মনে পড়ে এ দিনটায়

৭ ডিসেম্বর ১৮৫৬, অবিভক্ত বাংলা তথা ভারতবর্ষের ইতিহাসে একটি ক্ষুদ্র অথচ তাত্‍পর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে। প্রথম হিন্দু বিধবা বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলার নবজাগরনের অগ্রদূত ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রাণান্তকর প্রচেষ্ঠায় বৃটিশ সরকার ১৬ জুলাই ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়ন করে। সেসময়ের রক্ষণশীল সমাজের নানা হুমকি ধামকি বাঁধা পেরিয়ে বিধবাদের চোখের জল মুছে দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন তাদের মহান পিতা। পুলিশ পাহারায় প্রথম বিধবা বিবাহটি অনুষ্ঠিত হয় বিদ্যাসাগরের কলকাতার বন্ধু রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। বর ছিলেন বিদ্যাসাগরের বন্ধু সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন এবং কনে ছিলেন বর্ধমানের বিধবা কালীমতী।



৭ ডিসেম্বর ১৮৫৬, অবিভক্ত বাংলা তথা ভারতবর্ষের ইতিহাসে একটি ক্ষুদ্র অথচ তাত্‍পর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে। প্রথম হিন্দু বিধবা বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলার নবজাগরনের অগ্রদূত ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রাণান্তকর প্রচেষ্ঠায় বৃটিশ সরকার ১৬ জুলাই ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়ন করে। সেসময়ের রক্ষণশীল সমাজের নানা হুমকি ধামকি বাঁধা পেরিয়ে বিধবাদের চোখের জল মুছে দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন তাদের মহান পিতা। পুলিশ পাহারায় প্রথম বিধবা বিবাহটি অনুষ্ঠিত হয় বিদ্যাসাগরের কলকাতার বন্ধু রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। বর ছিলেন বিদ্যাসাগরের বন্ধু সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন এবং কনে ছিলেন বর্ধমানের বিধবা কালীমতী। এই বিয়ের অধিকাংশ ব্যয়ভার বহন করেন বিদ্যাসাগর। এ বিয়েতে আরো উপস্থিত ছিলেন রমাপ্রসাদ রায়, নীলকমল মুখোপাধ্যায়, কালীপ্রসন্ন সিংহ, প্যারীচাঁদ মিত্র, রামগোপাল ঘোষ প্রমুখ।
এরপর তিনি আরো বিয়ের আয়োজন করেছেন। নিজের পুত্রকেও একজন বিধবার সাথে বিয়ে দিয়েছেন। এরপর কেটে গেছে ১৫৭ টি বছর।
আজ ৭ ডিসেম্বর ২০১৩, দেড় শতাধিক বছর পরেও কি হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের ব্যাপক প্রচলন হয়েছে? না হয় নি। অথচ হওয়াটায় ছিল অতি স্বাভাবিক। কেন হয় নি সে বিশ্লেষণে যাব না। এই আধুনিক যুগেও রক্ষণশীলতা তিরোহিত হয়নি বরঞ্চ আধুনিকতার পোশাক পরে নতুনরুপে আবির্ভুত হচ্ছে। আজও হিন্দু বিধবাদের চাপা কান্না চার দেয়ালের মাঝে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফেরে। এ কান্না কান পেতে শোনার মত বিদ্যাসাগরের আজ বড়ই প্রয়োজন। এ কান্না দুহাত বাড়িয়ে মোছার মত শ্রীশচন্দ্রের আজ বড়ই প্রয়োজন।

১৩ thoughts on “মনে পড়ে এ দিনটায়

    1. ধন্যবাদ। লেখাটা কিছুটা
      ধন্যবাদ। লেখাটা কিছুটা ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণামূলক। তাই বিস্তারিত লেখাটা প্রয়োজন মনে করি নি। তবে এখন মনে হচ্ছে বিস্তারিত লেখাটাই প্রয়োজনীয় ছিল।

  1. আজ ৭ ডিসেম্বর ২০১৩, দেড়

    আজ ৭ ডিসেম্বর ২০১৩, দেড় শতাধিক বছর পরেও কি হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের ব্যাপক প্রচলন হয়েছে? না হয় নি। অথচ হওয়াটায় ছিল অতি স্বাভাবিক। কেন হয় নি সে বিশ্লেষণে যাব না।

    কেনো হয়নি এই বিশ্লেষণে যাওয়া উচিত কারণ যথাযথ বিশ্লেষণ ছাড়া অগ্রগতি সম্ভব নয় …… লিখা আরো কিছুটা বড় করবেন এবং তথ্যবহুল হলে ভাল ………

    1. ধন্যবাদ। লেখাটা বিশ্লেষণধর্মী
      ধন্যবাদ। লেখাটা বিশ্লেষণধর্মী না করায় দুঃখিত। ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণামূলক হওয়ায় বিশ্লেষণের দিকে যাই নি। ভবিষ্যতে বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত করার চেষ্ঠা করব।

  2. শুধু হিন্দু সমাজ না, অন্যান্য
    শুধু হিন্দু সমাজ না, অন্যান্য সমাজেও বিধবাদের বিবাহ প্রথা নেই বললে চলে।
    বিধবাদের দু:খের কথা কেউ বুঝতে চায় না॥

  3. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের “সেই
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের “সেই সময়” উপন্যাস পড়লে অনেক কিছুই জানা যায় এই বিষয়ে। লেখাটা আরও বিশ্লেষণধর্মী হলে ভালো হতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *