় আর সকল মুক্তি সংগ্রামের মতই দেশের একদল স্বার্থান্বেষী মহল পাকিস্তানী হানাদারদের সহায়তা করে। তারপর?

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৫ সালের নৃশংস এবং ট্র্যাজিক পরিণতি রাজনীতি সচেতন সবারই জানা। অবশেষে জেনারেল জিয়া এবং তার নির্লজ্জ রাজাকারি ভূমিকায় জামাত ইসলামকে স্বার্থান্বেষী পৃষ্ঠপোষকতা করে। ১৯৭৮ সালে সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ ছিলঃ
“জনশৃংখলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সঙ্ঘ গঠন করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে; তবে শর্ত থাকে যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসম্পন্ন বা লক্ষ্যানুসারী কোন সাম্প্রদায়িক সমিতি বা সঙ্ঘ কিংবা অনুরূপ উদ্দেশ্যসম্পন্ন বা লক্ষ্যানুসারী ধর্মীয় নামযুক্ত বা ধর্মভিত্তিক অন্য কোন সমিতি বা সঙ্ঘ গঠন করিবার বা তাহার সদস্য হইবার বা অন্য কোন প্রকারে তাহার তত্পরতায় অংশগ্রহণ করিবার অধিকার কোন ব্যক্তির থাকিবে না।”

যার শর্তাংশটি বিলুপ্ত হয় Second Proclamation Order No. IV of 1978 এ এবং এরপর থেকে ৩৮ অনুচ্ছেদটি দাঁড়ায়ঃ ” জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে”।

এরপর গোলাম আজমকে দেশে থেকে শুরু করে তার ছেলেকে আর্মিতে নেয়া, রাজাকারি আদর্শের পুনরুত্থান সবারই জানা। আজ বিএনপি-কে গ্রাস করেছে সেই জামাত ইসলাম। আদর্শিক মিল এবং জনপ্রিয়তা বা ধর্মীয় উন্মাদনা এইসবের জন্যে বিএনপি জামাত-হেফাজতকে ছাড়তেও পারছে না আবার আপামর বাঙালী এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সুবিধা নেয়ার জন্যে রাখতেও পারছে না। এমন পরস্পরবিরোধী সংকটের মাঝেই সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে এই আদিস্বৈরাচারী রাজনৈতিক শক্তির। বিএনপি’র রাজনীতির মূল শক্তিই হচ্ছে ধর্মীয় উন্মাদনার অনৈতিক ব্যাবহার। এখন একটু বিশ্লেষণ করে দেখি কি হতে যাচ্ছে রাজনীতিতে-

জাতিসংঘের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর সাথে বৈঠকে বসেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আজ দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর গুলশানস্থ বা বারিধারার কোন বাসায় এই গোপন আলোচনার সূত্রপাত হয়। এখন দেখা যাক এই পরিস্থিতিতে কি কি হওয়ার সুযোগ আছে বিএনপি নামক ২য় জনপ্রিয় এই দলটির?

ক) যদি গতকালের খবরের ফলাফল স্বরূপ বিএনপি জামাতকে ছেড়ে দিয়ে এবং নায়েবে চোর তারেক-কে নিষ্কৃতি দেয়ার শর্তে হাসিনার অধীনেই নির্বাচনে আসে তবে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। কেননা এতদিনের এত রক্তপাত আর সহিংসতার পর যখন তারা হাসিনার অধীনে নির্বাচনে আসবে তাই তাদের নৈতিক পরাজয় হবে নির্বাচনের আগেই যা উৎরিয়ে জয়ের আশা শুন্যের কোঠায়। বাংলার রাজনীতিতে নির্বাচনের আগের খেলায় যে হারবে তার নির্বাচনের জয়ের কোন সুযোগ নাই।

খ) আর যদি বিএনপি’র লিডে থাকা ১৮ দলীয় জোট নির্বাচনে না যায় তবে কি হবে? ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পেছাবে ৭-১০ দিন বা আরও দু-চারদিন। এরশাদ নির্বাচনে আসবে ঠিকই এবং বিরোধীদল হয়ে যাবে। তারপর? ১৪ দল আর আওয়ামীলীগ আবার সরকার ঘটন করবে। রাজাকারদের বিচারকাজ চলতেই থাকবে।। নিয়মিত বিরতিতে রাজাকারদের ফাঁসি হতেই থাকবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হলেই যৌথবাহিনীর অপারেশন চলবে।

৭৮, ৮৬ বা ৮৮ স্বৈরাচারেরা যেখানে ২ -৩ বছর করে একতরফা নির্বাচনে দেশ শাসন করেছে সেখানে বর্তমান সরকার ৩/৪ বছর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা খুবই স্বাভাবিক। তাছাড়া ভারত, ইইউ, রাশিয়াসহ সকল মিত্র রাষ্ট্রও সাপোর্ট দিবে। আর গত ৭ বছরের সাথে আগামী ৩/৪ বছর অর্থাৎ মোট ১০/১১ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে বিএনপি বিলুপ্তির দিকে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে। যা দেখা গেল দুই অপশনেই বিএনপি’র বিলুপ্তি অনিবার্য। আরেকটি কথা শুনতে খারাপ লাগলেও সবার ভাল লাগার কথা। বিএনপি’র মত অগণতান্ত্রিক একটি রাজনৈতিকদল মহাসংকটে পড়বে যখন তাদের শীর্ষ নেতা প্রাকৃতিক নিয়মেই চলে যাবেন এবং এই ঘটনাটিও আগামী ২/৪ বছরের মধ্যে ঘটা অস্বাভাবিক নয়।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলায় যে ষড়যন্ত্র করে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বিনাশ করার চেষ্টা করা হয়েছিল অন্যায়ভাবে তা আজ ন্যায়সঙ্গত রাজনৈতিক খেলায় সুদেআসলে সুদ করবে স্বাধীনতাকামি বাঙালীরা। এখন মুক্তিকামী আপামর বাংলার মঙ্গাকবলিত এবং অভাগারা আওয়ামীলীগের বিপরীতে আরেকটা ভাল রাজনৈতিক জোট পেলেই ভাল হত। অবশ্যই আশা করব না এরশাদের জাতীয় পার্টি একটি বিরোধীদল হবে আজীবন।

প্রশাসনিক উচ্চ পর্যায়ে কোন সরকারী কর্মকর্তাকে প্রচলিত নিয়মে ডাম্প করার পদ্ধতি হচ্ছে ওএসডি করা। এটা ‘ক্ষমতাহীন দায়িত্ব বা দায়িত্বহীন ক্ষমতা’র মত কোন ফাঁদ না তবে এইটা হচ্ছে কাউকে পুতুল বানিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বাহুল্যে রূপান্তর করা। সাধারণত কোন সরকারী কর্মকর্তার রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া গেলে তাকে রাজনৈতিক বিরোধীরা ক্ষমতায় আসলে এইভাবেই পুতুলজাত করে। এটি বিশ্বের অনেক দেশেই প্রচলিত রাজনৈতিক একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বর্তমান রাজনৈতিক পটভূমিতে এই প্রক্রিয়ার রাজনৈতিক ব্যবহারটি কীভাবে আজ বিএনপি এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতকে ঠিক একইভাবেই আবর্জনাজাত করতে যাচ্ছে মুক্তিকামী জনতা। বিএনপি ওএসডি হচ্ছে বাংলার রাজনীতি থেকে।

রাজাকার স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু

৬ thoughts on “ডুবছে আদি স্বৈরাচার বাড়ছে আশা

  1. ৭৮, ৮৬ বা ৮৮ স্বৈরাচারেরা

    ৭৮, ৮৬ বা ৮৮ স্বৈরাচারেরা যেখানে ২ -৩ বছর করে একতরফা নির্বাচনে দেশ শাসন করেছে সেখানে বর্তমান সরকার ৩/৪ বছর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা খুবই স্বাভাবিক। তাছাড়া ভারত, ইইউ, রাশিয়াসহ সকল মিত্র রাষ্ট্রও সাপোর্ট দিবে

    ভাই আপনার এই কথাটা বুঝলাম না, ৩/৪ বছর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা কি স্বাভাবিক? বর্তমান পরিস্থিতিতে কি তা বুঝা যায়?

  2. হাউ টু ডাম্প?
    এমন শিরোনামই

    হাউ টু ডাম্প?
    এমন শিরোনামই যথার্থ হত বোধহয়!! যাহোক আপনার লিখার সমালোচনায় যাব না অনেক দুর্বল বিন্যাস এবং ধারাবাহিকতাময় একখান পোস্ট মনে হল…
    তবে বিএনপি-জামাতকে সত্যিই যদি এইভাবে ডাম্প করতে সরকার এবং মহাজোট সফল হয় তবে বাঙালীর ভবিষ্যৎ অতি-উজ্জ্বল কোন সন্দেহ নাই!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *