পোড়া মৃতদেহের রাজনীতি ও সময়ের গল্প

২৯ নভেম্বর শুক্রবার প্রভাতে শেষ হল বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের টানা ৭১ ঘণ্টার অবরোধ। এই অবরোধে লাভ-ক্ষতির হিসাব কে কীভাবে করবেন জানি না। তবে বিএনপি-জামায়াতের চাহিদা অনুযায়ী মৃতের মাথা গুনে যদি এর হিসেব করা হয়, তাহলে নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, “স্বল্প সময়ে চাহিদা অনুযায়ী জামায়াত-বিএনপির ‘প্রাপ্তি’ বিশাল!’’


২৯ নভেম্বর শুক্রবার প্রভাতে শেষ হল বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের টানা ৭১ ঘণ্টার অবরোধ। এই অবরোধে লাভ-ক্ষতির হিসাব কে কীভাবে করবেন জানি না। তবে বিএনপি-জামায়াতের চাহিদা অনুযায়ী মৃতের মাথা গুনে যদি এর হিসেব করা হয়, তাহলে নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, “স্বল্প সময়ে চাহিদা অনুযায়ী জামায়াত-বিএনপির ‘প্রাপ্তি’ বিশাল!’’

আর সম্পদ ধ্বংসের চুলচেরা হিসেব করা অসম্ভব যদিও, তারপরেও তা যে কয়েক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এটা তো শুধু সদ্যসমাপ্ত অবরোধের কথা বললাম। এর আগেও একাধিক ‘জঙ্গি’ হরতাল-আন্দোলনে দেশে যে হারে মানুষ হত্যা করা হয়েছে এবং যে পরিমাণ সম্পদ ধ্বংস করা হয়েছে, তা সাধারণত একটা যুদ্ধগ্রস্ত দেশেই হতে পারে।

তাহলে কি আমাদের দেশে একটা অঘোষিত যুদ্ধ চলছে? কে কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে? কেন করছে? এর যৌক্তিকতা কী? অনেক প্রশ্নই আজ সাধারণ মানুষের মনে ঘুরেফিরে আসছে। কিন্তু উত্তর দেওয়ার যেন কেউ নেই এ দেশে। আসলে হচ্ছেটা কী?

“আমি একজন রাজনীতিবিদ। আমি দেশ এবং দেশের জনগণকে ভালবাসি। জনগণের উন্নয়ন সাধনই আমার ব্রত। আমার জীবন বিসর্জন দেব দেশের জন্য, জনগণের জন্য।“– এগুলো যে কোনো রাজনীতিবিদের খুব সাধারণ কিছু কথা যা বোঝার জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে হয় না বা গাদা গাদা বই পড়তে হয় না। অথচ বর্তমানে যা দেখছি, তা উপরের কথাগুলোর ঠিক বিপরীতমুখী বলেই আজ প্রমাণিত।

কথাগুলো উল্টে দিলে যা হয়, দেশে আজ তা-ই চলছে। দেশের মানুষ আজ বিএনপি-জামায়াতের জঙ্গি-সন্ত্রাসের কাছে জিম্মি। এ দশা থেকে মুক্তি পেতে কোনো মহল থেকে উদ্যোগ নেওয়া তো দূরের কথা, বরং একে পরোক্ষভাবে উস্কানি দেওয়াসহ ‘বৈধতা’ দিতে দেশের তথাকথিত সুশীল সমাজ ও ‘পচে যাওয়া’ বামদের ন্যাক্কারজনক অবস্থান নেওয়া দেখে পুরো জাতি আজ হতাশ।

বাংলাদেশের একটা সংবিধান আছে। দেশটা চলবে সংবিধান অনুযায়ী, এটাই স্বাভাবিক। সরকার সংবিধান অনুযায়ী তাদের মেয়াদ শেষ হলে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। কিন্তু বিরোধী দল অর্থাৎ বিএনপি এটা মানতে নারাজ। তাদের আবদার হল, একটা নিরপেক্ষ অর্থাৎ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে।

অথচ উচ্চ আদালত তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকেই ‘অসাংবিধানিক’ বলে রায় দিয়ে তা বাতিল ঘোষণা করেছে। পরবর্তীতে এই রায়ের আলোকে সরকারও সংবিধান সংশোধন করেছে। অর্থাৎ দেশের নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ সাংবিধানিক উপায়ে, অন্য কোনো উপায়ে নয়।

বিরোধীদের দাবির মুখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যেখানে ‘সর্বদলীয়’ সরকার গঠন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশন ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের দিন ধার্য করে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে, সেখানে বিরোধী দল বিএনপি তার ‘সহচর’ জামায়াতের সম্পূর্ণ সহযোগিতায় নির্বাচন ঠেকানোর ঘোষণা দিয়ে টানা হরতাল-অবরোধের মতো সহিংস কর্মসূচি পালন করছে। নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে দাবি আদায়ের জন্য।

সরকার বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় কিছু নেতাকে গ্রেফতার করেছে দেশে সহিংসতা উস্কে দেওয়ার জন্যে। হয়তো ভেবেছে তাতে সহিংসতা লোপ পাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি চিত্র। এখন প্রশ্ন জাগতেই পারে, কারা ঘটাচ্ছে এই জঘন্য হত্যাযজ্ঞ? কারা যাত্রীভর্তি মানুষসহ বাস, সিএনজিতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিচ্ছে?

জ্বলেপুড়ে ছারখার হছে দেশ। যাত্রীসহ রেলগাড়ি উপড়ে ফেলা হচ্ছে। শত শত কোটি টাকা দিয়ে কেনা যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাস্তার দুপাশের বিশাল বিশাল গাছ কেটে রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ। পোড়ানো হচ্ছে গার্মেন্টস। বোমা মেরে মানুষ মারা হচ্ছে। বাদ যাচ্ছেন না বিজেবি, পুলিশ সদস্যরাও। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে দেশের শিশুরা– যারা আগামীদিনে জাতির কাণ্ডারী– ব্যাহত হচ্ছে তাদের শিক্ষাজীবন। অথচ দেশের মানুষকে রক্ষা করতে নবগঠিত সর্বদলীয় সরকার সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে আছে।

কিছুদিন আগে ড. কামাল হোসেন, ড. আলী আকবর খান এবং সুলতানা কামাল স্বউদ্যোগে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে। উদ্দেশ্য ছিল, সংকটময় পরিস্থিতি থেকে দেশকে উদ্ধার করতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করা। সেখানে তাঁরা অনেক কথাই বলেছেন, মতবিনিময় করেছেন। কিন্তু সারকথাটি বলেছেন উঠে আসার ঠিক পূর্বমুহূর্তে।

তাঁরা বলেছেন, রাষ্ট্রপতি যদি এই সংকটকাল কাটিয়ে ওঠার জন্য তাঁদের সহায়তা কামনা করেন, তাহলে তাঁরা সানন্দে সহযোগিতা করতে রাজি আছেন। এখানেই ছিল তাঁদের সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য। উনারা সহায়তা দিতে চান। সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের দুজন হচ্ছেন উপদেষ্টা, আরেকজন হচ্ছেন ১/১১ এর গেম মেকার। সুতরাং তাঁদের দৃষ্টি যে কোথায়, তা বুঝতে কি খুব বেশি জ্ঞানী হতে হবে?

এখন প্রশ্ন করা যেতেই পারে, দেশের এই পরিস্থিতিতে সম্মানিত নাগরিক হিসেবে উনাদের যে দায়ভার, তা কি উনারা পালন করছেন? বিগত মাসগুলোতে জামায়াতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বিএনপি নামক পাকি-পন্থী দলটি দেশের যে বারোটা বাজাচ্ছে, যেভাবে নিরীহ শিশুসহ সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে, বীভৎসভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করছে, সে ব্যাপারে একটা কথাও কি তাঁরা বলছেন? ন্যূনতম একটা সাংবাদিক সম্মেলন করে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বা নিন্দাজ্ঞাপন করে কি উনাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে পারতেন না?

বরং পরোক্ষভাবে সরকারের বিরোধিতা করে এবং বিএনপি-জামায়াতের ‘অসাংবিধানিক’ দাবির পক্ষে সমর্থন দিয়ে এই সুশীল নাগরিকগণ হত্যা, ধ্বংস, লুটতরাজকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। পর্দার আড়ালের এই তথাকথিত সুশীল সমাজের সরাসরি এবং পরোক্ষ ইন্ধনে জামাতিরা দেশে যে অরাজকতার সৃষ্টি করছে, তার দায়ভার একমাত্র এই সুশীলদেরই।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের একদিন পরেই এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে ড. কামাল হোসেন সম্পূর্ণ আইন-বহির্ভূতভাবে সাংবাদিকদের বললেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চান। একজন আইনবিশেষজ্ঞ এবং সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম হয়েও কীভাবে তিনি বিএনপির এই অসাংবিধানিক দাবির পক্ষে অবস্থান নেন তা বোধগম্য নয়।

অথচ তাঁর যথেষ্ট সুযোগ ছিল সাংবাদিকদের মাধ্যমেই বিএনপিকে তার হঠকারী রাজনীতি থেকে সরে আসার পরামর্শ দেওয়ার। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, এই তথাকথিত সুশীল সমাজ কি তাহলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে? তাঁরা কি দেশকে আবার সেই ২০০১-২০০৬ এর আহেলি যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চান? দেশে যে জ্বালাও-পোড়াও হত্যাযজ্ঞ চলছে, সেগুলো কি তাঁদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়? অবস্থাদৃষ্টে এছাড়া অন্যকিছু ভাবার অবকাশ আছে বলে মনে করা যাচ্ছে না। দেশে বর্তমানে যা কিছু আছে হচ্ছে, তাতে এই তথাকথিত সুশীলদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ মদদ এবং সমর্থন যে আছে বললে কি ভুল বলা হবে?

এ তো গেল সুশীলদের কাণ্ডকারখানা। এবার দেখা যাক দেশের এই অশান্ত অবস্থায় বামদের ভূমিকা কী! বামদের কাণ্ডারী সিপিবি-বাসদ স্বপ্রণোদিত হয়ে দৌড়ঝাঁপ করেছেন কিছুদিন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসলেন এক সারা সন্ধ্যা। খাওয়া-দাওয়া করলেন। আলাপ-আলোচনাও করলেন। তাঁরা অনেক ভালো ভালো কথার আদান-প্রদানও করলেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের অনুরোধ মোতাবেক কিছু কথা দিয়ে তাঁদের আশ্বস্তও করলেন।

তারপর বাম-বন্ধুরা বসলেন বিরোধী শিবিরের প্রধান খালেদা জিয়ার সঙ্গে। সেখানে খাওয়া-দাওয়া না হলেও যথেষ্ট ভালো আলাপ-আলোচনা হয়েছে বলে খবরের কাগজে দেখেছি। বাম-বন্ধুরা অর্থাৎ সিপিবি-বাসদের নেতারা বিএনপি নেতাকে স্পষ্টতই বলেছেন, জামায়াতকে ছেড়ে নির্বাচনে আসতে হবে। অর্থাৎ জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে, তাঁদের নির্বাচনী দাবির পক্ষে তাঁরা থাকবে না।

খালেদা জিয়া তাঁদের কথা শুনেছেন শুধু; কিন্তু কোনো উত্তর দেননি। অথচ এই দ্বিপাক্ষিক সভার পরে এই বামরা এমন এক হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলেন যে সারা জাতিই স্তব্ধ হয়ে গেল। সিপিবি এবং বাসদ এখন বলছে যে, বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ না নেয়, তাহলে তাঁরাও নির্বাচনে যাবেন না। অথচ বামদের দাবি মোতাবেক বিএনপি কখনওই জামায়াত ত্যাগের কথা তো বলেইনি, বরং জামায়াতের জঙ্গীদের দিয়ে দেশে জ্বালাও-পোড়াও, হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।

তাহলে কী দাঁড়াল? জামাত এবং বিএনপি যদি নির্বাচনের সুযোগ না পায়, তাহলে বাম-বন্ধুরা বেজায় গোস্বা করে নির্বাচন বর্জন করবেন। হঠকারিতারর একটা সীমা থাকে। এই বামরা সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে এখন জামায়াতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নির্বাচনের দাবিতে হাসিনা সরকারের পদত্যাগ চাইছেন!

বামধারার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনসমর্থন দিন দিনই কমেছে এমনিতেই সেটা ভাবার কারণ নেই। দলগুলোর নিজস্ব যে আদর্শ বা লক্ষ্য, তা পূরণে রয়েছে সীমাহীন ব্যর্থতা। দেশে প্রায় ২০টির মতো বাম রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব থাকলেও, তার তিন ভাগের এক ভাগ হয়তো কিছুটা সক্রিয়। বাকিরা প্রায় নামসর্বস্ব। সবচেয়ে হতাশার কথা হচ্ছে, এই বামরা এতটাই অপাংক্তেয় করে ফেলেছে নিজেদের যে, শেষ পর্যন্ত জামায়াত এবং তাদের দোসর বিএনপির কাঁধে ভর দিয়ে হাঁটতে হয়!

এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন বাংলাদেশে গভীর রাত। শুনলাম, বিএনপি গভীর রাতে সংবাদ সম্মেলন করে আবারও ৭২ ঘণ্টার অবরোধ দিয়েছে। অর্থাৎ জামায়াতের আফগান-পাকিস্তান ফেরত জঙ্গিদের হাতে ‘লাইসেন্স টু কিল’-এর হাতিয়ার আবারও তুলে দিয়েছে।

এর দায়ভার এখন কি শুধু বিএনপিকে দেওয়া ঠিক হবে? এর সঙ্গে তথাকথিত সুশীল সমাজসহ বামরাও কি দায়ী থাকবে না? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় বামরা, অসাম্প্রদায়িক দেশ চায় তারা। অথচ আজ তারাই সম্ভবত কোনো মুচলেকার পরিবর্তে এই যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে স্বাধীনতার পক্ষশক্তির বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে! এটা শুধু দুঃখজনক নয়, নিঃসন্দেহে ভয়াবহও।

গত তিনদিনের অবরোধে মানুষ মরেছে প্রায় ২৫ জনের অধিক এবং মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে তারও দ্বিগুণ সংখ্যক। হতাহত হয়েছে অজ্ঞাত সংখ্যক। জ্বালাও-পোড়াওয়ে ভস্মীভূত হয়েছে কয়েক শত কোটি টাকার সম্পদ। অসাংবিধানিক একটি দাবিতে এভাবে বাংলাদেশকে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করছে বিশেষ একটি গোষ্ঠী। তারা কেন করছে এগুলো? এই গোষ্ঠীর সঙ্গে নীতিগত অবস্থান থেকে সরে এসে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন তথাকথিত সুশীল আর বামরা।

যারা এই দেশটাকে শত্রু দেশ হিসেবে বিবেচনা করে একের পর এক ধ্বংসযজ্ঞ, হত্যা, লুটতরাজ করে যাচ্ছে– তাদের ভোট চাওয়ার অধিকার কোথায়? কোন মুখে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা তারা উচ্চারণ করতে পারে? তারা এদেশের কে? এদের সঙ্গে কারা সংলাপে বসতে বলেন? এদের হাতে কারা দেশের অভিভাবকত্ব তুলে দিতে চান?

আজ সময় এসেছে এর জবাব চাওয়ার। আমরা কেন তাদের ভোট দেব? আমরা কেন তাদের নির্বাচনে দাঁড়ানো মেনে নেব? আমরা কেন এদের এমপি-মন্ত্রী হিসেবে বসাতে চাইব? তাহলে কি আমরাও ওদের মতো হিংস্র-জানোয়ারের কাতারেই নিজেদের দাঁড় করাতে চাই?

জ্বালানো-পোড়ানো-হত্যাযজ্ঞ দাবি আদায়ের হাতিয়ার হতে পারে না। আর এই সংস্কৃতির প্রতি যারা সহানুভূতিশীল, আজ সময় এসেছে তাদেরও ‘ত্যাজ্য’ ঘোষণা করার। গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ আমরা এ দেশে দেখতে চাই। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া চলবে না। যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না, তাদের কালের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করতে হবে।

ট্রেনের পাঁচ শতাধিক নিরীহ মানুষের জীবন বাঁচাতে অশিক্ষিত কৃষক ‘তাজুল ইসলাম’ যখন বিবেকের তাড়নায় উদ্যোগী হন, আমাদের মানবতাবোধ তখন মূক হয়ে যায়। তাজুলই হোন আমাদের প্রতীক— তাজুলকেই নেতা মানতে চাই– তথাকথিত সুশীল, সিপিবি-বাসদের প্রত্যক্ষ প্রশ্রয়ে বেড়ে ওঠা জামায়াত-বিএনপির নেতাদের নয়!

নবগঠিত সর্বদলীয় সরকারের উদ্দেশে একটি কথাই বলা দরকার– দেশের জনগণকে সেবার ব্রত নিয়ে, তাঁদেরই ট্যাক্সের টাকায় আপনারা বেতন নিচ্ছেন। দেশে আর্মি-বিডিআর-পুলিশ-র‌্যাব থাকা সত্ত্বেও জনগণের রক্তের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে একাত্তরের হায়েনারা। আগুনে জ্বালিয়ে দিচ্ছে, ভেঙেচুরে তছনছ করে দিচ্ছে সারাটা দেশ। দেশ এবং জনগণকে বাঁচানাঁর দায় আপনাদের। আপনারা কি এই দায়টুকু অনুভব করছেন না?

তাহলে এখন আর সংলাপ নয়, হোক তবে প্রতিরোধ।

৩২ thoughts on “পোড়া মৃতদেহের রাজনীতি ও সময়ের গল্প

  1. চমৎকার বিশ্লেষন। অনলাইনের
    চমৎকার বিশ্লেষন। অনলাইনের অন্য কোন মাধ্যমে প্রকাশ না পেলে এই লেখাটাকে স্টিকি করার জন্য জোর দাবী জানাতাম। যদি সম্ভব হয়, তাহলে বিশেষ বিবেচনায় স্টিকি করা যেতে পারে। তবে কর্তৃপক্ষের কাছে লেখাটি মতামত বিভাগে সংযোজিত করার জন্য জোর আবেদন জানাচ্ছি।

  2. আসলেই চমৎকার বলেছেন… ভালো
    আসলেই চমৎকার বলেছেন… ভালো লাগলো… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    তাহলে এখন আর সংলাপ নয়, হোক তবে প্রতিরোধ

    সহমত… :জলদিকর: :অপেক্ষায়আছি: এখন আর পিছনে ফিরবার সময় নেই… :এখানেআয়: :এখানেআয়:

  3. তাহলে কি আমাদের দেশে একটা

    তাহলে কি আমাদের দেশে একটা অঘোষিত যুদ্ধ চলছে? কে কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে? কেন করছে? এর যৌক্তিকতা কী? অনেক প্রশ্নই আজ সাধারণ মানুষের মনে ঘুরেফিরে আসছে। কিন্তু উত্তর দেওয়ার যেন কেউ নেই এ দেশে। আসলে হচ্ছেটা কী?

    মরন মরন খেলা,

  4. চমৎকার বিশ্লেষণ। তবে আওয়ামী
    চমৎকার বিশ্লেষণ। তবে আওয়ামী লীগ কিছুই করবে না বলেই মনে হয়। কারণ তারাও তো এইসব করেই ক্ষমতায় এসেছিল। বিএনপি সেই পথেই হাঁটছে। আর মরছে সাধারণ মানুষ। :মনখারাপ:

  5. চমৎকার বলেছেন।সুন্দর
    চমৎকার বলেছেন।সুন্দর বিশ্লেষণ।

    পরোক্ষভাবে সরকারের বিরোধিতা করে এবং বিএনপি-জামায়াতের ‘অসাংবিধানিক’ দাবির পক্ষে সমর্থন দিয়ে এই সুশীল নাগরিকগণ হত্যা, ধ্বংস, লুটতরাজকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। পর্দার আড়ালের এই তথাকথিত সুশীল সমাজের সরাসরি এবং পরোক্ষ ইন্ধনে জামাতিরা দেশে যে অরাজকতার সৃষ্টি করছে, তার দায়ভার একমাত্র এই সুশীলদেরই।

  6. এই পোস্ট আধা বালতি দুধ আর আধা
    এই পোস্ট আধা বালতি দুধ আর আধা বালতি গোবরের অপুর্ব সমন্বয়; আর গোবরটুকু, জনাব সাব্বির খান, আপনার মগজের দীনতা নির্দেশ করছে। বোধ করি আপনার মগজে ঐ বস্তু আশঙ্কাজনকভাবে বেশি পরিমানেই আছে। :ক্ষেপছি:

    যাইহোক, পয়েন্টে আসি,

    এখানে প্রথমেই আপনি এমন উপস্থাপন করলেন যেন, বিএনপি-জামাতের পশুগুলোর তান্ডবে জনমানুষের যে কান্না, জীবনহানি তাতে আপনার বুক ফেটে যাচ্ছে, দরদ উথলে পড়ছে।
    তা পড়ুক; পড়ে ভেসে গেলেও সমস্যা নেই। নিপীড়িত মানুষের জন্যই তো। :থাম্বসআপ:

    কিন্তু আপনার লেখার আর কয়েক লাইন পড়তেই আপনার আসল ভেল্কী দেখতে লাগলাম; বুঝতে পারলাম প্রবাসে বসে আপনি বাঙলার মানুষের দরদে ব্যথিত হয়ে সজল চোখে এ লেখা লিখতে বসেনি;
    লিখতে বসেছেন পীরের সেবার, আওয়ামী পীর।

    সেখানেই পদস্খলনটা ঘটল,আপনি লাইনচ্যুত হলেন।

    ‘পচে যাওয়া’ বামদের ন্যাক্কারজনক অবস্থান নেওয়া দেখে পুরো জাতি আজ হতাশ।

    তাহলে কী দাঁড়াল? জামাত এবং বিএনপি যদি নির্বাচনের সুযোগ না পায়, তাহলে বাম-বন্ধুরা বেজায় গোস্বা করে নির্বাচন বর্জন করবেন। হঠকারিতারর একটা সীমা থাকে। এই বামরা সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে এখন জামায়াতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নির্বাচনের দাবিতে হাসিনা সরকারের পদত্যাগ চাইছেন!

    সবচেয়ে হতাশার কথা হচ্ছে, এই বামরা এতটাই অপাংক্তেয় করে ফেলেছে নিজেদের যে, শেষ পর্যন্ত জামায়াত এবং তাদের দোসর বিএনপির কাঁধে ভর দিয়ে হাঁটতে হয়!

    আপনার করা এই মতামতগুলোর দায়িত্ব নিন এবং ব্যাখ্যা দিন। (উইথ প্রপার ডাটা অফকোর্স) নতুবা বলুন, চাপার ফ্লেকজিবিলিটির দরুন বলে ফেলেছেন।

    শেষ কথা- এখানে আপনি আপনার প্রোপ্যাগান্ডা পূরণে এতটাই সচেষ্ট ছিলেন যে, ইতিহাস পর্যন্ত ভুলেছেন
    , ভুলেছেন ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন কথা ও তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া।

    ঐ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি; আওয়ামী লীগ করেছিল।

    তার ফলশ্রুতিতেই কিন্তু পাবলিক সিম্প্যাথি তারা পেয়েছিল; খালেদা জিয়া পরিচিত হয়েছিলেন আপোষহীন নেত্রী হিসেবে। ( তাই জনগণের পালস বোঝা গুরুত্বপূর্ণ )

    এবং পরবর্তীতে ১৯৯১ এর নির্বাচনের মাধ্যমে তারা কিন্তু ক্ষমতায় এসেছিল।

    তাই এবার যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, তারপর আওয়ামী লীগ যদি জয়লাভ করে ্ক্ষমতায় আসে, তাহলে যে তার এক বছরের মধ্যে বিএনপি জামাতের তাণ্ডব সীমাপরিসীমা ছাড়াবে এবং দ্বিগুণ ক্ষমতা নিয়ে তাদের প্রত্যাবর্তন (কারন পাবলিক সিম্প্যাথি) হবে, তা কি অনুধাবন করতে পারছেন ?
    অবশ্য সেটা অনুধাবন করার মত আইকিঊ আপনাদের আছে কিনা সেটা ভাববার বিষয়;
    বামদের আছে; তাই তারা সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন চাচ্ছে।

    (যথাযথ যৌক্তিক অবস্থান ছাড়া বানের জলে লাফিয়ে নিজেকে আবাল হিসেবে প্রমাণ করা যায়, এর বেশি কিছু নয়)

    আর এই পোস্ট স্টিকি করায় ইস্টিশন কতৃপক্ষের বিবেচনা বোধ নিয়েও আমি সন্দিহান।

    1. এই পোস্ট আধা বালতি দুধ আর আধা

      এই পোস্ট আধা বালতি দুধ আর আধা বালতি গোবরের অপুর্ব সমন্বয়; আর গোবরটুকু, জনাব সাব্বির খান, আপনার মগজের দীনতা নির্দেশ করছে। বোধ করি আপনার মগজে ঐ বস্তু আশঙ্কাজনকভাবে বেশি পরিমানেই আছে।

      ফাউস্টের সাথে সহমত। উপরের পোস্টের কথাগুলো ব্রেইন ওয়াশড আওয়ামী দালালদের মুখ থেকে বের হতে পারে।

      পচে যাওয়া’ বামদের ন্যাক্কারজনক অবস্থান নেওয়া দেখে পুরো জাতি আজ হতাশ।

      তাহলে কী দাঁড়াল? জামাত এবং বিএনপি যদি নির্বাচনের সুযোগ না পায়, তাহলে বাম-বন্ধুরা বেজায় গোস্বা করে নির্বাচন বর্জন করবেন। হঠকারিতারর একটা সীমা থাকে। এই বামরা সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে এখন জামায়াতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নির্বাচনের দাবিতে হাসিনা সরকারের পদত্যাগ চাইছেন!

      সবচেয়ে হতাশার কথা হচ্ছে, এই বামরা এতটাই অপাংক্তেয় করে ফেলেছে নিজেদের যে, শেষ পর্যন্ত জামায়াত এবং তাদের দোসর বিএনপির কাঁধে ভর দিয়ে হাঁটতে হয়!

      পোস্টদাতার কাছে উপরের কোডকৃত বক্তব্যগুলোর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবী করছি। অন্ধ ও দলকানাদের মত বক্তব্য দিলেই মেনে নিতে কেন হবে?

      আর এই পোস্ট স্টিকি করায় ইস্টিশন কতৃপক্ষের বিবেচনা বোধ নিয়েও আমি সন্দিহান।

      মিঃ ফাউস্ট, ইস্টিশন বামরা লিজ নিয়েছে কবে থেকে? একটা সাইনবোর্ডের নীচে ১০জনের পার্টির সমর্থকদের মুখ থেকে এমন কথা মানায় না।

      1. বাম, ডান কারো পক্ষে বা
        বাম, ডান কারো পক্ষে বা বিপক্ষে থাকার কারণে আমি এই পোস্টের স্টিকি হওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করিনি; করেছি গুণগত মানের কারণে। (সুতরাং লীজের কথা অর্থহীন )
        ধন্যবাদ। :গোলাপ:

      2. উনি আওয়ামি পক্ষ নিয়ে লিখেছেন
        উনি আওয়ামি পক্ষ নিয়ে লিখেছেন বলছেন ঠিক আছে, মানা যায়। কিন্তু কিছু প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনেও উদয় হয় , তার কোন একটার জবাব কি আছে ??
        “এই অবরোধের/হরতাল উদ্দেশ্য কি বাস,পথের মানুষ পোড়ানো ছিল ??
        ট্রেনের লাইন প্রতিদিন উপড়ে ফেলার কথা ছিল ??
        অসুস্থ সন্তানকে বাবার কোলে মারা যাওয়ার জন্য ছিল ??”
        এতগুলো মানুষের প্রান নিয়ে খেলার, দায় দায়িত্ব কি আমাদের সাধারনদের?যারা রাজনীতি করিনা??

    2. জানি কিছুটা অনধিকার চর্চায়
      জানি কিছুটা অনধিকার চর্চায় বলতে দ্বিধা করবেন না আপনি। তবুও বলছি দায়িত্ব নিয়ে…

      ক) ‘পচে যাওয়া’ বামদের ন্যাক্কারজনক অবস্থান নেওয়া দেখে পুরো জাতি আজ হতাশ।
      – এ কথা অখ্যাত সাব্বির বললে হয়ে যায় বিবেকের দৈন্যতা আর হুমায়ুন আজাদ স্যার ‘চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুড়ে এক দিন সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে’ এমন শৈল্পিকভাবে বললে না হয় যথার্থ হয় বুঝলাম। স্যারকে আবারও স্যালুট :salute: :salute: :salute:
      সত্যি বলতে কি আমি আশায় ছিলাম ১৪ দল মহাজোট থেকে বের হয়ে এসে সিপিবি, বাসদ, কমিউনিস্ট পার্টি, গণফোরাম সহ মুক্তিযুদ্ধপন্থী বামদলগুলো একটা যুক্তফ্রন্ট করবে। কিন্তু কিছুই হল না স্যারের কথাটা বরাবরের মত সত্য প্রমাণ করে। বামেরা এখন মানুষের কথা বলে কিছুটা নৈতিক স্ট্যান্টবাজদের মত করে…

      খ) বামের এই নেতারা বলেছিল তারা বিএনপিকে জামাত থেকে সরে আসতে বলবে এবং বিএনপি মেনে নিলে তাদের সাথে একাত্মা ঘোষণা করবে। কিন্তু বিএনপি না শুনেই কি এমন রাজনৈতিক রুপের (!!) যাদু দেখাল বুঝলাম না? একে হঠকারিতা বললেও কম হয়ে যায়!! সাব্বির ভাইকে ধইন্যা :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

      গ) ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে এর থেকে উপযুক্ত সময় আসে নাই যখন যুক্তফ্রন্ট নামের কোন নতুন আদর্শিক রাজনৈতিক জোট দেশের প্রধান বিরোধীদল হয়ে আদর্শিক রাজনীতির ধারায় দেশকে ফেরাতে পারতো ।। অবশেষে একাত্তরের মত আওয়ামীলীগকে একাই কাটা দিয়ে কাটা তুলতে হচ্ছে… লাভবান হবে শেষ পর্যন্ত এই বামেরাই… কেননা স্বৈরচারী এরশাদ কে দিয়ে অপেক্ষাকৃত অধিক বিপদজনক ছদ্ম-স্বৈরাচারী জিয়ার অপরাজনীতির মূল উৎপাটন হবে বাঙলার রাজনীতির ইতিহাসের সবচে অনবদ্য এবং শৈল্পিক অহিংস রাজনৈতিক বিপ্লব!!

      ঘ) আর ইতিহাস আচনকা ১৯৮৬ থেকে শুরু হল ক্যামনে জানি না।। বাঙলার ইতিহাসতো ১৯৫২ থেকে অথবা আপনি ১৯৭১ থেকেও বলতে পারেন। ১৯৭৫ এর সব ভুলে গেলেন? সংবিধানে জেনারেল জিয়া বিসমিল্লাহ এবং লেঃ জেনারেল এরশাদ রাষ্ট্রধর্মের সন্নিবেশ করা, ১৯৭৮ সালে নিষিদ্ধ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আবার জায়েজ করে, অতঃপর স্বেচ্ছাচারী রাজাকার পুনর্বাসন সবই ভুলে খালি ১৯৮৬ বলবেন? ভাল তো!! ভাল না?

      আপনি বরাবরই কারো পোস্টে এতো আক্রমণাত্মক হয়ে মন্তব্য করেন যেন আপনিই সবই জানেন আর কেউ কিছু জানে না। দেখেন সাব্বিরখানের এই পোস্ট স্টিকি হওয়ার কতটা যৌক্তিকতা রাখে তা বুঝতে হয়তো আপনাকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে!! তবে একটা শেষ কথা আমি বলি ‘সহিংসতা কেবল মাত্র অযোগ্যদেরই হাতিয়ার’… আর তর্কের আচরণবিধি লঙ্ঘনও আমি হিংস/সহিংস আচরণ মনে করি…

    3. ফাউস্ট আপনার পয়েন্ট গুলো
      ফাউস্ট আপনার পয়েন্ট গুলো একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো না। তবে ভাষাটা বেশী আক্রমণাত্মক মনে হয়েছে আমার কাছে। কিছুটা ব্যক্তি আক্রমণাত্মকও বটে। এটা পরিহার করলেই উত্তম। :ফেরেশতা:

  7. ধন্যবাদ, তারিক ভাই, অপেক্ষার
    ধন্যবাদ, তারিক ভাই, অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগমনের জন্য। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
    তার উপর সাথে নিয়ে এলেন একরাশ বিনোদন; এ যেন মেঘ না চাইতেই জল। :ভালাপাইছি:
    লন আরও :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

    ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৭৫,১৯৭৮ এর ঘটনাক্রম আমাদের ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ; কিন্তু এই পোস্টের ঠিক কোন অংশের প্রেক্ষিতে আমার সেটা বয়ান করা যথাযথ হত? বলে বাধিত করবেন।

    তারপরও আপনি যখন বললেল তখন পরবর্তীতে অবশ্যই আমি ধান ভানতে শিবের গীত গাইব। প্রমিজ। :bow: :bow:

    1. টু দ্যা পয়েন্ট আলোচনা না করে
      টু দ্যা পয়েন্ট আলোচনা না করে এমন গ্রস মন্তব্য করা আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে! আপনি ১৯৮৬, ১৯৯১ এর যেই বিশ্লেষণ করেছেন তা কতটা অতিসরলীকরণ হয়েছে তা বুঝতে বেশী না মাত্র ২/৩ বছর অপেক্ষা করতে হবে!! তখন বাঙলায় বিষক্রিয়া শুরু হয়েছিল আর এখন বিষমুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ…

      শুভ কামনা!! অপেক্ষায় রইলাম শিবের গিত শুনার জন্য… শীতের দিনে খেজুরের রসের সাথে চিতই পিঠা আর বাড়তি পাওনা শিবের গীত!! দুর্দান্ত হবে…

      1. ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৭৫,১৯৭৮ এর
        ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৭৫,১৯৭৮ এর ঘটনাক্রম আমাদের ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ; কিন্তু এই পোস্টের ঠিক কোন অংশের প্রেক্ষিতে আমার সেটা বয়ান করা যথাযথ হত?

        উত্তর দিন।

        1. যেই প্রেক্ষিতে আপনি ১৯৮৬ এবং
          যেই প্রেক্ষিতে আপনি ১৯৮৬ এবং ১৯৯১ এর জুজু দেখাইছেন!! ইতিহাসের নির্ধারিত ধারা আছে একটু ভালভাবে ড্রিল-আউট করে ইতিহাসের প্রাসঙ্গিকতা আনা উচিৎ… এরপরও যদি আপনার ডাউট থাকে বিচারকর্তা হিসেবে যথার্থ বিচারক সময়ের রায়ের অপেক্ষায় থাকুন!! ধন্যবাদ… ভাল থাকুন!!

  8. বামগো কথা বাদ দেন আপনে আগে
    বামগো কথা বাদ দেন আপনে আগে আমগোরে বুঝান দেশের যে অবস্থা তাতে পাবলিক কি ভোট দিতে যাইবো নিকি বায়বীয় ইলিকশন হইব ? ইমামে চুর, চুরেদের বাদশা এরশাদরে লইয়া ইলিকশনের যে ব্যবস্থাটা হইছিল সেইটাও মনে হয় আপাতত গেল; তাইলে ইলিকশন হবে কাকে কাকে লইয়া ?

    প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী এমনতর একটি বাংলাদেশ অবলোকন করেছিল যাতে বিএনপির সাথে অংশ নেয় ফ্রিডম পার্টি (একটি আসন পায় তারা), বিএনপি সেই নির্বাচন টিকিয়ে রাখতে পারেনি, গদি তাকে ছাড়তে হয়েছিল এবং তখনকার বিরোধী দল আওয়ামী লীগের আন্দোলন খুব একটা আনন্দদায়ক বা উৎসবমুখর ছিল না তবু জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে একুশ বছর পর ক্ষমতায় এনেছিল।

    এবারের পরিস্থিতি যতই অসাংবিধানিক আখ্যা দেয়া হোক না কেন জনসমর্থন সরকারের বিরুদ্ধেই। যেমনটা ২০০৫-০৬ এর আন্দোলনও অসাংবিধানিকই ছিল কারণ কে এম হাসানকে সাংবিধানিকভাবেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার চক্রান্ত করেছিল চার দলীয় জোট কিন্তু আওয়ামী লীগ তখনও জিতেছিল।

    জনগণ সংবিধানের জটিল জটিল ধারা না বুঝলেও কোনটা ফেয়ার আর কোনটা আনফেয়ার সেটা বোঝে।

    আমরা আসলে দুই দল মাফিয়ার ফাঁপরে আছি, ফুটন্ত পাতিল থেকে জ্বলন্ত উনুনে পতনই আমাদের নিয়তি।

  9. ফাউস্ট ভাই এর মন্তব্য ভাল
    ফাউস্ট ভাই এর মন্তব্য ভাল লেগেছে। :রকঅন: :salute: :salute: তবে একটু বেশি আক্রমণাত্মক ছিল। তারিক ভাই ভাল বলেছেন। :থাম্বসআপ:

    সাব্বির ভাই এর কাছে বলার ছিল,

    তারপর বাম-বন্ধুরা বসলেন বিরোধী শিবিরের প্রধান খালেদা জিয়ার সঙ্গে। সেখানে খাওয়া-দাওয়া না হলেও যথেষ্ট ভালো আলাপ-আলোচনা হয়েছে বলে খবরের কাগজে দেখেছি। বাম-বন্ধুরা অর্থাৎ সিপিবি-বাসদের নেতারা বিএনপি নেতাকে স্পষ্টতই বলেছেন, জামায়াতকে ছেড়ে নির্বাচনে আসতে হবে। অর্থাৎ জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে, তাঁদের নির্বাচনী দাবির পক্ষে তাঁরা থাকবে না।

    খালেদা জিয়া তাঁদের কথা শুনেছেন শুধু; কিন্তু কোনো উত্তর দেননি। অথচ এই দ্বিপাক্ষিক সভার পরে এই বামরা এমন এক হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলেন যে সারা জাতিই স্তব্ধ হয়ে গেল। সিপিবি এবং বাসদ এখন বলছে যে, বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ না নেয়, তাহলে তাঁরাও নির্বাচনে যাবেন না। অথচ বামদের দাবি মোতাবেক বিএনপি কখনওই জামায়াত ত্যাগের কথা তো বলেইনি, বরং জামায়াতের জঙ্গীদের দিয়ে দেশে জ্বালাও-পোড়াও, হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।

    তাহলে কী দাঁড়াল? জামাত এবং বিএনপি যদি নির্বাচনের সুযোগ না পায়, তাহলে বাম-বন্ধুরা বেজায় গোস্বা করে নির্বাচন বর্জন করবেন।
    – See more at: http://istishon.blog/node/5791#sthash.G2h64RRP.be6dxiFx.dpuf

    আমার মনে হয় আপনি বাম দলের নেতাদের কথা পুরতা শুনেননি। কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদাজিয়া এর সাথে সংলাপ এর পর জা বলসেন তা এরকম,http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/62854/%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%A8_%E0%A6%A8%E0%A7%9F_%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%9F%E0%A7%81_%E0%A6%9F%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF_%E0%A6%9F%E0%A7%81_%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A7%87_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87
    তবে হা উনি বলেছেন, প্রধান বিরোধী দল বিনপি নির্বাচনে না গেলে সিপিবি নির্বাচনে যাবেন না। কারন একতরফা নির্বাচন হলে তা কোন নির্বাচন নয়। লক্ষ্য করেন সাব্বির ভাই, উনি কিন্তু জামাত এর কথা বলেননি। উনি বলেছেন, সব দলের অংশগ্রহণ এ নির্বাচন চাই।
    দ্বিতীয়ত, আচ্ছা ভাই আপনি সব দলের সমালচনা করলেন। খুবি ভাল লাগলো। আনেক কিছু শিখলাম। :গোলাপ: :গোলাপ: কিন্তু একটা দল মনে হয় মনের ভুলে বাদ দিয়ে গেছেন, তা হল বর্তমান ক্ষমতাশীল দল। আশা করি তা নিয়ে দ্রুতই বলবেন।
    ধন্যবাদ।

  10. উনি আওয়ামি পক্ষ নিয়ে লিখেছেন
    উনি আওয়ামি পক্ষ নিয়ে লিখেছেন বলছেন ঠিক আছে, মানা যায়। কিন্তু কিছু প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনেও উদয় হয় , তার কোন একটার জবাব কি আছে ??
    “এই অবরোধের/হরতাল উদ্দেশ্য কি বাস,পথের মানুষ পোড়ানো ছিল ??
    ট্রেনের লাইন প্রতিদিন উপড়ে ফেলার কথা ছিল ??
    অসুস্থ সন্তানকে বাবার কোলে মারা যাওয়ার জন্য ছিল ??”
    এতগুলো মানুষের প্রান নিয়ে খেলার, দায় দায়িত্ব কি আমাদের সাধারনদের?যারা রাজনীতি করিনা??

    1. দুলাল ভাই,
      মূলত যথেষ্ঠ সময়ের

      দুলাল ভাই,

      মূলত যথেষ্ঠ সময়ের অভাবে কিছু লেখার সুযোগ করতে পারছি না। তবে মাঝে মাঝে বিভিন্ন পাঠকের মন্তব্য দেখছি। আর ব্লগের নিজস্ব ভাষার যে একটা স্টাইল আছে, তাতে আমি খুব বেশী পরিচিত বা অভ্যস্ত নই। তাই বলতে পারেন, ভয়জড়িত দ্বিধা-দ্বন্দে আছি। কি লিখতে আবার কি লিখে ফেলি…

      1. হাহাহহাহাহাহ….. কি যে বলেন
        হাহাহহাহাহাহ….. কি যে বলেন ভাই। আপনি যা বিশ্বাস করেন, সেটা নিদ্দির্ধায় প্রকাশ করবেন। কে কি মনে করল, তাতে কিছু যায় আসে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *