অনুগল্প – সিগারেট

আমি ইলিশ মাছ পছন্দ করি , কিন্তু ইলিশের মাথা দিয়ে পুঁইশাকের তরকারী পছন্দ করি না । যতবার খেয়েছি গলায় আঁটকে গিয়েছে । আজও তাই হল ।

বাবা বলল – মুঠো করে সাদা ভাত গিলে ফেল । একদম চাবাবি না । একেবারে গিলে ফেলবি । দেখবি ভাতের সাথে কাঁটা পেটে ডুকে যাবে ।

আমি মুঠো মুঠো সাদা ভাত গিলতে শুরু করলাম । না চাবিয়ে ভাত গিলা কঠিন । ইচ্ছে হয় দাঁত দিয়ে ভাত পিষে ফেলতে ।


আমি ইলিশ মাছ পছন্দ করি , কিন্তু ইলিশের মাথা দিয়ে পুঁইশাকের তরকারী পছন্দ করি না । যতবার খেয়েছি গলায় আঁটকে গিয়েছে । আজও তাই হল ।

বাবা বলল – মুঠো করে সাদা ভাত গিলে ফেল । একদম চাবাবি না । একেবারে গিলে ফেলবি । দেখবি ভাতের সাথে কাঁটা পেটে ডুকে যাবে ।

আমি মুঠো মুঠো সাদা ভাত গিলতে শুরু করলাম । না চাবিয়ে ভাত গিলা কঠিন । ইচ্ছে হয় দাঁত দিয়ে ভাত পিষে ফেলতে ।

আমার কাশির শব্দ শুনে মা বুঝে ফেলেছেন আবারও আমার গলায় কাঁটা বিঁধেছে । বিছানায় শুয়ে চিৎকার করে বাবাকে বলছেন

-কতবার বলেছি , ইলিশের মাথা রাঁধবে না । ঠিক মতো রাঁধতে পারো না উল্টো তরকারী ভর্তি থাকে কেবল কাঁটা । এই তরকারী কি খাওয়া যায় ! তোমার কি আর কোনকালেই আক্কেল হবে না ?

মায়ের সামনে বাবা হাঁটু চুলকাতে চুলকাতে এদিক ওদিক তাকায় । প্যারালাইসিস হয়ে মায়ের ডান পাশ একদম অকেজো হয়ে যাবার পর মায়ের কোন কথার প্রতিবাদ বাবা করেন না । মা কিছু বললে বাবা অপ্রস্তুত মুখে কেবল হাঁটু চুলকায় । হাঁটু চুলকানো বাবার পুরনো অভ্যাস ।

আমি মুঠো মুঠো সাদা ভাত পেটে চালান করি । কিন্তু ইলিশ কাঁটা গলায় বহাল তবিয়তে আঁটকে রয় । “ ভাত মুঠোয় ডরে না বীর “
এখানে কাঁটা বীরের ভূমিকা নিয়ে নেয় ।

মা’কে ভাত খাইয়ে দিয়ে বাবা আমার কাছে এসে দাড়ায়

– নেয়ামুল কোরআনে কাঁটা নামানোর একটা আয়াত আছে । আয়াত পড়ে পানিতে ফু দিয়ে খেলে কাঁটা উদাও । আয়াতটা এখন মনে পড়ছে না । আমি নেয়ামুল কোরআন খুঁজে বের করছি । তুই টিপ দিয়ে বসে থাক ।

আমি টিপ মেরে রই । মুখে প্রচুর থুতু জমছে । গিলতে পারছি না । পিচিক পিচিক করে থুতু ফেলতে ফেলতে চারপাশ নোংরা হয়ে গেছে ।

বাবা সারা বাড়ি খুঁজে ফেলেছেন । নেয়ামুল কোরআন কই রেখেছেন তার মনে নেই । ভুলে গেছেন ।

-খোকা, এক কাজ কর । গলায় আঙ্গুল ঢুকিয়ে বমি করে ফেল । কাঁটা বের হয়ে যাবে । পারবি ? নাকি আমি গলায় হাত ডুকাবো ?

আমি জানি রাতে রান্না করবার মতো ফ্রিজে কিছু ছিল না । বাবা বাধ্য হয়েই ইলিশের মাথা রান্না করেছেন । আমি তার দিকে কোন অভিযোগ করেনি । তারপরও হয়তো তিনি নিজেকে অপরাধী ভাবছেন । গুমরো মুখে বাবা আমার চারপাশে ঘুরে বেড়ায় ।

-আঙ্গুল ঢুকিয়ে বমি কর খোকা । দেখবি ঠিক বের হবে । ছোটকালে আমার কতোবার গলায় কাঁটা বিঁধেছিল । এইটা কোন ব্যাপার ই না । তুই বমি কর ।

আমি গলায় আঙ্গুল ডুকিয়ে বমি করি । চোখে পানি এসে যায় । কাঁটা বের হয়ে আসে না । বাবা বিরস মুখে আমার চারপাশে ঘুরঘুর করতেই থাকেন ।

-খোকা , কাঁটা নেমেছে ?
– হুম । তুমি শুয়ে পরো । রাত অনেক হল ।

গলায় কাঁটার অস্বস্তি যন্ত্রনা নিয়ে আমি বারান্দায় এসে দাড়াই । গলা ব্যাথা করে খুব । ফস করে আগুন জ্বালিয়ে সিগারেট ধরাই । লম্বা টান দেই । কাঁটা ভুলে থাকার চেষ্টা । গ্রিলের ফাঁকা জায়গা দিয়ে শিরশির বাতাস আসচ্ছে । ভিজিয়ে দিতে চায় । সিগারেটের ধোঁয়ায় আমি আমার চারপাশে বলয় সৃষ্টির চেষ্টা করি । এই বলয় আমার কাঁটার অনুভূতি কমিয়ে দিবে ।

হঠাৎ আমার কাঁধে কারও হাতের স্পর্শ পাই । বাবা এসে দাঁড়িয়েছেন । আমি সিগারেট বাইরে ফেলতে যাবো এমন সময় তিনি বলেন –

-ফেলিস না খোকা , আমাকে দে । দুটা টান দেই ।

অবাক হলেও প্রতিবাদ করি না । বাবার হাতে সিগারেট তুলে দেই । তিনি এক টান দিয়েই কাশতে থাকেন । বাবার হাঁটু চুলকানোয় অভ্যাস আছে , সিগারেটে নেই । তারপরও তিনি জোরে জোরে সিগারেট টেনে যাচ্ছেন । বাবার সিগারেটের ধোঁয়া আমার চারপাশে বলয় তৈরি করছে ।

মানুষ প্রিয়জনের বলয়ে বন্দী হতে ভালোবাসে

৪৪ thoughts on “অনুগল্প – সিগারেট

  1. “হঠাৎ আমার কাঁধে কারও হাতের
    “হঠাৎ আমার কাঁধে কারও হাতের স্পর্শ পাই” এর আগপর্যন্ত সত্যিই অসাধারন ছিল। অসাধারনভাবেই শেষ করার ক্ষমতা আপনার ছিল।

  2. এক কথায় অন্যরকম এক অনুভূতি
    এক কথায় অন্যরকম এক অনুভূতি জাগানিয়া গল্প!! আপনার পক্ষেই সম্ভব সকল পপ্রকার অনুভূতি নিয়ে দারুণ দারুণ সব গল্প লেখা… :salute:

    খুব ভাল লাগল… আজ আর খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ব্যবচ্ছেদ করলাম না!! খুব ভাল লাগল… অন্যরকম ভাল লাগা!! :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  3. ভাল্লাগছে। লেখায় হুমায়ূন
    ভাল্লাগছে। লেখায় হুমায়ূন আহমেদের স্টাইল কিছুটা আছে। সেটা বড় কথা না। আর আমার কাছে তো শেষটাই বেশী ভাল্লাগছে।

      1. পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এরকম
        পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এরকম হতেই পারে জয়। সবকিছু কি ফর্মুলা মেনে চলে? পুরো গল্পের আবহ একটু মন দিয়ে পড় দেখবে আর অস্বাভাবিক লাগছে না।

      1. ওহ যা বলতে চেয়েছিলাম সেটাই
        ওহ যা বলতে চেয়েছিলাম সেটাই বলা হয়নি। বেশ কিছু বানান ভুল আছে লেখায়। যেমন “ঢুকে” বানানটা সবখানে ভুল করেছেন, এমনকি উপরের মন্তব্যেও। আপনি ভালো লেখেন তাই ভুল ধরিয়ে দিলাম। একটা ভালো লেখায় বানান ভুল মেনে নিতে কষ্ট হয়।

        1. আতিক ভাই , এইটা আমার একটা
          আতিক ভাই , এইটা আমার একটা খুব বাজে দিক , আমি খুব বানান ভুল করি । আমি খুব ই খুশি হইছি আপনি ধরিয়ে দিয়েছেন

          এই বানান ঠিক করবার জন্য অনেক ট্রাই করি , তারপরও হয়

        2. বুঝেছি হয়তো ফোনেটিভ বাংলা
          বুঝেছি হয়তো ফোনেটিভ বাংলা সফটওয়্যার ইউস করেন রিফাত ভাই। অভ্র টাইপ তাই তো??

          ঢুকে লিখতে টাইপ করুন Dhuke
          ঢ =Dh

        3. মাস্টার মশাই হিংসে হচ্ছে। আগে
          মাস্টার মশাই হিংসে হচ্ছে। আগে আমাকে ভুল ধরিয়ে দিলেও গত কয়েক পোস্ট ধরিয়ে দেন নি এমন কি দিকনির্দেশনাও পাই নি

  4. ভালো লাগলো সবার সাথে একমত
    ভালো লাগলো সবার সাথে একমত একটা অন্যরকম অনুভুতি কিন্তু ২ টা কুইশ্চেন ………
    ১। এই ঘটনা কি সত্যি নাকি যদি সত্যি হয় তাহলে কি আপনার বাবা আপনার কাছ থেকে সিগারেট নিয়েছেন…?
    ২। গলার কাটা কি এখনো আছে নাকি নেমে গেছে …… ?

    1. হাহাহাহা … কিছু কথা থাক না
      হাহাহাহা … কিছু কথা থাক না গুপন , তবে শিরোনামে একটা ক্লু দেয়া আছে ‘ অনুগল্প ‘

      আপনাকে অনেক ধন্যবাদ একেলা পথের পথিক :ফুল:

  5. ভালো লাগলো। বাবা ছেলের এই
    ভালো লাগলো। বাবা ছেলের এই কথোপকথনে দুরন্ত জয় অনেক অবাক হয়েছে। আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়েছে।
    এমনি তো হওয়া উচিত। 😀 😀 😀

    1. ঠিক তাই , পারিবারিক সম্পর্ক
      ঠিক তাই , পারিবারিক সম্পর্ক হবে মুক্ত আপন , বাধাহীন

      শুভেচ্ছা নিবেন অবাস্তব স্বপ্নচারী :ফুল:

  6. এমন হতে পারে। গল্প তো। ভাল
    এমন হতে পারে। গল্প তো। ভাল লেগেছে। আপনার গল্পের টারনিং গুলো খুব ভাল লাগে। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  7. গল্পের শেষের ঘটনাটা যদি আমার
    গল্পের শেষের ঘটনাটা যদি আমার ক্ষেত্রেও ঘটত! না, আমার ক্ষেত্রে এরকম হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।

    1. জানেন , আমারও ইচ্ছা গল্পের
      জানেন , আমারও ইচ্ছা গল্পের মতো যদি জীবন দেখা যেত । তবে হয় । অনেক সময় জীবন গল্পকে ছায়া দেয় ।

      মেহেদী হাসান , আমার শুভেচ্ছা জানবেন :ধইন্যাপাতা:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *