বাংলার লোকজ উৎসব

বাংলাদেশ উৎসব প্রিয় জাতি ! এই দেশের লোকজ উৎসব গুলি বাংলার ঐতিহ্যের অংশ !
তার কিছু আজ আপনাদের বলছি । –

অম্বুবাচি – যদিও প্রাচীন বাঙালি কৃষ্টি হিসেবে অম্বুবাচি পরিচিত তথাপি হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত একটি বিশেষ উৎসব । আষাঢ় মাসের সাত তারিখ হতে তিন দিন ব্যপী এ অনুষ্ঠান পালিত হয় ! এ সময় হিন্দু মহিলারা নানা রকম ক্রিয়াচার পালন করেন । তাদের বিশ্বাস এ তিন দিন আকাশ ও পৃথিবীর মিলন হয় এবং বৃষ্টির পানিতে সিক্ত হয় মাটি , যা কৃ্ষি কাজের জন্য উপযোগী । এ উপলক্ষ্যে কিছু পিঠা পুলি এবং খাবারের আয়োজন করা হয় ।


বাংলাদেশ উৎসব প্রিয় জাতি ! এই দেশের লোকজ উৎসব গুলি বাংলার ঐতিহ্যের অংশ !
তার কিছু আজ আপনাদের বলছি । –

অম্বুবাচি – যদিও প্রাচীন বাঙালি কৃষ্টি হিসেবে অম্বুবাচি পরিচিত তথাপি হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত একটি বিশেষ উৎসব । আষাঢ় মাসের সাত তারিখ হতে তিন দিন ব্যপী এ অনুষ্ঠান পালিত হয় ! এ সময় হিন্দু মহিলারা নানা রকম ক্রিয়াচার পালন করেন । তাদের বিশ্বাস এ তিন দিন আকাশ ও পৃথিবীর মিলন হয় এবং বৃষ্টির পানিতে সিক্ত হয় মাটি , যা কৃ্ষি কাজের জন্য উপযোগী । এ উপলক্ষ্যে কিছু পিঠা পুলি এবং খাবারের আয়োজন করা হয় ।

কারাম – ভাদ্র ও আশ্বিন মাসের উৎসব এটি । ওঁরাও উপজাতিদের উৎসব পুজো উৎসব এই কারাম । কারাম এক ধরনের গাছ । এই গাছের পুজোকে কেন্দ্র করেই এই উৎসব । উত্তরাঞ্চলে এই উৎসব কে ভাদাই কিংবা বর্ষা পর্ব অনুষ্ঠান বলে থাকে । এ উৎসবে ওঁরাও উপজাতিরা হয়ে ওঠে নৃ্ত্য ও সংগীত মুখর । ভাদ্র আশ্বিন মাসের নির্দিষ্ট দিনে স্নান করে নদী কিংবা বিল থেকে একটি পাত্রে বালু নিয়ে আসে । সেই বালুতে বীজ ছিটিয়ে দেয়া হয় । তারপর সকাল – সন্ধ্যা সে পাত্রে পানি ঢালতে থাকে । এতে করে সেই পাত্রে চারা গজিয়ে ওঠে । সেই বীজ পাত্র নিয়ে কারাম গাছের কাছে গিয়ে পুজারি গাছকে পুজোর নিমন্ত্রন দিয়ে আসে । পরদিন পুজো্র অনুষঙ্গ হিসেবে কারা গাছের দুটো ডাল কেটে নিয়ে আসে । আসার পথে সারা রাস্তা নেচে গেয়ে ভরিয়ে রাখে । তার পর সেই ডাল পুজো মন্ডপের কাছে পুঁতে রেখে পুজো অর্চনা করা হয় । পুজো শেষে সেই ডাল দুটিকে ঘিরে সারা রাত চলে নাচ । পর দিন সেই ডাল দুটো নিয়ে নদীতে বিসর্জন দেয়া হয় । এর মধ্য দিয়েই সমাপ্তি ঘটে কারাম উৎসব এর ।

বেড়া ভাসান – ভাদ্র মাসের শেষ বৃহস্পতিবার জলের পীর খোয়াজ খিজির কে স্মরন করে এ উৎসবের আয়োজন করা হয় । বাংলাদেশের লো্কায়ত পীর দের মধ্যে গাজী পীর মাদার পীর মানিক পীর এর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় এই জলের পীর খোয়াজ খিজির ।উনাকে স্মরন করে এক সঙ্গে পাঁচ টি কলা গাছ জোড়া লাগিয়ে একটি ভেলা তৈরী করা হয় । ভেলার উপর ছোট্ট একটি বাঁশের ঘর তৈরী করে তা বিভিন্ন রঙ্গিন কাগজ নিয়ে সাজানো হয় । এর পর ভেলার উপর পিঠা পায়েসের ভোগ রাখা হয় । এছাড়াও ভক্তদের মানতের জিনিস রাখা হয় । এর পর ভেলাটি ঢাক বাজাতে বাজাতে নেয়া হয় নদীর ঘাটে । এর পর প্রদীপ জ্বালিয়ে ভাসিয়ে দেয়া হয় ভেলা । এর পর থেকেই পীর খোয়াজ খিজিরের বন্দনা গেয়ে সারা রাত গানের উৎসব হতে থাকে ।

ভাদু উৎসব – ভাদ্র মাসে মেয়েরা অবিবাহিতা মেয়ে মারা গেলে তাকে স্মরন করে এ উৎসব পালন করে ও ভাদু গান গায় ।

অশোকষষ্ঠী – চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠ দিনে অশোক ফুলের কুঁড়ি দিয়ে বিশেষ এক ধরনের ব্রত পাকন করা হত । সারাদিন না খেয়ে থেকে সন্তানের মঙ্গল কামনা করে মা ছয়টি অশোক ফু্লের কুঁড়ি মুগ ও দই এর সাথে না চিবিয়ে গিলে খেতেন । সন্তানের অনাগত বিপদ আপদ থেকে রক্ষার্থে এ ব্রত পালন করা হয় ।

চৈতলা দেয়া – ফাল্গুনের সংক্রান্তির খুব ভো্রে উঠে গৃহস্থালির মহিলারা ঘরের দরজায় ও বারি থেকে বেরোনর পথে গো্বরের পিন্ড দূর্বা ও ফুল সারিবদ্ধ ভাবে রেখে দিত । এই গোবর শুকিয়ে চৈত্র সংক্রান্তিতে গো্যালে রেখে দেয়ার প্রচলন ই চৈতলা দেয়া । অপদেবতার হাত্থেকে বাঁচতে এই আচার প্রচলিত !

তথ সূত্র – দৈনিক জনকন্ঠ

১৬ thoughts on “বাংলার লোকজ উৎসব

  1. অম্বুবাচি আর অশোকষষ্ঠীর কথা
    অম্বুবাচি আর অশোকষষ্ঠীর কথা জানতাম আগে , কিন্তু বাকিগুলা নতুন জানলাম… অশেষ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ফুল: অদিতি আপু তথ্যগুলো জানাবার জন্য… :থাম্বসআপ: আপনি এত কম লেখেন কেন? আরও বেশী বেশী লেখা চাই… :জলদিকর: :অপেক্ষায়আছি: :খুশি:

  2. ভাদু উৎসব – ভাদ্র মাসে মেয়েরা

    ভাদু উৎসব – ভাদ্র মাসে মেয়েরা অবিবাহিতা মেয়ে মারা গেলে তাকে স্মরন করে এ উৎসব পালন করে ও ভাদু গান গায়

  3. ভাদু উৎসব – ভাদ্র মাসে মেয়েরা

    ভাদু উৎসব – ভাদ্র মাসে মেয়েরা অবিবাহিতা মেয়ে মারা গেলে তাকে স্মরন করে এ উৎসব পালন করে ও ভাদু গান গায়

  4. আমি ত বেশির ভাগ কবিতা লিখতেই
    আমি ত বেশির ভাগ কবিতা লিখতেই সাচ্ছন্দ বোধ করি ! অতটা এই ধরনের লেখা পারিনা তাও চেষ্টা করব ! সবাইকে ধন্যবাদ !

  5. আমি ত বেশির ভাগ কবিতা লিখতেই
    আমি ত বেশির ভাগ কবিতা লিখতেই সাচ্ছন্দ বোধ করি ! অতটা এই ধরনের লেখা পারিনা তাও চেষ্টা করব ! সবাইকে ধন্যবাদ !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *