আমার স্বপ্নদুয়ার!

স্বপ্নদুয়ার’ আমার খুব পছন্দের একটি নাম। আমার ই-মেইল ঠিকানা, ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট, বাসার ওয়াই-ফাই, বাসার এবং অফিসের সিস্টেম ইউজার এ্যাকাউন্ট, আমার আরো অনেককিছুর নাম ‘স্বপ্নদুয়ার’।

যে স্বপ্নের দুয়ারে নিজেকে পৌছেঁ দেবার জন্য অর্হনিশ খাটুনি দিয়ে যাচ্ছি, হয়তো মিছেমিছি একটা নাম বানিয়ে সেটাকেই ছুয়েঁ খানিকটা নিছক ছেলেমানুষি তৃপ্তি খোজাঁর চেষ্টা….


স্বপ্নদুয়ার’ আমার খুব পছন্দের একটি নাম। আমার ই-মেইল ঠিকানা, ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট, বাসার ওয়াই-ফাই, বাসার এবং অফিসের সিস্টেম ইউজার এ্যাকাউন্ট, আমার আরো অনেককিছুর নাম ‘স্বপ্নদুয়ার’।

যে স্বপ্নের দুয়ারে নিজেকে পৌছেঁ দেবার জন্য অর্হনিশ খাটুনি দিয়ে যাচ্ছি, হয়তো মিছেমিছি একটা নাম বানিয়ে সেটাকেই ছুয়েঁ খানিকটা নিছক ছেলেমানুষি তৃপ্তি খোজাঁর চেষ্টা….

ফেসবুকে গ্রুপ ফিচারটা চালু করার একদিন পরেই, (সেদিন দারুন একটা দিন ছিলো, ১০ই অক্টোবর, ২০১০, মানে ১০.১০.১০ তাই অনেকেই সে দিনটাকে বলেছিলো ‘বাইনারি ডে’ এবং এই বাইনারি ডে টি প্রতি একশ বছরে একবার আসে।) বলতে গেলে খেলাচ্ছলে অথবা পরীক্ষামূলকভাবে আমার ছেলেমানুষী স্বপ্নের নামে একটা গ্রুপ চালু করলাম। কল্পনাও করিনি গ্রুপটা এত দ্রুত সদস্যদের ভালবাসা পেয়ে যাবে। অনেকে হয়তে স্রেফ সময় কাটাবার জন্যই এখানে আসেন। কিন্তু আমি যখন আসি আমার তখন অন্যরকম একটা অনুভূতি হয়। আমাদের গ্রামের বাড়ীর বাগানে একজন মালী রয়েছেন। তাকে আমি ডাকি মালীকাকা বলে। মালীকাকাকে দেখতাম প্রতিদিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে তারা নিজের হাতে লাগানো চারাগুলোতে পরম মমতায় হাত বুলোচ্ছে। বাগানটা তার নয়, চারাগুলোও নয়, কিন্তু নিজের হাতে লাগানো বলেই হয়তো চারাগাছ গুলো মালী কাকার মমতাময় হাতের স্পর্শ পায়। আমার ব্যাপারটাও অনেকটা সেরকম। ফেসবুক আমাকে গ্রুপ খুলতে দিয়েছে, সবাইকেই দিয়েছে, চাইলে যে কেউই খুলতে পারে। এখানে আমার কোন আধিপত্য নেই, কিন্তু প্রতিদিন প্রানবন্ত এই ফেসবুক গ্রুপটা দেখে প্রচন্ড স্মৃতিপ্রবণ এই আমার মালী কাকাকে খুব মনে পড়তো।

বেশ কিছুদিন থেকেই আমার একজন ফ্ল্যাটম্যাট মরণব্যাধিতে ভুগছে। এ্যাকুয়াটিক লিম্বোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া। কখনো রাহুলকে ফ্ল্যাটমেট ভাবিনি, ওকে ভেবেছি আমার ছোটভাই। বাবা-মার একমাত্র ছেলেটি এখন কোমায়। মৃত্যুর সাথে পান্জা লড়ছে। অষ্ট্রেলিয়ার ডাক্তাররা আশা ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু আমি আশা ছাড়িনি। জগতে কত অলৌকিক ঘটনাই তো ঘটে। আমি আরেকটা অলৌকিক ঘটনা ঘটার অপেক্ষা করছি।

আজ বিকেলে বাসায় একটি ছেলে এসেছিলো, সে আমাদের বাসায় উঠতে চায়। তার বাসার দরকার। কালই উঠবে। আজ রাতে রাহুলের ঘর থেকে তার বিছানা, ল্যাপটপ, পড়ার টেবিল যখন সরাচ্ছিলাম, চোখ দুটো বার বার ভিজে উঠছিলো। প্রকৃতি শুন্যস্থান পছন্দ করে না। প্রকৃতিকে ছেড়ে কেউ যদি চলে যেতে চায়, প্রকৃতি তার শুন্যস্থান দ্রুত পূরণ করে নেয়।

মন খারাপ হলে মালী কাকাকে দেখতাম তার চারাগাছগুলোর কাছে গিয়ে বসে থাকতে। কি নিয়ে কি হলো একদিন, মালীকাকাকে দেখলাম নিজের হাতে গাছগুলো উপড়ে ফেলছে! ভীষন অবাক হয়েছিলাম সেদিন। তখন বেশ ছোট ছিলাম, বুঝিনি। এখন অনেক বড় হয়েছি, অনেক বড়, এখন বুঝি! মালীকাকা কেন যেন সেদিন অনেক কষ্ট পেয়েছিলো!

সবাইকে শুভেচ্ছা।

প্রলয় হাসান
এ্যাডমিন,
স্বপ্নদুয়ার ফটোগ্রাফি বন্ধুসভা
সিডনী, অষ্ট্রেলিয়া।
২৩ শে অক্টোবর, সোমবার, ২০১০

[ফেসবুক গ্রুপের মুখবন্ধ]

১২ thoughts on “আমার স্বপ্নদুয়ার!

  1. মন খারাপ হলে মালী কাকাকে

    মন খারাপ হলে মালী কাকাকে দেখতাম তার চারাগাছগুলোর কাছে গিয়ে বসে থাকতে। কি নিয়ে কি হলো একদিন, মালীকাকাকে দেখলাম নিজের হাতে গাছগুলো উপড়ে ফেলছে! ভীষন অবাক হয়েছিলাম সেদিন। তখন বেশ ছোট ছিলাম, বুঝিনি। এখন অনেক বড় হয়েছি, অনেক বড়, এখন বুঝি! মালীকাকা কেন যেন সেদিন অনেক কষ্ট পেয়েছিলো! –

    ….. কেনো …… ???

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *