মরুময় বাঙলা, লাশের গন্ধ বাতাসে।

“রেলে নাশকতা, নিহত চার”, “বাড্ডায় চলন্ত বাসে আগুন”। না, আজকের কোন পত্রপত্রিকার খবর লিখছি না আমি। খবর যদি লিখতাম, তবে এত কষ্ট করতে হত না। কারণ, প্রতিদিনই এক খবর প্রকাশিত হচ্ছে আজকাল। ব্যাপারটা যত সহজে বলতে পারলাম, ব্যাপারটা তত সহজ নয়। হাস্যরস করার জন্য কথাটা বলিনি আমি। আমরা আসলে এখন কোথায় আছি তা বুঝাতে বলেছি।

কিছু অম্রিত বাণীঃ

“রেলে নাশকতা, নিহত চার”, “বাড্ডায় চলন্ত বাসে আগুন”। না, আজকের কোন পত্রপত্রিকার খবর লিখছি না আমি। খবর যদি লিখতাম, তবে এত কষ্ট করতে হত না। কারণ, প্রতিদিনই এক খবর প্রকাশিত হচ্ছে আজকাল। ব্যাপারটা যত সহজে বলতে পারলাম, ব্যাপারটা তত সহজ নয়। হাস্যরস করার জন্য কথাটা বলিনি আমি। আমরা আসলে এখন কোথায় আছি তা বুঝাতে বলেছি।

কিছু অম্রিত বাণীঃ
“স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন।” “অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা যেন তারে তৃণ সম দাহে।” এই বাণীগুলো আমারা সবাই ক্লাস নাইন টেনে পড়ে এসেছি। তখন পড়ে এসেছি শুধু পাশ করার জন্য, ভালো নাম্বার এর জন্য। কিন্তু আমরা কি আসলেই এই বাণীগুলোর মর্মার্থ বুজতে পেরেছিলাম বা এখন ও কি পারি? ব্রিটিশ কলোনি থেকে আমরা বের হয়ে এসেছি প্রায় ৬০ বছর আগে। তখন বলা হত আমরা নাকি স্বাধীন উপমহাদেশ। এরপর ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৭১। বাঙলা হল স্বাধীন। তবে এখন কেন মনে প্রশ্ন জাগে, আমরা কি আসলেই স্বাধীন?

বর্তমান পরিস্তিতিঃ
স্বাধীনতার প্রায় ৪২ বছর হয়ে গেল। আর মাত্র আট দিন পর বিজয় দিবস। বিজয় দিবস এ প্রতিটি দেশের মানুষের আনন্দের শেষ থাকে না। আমাদের দেশেও তার ব্যাতিক্রম হয় না। কিন্তু এবার মনে হয় অন্য রকম ভাবে এই বিশেষ দিনটি উজ্জাপিত হবে। আজকাল তো রক্তের হলি না দেখলে আমাদের ভাল লাগে না। আপনি হয়ত বলবেন, আমি তা চাই না। তবে আপনি বাতিক্রম। আবার নাও হতে পারেন। যদি একটু আগে লেখা অম্রিত বাণী এর দ্বিতীয় উক্তির সাথে আপনি পরে থাকেন। তবে কিছু কিছু মানুষের কিন্তু রক্তের হলি না দেখলে ভাল লাগে না, তারা কারা আমরা সবাই জানি। কিন্তু কিছু বলি না। কারণ বলার সাহসটা তো আমাদের নেই। আমরা পারি বসে বসে আলোচনা করতে। যাক বাদ দেই এসব কথা।
আমাদের দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক দল বলতে গেলে আমরা দুটি প্রধান দল ছাড়া আর কিছু দেখি না। মজার ব্যাপার হল তারা একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ(আমার মতে)। একটা কথা সেই ছোট্ট বেলা থেকে শুনে আসছি, বাঙালির নাকি মাইর না খেলে মজা লাগে না। যারা আমাকে একথা বলতেন, আমি জানি তারাও বাঙালি। তবে কেন জানি একটা সন্ধেহ হত। কিন্তু এখন কথাটা মাঝে মাঝে খুব বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে। কারণ প্রধান দুই দল তো আমাদের মাইর, সরি শোষণ করেই থাকেন। তাই আমরা তাদের বারবার ভোট দিয়া এই সুযোগ করে দেই।

গর্ব বনান ধর্মঃ
অবাক হবেন না, গর্ব বনাম ধর্ম লেখাটা পরেই নাস্তিক বলে বসবেন না। আমি আজ মূলত রাজনীতি (দুই দল) নিয়ে কিছু বলতে চাই। প্রথমে আসি গর্বের কথায়। আমাদের দেশে এক দল লোক আছেন যারা নিজেদের স্বাধীনতা সপক্ষের দল বলে দাবি করেন। হাঁ ভাই ঠিক বলছেন, স্বাধীনতার সময় আপনার দল অনেক কিছু করেছেন। কিন্তু আপনি এখন কি করতেছেন? যা করতেছেন ঠিক করতেছেন তো? এক পদ্মা সেতু নিয়া কত রঙ দেখাইলেন, টিকফা চুক্তি করে দেশ তো বেঁচে দেবার রাস্তা শুরু করছেন। ও, আবার রামপাল এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানায়া সুন্দরবনটাও নষ্ট করতে চান। অর্থনৈতিক ক্ষতি নাহয় বাদই দিলাম। দেশ স্বাধীন করছিলেন কী দেশ বেঁচে দেবার জন্য? অবশ্য এসব কথা বললে বলবেন, “তুই তো শিবির”। আপনারা না ক্ষমতাশীল দল। দেশের শাসনভার না আপনাদের কাছে। কই সাধারন মানুষের জানের নিরাপত্তা কই দিলেন আপনারা। যদি না পারেন তবে বাদ দেন।
এবার আসি ধর্মভিত্তিক দল এর কথায়। আপনারা বলেন আপনেরা নাকি ইসলাম রক্ষা করে থাকেন। ইসলাম শান্তির ধর্ম। সব ধর্মই শান্তির কথা বলে। আমি নিজে একজন মুসলমান। ইসলাম সম্পর্কে হয়তবা তেমন ভাল জানি না। তবে যা জানি তা থেকেই বলি। মহানবী (সাঃ) বিদায় হজের দিন বলে গেছে, “আজ ইসলাম কে পরিপূর্ণ করা হল। তোমাদের কেউ ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না।” আমার জানা মতে ইসলাম কাউকে বিনা কারনে মারতে বলে নাই(নাউজুবিল্লাহ)। আর আপনারা কি করতেছেন? ধর্মকে তো ব্যাবসার পণ্য বানাইয়া ফেলছেন। পাবলিক খাবে তাই নিজেদের বলেন ধর্ম রক্ষাকারী দল। অত যদি দেশের(জনগনের) ভাল চান, তবে তাদের মারেন কেন? কেন অবরোধের নামে দেশের মানুষ এর মুখের গ্রাস কেড়ে নিচ্ছেন? আমি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ বর্তমানে অধ্যায়নরত, আমাদের পরাশুনা কেন করতে দিচ্ছেন না? দোষ শুধু আপনাদের না, সবার। আমাদের সবার। আপনারা সবাই, থুক্কু আমারা সবাই একজনকে বিশ্ববেহায়া বলে থাকি। আপনারাও কি তার মধ্যে পরেন না?

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?
ছোটবেলায় পড়েছিলাম “ আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।” না আমদের দেশে ছেলে হয়ে জন্মায় না, আমন কম ছেলেই আসে। তবে কবি যেই ছেলের (মানুষের) কথা বলেছেন, তার মত ছেলে(মানুষ) আজ আমাদের দেশে খুব কমই আছেন। নেই যে আমি তা বলব না। তারা বর্তমানে এর প্রতিবাদ ও করছে। সমস্যা হল, যারা গর্ব নিয়ে চলেন তারা এক্ষেত্রে চুপ। আর যারা নিজেদের ধরমভিত্তিক দল বলেন তারা তাদের “নাস্তিক” বলেন। আমার মনে হয়, এই নাস্তিক হউয়া অনেক ভালো। এভাবে বললে, আমাকেও বলেন ভাই। প্রতিবাদ যে বর্তমান যুগের শিল্পীরা করেননি তা বলতে পারবেন না। ফুয়াদ ভাই তার “যন্ত্র শত গড়ছে কত” গানের মাঝে দুটি লাইন বলেছেন, “পোড়া মানুষের গন্ধ বাতাসে, লাশের স্তুপে জমা পরে কাঁদছে প্রতিবাদ”। আর সুমন ভাই এর “সব আলো নিভিয়ে দাও” গানে কিন্তু এই কথাই বলে গেছেন(অন্তত আমার কাছে মনে হয়েছে)। যাক ভুল হলে বড় ভাইরা ক্ষমা করে দিয়েন। দুটো লাইন এক সময় মনের অজান্তে লিখেছিলাম একটা খাতায়, “মুক্তি নাকি মিলছে মোদের
একাত্তুরের যুদ্ধে।/শান্তি কোথায়? ধ্বংস এখন সকলেরই জীবনে” এখন মনে হচ্ছে ভুল লেখি নাই।

সবশেষেঃ
কিছু কষ্টও মনে থেকে যায়। স্বাধীনতার সময় আমার জন্ম হয়নি। তবে শুনেছি ১৫-১৬ বছর বয়সী কিশরেরা পাক কামানের সামনে নাকি বুকে মাইন বেধে লাফ দেয়েছে। তারা কি আজ এই দেশ দেখার জন্য লাফ দিয়েছিল? প্রশ্নটা শুধু আমাকে না নিজেকে করেন। আর অম্রিত বাণীগুলো একটু কষ্ট করে আমাদের সবার মনে রাখা উচিত বলে মনে করি। এতক্ষন জা লিখেছি তা আমার নিতান্ত একার মনের কথা, কেউ যদি কষ্ট পান তবে ক্ষমাপ্রার্থী।

২০ thoughts on “মরুময় বাঙলা, লাশের গন্ধ বাতাসে।

  1. ভাই একটু টাইপো
    ভাই একটু টাইপো হয়েছে………

    ব্রিটিশ কলোনি থেকে আমরা বের হয়ে এসেছি প্রায় ২৬০ বছর আগে

    …….সময়টা সম্ভবত ৬৬ বছর হবে।
    স্বাধীনতা অর্জনের থেকে,রক্ষা করা আসলেই অনেক কঠিন

    1. ধন্যবাদ খাজা বাবা। আসলে অই
      ধন্যবাদ খাজা বাবা। আসলে অই সময় স্বাধীন শেষ নবাব ছিলেন তো। তার কথা লিখতে চাইছিলাম

  2. “মুক্তি নাকি মিলছে মোদের
    “মুক্তি নাকি মিলছে মোদের একাত্তুরের যুদ্ধে।/শান্তি কোথায়? ধ্বংস এখন সকলেরই জীবনে” -ভাই খুব বাস্তব একটা কথা লিখছেন। :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  3. স্বাধীনতার সময় আমার জন্ম

    স্বাধীনতার সময় আমার জন্ম হয়নি। তবে শুনেছি ১৫-১৬ বছর বয়সী কিশরেরা পাক কামানের সামনে নাকি বুকে মাইন বেধে লাফ দিয়েছে।

    আমার বন্ধু রাশেদ চবিটা দেখলে বুঝা যায়।

    1. ভাই, ছবি বাস্তবতাকে নিয়েই
      ভাই, ছবি বাস্তবতাকে নিয়েই তৈরী করা হয়। আর এমন ঘটনা অনেক হয়েছে আমাদের এই দেশে।

    1. ধন্যবাদ একলা পথের পথিক। আপনি
      ধন্যবাদ একলা পথের পথিক। আপনি মনে হয় আমার নামটা ভাল করে দেখেননি। :খুশি: :খুশি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *