আধুনিক সিঁদেল চোরদের (ইন্টারনেট প্রোভাইডার) ইতিবৃত্ত

এই দেশের অনেক পেশাই বিলুপ্তপ্রায়। এদের ঐতিহ্য রক্ষনাবেক্ষনের জন্য ইদানীং নানান গবেষনা প্রতিষ্ঠান হয়েছে। ফান্ডিং আসে দেশ বিদেশ থেকে নানান এনজিওর মাধ্যমে। এদের মধ্যে হয়তো অনেকেই আছেন যাদের পিতামহ কামার ছিলেন। হাঁপর উঠিয়ে নামিয়ে আগুনে পুড়িয়ে কামারের কাজ দেখতে আসলেই মনোরম চোখ জুড়িয়ে যায়। কিছুদিন আগে রামপুরা বাড্ডার দিকে এই ধারার পেশা নিয়ে চিন্তিত ভাবিত লোক যারা মনে করেন এই পেশা হারিয়ে যাচ্ছে তারা এর ঐতিহ্য কর্মপরিকল্পনা, পেশাটার নানান প্রকার বৈচিত্রের তথ্য সংরক্ষনে উদ্যোগ নিয়েছেন। আমার তাদের প্রতি পুর্ন সমর্থন, শ্রদ্ধা সব আছে। এই পেশাটা আমাদের শ্বাশত বাংলার জীবনধারার অংশ। তাই সংরক্ষনের দরকার অবশ্যই আছে।

এর চাইতেও প্রাচীন একটা পেশা আছে। সারা পৃথিবীতে এর প্রচলন ছিল কিনা জানতে পারি নাই। তবে কয়েক হাজার বছর ধরেই এ পেশা আবহমান বাংলায় প্রচলিত। এমনকি তা কামার পেশার চাইতেও সুপ্রাচীন। যে আমলে লোহার ব্যাবহার আবিস্কার করা হয় নাই সে আমলেও এই অর্থকরী উপায় যত্রতত্র প্রয়োগ করে টু-পাইস আয় করা যেতো। পেশাটার নাম সিঁদ কাটা। শোনা যায়, সিঁদেল চোরদের লাজ লজ্জা বলতে কিছু ছিল না। পাড়া পরশী তো অবশ্যই আশে পাশের দশ গ্রামের লোক জানতো অমুক লোক চোর। চুরি বিদ্যার ইনিংস শুরু করার আগে বিড়ালের মাংস খাবার নিয়ম ছিল। মনে করা হতো মারধোর করলেও পেটে খাইলে পিঠে সইবে। অনেকটাই আধুনিক টিকা নেবার মতন। কোন বাড়িতে চুরি করবার আগে ঘন্টা ধরে চলতো প্রস্তুতি। সারা গায়ে শরীরে তেল মাখা, নিঃশব্দে হাঁটাচলা করার অভ্যেসটা যাচাই করে নেয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। আরো জানা যায়, ক্যারিয়ার শুরুর আগে তাদের নানান উস্তাদের কাছে প্রশিক্ষন নেয়া প্রায় নিয়মের পর্যায়ে ছিলো। যতদিন না গুরুর গৃহে সফলভাবে সিঁদ না কাটতে পারতো ততদিন তাদের প্রফেশনালি নামার উপযুক্ত মনে করা হতো না। রসিকেরা বলে থাকেন, এদের মধ্যে অনেক শিষ্যই নাকি গুরুর ঘরের মালামাল নিয়ে আশীর্বাদের অপেক্ষা করতো না। রাতের আঁধারেই গুরুর মালামাল নিয়ে চিরতরে হারিয়ে যেতো। গুরু মারা বিদ্যা মনে হয় একেই বলে।

মূল কাহিনীতে আসি, ইন্টারনেট প্রথম ব্যাবহার করতাম ব্রডব্যান্ড কানেকশনের মাধ্যমে। বর্ষাকালে সে এক হ্যাপার ব্যাপার ছিলো’রে ভাই। জোরেসোরে যাকে বলে বজ্রসহ বৃষ্টি নামলেই লাইন ডিসকানেক্টেড করে দেয়া হতো। ল্যান কার্ড না কি যেন বজ্রপাতে পুড়ে যাবার ভয় থেকেই এ কাজ করা হতো। এরপরে আসলো ঈশান কোনে মেঘ দেখলেই লাইন অফ করে দেয়া। ফোন দিলে বলতো ভাই পুড়ে গেলেই লস, একটু সহ্য করেন। তাও মেনে নিলাম। তারপরে অবস্থা এমন দেখা গেলো শরৎকালেও প্রায়ই নাকি আকাশে মেঘ জমে আর তাতে নেট কানেকশন নাই। মাসে দুই-চারদিন এ যন্ত্রনা সহ্য করেন নাই, এমন ইন্টারনেট ব্যাবহারকারি সম্ভবত নাই। এদিক সেদিক খবর নিয়ে জানা গেলো মাসে এরকম প্রায়ই দুই চারজনের লাইন নিয়ম করে বন্ধ রাখা হয়। সে বেঁচে যাওয়া ব্যান্ডইউথ অবৈধ ভিওআইপির কাজে ব্যাবহার করা হয়। গালাগালি বহু লোকই করেছে, তাতে ফলাফল শুন্য। সে বিড়ালের মাংস খাওয়া অবস্থা আর কি!

বাংলালায়ন, কিউবির মতন ওয়্যারলেস ইন্টারনেট আসার পরে ভাবলাম বাঁচা গেলো। এই মেঘবাদলের যন্ত্রনার হাত থেকে মুক্তি ফেলাম। প্রথম প্রথম অবস্থা বেশ ভালোই ছিল। বৃষ্টিবাদলা দূরে থাক, দুনিয়া এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে গেলেও নেট জীবন্ত। স্পিডও মাশাল্লাহ উসাইন বোল্টের গতিতে দৌড়ায়। আমাদের আর কি আহা মরি মরি অবস্থা। কিছুদিনের মধ্যেই টের পাওয়া গেলো তাদেরও মাসে নুন্যতম একদিন কখনো বা দুইদিন সমস্যা থাকে। সাবমেরিন ক্যাবলের সমস্যার কথা বাদ দিলেও কখনো তাদের বেস স্টেশনের নেটওয়ার্কে সমস্যা, কখনো জেনারেটরে, কিছু না কিছু একটা লেগেই থাকে। কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিলে দুঃখ প্রকাশেই সমাপ্তি। মাঝে মাঝে আবার স্বীকারই করে না তারা নেট অফ করে রেখেছে। তখন হয় ঘরে সমস্যা। স্যার রুমের অন্যদিকটায় পিসিটা নিয়ে যান, তাতেও কাজ না হলে অন্যরুমে নিয়ে যান। কথার ভাবে মনে হয় তাদের কোম্পানী কয়েকটা রুম বানিয়ে রেখে দিয়ে গেছে যাতে সময়ে অসময়ে তা ব্যাবহার করা যায়। আশেপাশে যারা একই কোম্পানীর ইন্টারনেট ব্যাবহার করে ফোন দিলে জানা যায় সবার হালতই এক। একদিন মেজাজ খারাপ করে বলেছিলাম আমার ছাদে আপনাদের নেটওয়ার্ক ভালো পাওয়া যায়। একটা তাবু, কম্বল আর মশার কয়েল পাঠায়ে দেন। ভদ্রমহিলা প্রত্যুত্তরে বলেছিলেন- স্যার আমাদের এমন কোন ধরনের সার্ভিস দেয়ার নিয়ম নাই। ঐটা কি রোবট ছিল নাকি বেড়ালের মাংসের তরকারি খাওয়া কেউ ছিল কে জানে! অবশ্য তারই বা কি দোষ। সে তো একজন চাকুরীজীবী বৈ-কি অন্য কিছু না।

পিক আওয়ার অফ পিক আওয়ার বলে এক আজব জিনিস দুনিয়ার অন্য কোন দেশে আছে বলে আমার জানা নাই। না থাকলে উনাদের উচিত অচিরেই পেটেন্ট দাবী করা। পিক আওয়ার মানে রাত ১২ টার পরে ৫১২ কেবি স্পিডের কানেকশন দিয়ে গুগলের একটা পেজ নামতে মাঝে মাঝেই বাংলার সিংহ আমাজন, আফ্রিকার জংগল ঘুরে আসে।

৫১২ কেবি স্পিডের আনলিমিটেড কানেকশনে মাসিক বিল প্রায় ১৫০০ টাকা। দিনে গড়ে ৫০ টাকা, দুইদিনে একশ টাকা। তাদের সমস্যা তিন মাসে, ছয় মাসে একদিন হলে মানা যায়। কিন্তু প্রতি মাসেই সমস্যা হলে তাতে ভোক্তাদের দোষ কোথায়। এই টাকা কেন তারা পরিশোধ করবে? কেন কোম্পানীগুলো সে টাকাটা ডিসকাউন্ট বা ক্ষতিপূরণ দেয় না বা দিবে না? উত্তর খুব সোজা।
প্রতি মাসে বাংলা লায়ন, কিউবির ব্যাবসার পরিমান শ কোটির উপরে। এভারেজে যদি প্রতি মাসে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সবার কানেকশন একদিন বন্ধ রাখা যায় তবে ব্যান্ডউইথ বাঁচিয়ে মুফতে তাদের লাভ তিন কোটি টাকার উপরে। দুইদিন হলে আরো পোয়াবোরো, একেবারে ৬-৭ কোটি টাকা।

কামারদের ঐতিহ্য রক্ষায় কর্মপরিকল্পনা, পেশাটার নানান প্রকার বৈচিত্রের তথ্য সংরক্ষনে কেউ না কেউ এগিয়ে আসলেও কেন সিঁদ কাটা চোরদের নিয়ে তথ্য সংরক্ষন বা গবেষনার কাজটা করছেন না? আসলে সিঁদ কাটা চোরেরা বিলুপ্ত হয় নাই। হীরক রাজার দেশে তা হবারও কথা না। তারা আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডিং ব্যাবসায় নিয়োজিত করেছে। পুর্বপুরুষের জিন তাদের শরীরে। সিঁদ কাটা বন্ধ হয় নাই। ধরনটাই যা বদলেছে। বিবর্তনের সুত্র মেনে ধরনে কিছু পরিবর্তন এনেছে। গায়ে সরিষা মেখে পিছলা হবার দরকার নাই, কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস নামের কিছু একটা রাখলেই হয়। সামাজিকভাবে সবাই জানবে চোর, তাতে কি-ই বা আসে যায়। বিড়ালের মাংস খাওয়া তো আর বন্ধ হয় নাই; আর গাড়ির কাচ উঠিয়ে দিলে গালিটাই বা কে শুনতে পায়।

২৬ thoughts on “আধুনিক সিঁদেল চোরদের (ইন্টারনেট প্রোভাইডার) ইতিবৃত্ত

    1. এখন কি ইউজ করতেছেন? টেলিটকে
      এখন কি ইউজ করতেছেন? টেলিটকে ট্রান্সফার যামু ভাবছিলাম, কিন্তু সেইটার পারফ্রম্যান্সও নাকি নীচের দিকে যাচ্ছে। টেলিটকের সার্ভিস ভালো থাকলে এই বিলাই কুবির খাওয়া শেষ হয়ে যাবার কথা। তাই মালকড়ি ভালোই বিলানো হচ্ছে মনে হয়। যেমনটা তাদের মোবাইল সার্ভিসে হয়েছে।

      1. আপাতত জিপি মডেমে বাংলালিংক
        আপাতত জিপি মডেমে বাংলালিংক চালাইতেছি। স্পীড মোটামুটি আছে। অন্তত ডিসকানেক্ট হবার জ্বালা নাই।আর টেলিটক নিজে ইউজ করিনি, তয় ফ্রেন্ডদের থেকে শুনলাম স্পীড ভালো মাগার ডাটা নাকি লিমিটেট।১২ কিংবা ১৫ এমবির পর আর ইউজ করা যায়না।সরকারি মাল বুঝেননা!!!

        1. ডিসকানেক্ট হবার জ্বালা না
          ডিসকানেক্ট হবার জ্বালা না থাকলে তো ভালোই। আমিও দেখি বাংলালিংক চালাইতে পারি কিনা।

          1. ঢাকার বাইরে থাকতে লায়ন, কিউবি
            ঢাকার বাইরে থাকতে লায়ন, কিউবি চালানোর উপায় ছিলোনা। ঢাকায় এসে ভাবছিলাম এখন মনের সুখে ৩জি বা লায়ন/কিউবি ইউজ করুম। কিন্তু পাবলিকের অবস্থা দেইখা বুঝলাম আমার বাংলালিংকই ভালো। এট লিস্ট ঘনঘন লাইন ডিসকানেক্ট তো হয় না। গরুর গাড়ির মতো খোঁড়াইয়া হইলেও চলে তো। সুখের চেয়ে স্বস্তি ভালো।

          2. গোঁদের উপর বিষ্পোড়া হইলো
            গোঁদের উপর বিষ্পোড়া হইলো কিছুক্ষণ পরে পরেই তাদের ৪ জি মডেম হ্যাং করে। খুইলা লাগাইলে আবার কিছুক্ষণ ঠিক থাকে। মডেমের কোয়ালিটি পর্যন্ত চরম খারাপ। চায়না থেইকা দুইশ টাকা দিয়ে মডেম কিনে বেঁচে ২০০০ টাকায়। টাকা নিবে ভালো কথা, অন্তত মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড তো রক্ষা করা উচিত। ব্যাবসা করতে আইসসা ধাপ্পাবাজি করলে কেমনে কি! আমাদের দেশে ভোক্তা শ্রেনীর একটা শক্ত সংগঠন দরকার। নাইলে এসব কোনভাবেই বন্ধ হবে না।

        2. কথায় কথায় বলে বাঙ্গালীর নাকি
          কথায় কথায় বলে বাঙ্গালীর নাকি দেশের জন্য টান নাই। এই টেলিটকের সিম কিনতে গিয়ে রাতভর মানুষ লাইন ধরে অপেক্ষা করেছে সকালে বুথ খোলার আশায়। পুলিশের লাঠিপেটা খেয়েছে। অথচ মানুষের আবেগ বিক্রি হয়ে গেলো টাকা আর গাড়ি ফ্ল্যাট উপহারের মাধ্যমে। নেট সার্ভিসের যাত্রাও সেদিকেই।

  1. বাঙালী হচ্ছে আদর্শ আবাল। সবাই
    বাঙালী হচ্ছে আদর্শ আবাল। সবাই বাঙালির মাথায় কাঁঠাল ভাইঙ্গা খায় অতি সহজেই। কিউবি একই প্যাকেজ পাইক্কাদের কাছে বেঁচে বাংলাদেশী টাকায় মাত্র ৩৫০ টাকায়, আর আমাদের এখানে বেঁচে ১৬০০ টাকায়। তার উপর সিঁধেল চুরি তো আছেই। আমরা মেনে নেই, আর আমাদের সরকারগুলা তো এইসব কর্পোরেট বেণিয়াদের স্বার্থ দেখার ঠিকাদারি নিয়ে কাজ করে।

    1. এইডা কি জিনিস ভাই? কই পাওয়া
      এইডা কি জিনিস ভাই? কই পাওয়া যায়? সুবিধা অসুবিধা টাকা পয়সার পরিমান কেমনে কি? জানান দেন, ভাইবা দেখি, টেরাই দিমু কিনা।

      1. ১ মেগা ১৪০০ টেকা মাত্র
        ১ মেগা ১৪০০ টেকা মাত্র ..
        ফাইবার কেবল আমার পিসি পর্যন্ত .. তারপর রাউটার বসায়ে ওয়াইফাই কইরা নিছি ..
        ঝড় বন্যাতেও সমস্যা নাই ..
        স্পিড ভালাই .. আপ-ডাউন করেনা ..
        ইউটুব আরামেই দেখা যায় ..
        নেট ডাউন হয়না .. ২৪ঘন্টা হেল্পলাইন আছে .. শিক্ষিত মানুষই বসে ঐখানে .. 😛

        এইখানে লিংক দেয়া অ্যালাউড ??
        নাইলে link 3 লেইখা গুগল মামুরে ধরেন .. 🙂

  2. ভাই, আপনি মনের কথাগুলো এত
    ভাই, আপনি মনের কথাগুলো এত সুন্দর সুন্দর উপমা দিয়ে বললেন- দিলটা খোশ হয়ে গেল। আমরা অসহায় ভোক্তারা কিছুই করতে পারব না ওদের। মাঝে মাঝে এই ধরনের সুশীল ভাষায় গালিগালাজ দিয়ে মনের ঝাল মিটালে দিল খোশ হয়।

  3. যেসবের উপর মানুষের চাহিদা
    যেসবের উপর মানুষের চাহিদা বাড়ে, সেসব জিনিসই পেতে সমস্যা, আর চুরির পরিমান বাড়ে।

  4. এই যন্ত্রনার শেষ কবে কোথায়
    এই যন্ত্রনার শেষ কবে কোথায় বলতে পারেন? সরকারের কোন উদ্যোগ দেখছি না। দেখবো বলে কোন আলো সুড়ঙ্গের এপাশ ওপাশ কোন দিক দিয়েই দেখছি না।

  5. শহরের বাইরে বসবাস, তাই
    শহরের বাইরে বসবাস, তাই প্রাচীন সিধেঁল চোরদের সম্পর্কে জানাশোনা থাকলেও আধুনিক সিধেঁল চোরদের সম্পর্কে মোটেও ধারণা নেই ।
    তবে অনলাইন বন্ধুদের হা-হুতাশ দেখলে বুঝতে পারি, ডিজিটাল চুরি বিগত দিনের সকল চুরিকেই হার মানিয়েছে ।

  6. একদিন মেজাজ খারাপ করে

    একদিন মেজাজ খারাপ করে বলেছিলাম আমার ছাদে আপনাদের নেটওয়ার্ক ভালো পাওয়া যায়। একটা তাবু, কম্বল আর মশার কয়েল পাঠায়ে দেন। ভদ্রমহিলা প্রত্যুত্তরে বলেছিলেন- স্যার আমাদের এমন কোন ধরনের সার্ভিস দেয়ার নিয়ম নাই। ঐটা কি রোবট ছিল নাকি বেড়ালের মাংসের তরকারি খাওয়া কেউ ছিল কে জানে!

    আমি এই জ্বালায় এখন আর কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে ফোন দেই না… এইসব কোম্পানি কবের থেকে রোবট নিয়োগ দেয়া শুরু করল কে জানে… :এখানেআয়: আর বাংলালিওন কিংবা কিওবাই কানেকশনের ব্যাপারে কিছু বলার নাই… এই কমেন্টটা করতে গিয়া দুইবার লাইন ডিসকানেকট হয়ে গেছে… :মানেকি: ড্রেনে ছুড়ে ফেলে দিতে পারছি না কারন আমাদের এই এলাকায় জিপি কিংবা রবি অথবা হালের টেলিটক, কিছুই লাইন পায় না… :মাথাঠুকি: মাঝে মাঝে মনে চায় আগুন লাগায়া দেই.. :ক্ষেপছি:

  7. যে যাই বলেন না কেনো
    যে যাই বলেন না কেনো ব্রডব্যান্ড এর নিচে সবকিছু বাংলালায়ন, কিউবি, ফ্ল্যাশ হেন তেন সব ফায়বার অপটিক এর নিচে……… :চশমুদ্দিন:

  8. চট্টগ্রামে প্রথম যখন
    চট্টগ্রামে প্রথম যখন বাংলাবিলাই আসে, তখনই লাইন নিয়েছিলাম। শুরুতে স্পিড আর সার্ভিস দেখে বাঙলাদেশে একটা প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস নিয়ে বেশ প্রশংসা করতাম। টাকার পরিমাণটা গায়ে লাগতো না সার্ভিসের তুলনায়। সেই সময় মাসে ৮০/৯০ জিবি ডাটা ইউজ করাটা ছিল ডালভাত। সারাদিনই টরেন্টে পড়ে থাকতাম। আর সিনেমা নামাতাম। যখন ডাউনলোড করার কিছু পেতাম না, তখন সীড করতাম। সেসব দিন এখন নাই। মাঝখানে চট্টগ্রামের বাইরে চলে যাওয়ায় বন্ধ করে দিই। এরপর ফিরে এসে যখন রিকানেক্ট হতে গেলাম। তখন টের পেলাম- শায়েস্তা খাঁ’র যুগ পেরিয়ে এখন আইয়ুব খাঁ’র যুগে ফিরে এলাম। কার্ড রিচার্জ করেও ‘এইতো হয়ে যাবে, এখনই কানেক্ট হয়ে যাবে, দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, বিকেলেই হয়ে যাবে, সকালে ফার্স্ট আওয়ারে হবে….’ এসব শুনতে শুনতে ৪ দিনে প্রায় ৩০০/৩৫০ টাকার মতো মোবাইলে খাওয়ায় দিসি। পরে গিয়ে যখন কানেক্ট হলো, নেটওয়ার্ক- ৩৯ ডিবি এবং সিআইএনআর -৫৮ থাকা স্বত্ত্বেও যখন কানেক্ট করতে পারছিলাম না, গুগলের হোম পেইজে ঢুকতে লাগতো ২০ মিনিট এবং ২ মিনিট পর পর লাইন ডিসকানেক্ট হতে লাগলো, তখন সত্যি বলছি, তাদের টাওয়ারগুলো বোমা মেরে ধ্বংস করে দেয়ার পাশবিক চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো। কি যে অসহায় একটা অবস্থা! গ্রাহক হিসেবে আমরা নগদ টাকা পরিশোধ করে একটা শুওর সম্প্রদায়ের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে আছি- এটা ভেবে খুব কান্না পেতো। ওই মাসটা কোনভাবে পার করেছি। ঘন্টাখানেক সময় লাগিয়ে জিমেইল চেক করা ছাড়া আর কোন ইউজ করিনি। অতঃপর, ছুঁড়ে ফেলে দিলাম মডেমটা। সেই থেকে আজ প্রায় ৬ মাস বাসায় নেট বন্ধ। অনেক শান্তিতে আছি। মাথার ব্যথার অষুধে কাজ না হলে, মাথা কেটে ফেলে দেয়া ছাড়া আমরা অগা বাঙালিদের আর কোন উপায় নেই। বাঙলাদেশ ছাড়া অন্য কোথাও হলে ভোক্তা সংস্থার কেস খেয়ে পাত্তাড়ি গুটিয়ে পালাতো আর না হলে সোজা হয়ে যেতো। শুনেছি আমাদের দেশেও নাকি ভোক্তা অধিকার সংস্থা নামে একটা প্রতিষ্ঠান আছে। তারা কিসের অধিকার রক্ষায় ব্যস্ত সেটা জানতে চাই। হেয়ার এন্ড দেয়ার, চোরস এভ্রিহোয়্যার….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *