অলীক ( একটি কাল্পনিক কল্পকাহিনী ) শেষ পর্ব…………

সকালে ঘুম থেকে ঊঠে সিন্ধান্ত নিল অফিস যাবেনা ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে বসে রিনি !! টিভিতে দেখতে পেলো রিনি যে অফিসে চাকরি করে সেই অফিসে আগুন লেগেছে এবং সব কিছু পুড়ে গেছে এবং ২ জন মারা গেছে !! রিনি অবাক হয়ে গেলো এবং কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না কি হচ্ছে এইসব আর কেনই বা হচ্ছে !! রিনি তার মোবাইলটা হাতে নিয়ে সেই কণ্ঠস্বরের মোবাইল নং টা খুজতে লাগল কিন্তু কিছুই পেলোনা বার বার শুধু মনে হত লাগলো এমনটা হাওয়ার কারণ কি ?? অবশেষে আবার সেই অপেক্ষা রাত ৩ টার ……
রিনিঃ সত্যি করে বলুন তো আপনি কি চান আর কেনয় বা আমার সাথে এমন করছেন ??

সকালে ঘুম থেকে ঊঠে সিন্ধান্ত নিল অফিস যাবেনা ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে বসে রিনি !! টিভিতে দেখতে পেলো রিনি যে অফিসে চাকরি করে সেই অফিসে আগুন লেগেছে এবং সব কিছু পুড়ে গেছে এবং ২ জন মারা গেছে !! রিনি অবাক হয়ে গেলো এবং কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না কি হচ্ছে এইসব আর কেনই বা হচ্ছে !! রিনি তার মোবাইলটা হাতে নিয়ে সেই কণ্ঠস্বরের মোবাইল নং টা খুজতে লাগল কিন্তু কিছুই পেলোনা বার বার শুধু মনে হত লাগলো এমনটা হাওয়ার কারণ কি ?? অবশেষে আবার সেই অপেক্ষা রাত ৩ টার ……
রিনিঃ সত্যি করে বলুন তো আপনি কি চান আর কেনয় বা আমার সাথে এমন করছেন ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আমি কিছুই চায়না শুধু আর আমি আপনার সাথে কিছুই করছি না আমি শুধু আপনার সাথে গল্প করতে চায় !!
রিনিঃ কিন্তু আমার আপনার সাথে গল্প করতে ভাল লাগেনা !!
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আমি কি জানতে পারি কেনো আমার সাথে গল্প করতে আপনার ভাল লাগেনা ??
রিনিঃ আপনাকে জানানোর প্র্যোজন মনে করছি না !!
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ মাঝে মাঝে অপ্র্যোজনীয় কাজ করে মানুষ আনন্দ পেয়ে থাকে এই যেমন আপনি কোন প্রয়োজন ছারায় আমার জন্য অপেক্ষা করে আছেন !!
রিনিঃ আমি আপনার জন্য অপেক্ষা করছি আপনি কিভাবে জানেন ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আমরা মানুষের মনে ভাব বুঝতে পারি আপনি মুখে বলছেন চলে যেতে কিন্তু মনে মনে আমার উপস্থিতি আপনাকে আনন্দ দিচ্ছে !!
রিনিঃ আপনি আমাকে সিম্প্যাথি দেখাচ্ছেন ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আমরা সিম্প্যাথি দেখাতে পারিনা কারন আমরা মিথ্যা বলতে পারিনা !! আমরা যা কিছু সত্য তাই বলে দেই !!
রিনিঃ তাহলে বলেন তো আগামীকাল আমার কি হবে ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আগামীকাল আপনার জন্য অনেক খুশি এবং বিস্ময় অপেক্ষা করছে !!
রিনিঃ কি সেই বিস্ময় ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ বিস্ময়ের কথা সহজে বলতে নেই কারণ আপনার আনন্দ মাটি হয়ে যেতে পারে !!
রিনির নিজের কাছেই অদ্ভুদ লাগছে পুরো ব্যাপারটা মনে হচ্ছে কোন রহস্য ঘেরা পৃথিবীতে বাস করছে !!
রিনিঃ আপনি এত রাত করে আসেন কেনো ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আপনাদের এখানে রাত কিন্তু আমাদের এখানে রাত দিন নেই সবসময় সমান সূর্যের আলো আমাদের এখানে আসেনা !! তায় ঠিক কখন রাত এবং কখন দিন হয় আমরা বুঝতে পারিনা !!
রিনিঃ আমি কি আপনাকে দেখতে পারি ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আপনি আমাকে দেখতে পারবেন না কারন আমাদের দেখার জন্য ১৫০০ মেগাপিক্সেল পাওয়ার দরকার সেখানে আপনাদের আছে ৫৭৬ মেগাপিক্সেল কিন্তু আপনি চাইলে আমাকে স্পর্শ করতে পারবেন !!
রিনিঃ কিভাবে ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আপনি আপনার একহাত সামনের দিকে এগিয়ে দিন !!
রিনি তার একহাত সামনের দিকে এগিয়ে দিলো কেমন জানি কিছুটা ঠাণ্ডা হিমশীতল পরশ অনুভূত হল মনে হল যেনো কোন বরফের সাথে হাত লেগে আছে !! রিনির কাছে পুরো ব্যাপারটা বিশ্বাস হচ্ছেনা !!
রিনিঃ আমি কি আপনার কোন নাম দিতে পারি ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ হম পারেন !!
রিনিঃ ঠিক আছে আমি আপনার নাম দিলাম অলীক !! কেমন লাগলো নামটা আপনার পছন্দ হয়েছে ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আমার পছন্দ অপছন্দ ব্যাখ্যা করা সম্ভব না আমাদের নিয়ম অনুযায়ী আমরা কারো কাছে কখনও মাথা নত করতে পারিনা !! আপনি আমাকে নাম দিয়েছেন কিন্তু আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারবো না !!
রিনিঃ নামটার মানে জানেন আর আমি এই নামটা কেনো দিলাম জিজ্ঞেস করবেন না ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আমাদের ক্ষমতার কারণে আমরা যেকোন ভাষা যেকোন কিছুর অর্থ বুঝতে পারি !! নামটার মানে হল মিথ্যা আর এই নামটা দেওয়ার কারণ আপনি আমাকে বিশ্বাস করতে পারছেন না !!
রিনিঃ মানুষকেয় আজকাল বিশ্বাস করা যায়না আর আপনি তো ভিনগ্রহবাসী !! আপনাকে কিভাবে বিশ্বাস করব ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ ঠিক আছে আমি চলে যাচ্ছি কিন্তু একটা প্রশ্ন ছিলো আপনি সাহস দিলে করতে পারি !!
রিনিঃ সাহস দিলাম !!
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আপনি কি সত্যি সাব্বিরকে ভালোবাসেন ??
রিনিঃ হ্যাঁ আমি সাব্বিরকে অনেক ভালোবাসি !!
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আমি না আসলে কি আপনি খুশি হবেন ??
রিনিঃ হ্যাঁ অনেক খুশি হব !! আপনি দয়া করে আর আসবেন না আমি আপনার সাথে কথা বলতে চায়না !! আমি এখন ফোনের লাইন কেটে দিচ্ছি আর আপনি আমার ফোন না দিলে আমি খুশি হব !! রিনি ফোনের লাইনটা কেটে দিলো !! হাজারো চিন্তার মাঝে রিনি ডুবে আছে বিশ্বাস হচ্ছে না নিজের কাছে কিছুতেই বার বার শুধু মনে হতে লাগলো এ যেনো জীবনের কল্পনার কোন অধ্যায় যার কাছে রূপকথাও হার মানে !! পরেরদিন সকালে হাসপাতাল থেকে ফোন আসলো এবং নার্স জানাল সাব্বিরের জ্ঞান ফিরেছে !! রিনি খুশি হয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে কিন্তু তার জানা ছিলোনা এর থেকে বড় বিস্ময় অপেক্ষা করে আছে !! রিনি দেখতে পেলো তার টেবিলের সামনে একটা খুব সুন্দর কেক আছে এবং কেকের পাশেই একটা কাগজ আর কেকের উপর খুব সুন্দর করে লিখা আছে শুভ জন্মদিন রিনি !! রিনির নিজের কাছে সত্যি খুব অবাক লাগলো তার জন্মদিন অথচ রিনির কিছুই মনে নেই !! রিনি কাগজটা হাতে নিলো এবং ওখানে খুব সুন্দর করে লিখা আছে “ সুন্দর এই ধরনীতে তোমার প্রতিটা নিশ্বাস হোক সুখের আর পূরণ হোক তোমার সকল আশা ফিরে আসুক ভালবাসা !! ভাল থেকো !! ” অলীক !!

প্রথম পর্বের লিঙ্কঃ http://istishon.blog/node/5805#sthash.kd1ngZff.dpbs
দ্বিতীয় পর্বের লিঙ্কঃ http://istishon.blog/node/5822#sthash.UT5KMegJ.dpbs

৫ thoughts on “অলীক ( একটি কাল্পনিক কল্পকাহিনী ) শেষ পর্ব…………

  1. পেজ সেভ করে রাখলাম আরাম করে
    পেজ সেভ করে রাখলাম আরাম করে গভীর রাতে পরবো।পথিক ভাইয়ের গল্প পড়বো আয়োজন করে।জানি অনেক ভালো হবে।

    1. ধন্যবাদ রাজু দা পড়ার পোর
      ধন্যবাদ রাজু দা পড়ার পোর অবশ্যই মন্তব্য করতে ভুলবেন না ।। আপনাদের উৎসাহ আমার অনুপ্রেরণা …… :বুখেআয়বাবুল:

  2. “ সুন্দর এই ধরনীতে তোমার

    “ সুন্দর এই ধরনীতে তোমার প্রতিটা নিশ্বাস হোক সুখের আর পূরণ হোক তোমার সকল আশা ফিরে আসুক ভালবাসা

    ভালো লিখেছেন পথিক ভাই।

  3. পড়লাম এবং প্লিজ ডোন্ট
    পড়লাম এবং প্লিজ ডোন্ট মাইন্ড,আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি অনেক ভালো লিখেছেন ভাই আমার।আসলে এ ধরনের পোষ্ট বেশী বেশী দরকার।অশেষ শুভকামনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *