ভাষা ও সংস্কৃতিকে করতে হবে স্বাধীন

ইংরেজি গান বেশি শুনি, হলিউড মুভির বিশাল ভক্ত এসবের জন্য আশেপাশের অনেকের কাছ থেকে নানা রকম কথা শুনতে হয়। আমি দেশপ্রেমিক না, বাংলা ভাষার প্রতি সম্মান নেই আমার, নিজের সংস্কৃতি রেখে অন্য সংস্কৃতি অনুকরণ করি ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি বলতে চাই, আমি বাঙালি হয়ে গর্বিত। ভাষা শহীদদের প্রতি সবার যে শ্রদ্ধা ও সম্মান আমার মাঝে তার বিন্দুমাত্র কম নেই। কিন্তু আমি সংস্কৃতিকে একমুখী, প্রথাগত করার বিরোধী। হাজার বছর ধরে সংস্কৃতি বিবর্তিত হতে হতে আজকের জায়গায় এসে পৌছেছে। আদি হতে এই রূপ এক রকম ছিল না। প্রয়োজনের তাগিদে এবং সহজাত প্রবৃত্তির বশে মানুষ যুগে যুগে অন্য সংস্কৃতির অনুকরণ করে আসছে। সেটা নিজেকে সমৃদ্ধ করার উদ্দেশ্যেই।

সময়ের পালা বদলে পরিবর্তিত হয় মানুষের রুচি। তার জন্যই সংস্কৃতি লাভ করে অভিনব রূপ। আমরা যদি লাগাম টেনে ধরে এই গতি রোধ করতে চাই ক্ষতিটা হবে নিজেদেরই। আমি যদি আধুনিক ইংরেজি রক গানে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি তবে জোর করে তাকে এড়িয়ে যাওয়ার কিছু নেই। আজ থেকে একশ বছর পরে এই রুচিও বদলে যাবে, একই যায়গায় থাকবে না। বিশ্ব নাগরিক হিসেবে অন্য সংস্কৃতির চর্চা মন্দ কিছু নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে আবশ্যক। ভাষার ব্যাপারেও একই কথা প্রযোজ্য। কারণ সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান উপাদান ভাষা। ভাষার ব্যাপারটি স্বাধীন করে দেওয়া দরকার। কথা বলার সময় ইংরেজি শব্দের প্রয়োগে অনেকেই ঘোর আপত্তি জানান। কিন্তু এই চর্চার কারনেই ইংরেজি ভাষার অনেক শব্দ বাংলা ভাষার শব্দভান্ডারে স্থান লাভ করেছে। দেশীয় সংস্কৃতির যে উপাদান আবেদন হারিয়ে ফেলে শত চেষ্টায়ও তা আর মানুষ গ্রহণ করে না। তখন মানুষ নিজের তাগিদেই ধাবিত হয় অন্য সংস্কৃতির দিকে। ভাষার গতি হল বিবর্তনে। তাই নতুনকে গ্রহণ করতে পারাই উত্তম। নতুবা ভাষার রাজ্যেও প্রতিক্রিয়াশীলতা বিস্তার লাভ করে। সংকীর্ণতা গ্রাস করে ভাষাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *