মা,মাটি,দেশ এবং আমরা

“মা” কি মধুর একটি সম্বোধন তাই না। আমার মনেহয় এই সম্বোধনটিই হল পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা,সবচেয়ে মধুর একটি সম্বোধন। মা হচ্ছে মানুষের সবচেয়ে কাছের, সবচেয়ে আপন; যার সাথে অন্য কারোর কোন তুলনাই হয় না। মায়ের গর্ভে, তাঁর দেহের বিন্দু বিন্দু রক্তই একসময় আমাদের অস্তিত্বের একমাত্র অবলম্বন থাকে। তারপর দীর্ঘ ৯-১০টা মাস মা আমাদের তার গর্ভে ধারন করে আর একটু একটু করে পৃথিবীতে আসার উপযোগী করে তোলে। আর মা-ই তো সর্বপ্রথম আমাদের প্রাণের স্পন্দন অনুভব করে। জন্মের পর চোখ মেলেই আমরা মাকে দেখি,মা-ই তো আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয় এই পৃথিবীর সঙ্গে। এরপর একসময় মায়ের সাথে ইশারা আর হাসি-কান্নার খেলা খেলতে খেলতে আমরা কথা বলতে শিখি, মাকে ডাকতে শিখি। মায়ের হাতে আঙুল ধরেই তো শুরু হয় আমাদের পথচলা। এরপর আমরা বড় হই, নিজেদের ভালো-মন্দ বুঝতে শিখি, পৃথিবীটাকে নিজেদের মনের মত করে জানতে শিখি। তারপরেও মায়ের কাছে আমরা ছোট্ট শিশুটিই রয়ে যাই। আমাদের জন্য মায়ের চিন্তার কোন শেষ থাকে না। সন্তান ৪০-৫০এর কোটায় পা দিলেও মায়ের কাছে সে বড় হয় না। একটু অসুখ-বিসুখ হলে মায়ের চিন্তার আর শেষ থাকে না।একজন মা আর সন্তানের মধ্যে যে কি গভীর টান থাকে সেটা আমি বলে বা লিখে বোঝাতে পারবো না। এটা মনেহয় শধু একজন মা আর সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন। যাহোক, এতোটুকু তো আমরা বলতে পারি যে মা হল আমাদের সবচেয়ে কাছের,সবচেয়ে আপন। তাহলে এবার মূলত যে বিষয়টি নিয়ে আমি লিখছি সেখানে আসি। তার আগে কয়েকটা প্রশ্ন- কেউ যদি আমাদের সামনে আমাদের মাকে কষ্ট দেয় তাহলে কি আমরা চুপ করে থাকি? কেউ যদি আমাদের মাকে আঘাত কতে করতে রক্তাক্ত করে ফেলে তাহলে কি আমরা কিছুই করব না?কেউ যদি আমাদের মায়ের গায়ে আগুন দেয়,সেটা কি আমরা বসে বসে দেখবো? কেউ যদি আমাদের মাকে কটূক্তি করে, মায়ের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে তাহলেও কি আমরা সেটা বসে বসে শুনবো? কোন খারাপ মানুষ যদি আমাদের মায়ের দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকায় তাহলেও কি আমরা কিছুই করবো না? আমি জানি আমাদের মায়ের সাথে যদি এমনটা হয় তাহলে আমরা অবশ্যই কিছু না কিছু করবো। অথচ অত্যন্ত দুঃখের হলেও সত্যি যে আমাদের মায়ের এর থেকে বেশি দুর্দশার সময়টাতেও আমরা চুপ করে বসে আছি।হয়তো আমাদের জন্মদাত্রী মায়ের সাথে এমন কিছু ঘটছে না। কিন্তু আমাদের দেশ মাতার সাথে তো ঘটছে। প্রতিদিনই তথাকথিত গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের দাবিতে একদল মানুষরূপী হায়না কষ্ট দিচ্ছে আমাদের দেশমাতাকে। শত আঘাতে রক্তাক্ত করে ফেলছে আমাদের দেশের মাটিকে।জ্বালাও- পোড়াও আর ধ্বংসের মাতম চালাচ্ছে এ দেশের বুকে। একদল স্বার্থপর মানুষ নিজেদের স্বার্থের খাতিরে আতাত করছে আমাদের দেশের অস্তিত্ব অস্বীকারকারী রাজাকারদের দোসরদের সাথে। তৃতীয় শক্তির লোলুপ দৃষ্টি পরছে আমাদের দেশমাতার উপর। তারপরেও কি আমরা চুপ করে থাকবো? মুখ বুজে সহ্য করবো? কিছুই করবো না? এই দেশের প্রতি কি আমাদের কোনই দায়িত্ব নেই? এই দেশটা কি আমাদের মা নয়? একজন মা তার সন্তানকে যেমনিভাবে গর্ভে করে, এই দেশটাও তো তেমনি তার বুকে আমাদের ধারন করছে।মা যেমনি তার সন্তানকে লালন-পালন করে,ঠিক তেমনিই তো এই দেশের মাটি, আলো বাতাসে আমরা লালিত হচ্ছি। এই দেশটাই তো আমাদের একটা জাতিগত পরিচয় দিয়েছে। পুরো দুনিয়ার সামনে আমাদের বলার সুযোগ করে দিয়েছে যে- আমরা বাঙালি,বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি। এর পরেও কি আমারা আমাদের সঠিক দায়িত্বগুলো এড়িয়ে যাবো? আমরা আমাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারি না। জানি মাতৃঋণ আমরা শোধ করতে পারবো না। কিন্তু মায়ের প্রতি দায়িত্বটা তো অন্তত আমরা পালন করতে পারি। আমাদের জেগে উঠতে হবে। আমাদের এই দেশমাতাকে রক্ষা করতে হবে।প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে হবে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে। আর চুপ করে থাকলে চলবে না। এখনই সময় জেগে উঠার।এখনই সময় সকল মানুষরূপী হায়নাদের চিহ্নিত করবার যারা গনত্রান্ত্রিক অধিকার আদায়ের নামে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে আমদের দেশের বুকে।এটাই উপযুক্ত সময় ওই মানুষরূপী হায়নাদের ছুরে ফেলবার। আমাদের সবাইকে এখনই প্রতিজ্ঞা নিতে হবে যে-কেউ যদি আমাদের দেশমাতার কোন ক্ষতি করে তাহলে আমরা তার উপযুক্ত জবাব দেবো।।। (শত হতাশার মাঝে সব শেষে একটা খুশির খবর দিচ্ছি- :তুইরাজাকার: কসাই কাদেরের মৃত্যু পরোয়ানা জারি হয়ে গেছে।যেকোনো দিন ওকে ফাঁসিতে ঝুলানো হবে।এটা এই বিজয়ের মাসেই হবে।আর এটাই হবে এই বিজয়ের মাসে বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার। কাদেরের ফাঁসির রায় কার্যকর করার মাধ্যমেই সূচনা হবে বাঙালির কলঙ্ক মোচনের অধ্যায়ের। আর প্রতিটি সত্যিকারের বাঙালি এখন সেই দিনটির প্রতীক্ষাতেই আছে :হাহাপগে: :থাম্বসআপ: :তালিয়া: :নৃত্য: :পার্টি: )

৩১ thoughts on “মা,মাটি,দেশ এবং আমরা

  1. জানি মাতৃঋণ আমরা শোধ করতে

    জানি মাতৃঋণ আমরা শোধ করতে পারবো না। কিন্তু মায়ের প্রতি দায়িত্বটা তো অন্তত আমরা পালন করতে পারি। আমাদের জেগে উঠতে হবে।

    আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে।

    1. হ্যাঁ, এটাই হল আসল কথা;যেটা
      হ্যাঁ, এটাই হল আসল কথা;যেটা আমাদের সব্বাইকে বুঝতে হবে।লেখাটা পড়ার জন্য এবং মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  2. লিখাটা ভাও ছিল… তবে প্যারায়
    লিখাটা ভাও ছিল… তবে প্যারায় প্যারায় ভাগ না করে দেয়ায় লিখার মান কিছুটা খর্ব করেছে।। একটু ভাগ ভাগ করে দিন আরও সুখপাঠ্য হবে!!

    আর আমাদের প্রতীক্ষার প্রহর আশাকরি এই সপ্তাহেই শেষ হবে!!
    আমার মাটি আমার মা,
    পাকিস্তান হবে না…
    ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই
    কসাই কাদেরের ফাঁসি চাই…
    :তুইরাজাকার: :তুইরাজাকার: :তুইরাজাকার: :তুইরাজাকার:
    একে একে সকল রাজাকারের ফাঁসি চাই…

    1. প্যারা করেই তো লিখেছিলাম
      প্যারা করেই তো লিখেছিলাম কিন্তু প্রকাশিত হবার পর সব প্যারা মিলে গেছে। প্যারার নিয়মটা বললে ভালো হয়। আর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

        1. সেটাই তো করেছিলাম,হয়নি। বোধহয়
          সেটাই তো করেছিলাম,হয়নি। বোধহয় খেয়াল করে করিনি। আচ্ছা, নেক্সট টাইমে বিষয়টা খেয়াল রাখবো।

  3. আমি কসাই কাঁদেরের ফাঁসির
    আমি কসাই কাঁদেরের ফাঁসির জল্লাদ হতে চাই হতে চাই সেই মাহেন্দ্রক্ষনের মহাকালেরসাক্ষী………… :চশমুদ্দিন:

  4. আমি তো বলি… সব রাজাকারদের
    আমি তো বলি… সব রাজাকারদের ধরে টি এস সি -র ছত্তররে নিয়ে আসা হউক। অতপর আমরাই বুঝব… কিছু মুলি বাঁশ আগের থেকে জোগাড় করে রাখবো আর ২-৩ কেজি মরিচ। সরকার
    টরকার… আহা… এইসব কি দরকার। তাদের ফাঁসি হলে কম হয়ে যায়। মুলি বাঁশের মাঝে কাঁচা মরিচ ডলে তাদের পশ্চাদপদ দিয়ে ঢুকিয়ে মুখ দিয়ে বের করে আনব… ব্যাস মামলা খতম…। আহ… সরকার যদি একবার অনুমতি দিত। :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

    আপু তোমার লেখা ভালো হইছে… আরও চাই।

    1. ঠিকই বলেছেন, আসলে ফাঁসির সাজা
      ঠিকই বলেছেন, আসলে ফাঁসির সাজা রাজাকারদের জন্য খুবই কম হয়ে যায়।কিন্তু কি আর করবেন, বলেন?! এইটাই আইন।আর আইনের প্রতি আমাদের সকলকে শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে!! :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  5. মুক্তিযোদ্ধার

    মুক্তিযোদ্ধার বাংলায়,
    রাজাকারের ঠাই নাই

    মুজিবের বাংলায়
    রাজাকারের ঠাই নাই

    সকল :তুইরাজাকার: :তুইরাজাকার: অবিলম্বে ফাঁসির রায় কার্যকর দেখতে চাই… :জলদিকর: :জলদিকর: :অপেক্ষায়আছি:

  6. আর প্রতিটি সত্যিকারের বাঙালি

    আর প্রতিটি সত্যিকারের বাঙালি এখন সেই দিনটির প্রতীক্ষাতেই আছে

    হ্যাঁ ঠিক বলেছেন, আমরা অপেক্ষায় আছি,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *