চিঠি -১

প্রিয় ……

খামটা হাতে নিয়ে নিশ্চই ভাবছো এই যুগে কে আবার খামে ভরে চিঠি লিখতে গেলো তোমায়। ডাক পিয়ন এখন বাসায় আসে কেবল কিছু বিল আর খুব বেশি হলে কোন দাপ্তরিক চিঠি নিয়ে। সেরকম কিছু ভেবেছিলে নিশ্চই। পরে যখন দেখলে খামটা সেরকম নয়, ঝকঝকে হাতের লেখায় তোমার ছোট্ট নামটা লেখা, কেমন লাগলো তখন? খুব যত্ন করে খুলেছো চিঠিটা? নাকি একবার আলোয় ধরে একটানে ছিড়ে ফেলেছো খামবন্ধনী। নাকি খোলার আগে এটা সেটা ভাবতে গিয়ে হারিয়ে ফেলেছো অনেক খানি সময়।


প্রিয় ……

খামটা হাতে নিয়ে নিশ্চই ভাবছো এই যুগে কে আবার খামে ভরে চিঠি লিখতে গেলো তোমায়। ডাক পিয়ন এখন বাসায় আসে কেবল কিছু বিল আর খুব বেশি হলে কোন দাপ্তরিক চিঠি নিয়ে। সেরকম কিছু ভেবেছিলে নিশ্চই। পরে যখন দেখলে খামটা সেরকম নয়, ঝকঝকে হাতের লেখায় তোমার ছোট্ট নামটা লেখা, কেমন লাগলো তখন? খুব যত্ন করে খুলেছো চিঠিটা? নাকি একবার আলোয় ধরে একটানে ছিড়ে ফেলেছো খামবন্ধনী। নাকি খোলার আগে এটা সেটা ভাবতে গিয়ে হারিয়ে ফেলেছো অনেক খানি সময়।

খাম থেকে যখন চিঠি টা বের করে এনেছো, আমি জানি তুমি পরিচিত কিছু পাওনি। কারন আজ থেকে ৯ বছর আগে যে চিঠি তুমি পেতে সেগুলো একটা চেনা কাগজে লেখা হতো, কালিটাও ছিলো একদম চেনা, গাড় নীল রঙের কাগজে চকচকে রূপালী কালীতে আর কেউ তোমাকে লেখার কথা না। কিন্তু আজকের লেখাটা সেরকম নয়, একদম সাদামাটা, সাদা কাগজে কালো কালি। তবু কি চমকেছো তুমি?

একদম প্রথম যেদিন তোমাকে চিঠি দিয়েছিলাম সেদিন যেমন চমকেছিলে আজ আর তোমাকে চমকাতে ইচ্ছা করলোনা। আজ এতোটা দিন পরে কেমন লাগছে যখন তোমার চির চেনা হাতের লেখাটা তোমার চোখের সামনে? এতদূর পড়ে খুব অধৈর্য হয়ে গেলে বুঝি? বুকের গহীনে ঢিপঢিপ কমলে একটু মনে করো আমাদের সেই দিন গুলোর কথা। দিনে দিনে বেড়েছিলো আমাদের চিঠির ঋণ। একজনের দেনা শুধতে গিয়ে আরেকজনের আর তর সইতোনা। পিয়নকে কখনও বাসায় ঢুকতে দিতাম না আমরা কেউই। তার হাত থেকে কেড়ে নিতাম হলুদ খামটা বড় গেট টার গোড়াতেই।

আমাদের ভিতরে কোন প্রতিশ্রুতি ছিলোনা, ছিলোনা কোন স্বপ্ন। তবু আমরা চিঠি লিখে যেতাম দিনের পর দিন। তারপর কি হলো বলতো। প্রতি মাসে আস্তে আস্তে কমতে লাগলো ডাকপিয়নের আসা যাওয়া। অজানা কারন গুলো কেন অজানাই রয়ে যায়। দেশের সীমনার ভিতরে থেকেও কি যোজন যোজন দূরে চলে গেলাম আমরা। পাল্টে যেতে লাগলো আমাদের চারপাশ। কেউ তো দোষ করিনি কোন। বিনা নোটিশে শুণ্যের কোঠায় ঠেকলো চিঠির সংখ্যা।

এখন আর ডাকপিয়নের দরকার হয়না জানো? যদি চিঠিটা সত্যি তোমার হাতে পড়ে, আমাকে আর হারাবে না তুমি। এখন আমার মনের কথা লেখার কতো জায়গা। কতো জন পড়ছে আমার মনের কথা। তুমিও লেখা শুরু করে দাও। দুজনা ছড়িয়ে যাই চলো সবার মাঝে। সত্যি বলছি, কিছু হারাবেনা তুমি। অনেক দিন তো আস্হা রেখেছো আমার উপর, আরেকবার নাহয় রেখেই দেখো।

তোমারই………।

[একসময় খোলা পোস্ট কার্ডে চিঠি পাঠানো হতো, দু পাশে ছোট ছোট করে লিখে ভরে ফেলা হতো হলুদ ছোট্ট একটা কার্ড। জানিনা আজ আর কেউ এমন করে খুলে মনের কথা লেখেন কিনা। খোলা চিঠি একসময় খামের ভিতর বন্দী হলো, এরপর মোবাইলের এসএমএস অথবা ইমেইলে আদান প্রদান হতে থাকলো মনের কথা।
আজ খুব ইচ্ছা করছে একটা খোলা চিঠি লিখি, কাকে লিখবো জানিনা, কেন লিখবো তাও জানিনা।]

২৫ thoughts on “চিঠি -১

          1. ভাই পেরেম করিনাই মাগার সবার
            ভাই পেরেম করিনাই মাগার সবার থেকে শুনছি এই জিনিসটাতে নাকি হাঁসি কান্না ২ টায় আছে তাই একবার হাঁসি আবার কাঁদি……… :ভেংচি:

    1. জীবনে অনেক চিঠি লিখছি
      জীবনে অনেক চিঠি লিখছি শুধুমাত্র পরীক্ষার খাতায় সত্যিকার অর্থে তেমন কাউকে লিখা হয়ে উঠেনি মাগার বিহুত পাইছি ……… 😀 :ভালুবাশি:

  1. এতদূর পড়ে খুব অধৈর্য হয়ে গেলে

    এতদূর পড়ে খুব অধৈর্য হয়ে গেলে বুঝি? বুকের গহীনে ঢিপঢিপ কমলে একটু মনে করো আমাদের সেই দিন গুলোর কথা। দিনে দিনে বেড়েছিলো আমাদের চিঠির ঋণ।

    ভালো চালিয়ে যান :থাম্বসআপ::

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *