এক বীর যোদ্ধার গাঁথা

১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর । সেদিন দুপুর ১২ টার দিকে যশোর – ফরিদপুর সড়কে এক পাকিস্তানী ক্যাপ্টেন করিমপুর এলাকায় জীপ নিয়ে ঢুকে পড়েন । মুক্তিযুদ্ধ কমান্ডার সালাউদ্দিন ওই ক্যাপ্টেনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন । গর্জে ওঠে তার হাতের এল এম জি । রক্তে ভেসে যায় পাকিস্তানী ক্যাপ্টেনের জীপ !


১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর । সেদিন দুপুর ১২ টার দিকে যশোর – ফরিদপুর সড়কে এক পাকিস্তানী ক্যাপ্টেন করিমপুর এলাকায় জীপ নিয়ে ঢুকে পড়েন । মুক্তিযুদ্ধ কমান্ডার সালাউদ্দিন ওই ক্যাপ্টেনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন । গর্জে ওঠে তার হাতের এল এম জি । রক্তে ভেসে যায় পাকিস্তানী ক্যাপ্টেনের জীপ !

এর আধা ঘন্টা পর যশো্র থেকে আসা সাঁজোয়া বহর তিন দিক থেকে সালাউদ্দিন বাহিনী্র ৩৬ জন মুক্তি যোদ্ধাকে ঘিরে ফেলে । শুরু হয় তুমুল সম্মুখ যুদ্ধ । শহীদ হন সালাআউদ্দিন বাহিনীর ৬ যোদ্ধা – নওফেল , ওহাব , মুজিবর , দেলোয়ার , আদেল সোহরাব । বাকি সহ যোদ্ধাদের বাঁচাতে নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও সাহসী সালাউদ্দিন এল এম জি হাতে পাকিস্তানী সেনা বহরের সামনে দাঁড়িয়ে ব্রাশ ফায়ার করতে থাকেন । তাঁর ব্রাশ ফায়ারে অসংখ্য পাক সেনা রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন । এর ফলে পাক সেনারা দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করে । একটু পরেই সংগঠিত হয়ে ফের হালা চালায় সালাউদ্দিন বাহিনীর ওপর ।

ততক্ষনে সালাউদ্দিনের গুলির মজুদ প্রায় শেষ । পরিস্থিতি বুঝে কৌশল পাল্টালেন তিনি । তাঁর নির্দেশে জীবন বাঁচিয়ে নিরাপদ দুরত্বে সরে গেল সহযোদ্ধারা । জীবন বাজী রেখে বুক চিতিয়ে এল এম জির ট্রিগার চাপতে থাকেন সালাউদ্দিন ।

হানাদার দের বহরে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে । তবে সংখ্যায় বেশি হওয়ায় এক পর্যায়ে সালাউদ্দিন কে ঘিরে ফেলে পাক সেনারা । চুটে আসতে থাকে অসংখ্য গুলি । হঠাৎ একটি বুলেট এসে উড়িয়ে নিয়ে যায় সালাউদ্দিনের এল এম জির ম্যাগাজিন । আর একটি বুলেট এসে বিদ্ধ হয় পিঠে ।

এবার আর পারলেন না সালাউদ্দিন । সহযোদ্ধারা ততটা নিরাপদ ুরত্বে সরতে পেরেছে তা দেখার চেষ্টা করলেন ঝাপসা চোখে । যে পথে সহযোদ্ধারা গেছে তা এড়িয়ে অন্য পথে চলতে শুরু করলেন বুলেট বিদ্ধ শরীর টেনে । সাতশ গজ দূরে এসে মনে হল আর পারবেন না । অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বুক জুড়ে পিপাসা !

অনেক কষ্টে এক বাড়ির পাটাতনের নিচে আশ্রয় নেন তিনি । হানাদার রা এসে ঘিরে ফেলল বাড়ি । সবাইকে গুলি করে হত্যা ত করলই বাড়ির ভেতরে আহত সালাউদ্দিন কে রেখে আগুন ধরিয়ে দিল চারিদিকে । জীবন্ত দগ্ধ হয়ে শহীদ হন ২২ বছর বয়সী সালাউদ্দিন ।

১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের পরের দিন ১৭ ডিসেম্বর ফরিদপুর হানাদার মুক্ত হলে সেই বাড়িতে সালাউদ্দিনের কঙ্কাল শনাক্ত করা হয় আর সেদন ই তাঁকে আলিপুর কবর স্থানে সমাহিত করা হয় ।

প্রনতি জানাই এই মহান বীর কে ।

২৬ thoughts on “এক বীর যোদ্ধার গাঁথা

  1. বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার
    বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সালাউদ্দিনের প্রতি রইল সশ্রদ্ধ :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

    আর আপু, তোমাকেও :ফুল: :ফুল: :গোলাপ:

  2. সূর্য সন্তান কমান্ডার
    সূর্য সন্তান কমান্ডার সালাউদ্দিন কে হাজার হাজার :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: আর এরকম একটি লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ফুল: :ফুল:

  3. যুদ্ধ দেখিনি তবু শুনেছি

    যুদ্ধ দেখিনি তবু শুনেছি মুখে,
    বিপ্লব শিখিনি তবু যে রক্ত জলে,
    অনাচার, অবিচার আর কতো করবি কর,
    নিশ্চুপ, নীরবতা দেখে ভেবো না নির্বোধ।
    কাল বিপ্লব হবে, জনতার বিচার হবে,
    মিথ্যে জিহাদি হবে কালেরই কালিমা,
    অবাক পৃথিবী রবে তাকিয়ে তোদের দিকে,
    ঘৃণায় ফেরাবে মুখ, বলবে হানাদার।

    স্যালুট বীর সন্তানকে :salute:

  4. কার জন্য লিখছেন?কাদের জন্য
    কার জন্য লিখছেন?কাদের জন্য লিখছেন সালাউদ্দিনদের মত মুক্তিযোদ্ধাদের কথা?যারা নিজের প্রান দিয়েগেছে,স্বাধীন করেছে দেশ নিজেদের প্রান দিয়ে সেই সালাউদ্দিনরাকি জানতো একদিন ভুলে যাবে,ভুলে যাবে অকৃতজ্ঞ বাঙ্গালী তাদের আত্তত্যাজ্ঞের কথা?আপনিকি দেখেননা কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি এখন বাংলাদেশের ভাগ্য নিয়ন্ত্রনের দায়িত্ব হাতে নিয়েছে।আর কুলাঙ্গার বাঙ্গালী আওয়ামী হঠাওয়ের নামে সেই রাজাকার আলবদরদেরই পাশে দাঁড়িয়েছে? ওরা একাত্তরে সালাউদ্দিনদের আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে,এখনো মারছে।মরছি,পুড়ছি তবু কুত্তার বাচ্চা পাকি জারজদেরই ত্রানকর্তা মেনে নিয়েছি।৪৩ বছরের পুরোনো ঘটনায় এখন আর বাঙ্গালীর হৃদয় কাঁপেনা।তাদের বিবেক ভোঁতা হয়েগেছে।আসুক পাকি জারজরা ক্ষমতায়,তবু বন্ধ হোক প্রতিদিনের লাশের সারি।নিজামী,সাঈদীরা সদম্ভে মুক্তি পাক,শাসন করুক দেশ।আওয়ামী হঠিয়ে দেশ হয়ে উঠুক শান্তিময়। এমন নির্লজ্জ জাতিকে সালাউদ্দিনদের গল্প শোনানো সালাউদ্দিনদের অপমান করার সামিল।আমি আপনার এই লেখার তীব্র প্রতিবাদ করে গেলাম।

      1. মাথা ঠুকে লাভকি?রাজাকারের
        মাথা ঠুকে লাভকি?রাজাকারের দালাল বেরিস্টার রাজ্জাকের প্রেসব্রিফিং মনে হয় দেখেননাই।দেখলে শুনতে পারতেন কতটা দম্ভ নিয়ে শুয়োরের বাচ্চায় বলেছে,জামাতবিহীন নির্বাচন কখনওই এদেশের মাটিতে হবেনা।হলেও দেশের জনগণ তা মেনে নেবেনা।

  5. এই অকুত ভয় বীর মুক্তিযোদ্ধার
    এই অকুত ভয় বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি রইল সশস্ত্র শ্রদ্ধা……. :স্যালুট: :স্যালুট:

    আপুনি অসংখ্য ধন্যবাদ………

  6. দেখেছি ভাই, যতবার দেখেছি
    দেখেছি ভাই, যতবার দেখেছি ততবার একটা মাথার মধ্যে আগুন ধরে গেছে ভাই… সবচেয়ে অবাক লাগে, কিভাবে ভদ্রলোকের বেশ ধরে একটা আস্ত শুয়োরছানা মানুষের গলায় আরও কিছু শুয়োরছানার পক্ষে দম্ভ ভরে কথে বলে যাচ্ছে আর আমরা কিছুই করতে পারছি না… :ক্ষেপছি: মনে চায় এক বালতি পুরীষ শুয়োরটার মুখে ছুড়ে দেই… ফাকিস্তানি জারজের পক্ষে ওকালতি করার জন্য একেও বিচারের আওতায় আনা উচিৎ… :ভাবতেছি: আনতে হবে… :অপেক্ষায়আছি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *