ঈমানদারের ঈমান

ভদ্রলোকের নাম বলা নিষেধ,পদ
বলা নিষেধ,ঘটনা বলা নিষেধ না ।বহুরুপ
নগর জামে মসজিদের ঈমাম সাহেব
ইসলামিক লাইনে খুবই উচ্চ শিক্ষিত ।
তিনি দেওবন্দ ও
আলীগড়ে পড়াশোনা করেছেন ।
তিনি দক্ষিনবঙ্গের
ইসলামী ফতোয়া কমিটির একজন সদস্য
এবং একটি নামি দামি মাদ্রাসার
জনপ্রিয় শিক্ষকও।



ভদ্রলোকের নাম বলা নিষেধ,পদ
বলা নিষেধ,ঘটনা বলা নিষেধ না ।বহুরুপ
নগর জামে মসজিদের ঈমাম সাহেব
ইসলামিক লাইনে খুবই উচ্চ শিক্ষিত ।
তিনি দেওবন্দ ও
আলীগড়ে পড়াশোনা করেছেন ।
তিনি দক্ষিনবঙ্গের
ইসলামী ফতোয়া কমিটির একজন সদস্য
এবং একটি নামি দামি মাদ্রাসার
জনপ্রিয় শিক্ষকও।
তিনি আরবী হিন্দি উর্দু ইংরেজী আর
বাংলা মিশিয়ে যে মোনাজাত করেন
সেটা শুনলে যেকোন পাষান হৃদয়
গলে যাবে।তিনি জুম্মার নামাজে এত
ভাল খুতবা দেন যে আশপাশের গ্রাম
থেকে লোকজন বহুরুপ নগরে আসে ।তার
পাবলিক কমিউনিকেশন জ্ঞান ও খুব
ভাল ।এলাকার ধনী লোকদের সাথে তার
আত্নার সম্পর্ক আর সাধারনের
সাথে ভাল সম্পর্ক ।
বহুরুপ নগরের একজন ব্যবসায়ী নিজ
খরচে উমরাহ হজ্জ করানোর জন্য
উক্ত ঈমাম সাহেবকে মনোনীত করেন ।
ঈমাম সাহেব মহা খুশী ।এতদিন পর
মহানআল্লাহ একজন হিল্লার
ব্যবস্থা করলেন ।
ঈমাম সাহেবের পাশপোর্ট ছিল না ।
পাশপোর্ট করার জন্য সদ্য
তোলা ছবি দরকার ছিল কিন্তু ভদ্রলোক
তিনবছর আগের তোলা ছবি আনলেন ।
কী ভেবে তিনবছর আগের ছবি আনলেন
সেটা আমি জানি না ।তবে ভদ্রলোক
তিনবছর আগের তোলা ছবি সদ্ব্যবহার
করলেন ।একজন লোক দেড় দুলাখ
টাকা খরচ করে তাকে হজ্জে পাঠাবে আর
উনি নিজে ৫০টাকা ব্যায়
করে ছবি তুলতে পারলেন না ।অথচ
উনিই বলেন আল্লার রাস্তায়
১টাকা খরচ করলে ১০০গুন সওয়াব
পাওয়া যায় ।সে সওয়াব উনার মনে হয়
দরকার নেই ,উনার আশপাশের মানুষের
দরকার ।
বাংলাদেশীদের জন্য সৌদিসরকার চল্লিশ
বছর পূর্ন না হলে হজ্জের ভিসা দেন
না ।কারন মনে হয় রাজনৈতিক ।আবার
এদেশের মানুষ এতটাই ঈমানদার
যে হজ্জের
নিয়্যতে সেদেশে গিয়ে পালিয়ে অবৈধ
অভিবাসী হয়ে হালাল উপার্জনের ফিকির
খোজে ।এজন্য মনে হয় বয়সটা নির্ধারন
করা হয়েছে ।
যাই হোক আমাদের ঈমাম সাহেবের বয়স
আটত্রিশ বছর ।সুতরাং তিনি আইন
সঙ্গত কারনে হজ্জের মিশন বাদ পরেন
।উক্ত ধনী লোক ঐ মসজিদের ২য়
ঈমাম সাহেবকে ঠিক করেন উমরাহ
হজ্জের জন্য ।
প্রথম ঈমাম সাহেব তার বয়স বাড়ানোর
জন্য উপজেলার অফিসার হেলালুদ্দিনের
সাথে যোগাযোগ করলেন ।রনী ভায়ের
সাথে যোগাযোগ করলেন ।বয়স তার
বাড়াতেই হবে ।যে করেই হোক এবার
ওমরাহ করতেই হবে ।এমন ডোনার হাত
ছাড়া করা যাবে না ।কিন্তু দেশের বিরুপ
পরিস্থিতির কারনে পারলেন না ।
ঈমাম সাহেব যাবেন মহান আল্লার
শ্রেষ্ঠ ঘরে,মহামানবের কবর
জিয়ারতে,কাফনের কাপর পরে ওমরাহ
করবেন অথচ মিথ্যা বলে বয়স কমানোর
কতরকম চেষ্টা করলেন ।
উনি কাকে ফাকি দিলেন
উনি নিজে কী সেটা বুঝেছেন ?ভদ্রলোক
যথেষ্ট ধনী ।মাসে ভ্দ্রলোকের
ত্রিশহাজার টাকার উপরে আয়
আছে কিন্তু ব্যয়টা খুব কম ।ভদ্রলোক
পরের টাকায় হজ্জে যাওয়ার জন্য এত
উতলা কেন হল বুঝলাম না ।মাত্র দেড়
দুলাখ টাকায় উমরাহ কমপ্লিট হওয়ার
কথা ।অথচ এর জন্য উনার মত গুরুত্ব
পুর্ন লোক অঙ্গীকার নামায় সই
করে সরকারের সাথে মিথ্যা বলে বয়স
কেন বাড়াবে ।সরকার নাহয়
সত্যমিথ্যা বুঝলো না কিন্তু
আল্লাহকে উনি কিভাবে ফাকি দেবেন ?
দুনিয়ার সবাই মতলববাজ ।আর
যারা ধর্মব্যবসায়ী তারা এই সুযোগটা ও
বেশী পায় আবার কাজে ও লাগায় ।

৯ thoughts on “ঈমানদারের ঈমান

  1. মন্তব্য করার জন্য শুভেচ্ছা
    মন্তব্য করার জন্য শুভেচ্ছা ।ভাই ধর্ম হচ্ছে শান্তির সিড়ি সেটা কখনো মানুষ ঠকানোর হাতিয়ার বানানো ঠিক নয় ।

    1. সরকার নাহয়
      সত্যমিথ্যা বুঝলো

      সরকার নাহয়
      সত্যমিথ্যা বুঝলো না কিন্তু
      আল্লাহকে উনি কিভাবে ফাকি দেবেন ?
      দুনিয়ার সবাই মতলববাজ ।আর
      যারা ধর্মব্যবসায়ী তারা এই সুযোগটা ও
      বেশী পায় আবার কাজে ও লাগায় । –

      একদম ঠিক ………

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *