জর্জ হ্যারিসন (George Harrison) এক মানবতার প্রতীক।


এক সময়ের দুনিয়া কাঁপানো ব্যান্ড দল দ্যা বিটলসের একটি জনপ্রিয় গান ছিল হোয়েন আই এম সিক্সটি ফোর।কিন্তু ৬৪ না পেরনো বিটলসেরই এক সদস্য ৫৮ বছরের জর্জ হ্যারিসন মরনব্যাধী ক্যান্সারে (non-small cell lung cancer) আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু শয্যায়। বিছানার দুইপাশে হিন্দু দেবতা শ্রী কৃষ্ণ এবং শ্রী রামের ছবি।শয্যায় শুয়ে তিনি চোখ বন্ধ করে নিমগ্ন চিত্বে কৃষ্ণ মন্ত্র জপছিলেন।চোখ বুঝি ভিজে উঠে বার বার।বুকের যন্ত্রনাটা বোধ হয় আস্তে আস্তে বেড়ে চলছিল।নিশ্বাস যেন প্রতারণার পায়তারাতেই ছিল।পাশেই ছিলেন প্রিয়তমা স্ত্রী অলিভিয়া এবং ২৪ বছরের ছেলে ধ্যানি হ্যারিসন ।সেখানেই দুজন খুব কাছের বন্ধু শ্যাম সুন্দর এবং মুকুন্দ ধ্যান মগ্ন হয়ে ইশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছেন প্রিয় বন্ধুটির জন্য। তার পর চিরকালের নিরবতা।ফুপিয়ে কেঁদে উঠলেন প্রিয়তমা স্ত্রী অলিভিয়া।সময়টা ২৯ নভেম্বর ২০০১ আমেরিকার লস এঞ্জেলস (দীর্ঘ দিনের বন্ধু এবং একসময়ের সহকর্মী পল ম্যাককার্টেনির Paul McCartney বাড়ি যেখানে তিনি কিছুদিনের জন্য থাকতে এসেছিলেন) স্থানীয় সময় ১৩৩০ ( 1.30 pm.)।চলে গেলেন পৃথিবী ছেড়ে এক সময়ে সাড়া জাগানো ব্যান্ড বিটলসের সাবেক সদস্য, বিংশ শতাব্দীর অত্যন্ত প্রতিভাবান একজন জনপ্রিয় গায়ক এবং গিটারিস্ট, বিশ্ব মানবতার প্রতীক,বাঙ্গালীর দুঃসময়ের বন্ধু জর্জ হ্যারিসন। জর্জ হ্যারিসন ১৯৬৬ সালে ভারতে এসে ভারতীয় কৃস্টি এবং ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হোন এবং হিন্দু ধর্ম গ্রহন করেন।তাই তার মৃত্যুর পর তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী হলিউডের হিন্দু সমাধিক্ষেত্রে দেহ দাহ করা হয় এবং তার ভস্ম ভারতের ভারানসীতে (Varanasi) গঙ্গা এবং যমুনা নদীবাহিকায় ভাসিয়ে দেয়া হয়।আজ এই মহান শিল্পীর ১২ তম মৃত্যুবার্ষিকী। আজকের এই দিনে এই মহান শিল্পীকে বিনম্র শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি।

একজন জনপ্রিয় গায়ক এবং গিটারিস্ট মানবতার মূর্ত প্রতীক জর্জ হ্যারিসন। যার প্রতিভা কেবলমাত্র এ দু’য়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর বিচরণের ক্ষেত্র ব্যাপ্ত ছিল সঙ্গীত পরিচালনা, রেকর্ড প্রযোজনা এবং চলচ্চিত্র প্রযোজনা অব্দি। বিখ্যাত ব্যান্ড সঙ্গীত দল দ্য বিটল্‌স এর চার সদস্যের একজন হিসেবেই তিনি বিখ্যাত হয়ে ওঠেন।তার আরো একটি পরিচয় তাকে বিশ্বের ইতিহাসে একজন যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। তাকে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা বলা হয়।না তিনি অস্ত্র হাতে নন,গিটার আর গান দিয়ে যুদ্ধ করেছেন খুব দুরের অচেনা কিছু মানুষের জন্য।যার প্রাপ্তি স্বরুপ (২০১২ সালের ২৭ মার্চ) বাংলাদেশ সরকার তাকে একজন বিদেশী শিল্পী হিসেবে বাংলাদেশের সস্বাধিনতা যুদ্ধে অবদান রাখার জন্য মরনোত্বর স্বাধীনতা সম্মাননা পুরুস্কারে ভূষিত করেন।

জর্জ হ্যারিসনের কথা বলতে গেলে প্রথমেই চলে আসে তার প্রিয় বন্ধু প্রয়াত বিশ্বখ্যাত সেতার বাদক রবিসঙ্কর এবং তার কন্সার্ট ফর বাংলাদেশের কথা।

১৯৭১। যুদ্ধের বিভিষিকায় রক্তাক্ত বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যার ফলে প্রায় এক কোটি লোক ভারতে আশ্রয় নেয়। এতো বিপুলসংখ্যক শরণার্থীদের ভরণ-পোষণ করতে গিয়ে ত্রাণ-সামগ্রীর অপ্রতুলতা দেখা দেয়। শরণার্থী জীবন এমনিতে দুর্বিষহ। চুপ করে বসে থাকতে পারেননি বিশ্বখ্যাত সেতার বাদক পণ্ডিত রবি শঙ্কর। তিনি কথা বললেন জর্জ হ্যারিসনের সাথে।

রবি শঙ্কর তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হ্যারিসনকে যুক্তরাষ্ট্রে দাতব্য সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজনের কথা বললেন। হ্যারিসন অকুণ্ঠ চিত্তে বন্ধুর প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং তাঁর বন্ধুদের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে যোগদানের আমন্ত্রণ জানান। মাত্র পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে কনসার্টের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। হ্যারিসন সবার আগে তাঁর পূর্বেকার দল বিটলসের সদস্যদের কনসার্টে যোগ দিতে বলেন। পল ম্যাকার্টনি সরাসরি অস্বীকৃতি জানান, কেননা তখন দলের সাথে তাঁর কোনো সম্পর্ক ছিল না। জন লেলন অনুষ্ঠানে আসতে রাজি ছিলেন, কিন্তু সে সময় আদালতে তাঁর সন্তানের ব্যাপারে স্ত্রী ইয়োকো ওনোর সাথে আইনী লড়াই চলছিল। আর মিক দ্যাগার ছিলেন ফ্রান্সে, ভিসা জটিলতার কারণে তাঁর পক্ষেও কনসার্টে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি। শেষতক বিটলসের একমাত্র রিঙ্গোস্টার যোগ দিতে সক্ষম হন। সাথে আরো যোগ দেন-বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি ব্রিস্টন, হ্যারিসনের নতুন দল ব্যাড ফিঙ্গারের যন্ত্রীরাসহ আরো অনেকে।

বিটলস যখন ভেঙে খান খান হয়ে গেল তখন সবার আবারো এক মঞ্চে পারফর্ম করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। বিটলস ভেঙে যাওয়ার পর জর্জ হ্যারিসন প্রথম বারের মতো পারফর্ম করেন কনসার্ট ফর বাংলাদেশে। এরিক ক্ল্যাপটনের অবস্থা ছিল খুব খারাপ, তিনি হেরোইন আসক্ত ছিলেন, ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে তিনি সর্বশেষ মঞ্চে পারফর্ম করেন। মাদকাসক্তির জন্য তিনি কনসার্টের কোনো অনুশীলনে অংশ নিতে পারেননি। যখন মনে করা হচ্ছিল তাঁকে বাদ দিয়ে কনসার্ট করতে হবে ঠিক সেই মুহূর্তে শব্দ নিরীক্ষার সময় উদয় হন। আরেক বিশ্বখ্যাত শিল্পী বব ডিলানও প্রায় দু’বছর পর পারফর্ম করতে আসেন। ১৯৭১ সালের আগস্টের প্রথম দিবসে ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের ৪০ হাজার আসনের মধ্যে একটিও খালি ছিল না। দর্শকদের এই অভূতপূর্ব সাড়ায় শিল্পীরাও উজ্জীবিত।

বিকেল থেকে অনেক রাত অব্দি কনসার্টটি দুভাগে বিভক্ত ছিল। প্রথম পর্বে পণ্ডিত রবি শঙ্কর ও তাঁর দলের পরিবেশনা এবং শেষ পর্বে হ্যারিসন ও অন্যদের প্রথমে মঞ্চে আসেন রবি শঙ্কর ও আলী আকবর খান। তারা মাত্র ৯০ সেকেন্ডের ধুন বাজান। দর্শকশ্রোতারা মনে করেছিল তারা ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একটি ধুন শুনে ফেলেছেন। কিন্তু দর্শকদের ভুল ভেঙে দেন স্বয়ং রবি শঙ্কর। তিনি বললেন, আপনাদের বাদ্য যন্ত্র টিউন করাটা যদি এতো ভালো লাগে, তাহলে আসল ধুনটি আরো ভালো লাগবে। সেতারে রবি শঙ্কর, সরোদে ওস্তাদ আলী আকবর খান যন্ত্রসঙ্গীতের মাধ্যমে কনসার্ট ফর বাংলাদেশের সূচনা ঘটে। তাঁদের তবলায় সঙ্গত করেন ওস্তাদ আল্লা রাখা খান, তানপুরায় ছিলেন কমলা চক্রবর্তী। তাঁরা বাংলা ধুন নামে একটি দুন পরিবেশন করেন।

এরপর মঞ্চে আসেন জর্জ হ্যারিসন ও অন্যান্যরা। তারা একে একে পরিবেশন করেন-ওয়াহ-ওয়াহ, সামথিং, দ্যাট’স দ্য ওয়ে গড প্লেনেড ইট, ইট ডোন্ট কাম ইজি, বিওয়ার অব দ্য ডার্কনেস, হোয়াইল মাই গিটার জেন্টলি উইপস, জাম্পিন জেক ফ্লাশ, ইয়ংব্লাড, হেয়ার কামস দ্য সান, অ্যা হার্ড রেইন’স অ্যা গোন্না ফল, প্লেইন ইন দ্য উইন্ড, ইট টেকস অ্যা লট টু লাভ-ইট টেকস অ্যা ট্রেন টু ক্লাই, জাস্ট লাইক অ্যা উইমেন, মাই সুইট লর্ড, অ্যাওয়েটিং অন ইউ, অল, লাভ মাইনাস জিরো, হেয়ার মি লর্ড, মি. টাম্বোর্নি ম্যান, কনসার্টের ইতি টানা হয় জর্জ হ্যারিসনের গাওয়া সেই বিখ্যাত গান ‘বাংলাদেশ’ দিয়ে। কনসার্টের জন্য গানটি বিশেষভাবে রচিত হয়। কনসার্টে পারফর্মকারীদের মধ্যে রয়েছেন-রবিশঙ্কর, আলী আকবর খান, আল্লারাখা খান, কমলা চক্রবর্তী, জর্জ হ্যঅরিসন, রিঙ্গোস্টার, লিয়ন রাসেল, বিলি প্রিস্টন, এরিক ক্ল্যাপটন, বব ডিলার, ক্লস বোরম্যান, জিম কেল্টনার, ব্যাড ফিঙ্গার, পিটি হাম, টম ইভান্স, জোরি মোলাও, মাইক গিবসন, জেসি অ্যাড ডেভিস, ডন প্রিস্টন, ডন নিক্স, জো গ্রিন, মার্লিন গ্রিন, ডলরেস হল, ক্লডিয়া লিনিয়ার প্রমুখ। ১৯৭১ সালের শেষের দিকে কনসার্টটি অডিও আকারে প্রকাশিত হয়। চলচ্চিত্র আকারে মুক্তি পায় ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ। এটির পরিচালনায় আসল সুইমার, প্রযোজনায় হ্যারিসন ও অ্যালেন ক্লেইন।

সঙ্গীত পরিচালনায় ফিল স্পেক্টর, সম্পাদনায় রিচার্ড ব্রুকস, বিপননে টোয়েন্টিথ সেঞ্চুরি ফক্স অ্যাপল করপোরেশন। ২০০৫ সালে এই চলচ্চিত্রটি ডিভিডি আকারে প্রকাশ করা হয়। দুটো ফরম্যাটের মধ্যে একটি ডিলাক্স, অপরটি স্টান্ডার্ড। ৯৯ মিনিটের চলচ্চিত্রের সাথে ৫.১ ডলবি সাউন্ড মিসৃণ করা হয়। অতিরিক্ত আছে ৭২ মিনিটের বিভিন্ন ফুটেজ। এই বাড়তি সময়ের ফুটেজের মধ্যে আছে ৪৫ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্র ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ রিভিজিটেড উইথ জর্জ হ্যারিসন অ্যান্ড ফ্রেন্ডস।’ এছাড়াও ওই সংস্করণ জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান এবং স্যার বব গিলডদের বিশেষ সাক্ষাৎকার, বব ডিলান ও হ্যারিসনের অনুশীলন, এরিক ক্ল্যাপটন ও লিয়ন রাসেলের শব্দ নিরীক্ষা ইত্যাদির ভিডিও চিত্র বাড়তি হিসেবে সংযোজিত হয়েছে।

ডিলাক্স ডিভিডির সাথে আছে ৬০ পৃষ্ঠার রঙিন বই, ১০টি পোস্টকার্ড, এ্যাপল লোগো স্টিকার, কনসার্টের মূল পোস্টারের নবরূপ ‘বাংলাদেশ’ গানটির হস্তলিপির প্রতিরূপ। কনসার্ট থেকে আয় হয়েছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪১৮.৫০ মার্কিন ডলার। যা ইউনিসেফের মাধ্যমে শরণার্থীদের সাহায্যার্থে ব্যয় হয়। হ্যারিসনকে এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেছিলেন-দুনিয়াতে এতো সমস্যা থাকতে আপনি কেন এ ব্যাপারে বাংলাদেশের শরণার্থীদের সহায়তা কিছু করার জন্য আগ্রহী হলেন? প্রত্যুত্তরে হ্যারিসন বলেন, আমার এক বন্ধু সহায়তা চেয়েছেন। বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে কনসার্ট ফর বাংলাদেশের আয়োজন করি। জর্জ হ্যারিসন তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘আইসি মাইন’-এ লিখেছেন…‘গীতিকার হওয়ার আকাঙক্ষা থেকে নয়, মূলত গান লিখেছি মন থেকে কিছু বের করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। আমি মনে করি কিছু লেখক আছেন যাদের কাছে তাদের অনুভূতি কিংবা অভিজ্ঞতার বর্ণনাটা যথেষ্ট নয়, তাদের কাছে এটা একটা শৈল্পিক কর্ম। যেসব ভারতীয় সঙ্গীত এখন আমরা শুনছি, তা সরাসরি সঙ্গীতজ্ঞের আবেগ বহন করে। সেজন্য গীত রচনা আমার কাছে সেই আবেগকে ছাপিয়ে ওঠার একটা মাধ্যম, ওই মুহূর্তের, ওই সময়ের।

তেমনি একটি গান ‘বাংলাদেশ’-যা ওই সময়ের। দুঃসময়ের, দুঃখ ভারাক্রান্ত সত্তুরের।…আমরা বাংলাদেশের জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। আমরা যখন কনসার্টটি করছিলাম, তখন মার্কিন সরকার পাকিস্তানে অস্ত্র পাঠাচ্ছিল। প্রতিদিন হাজার হাজার লোক মারা যাচ্ছিল কিন্তু সংবাদপত্র সমূহে লেখা হচ্ছিল সামান্যই।…

আমাদের কনসার্টের ফলে বাংলাদেশ অনেক প্রচার পেয়েছিল, পরবর্তীতে ঘটনাপ্রবাহ ভিন্নখাতে প্রবাহিত হতে শুরু করে। কনসার্টের ফলে পাকিস্তানি হিটলারদের কর্মকাণ্ড বিশ্ববাসীর কাছে উন্মোচিত হয়ে পড়ছিল।’ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধে ভিন্ন দ্যোতনা যুক্ত করে। বাংলাদেশের বিজয় অর্জন ত্বরান্বিত করতে এই কনসার্ট অনন্য ভূমিকা রাখে।

জর্জ হ্যারিসন ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ ফেব্রুয়ারি, ইংল্যান্ডের ল্যাংশায়েরর লিভারপুলে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হ্যারোল্ড হারগ্রিভিস হ্যারিসন (Harold Hargreaves Harrisson) এবং মায়ের নাম লুইসে (Louise)। তিনি ছিলেন পিতামাতার চার সন্তানের ভিতর চতুর্থ। অপর ভাইবোনরা ছিলেন ― একামাত্র বোন : লুইসে (জন্ম ১৬ আগষ্ট ১৯৩১)। দুই ভাই যথাক্রমে ― হ্যারি (জন্ম ১৯৩৪), পিটার (২০ জুলাই ১৯৪০)। তার পিতা ছিলেন হোয়াইট স্টার লাইনের বাস কন্ডাক্টর। মা ছিলেন আইরিশ বংশোদ্ভুত এবং লিভারপুলের একটি দোকানের সহাকারিণী।

হ্যারিসনের শৈশব কেটেছে লিভারপুলে। এখানে ছয় বৎসর পর্যন্ত তিনি তাঁর পিতামাতার সাথে লিভারপুলের ১২ আর্নল্ড গ্রোভ, ওয়েভারট্রি -(12 Arnold Grove, Wavertree) তে ছিলেন। এই বাড়ীটি ছিল একটি শ্রমজীবী মানুষের জন্য নির্মিত সাধারণ বাড়ি। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে হ্যারিসনের পরিবার একটু ভালো বাড়িতে থাকার সুযোগ পান।

হ্যারিসনের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় পেনি লেনের নিকবর্তী ডাভডেল প্রাইমারি স্কুলে (Dovedale Primary School)। এখান থেকে তিনি ১১-প্লাস (11-plus) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে Liverpool Institute for Boys-এ ভর্তি হন। এই ইন্সটিটিউটেই- তিনি লেখাপড়া করেন। উল্লেখ্য এই ইনস্টিটিউট’টি বর্তমানে Liverpool Institute for Performing Arts নামে পরিচিত। এই প্রতিষ্ঠানে তিনি ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। এই বিদ্যালয়েই তিনি গিটার শিখতেন। কিন্তু তার পিতামাতার আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, হ্যারিসনের জন্য প্রথম দিকে গিটার কিনে দিতে পারেন নি। পরে তার মা তাকে একটি গিটার কিনে দেন। সে সময়ে এর দাম ছিল ৩.১০ পাউন্ড।

এই প্রতিষ্ঠানে থাকাকালীন সময়ে স্কিফ (skiffle) নামক একটি গানের দল তৈরি করেন। এই দলের সাথে ছিলেন তার বড় ভাই পিটার এবং তার বন্ধু আর্থার কেলি। স্কুল বাসে তার সাথে পরিচয় ঘটে তার আট মাসের বড় পল ম্যাককার্টেনি (Paul McCartney)-এর সাথে। এই পল ম্যাককার্টেনি এবং জন লেনোন (John Lennon) মিলে তৈরি করেছিলেন ‘দ্যা কোয়ারিমেন্’ (the Quarrymen) নামক একটি ব্যান্ড দল।

১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে গানের জন্য রোরি স্ট্রোমস-এর Morgue Skiffle Club -এ গানের পরীক্ষা দেন। পরীক্ষায় হ্যারিসন সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হলেও, প্রাথমিকভাবে অল্প বয়স (১৪ বৎসর) বলে, জন লেনোন তাকেএই দলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তিনি একটি বাসের উপর তলায় ম্যাককার্টেনি এবং জন লেনোনন-কে একটি গান শোনান। এই সময় হ্যারিসন এতটাই বিশুদ্ধ গিটার বাজান যে, জন লেনোন তাকে তাদের ‘দ্যা কোয়ারিমেন্’ ব্যান্ডে অন্তর্ভুক্ত করেন।

১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে স্কুল ত্যাগ করার পর, তিনি কয়েক মাস জীবিকা হিসাবে ব্ল্যাকারস নামক একটি স্থানীয় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে নবীশ ইলেক্ট্রশিয়ান হিসাবে কাজ করেন। এই সময়ে তিনি রনি স্টর্ম-এর টর্নাডোতে যোগাদনের জন্য আবেদন করেন। অল্প বয়স বলে তিনি এখানে তাঁকে নেওয়া হয় নি। এরপর তিনি যোগদান করেন Les Stewart নামক একটি কোয়ার্টেট (Quartet -চারজনের দ্বারা সৃষ্ট সঙ্গীত দল)-এ। এই দলে অপর তিনজন ছিলেন ছিলেন লেস স্টুয়ার্ট, কেন ব্রাউন এবং জিওফ স্কিনার।

১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ আগষ্ট মোনা বেস্ট (Mona Best) লিভারপুলে ক্যাসবাহ কফি ক্লাব (Casbah Coffee Club) উদ্বোধন করার উদ্যোগ নেন। কেন্ ব্রাউন এই ক্লাবে হ্যারিসানদের কোয়ার্টেট সঙ্গীত পরিবেশনের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু ব্রাউন মহড়াতে অনুপস্থিত থাকার কারণে, দলের অন্যতম সদস্য লেস স্টুয়ার্ট এই অনুষ্ঠানে বাজাতে অস্বীকার করেন। পরে হ্যারিসন এবং ব্রাউন এই অনুষ্ঠানে বাজানোর জন্য ম্যাককার্টেনি এবং লেনোনকে আমন্ত্রণ জানান। এঁরা এই অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত ভালোভাবেই শেষ করতে পেরেছিলেন।

১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে তৈরি হয় বিটল (The Beatles) নামক রক সঙ্গীত দল। এই বৎসরে জার্মানির হামবুর্গে সঙ্গীত পরিবেশনের জন্য আমন্ত্রণ পায়। ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবরে বিটল হামবুর্গের কাইসেরকেল্লার (Kaiserkeller) নৈশক্লাবের উদ্বোধনের দিনে সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে ডিসেম্বরে বিটলের ম্যানেজার হন ব্রায়ান এপস্টেইন। তিনি বিটল সদস্যদের পোশাকে পরিবর্তন আনেন। ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ৫ অক্টোবর বিটলের প্রথম Love Me Do এবং P.S. I Love You গান নিয়ে একটি রেকর্ড প্রকাশিত হয়। এই গানের সাথে হ্যারিসন Gibson J-160E (গিবসন কোম্পানির প্রথম এ্যাকুস্টিক-বৈদ্যুতিক গিটার) বাজিয়েছেন। ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে Please Please Me এ্যালবাম প্রকাশিত হয়। এরপর বিটলের নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে বিটল নিউইয়র্কে সঙ্গীত পরিবেশন করে এবং বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এই বৎসরে বিটলের উপর সাদা-কালো রঙ্গ ছবি A Hard Day’s Night তৈরি হয়। এই সময় হ্যারিসনের ভবিষ্যৎ স্ত্রী Pattie Boyd-এর সাথে পরিচয় হয়। ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটেনের রানীর জন্মদিনের সম্মানে এই চার বিটল -এর Order of the British Empire সদস্যপদ লাভ করেন।

১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে ষষ্ঠ স্টুডিও এ্যালবাম Rubber Soul প্রকাশিত হয়। এই এ্যালবামের ভিতর দিয়ে হ্যারিসন সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন। এক্ষেত্রে তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন বব ডিলন নামক অপর একজন স্বনাম-খ্যাত সঙ্গীত-শিল্পী।

১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে লণ্ডনে ভারতীয় সেতারবাদক হ্যারিসনের সাথে পণ্ডিত রবি শঙ্কর-এর পরিচয় ঘটে। এর কিছুদিন পর, হ্যারিসন ভারতে আসেন এবং শ্রীনগরে রবি শঙ্করের কাছে ছয় সপ্তাহ সেতারের তালিম নেন। এ সময়েই তিনি ভারতীয় হিন্দু ধর্মে আকৃষ্ট হোন এবং পরবর্তীতে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি তার জীবন নিরামিষভোজী হিসেবে কাটিয়ে দেন। ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে হ্যারিসন বিটলের বাইরে অন্যান্য ব্যান্ড ও সঙ্গীত শিল্পীদের সাথে কাজ করা শুরু করেন। ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে বিটলের ‘হোয়াইট এ্যালব্যাম’ প্রকাশিত হয়। এই সময় তাঁদের ড্রামার Ringo Starr কিছুদিনের জন্য হ্যারিসনের সঙ্গ ত্যাগ করেন। ফলে তাঁর এবং বিটলের জন্য সাময়িক অসুবিধার সৃষ্টি হয়। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি রেকর্ড করেন Here Comes the Sun” এবং “Something” রেকর্ড করেন।

১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ৪ জানুয়ারি বিটলের সাথে তাঁর বিচ্ছেদ ঘটে। অবশ্য এই সময়ের ভিতর হ্যারিসনের Wonderwall Music এবং Electronic Sound. নামক দুটি একক এ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছিল। এর ভিতরে Wonderwall Music এ্যালবামে, পণ্ডিত রবি শঙ্কর-এর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পাশ্চাত্য সঙ্গীতের সাথে ভারতীয় রাগ সঙ্গীতের মিশ্রণ ঘটান। বিটলের বাইরে এসে তাঁর তিনটি এ্যালবাম প্রকাশিত হয়। এই এ্যালবামের গানগুলোকে তাঁর শ্রেষ্ঠ কাজের নিদর্শন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এই এ্যালবামগুলোর ভিতরে “My Sweet Lord”, “What Is Life”, “Wall of Sound” অসম্ভব জনপ্রিয়তা লাভ করে।

হ্যারিসনের ভারত ভ্রমণের সময় ‘রাগ’ নামে রবিশঙ্করের উপর একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন Howard Worth এবং এই তথ্যচিত্রটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে। হ্যারিসনের সাথে এই বন্ধুত্বের সূত্র রবি শঙ্কর পাশ্চাত্য শ্রোতাদের কাছে অসম্ভব জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।

১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে হ্যারিসন হ্যারি নেলসনের সাথে “You’re Breakin’ My Heart”-এ্যালবামের জন্য কাজ করেন। একই ভাবে তিনি বিল প্রেস্টোন-এর সাথে১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে গান করেছিলেন “That’s the Way God Planned It” এবং ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে করেছিলেন “It’s My Pleasure”। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর অপর একটি কাজ ছিল Cheech & Chong-এর সাথে “Basketball Jones”।

১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে নিটলের পুরানো বন্ধু আততায়ীর হাতে জন লেনোন নিহত হন। এই মৃত্যু তাঁকে মানসিকভাবে আহত করে। লেনোনের উদ্দেশ্যে তিনি গান করেন “All Those Years Ago”।

১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি Channel 4 live concert TV special করেন। ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে Birmingham Children’s Hospital -এর অর্থ সংগ্রহের জন্য আরো একটি কনসার্ট করেন। ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে ক্লাউড নাইন এ্যালবাম প্রকাশ করেন। ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কল্যাপ্টনের সাথে জাপান সফর করেন। ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের ৬ এপ্রিল, তিনি Natural Law Party -এর জন্য লণ্ডনের Royal Albert Hal-এ কনসার্ট করেন। এই বৎসরের অক্টোবর মাসে নিউইয়র্কে বব ডিলনের সাথে কনসার্ট করেন। ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট মাসে তাঁর The 30th Anniversary Concert Celebration এ্যালবাম প্রকাশিত হয়। ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে অতিথি শিল্পী হিসাবে the Electric Light Orchestra album Zoom-এ কাজ করেন।

৩০ ডিসেম্বর ১৯৯৯ খৃস্টাব্দে ৩৬ বছর বয়সের মাইকেল আব্রাম ব্রোক নামের (Michael Abram broke) এক দুবৃত্ত্য হ্যারিসনের ফ্রায়ার পার্কের (Friar Park) বাড়ীতে ঢুকে তাকে কিচেনের চাকু দিয়ে বুকে এবং মাথায় আঘাত করেন। এ সময় তার স্ত্রী অলিভিয়া তাকে রক্ষা করেন।এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হোন।এবং মাইকেল ব্রোক পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হোন।তখনকার সময় বিভিন্ন পত্রপত্রিকা থেকে জানা যায়,মাইকেল তার জবানবন্দীতে বলেন,ইশ্বর আমাকে হ্যারিসনকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন।আমি কেবল ইশ্বরের নির্দেশ পালন করেছি।


হ্যারিসন প্রথম বিবাহ করেন ১৯৬৬ সালের ২১ জানুয়ারি জনপ্রিয় মডেল প্যাটি বয়েডকে(Pattie Boyd)। ১৯ বছরের প্যাটি বয়েড তখন একজন স্কুল গার্ল। তবে এই সম্পর্ক তাদের বেশিদিন টেকেনি। ১৯৭৪ সালে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। একই বছর ডার্ক হর্স রেকর্ড (Dark Horse Records) কম্পানির সেক্রেটারি অলিভিয়ার (Olivia Trinidad Arias) সাথে পরিচয় হয় এবং ২সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন।১৯৭৮ সালের১ আগস্ট তাদের একমাত্র পুত্র ধ্যানি হ্যারিসনের (Dhani Harrison) জন্ম হয়।

১৯৭১ এ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও এ দেশেরই কিছু দোসরদের সহযোগিতায় নিরীহ নর-নারী ও বুদ্ধিজীবীদেরে চোখ বেঁধে নির্বিচারে করা হয়েছে হত্যা। মা বোনদের উপর করা হয়েছে বর্বরোচিত হামলা। এই বর্বোরোচিত ও নিষ্ঠুর আঘাত বিশ্বের সমগ্র মানুষের বিবেককে করেছে দংশন। দীর্ঘ নয়মাস মুক্তিযুদ্ধ শেষে পরাধীনতার শেকল ভেঙ্গে বাংলাদেশ নামক দেশটি মাথা উঁচু করে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিশেষ স্থান দখল করেছে – যা ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। ১৯৭১-এর সেইদিনে লাখ লাখ অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্টে, চোখের জলে এবং বিবেকের তাড়নায় কেঁদে উঠেছিল অনেক মহৎ হৃদয়।

দেশ বিদেশের শুধু বাঙালি নয় অনেক বিদেশী সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবী ও মানবসেবায় নিয়োজিত কর্মীরা এই অমানবিক ও ধ্বংসাত্মক লোমহর্ষক দৃশ্য দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছিল, বহির্বিশ্বে ছবি ও সংবাদ প্রেরণ করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম এই নারকীয় হত্যাকান্ডের ধিক্কার ও নিন্দা জ্ঞাপন করেছে এবং বিপন্ন মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সাহায্য প্রকাশের আহবান করা হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নাম
না জানা অনেক বিদেশী সাংবাদিকও সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। বাংলার মুক্তিকামী যুবক, ছেলে, বুড়ো সবাই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। এমনকি ঘরের নারীরাও
পিছিয়ে নেই। তাদের অনেকেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এসব মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করেছেন। মিত্রবাহিনী হিসেবে ভারতের সেনা সদস্যরাও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বহু ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্যরা জীবনও দিয়েছেন। ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের
জন্য, একটু সহানুভূতি কি… মানুষ পেতে পারেনা’ গণশিল্পী ভূপেন হাজারিকার এই আবেগপ্রবণ গানের ভাষার মত,বিশ্ববিখ্যাত জর্জ হ্যারিসন তার সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বাঙ্গালীর সে ক্রান্তিকালীন দুঃসময়ে।

Main articles: George Harrison Discography and List of Songs Recorded by George Harrison
See also: The Beatles Discography and Traveling Wildburys#Discography
বাংলাদেশ ফর কন্সার্ট পুরা এলবাম

জর্জ হ্যারিসনের বাংলাদেশ গানটিঃ

১।Wonderwall Music(1968)
২। Electronic Sound(1969)
৩। All Things Must Pass (1970)
৪।Living in the Material World(1973)
৫। Dark Horse(1974)
৬। Extra Texture (1975)
৭।Thirty three & 1/3(1976)
৮। George Harrison (1979)
৯।Somewhere in England (1981)
১০।Gone Troppo(1982)
১১। Cloud nine(1987)
১২। Brainwashed(2002)
♠। Song-Bangladesh

অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম জর্জ হ্যারিসনকে নিয়ে একটি লেখা লিখবো। সময়ের অভাবে তা হয়ে উঠছিলনা।খুব অল্প সময়ে অনেকটা তরিঘরি করে লেখাটা সম্পন্ন করলাম ক্ষুদ্র জ্ঞ্যানে যতটুকু পেরেছি।এতে আমার কিছু ভুল থাকতে পারে।তাই ইস্টিশনের সকলের কাছে অনুরোধ কোথাও ভুল তথ্য দিয়ে থাকলে সেটা যেন মন্তব্যে প্রকাশ করেন এবং সঠিক তথ্যটি তুলে ধরেন। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করছি জর্জ হ্যারিসনের এক অমর বানী দিয়ে-

When you’ve seen beyond yourself, then you may find, peace of mind is waiting there.” ~ George Harrison

তথ্য সূত্রঃ-
১।George Harrison – Wikipedia, the free encyclopedia
২। The daily mail newspaper
৩। BBC News Archives
৪। আনন্দবাজার পত্রিকা (কলকাতা)
৫। দৈনিক আজাদি এবং ইন্টারনেট সূত্র।

৫৯ thoughts on “জর্জ হ্যারিসন (George Harrison) এক মানবতার প্রতীক।

  1. হ্যরিসন ও রবি শঙ্কর এই দুটি
    হ্যরিসন ও রবি শঙ্কর এই দুটি নাম আমাদের আজীবন মনে রাখতে হবে, আমাদের স্বাধীনতা আন্দলনের অংশিদার।

  2. অসাধারণ বললেও কম হয়ে যায়।
    অসাধারণ বললেও কম হয়ে যায়। অনন্য সাধারণ একটা পোস্ট। জর্জ হ্যারিসন সম্পর্কে এতো ভালো তথ্যসমৃদ্ধ লেখা আর চোখে পড়েনি। পরিশ্রমসাধ্য পোস্টের জন্য আপনাকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে শ্রদ্ধা। জর্জ হ্যারিসনের নাম বাংলাদেশ নামটির সাথে জড়িয়ে গেছে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন হ্যারিসন থাকবেন বাংলাদেশের অংশ হয়েই।

    1. ধন্যবাদ আতিক ভাই। আসলে অলস
      ধন্যবাদ আতিক ভাই। আসলে অলস মস্তিষ্কটাকে ব্যাস্ত রাখার জন্যই মাঝে মঝে এই ধরনের লেখায় আগ্রহী হই।আবার অলসতার কারনে লেখার সময় হয়ত কোনো একটা পয়েন্ট বেমালুম ভুলে যাই।পরে মনে পড়ে। যেমন জর্জ হ্যারিসনের লাঞ্জ ক্যান্সার ধরা পড়ার এক অথবা দেড় বছর পর তার ব্রেন টিউমারও ধরা পড়েছিল।তার পারিবারিক ডাক্তার এই মুহুর্তে নামটা মনে পড়ছেনা ক্যান্সারের কারন হিসাবে প্রবল নিকটিন আসক্তির কথা উল্লেখ করেছিলেন, এক কথায় চেইন স্মোকার।

    1. ভিডিও ক্লিপ দেওয়া যাবে না
      ভিডিও ক্লিপ দেওয়া যাবে না কেন? আপনি এমবেড কোড কপি করে এনে সরাসরি পেস্ট করে দিলেই ভিডিও এড হয়ে যাবে। এই নেন আপনার জন্য “Bangladesh” গানটার ভিডিও এড করে দিলাম-

      1. আতিক ভাই আপনার জন্য এক গুচ্ছ
        আতিক ভাই আপনার জন্য এক গুচ্ছ গোলাপ ও অসংখ্য ধন্যবাদ।এই ব্যাপারটাই জানতামনা ভাই। :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  3. অসাধারণ লিখেছেন। আপনার
    অসাধারণ লিখেছেন। আপনার পরিশ্রম সার্থক। অন্তর্জালে জন লেননকে নিয়ে লেখালেখি কম পাওয়া যায়। আপনার লেখা সেই অভাবকে কিছুটা হলেও পূরণ করল। :থাম্বসআপ:

      1. আতিকভাই শেষপর্যন্ত পারলাম।
        আতিকভাই শেষপর্যন্ত পারলাম। :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: এবং আপনাকে আরো কিছু গোলাপ।

    1. আতিক ভাই, কুন কথা হবে না,
      আতিক ভাই, কুন কথা হবে না, শুধুই :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল:

  4. When you’ve seen beyond

    When you’ve seen beyond yourself, then you may find, peace of mind is waiting there.” ~ George Harrison

    দি গ্রেট জর্জ হ্যারিসনকে নিয়ে লেখা সবচেয়ে চমৎকার এই লেখাটার জন্য ব্লগার শঙ্খনীল কারাগারকে হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে শুভেচ্ছা… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :bow: :bow: :গোলাপ: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল:

    যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন প্রচণ্ড আবেগে গাওয়া ৭১রের এই অবিস্মরণীয় গানের মাঝে মহান শিল্পী জর্জ হ্যারিসনকে আমরা স্মরণ করবো গভীর শ্রদ্ধায় আর ভালবাসায়… :bow: :bow: :salute: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :গোলাপ:

    Now please don’t turn away
    I want to hear you say
    Relieve the people of Bangladesh
    Relieve Bangladesh

    Bangladesh, Bangladesh
    Now it may seem so far from where we all are
    It’s something we can’t neglect
    It’s something I can’t neglect

    Now won’t you give some bread to get the starving fed?
    We’ve got to relieve Bangladesh
    Relieve the people of Bangladesh
    We’ve got to relieve Bangladesh
    Relieve the people of Bangladesh

  5. অনেক অপরাধবোধ নিয়ে মন্তব্য
    অনেক অপরাধবোধ নিয়ে মন্তব্য করতে বসেছি!! সকালে অফিসে অর্ধেক দেখেছিলাম… পুরাটা আর সারা দিনেও পরা হয়ে উঠে নি… অসাধারণ বললেও কম হয়ে যাবে!!
    অনবদ্য একখান পোস্ট হয়েছে ভাই… আপনাকে অফুরন্ত :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :bow: :bow:

    এইবার গুরুর কথায় আসি।। কোন কথা বাকি রাখেন নি শঙ্খনীল ভাই… অসামান্য একটা কাজ করেছেন!! জর্জ হ্যারিসনকে বিনম্র শ্রদ্ধা অনাদিকাল :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

    1. তারিক ভাই আপনার চমৎকার ছবিটি

      তারিক ভাই আপনার চমৎকার ছবিটি দেখে জর্জ হ্যারিসনের প্রিয় গাড়ীটির কথা মনে পড়ে গেল।

  6. জর্জ হ্যারিসন ও ওস্তাদ
    জর্জ হ্যারিসন ও ওস্তাদ ররিশংকর, এই দুটি নাম মিশে গেছে বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে, এর অস্তিত্বের সাথে।

    :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: জর্জ হ্যারিসন; মানবতার প্রতীক।

    আর শঙ্খনীল কারাগার ভাই, কিচ্ছু বলার নাই; :মুগ্ধৈছি: :salute: :থাম্বসআপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

  7. ইংল্যান্ড এর জর্জ হ্যারিসন
    ইংল্যান্ড এর জর্জ হ্যারিসন এবং বাংলাদেশের আজম খান ২ জন লিজেন্ড কে নিয়ে কোন ডকুমেন্ট্রি করা যেতে পারে কারণ উনাদের সৃষ্টি সত্যি অসাধারন ……… স্যালুট :bow:

    1. তবে আমাদের আজম খান সক্রিয়
      তবে আমাদের আজম খান সক্রিয় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।এই দুই কিংবদন্তীকেই স্যালুট। :salute: :salute: :salute:

  8. আপনার লেখা পড়া মানেই কিছু
    আপনার লেখা পড়া মানেই কিছু জানা ! জর্জ হ্যারিসন কে নিয়ে চমৎকার লেখাটির জন্য অনেক ধন্যবাদ শঙ্খ দা !

    1. ধন্যবাদ আপনারও প্রাপ্য।আপনার
      ধন্যবাদ আপনারও প্রাপ্য।আপনার মত সুহৃদ পাঠক ইস্টিশনে আছেন বলেই লেখালেখিতে আগ্রহ বোধ করি। :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  9. চমৎকার লিখেছেন। চমৎকার বল্লেও
    চমৎকার লিখেছেন। চমৎকার বল্লেও ভুল হবে, অসাধারণ। তবে একটা বিষয় ক্লিয়ার করলে ভাল হয়।হ্যারিসনকি হাসপাতালে মারা যায়?যদি হাসপাতালে মারা যায় তবে সেটা কোন হাসপাতালে?

    1. খুব সুন্দর একটি প্রশ্ন করেছেন
      খুব সুন্দর একটি প্রশ্ন করেছেন শিকারি ভাই।তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। না জর্জ হ্যারিসন কোনো হাসপাতালে মারা যায়নি।শেষের দিকে জর্জ বুঝতে পারেন সে আর বেশিদিন বাঁচবেনা।তাই তিনি হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে একসময়ের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিটলসের সহকর্মী পল ম্যাক কার্টেনির (Paul McCartney’s) বাড়িতে কিছুদিনের জন্য থাকেন এবং সেখানে তিনি মারাযান।

  10. আমার একটা প্রশ্ন ছিল, মাইকেল
    আমার একটা প্রশ্ন ছিল, মাইকেল আব্রাম কেন তাকে আক্রমণ করেছিল।কি তার কারন? 😀 :মানেকি: :মানেকি:

    1. হুম প্রশ্ন পর্ব ভাল’ই
      হুম প্রশ্ন পর্ব ভাল’ই জমেছে।মৌলবাদী গোড়া কুপমন্ডুকরা কেবল আমাদের দেশেই বসবাস করেনা।উন্নত বিশ্বেও এরা উন্মাদ।তখনকার সময়ের পত্র পত্রিকা গুলো থেকে জানা যায়,মাইকেল তার জবানবন্দীতে বলেছেন ইশ্বর স্বয়ং তাকে জর্জকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।মাইকেল কেবল ইশ্বরের নির্দেশ’ই পালন করেছিলেন।

  11. আপনি কিছু চাইছেন আর আমি মানা
    আপনি কিছু চাইছেন আর আমি মানা করবো এটা কি হয়।অবশ্যই নিবেন তবে যেখানেই প্রকাশ করবেন সেখানে যেন আমাকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।অনেক পরিশ্রমের সংগ্রহ কিনা।( মজা করলাম কিছু মনে করবেন না)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *