বিজ্ঞানের প্রচারণা প্রসঙ্গে আমার একটি প্রশ্ন

বিজ্ঞানে মুসলিমদের অবদান, বিজ্ঞানে হিন্দুদের অবদান কিংবা বিজ্ঞানে খ্রীস্টানদের অবদান ইত্যাদি ইত্যাদি। এ জাতীয় শিরোনামগুলোর প্রতি আমার চুলকানি বহুদিন আগের। এলুপ্যাথিক হোমিওপ্যাথিক হেন কোনো প্যাথিক নাই আমি প্রয়োগ করিনি, মাগার চুলকানি যায়না। ইদানিং চুলকানির পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যাওয়ায় আপনাদের শরনাপন্ন হতে হল। লজ্জার কথা কি বলব ভাইসাহেব, চুলকাতে চুলকাতে হাত ব্যাথা হয়ে যাওয়ায় আমার এক তালতো বোনের পরামর্শ অনুযায়ী দু’টা পোষা বানর ভাড়া করেছিলাম চুলকায় দেওয়ার জন্য। সেকি চুলকানি রে বাবা! ঘাঁ হয়ে গেছে মাগার রোগ সারেনা। অবশেষে বানর দুটোও বিরক্ত হয়ে আমার দুই গালে সজোড়ে দুইটা তাপ্পড় মেরে কোথায় যেন পালিয়ে গেছে। সে কি তাপ্পড় রে বাবা! মাত্র দু’দিনে কোনো প্রকার হারবাল ঔষুধ ছাড়াই আমার মুখমন্ডল ফুলে তরমুজে পরিণত হয়ে গেল। ভাবছি বজ্জ্বাত বানরগুলোকে খুজে এনে পুনরায় আমার আপাদমস্তকে তাপ্পড় মারাবো। চিকন স্বাস্থ্য মোটা করার এটাই মোক্ষম পদ্ধতি। নো পার্শ্বপতিক্রিয়া অনলি সামান্য ব্যাথা হবে আর কি! ওদিকে বানরগুলোর মালিক আবার আমার বিরুদ্ধে অবলা প্রাণী অপহরণের মামলা করে বসেছে। তো বুঝেন ভাইসাহেব আমার অবস্থা! আমার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া শেষ। এবারে মুল প্রশ্নে আসা যাক। উপরে বর্ণিত শিরোনামগুলো দিয়ে ইন্টার্নেটে সার্চ দিলে প্রচুর আর্টিকেল পাওয়া যায়। আবার লাইব্রেরীতে সার্চ করলে প্রচুর বই ও পাওয়া যাবে। আমরা জানি বিজ্ঞানের সকল আবিস্কার জাতি ধর্ম বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে সবার জন্য উন্মুক্ত। এক ধর্মের আবিষ্কার অন্য ধর্মের মানুষ ব্যাবহার করেছে বলে তাকে শাস্তি পেতে হয়েছে এমন কোনো ঘটনা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণ অক্ষর কিংবা পিতলের অক্ষর কোনো অক্ষরেই লেখা নেই। তাহলে উপরোক্ত শিরোনাম দিয়ে আর্টিকেল বা বই লিখে অমুক জাতির তমুক অবদান চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার মানে, কারন কিংবা প্রয়োজনীয়তাটা কি??? শুধু বিজ্ঞানীর নামটা দেওয়াই কি যথেষ্ট নয়???
এই জিনিসটা আমার মাথায় কোনোভাবেই ঢুকেনা। কে জানে হয়তো আমার বুঝায় ভুল আছে। সেক্ষেত্রে কেউ যদি আমার বুঝার ভুলটা একটু ধরিয়ে দিয়ে বিষয়টা মাথায় ঢুকিয়ে দেন অর্থাৎ পুরো বিষয়টা গুলিয়ে বাঁতের বড়ি বানিয়ে খাইয়ে দেন কিংব কেউ যদি নক্ষত্র পরিমাণ এই বিষয়টাকে ব্লাকহোল বানিয়ে দেন যাতে কোৎ করে গিলে ফেলতে পারি! তবে বড় উপকৃত হতাম। বড়ভাই, ছোটভাই, সমবয়সী, যুবক-যুবতি, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এবং জ্ঞানীগুণী সবার হস্তক্ষেপ কামনা করছি . . . .

১৯ thoughts on “বিজ্ঞানের প্রচারণা প্রসঙ্গে আমার একটি প্রশ্ন

  1. মাধ্যমিক লেভেল থেকেই এ ভূত
    মাধ্যমিক লেভেল থেকেই এ ভূত মাথায় প্রবেশ করানো হয়, বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান, বিজ্ঞানে ভারতীয়দের অবদান হাবিযাবি… উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলমান বা ভারতীয়দের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তোলা কিন্তু এ অঞ্চলে হাজির পুলা পাজি হয়, জ্ঞানীর ছেলে শয়তান হয় কিন্তু বিজ্ঞানমনস্ক হয় না। এই তরিকা বাদ দিয়ে বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়তে নতুন তরিকায় আগাতে হবে অনেকটা জাফর ইকবাল স্যারের মত….

    1. অহ! এ কথা। তাহলে তো দেখছি
      অহ! এ কথা। তাহলে তো দেখছি উদ্দেশ্য খারাপ না। পরিকল্পনায় ভুল..
      ঠিক বলেছেন নতুন তরিকায় আগানো উচিত…
      আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাই। উত্তর পেয়ে গেছি..

  2. ইমাম ভাই কি আর বলবো, ছোটবেলা
    ইমাম ভাই কি আর বলবো, ছোটবেলা থেকেই আমাদের পাঠ্যপুস্তকে এই নিয়ে ত্যানাপ্যাচানো হচ্ছে। এখনো প্যাচানো হচ্ছে।

    1. Hello young man 4 your
      Hello young man 4 your information, অনন্ত জলিলের লগে আমার ভালা খাতির আছে। অসম্ভব রে সম্ভব করার মন্ত্র শিখে নিতে কতক্ষণ!!

      1. ধর্ম বিজ্ঞান নিয়ে লেখা একটি
        ধর্ম বিজ্ঞান নিয়ে লেখা একটি প্রবন্ধের শিরোনাম আমি লিখছি এখানে, আর কিছু না ভাই,

          1. না কিছু মনে করার নাই, আমিও
            না কিছু মনে করার নাই, আমিও বুঝেছি আপনি আমার কথা বুঝতে পারেন নি।
            ধন্যবাদ, ইমাম ভাই।

  3. বড়ই চিন্তার বিষয় চুল্কানির
    বড়ই চিন্তার বিষয় চুল্কানির সমাধানের জন্য কোন খুজলি বিশারদ এর সরনাপন্ন হন ………… 😀

    1. ধুর মশাই আমি চুলকানির জ্বালায়
      ধুর মশাই আমি চুলকানির জ্বালায় বাছিঁনা আর আপনে বত্রিশখান দাঁত দেখায় হাসতাছেন! যাহোক আমার জন্য চিন্তিতবোধ করেছেন জেনে খুশি হলাম। আর ভাই বিশারদ তো কম দেখালাম না। সবাই বলে, “পুরান রোগের চিকিৎসা নাই আপনে আইছেন নতুন রোগ নিয়া।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *