একটি অগ্নিদগ্ধে আতঙ্কিত বাসের আত্নকাহিনী…

মানব জাতি বড়ই আজিব। স্বার্থ বৈ এ জাতি আর কিছুই বোঝেনা। যে থালায় তাহারা আহার ভক্ষণ করিয়া থাকে, মুহুর্তেই সে থালায় মূত্রত্যাগ করে। এই জাতির আরেক দোষ- ইহারা নিজেদের পশ্চাতদেশে নিজেরা আঙ্গুল দিয়া চুল্কায়। এক কাক মরিলে অন্য সকল কাক জড় হইয়া উহার প্রতিবাদে কা কা করিয়া চিল্লায়। কুকুর ব্যাতীত অন্য সকল জীবের মধ্যে এই সহজাত প্রবৃত্তিটি পরিলক্ষিত হয়। কেবল কুকুরই একটি হাড্ডি লইয়া নিজেরা নিজেরা মারামারি করে। মানব জাতি ইদানিং কুকুরকে অনুকরণ করা শুরু করিয়াছে। তাহারা ক্ষমতা আর স্বার্থের লোভে কুকুরের ন্যায় আচরণ করে বলে ধারণা করি।


মানব জাতি বড়ই আজিব। স্বার্থ বৈ এ জাতি আর কিছুই বোঝেনা। যে থালায় তাহারা আহার ভক্ষণ করিয়া থাকে, মুহুর্তেই সে থালায় মূত্রত্যাগ করে। এই জাতির আরেক দোষ- ইহারা নিজেদের পশ্চাতদেশে নিজেরা আঙ্গুল দিয়া চুল্কায়। এক কাক মরিলে অন্য সকল কাক জড় হইয়া উহার প্রতিবাদে কা কা করিয়া চিল্লায়। কুকুর ব্যাতীত অন্য সকল জীবের মধ্যে এই সহজাত প্রবৃত্তিটি পরিলক্ষিত হয়। কেবল কুকুরই একটি হাড্ডি লইয়া নিজেরা নিজেরা মারামারি করে। মানব জাতি ইদানিং কুকুরকে অনুকরণ করা শুরু করিয়াছে। তাহারা ক্ষমতা আর স্বার্থের লোভে কুকুরের ন্যায় আচরণ করে বলে ধারণা করি।

চাকা আবিষ্কার করিয়া তাহাদের লাফালাফি টাস্কি খাওয়ার মত। চাকা আবিষ্কার করিয়া এই অলস জাতি হাটা বন্ধ করিবার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হইল। তাহারা ভাবিল, কি করিলে তাহাদিগকে হাটিয়া হাটিয়া পরোপকার করিতে হইবেনা। এই চিন্তা হইতেই তাহারা আমাকে তথা “বাস” নামক যন্ত্র আবিষ্কার করিয়া সর্বত্র বিচরণ করিতে লাগিল।

দিনকাল ভালোই যাইতেছিল। বাংলাদেশ নামক এক দেশে আসিয়া জন্মের আক্কেল হইল। বাঙালি জাতি মানব জাতির মধ্যে সবচেয়ে বেহায়া, স্বার্থপর আর বোকা। তাহারা সংখ্যায় এত অধিক যে, আমরা তাহাদিগকে বহন করিতে করিতে শ্বাস ফেলিতে পারিনা। রোগাক্রান্ত হইয়া ফিটনেস হারাইয়া ফেলিলেও এই জাতি আমদিগকে ছাড়িতে চায়না। আমাদের আর কি করা? চলিতে থাকি অনবরত…

তাহারা মাঝে মধ্যেই আমাতে ভর করিয়া এথা হইতে হেথা ভ্রমণ করে, কিন্তু টাকা দেয়না। আমাদের মালিকও আছেন মহা বিপাকে। তাহার আর কিইবা করার থাকে, যখন তাহার টাকা ড্রাইভার, হেল্পার, কাউন্টারম্যান ও যাত্রী সকলেই মারিবার ধান্দায় থাকে।

কাজের কথায় আসি। বাঙালি জাতি বড়ই গোস্বাপ্রবণ। তাহারা একদল আরেকদলের উপর গোস্বা করিয়া হরতাল/ অবরোধ ডাকে। আমরা পড়ি মহাবিপদে! রাস্তায় বাহির না হইলে মালিক, পাব্লিক উভয়েই গোস্বা। আর বাহির হইলে অবরোধ আহবান-কারী দলের গোস্বা।

মজার বিষয় হইল- রাস্তায় বাহির হইলে বিপত্তির অন্ত নাই। ইদানিং কারণে-অকারণে আমাদিগকে ভাংচুর করিয়াই ক্ষান্ত থাকেনা; গায়ে পেট্রল ঢালিয়া আগুন লাগাইয়া দেয়। উফ… কি নির্মম, সেই সিন! ইহাতে যে শুধু আমরাই পুড়িয়া মরি তাহা কিন্তু নয়, মানব-জাতিকেও আমাদের সহিত পুড়িয়া মরিতে হয়।

সেইদিন আমার বন্ধু “বিহঙ্গ পরিবহন” কে তাহারা নির্মমভাবে আগুন লাগাইয়া পুড়িয়া মারে। আমি বলি- “হে বাঙালি! তোদের লাভ কি হইল? সাথেতো তোদের ও ১৮/১৯ জন আহত হইল আর ২/৪ জন মরিল।” স্বজাতির জন্য তোদের না জ্বললেও আমাদের কিন্তু ঠিকই জ্বলে।

আজ ইউআইইউ’র সামনে আমার আরেক বাল্যবন্ধু “দীপন পরিবহন” কে তাহারা স্পটেই খতম করিল। ঘটনা দেখিয়া মনে হইল যে, তাহাদের দেশে অশান্তির মূল কারণ- আমরা; মানে বাস কিংবা গাড়ি সম্প্রদায়। আমি জানিনা আমাদের দোষ কি? আর এও নিশ্চিত নয় যে, কবে স্বয়ং আমাকেই বিহঙ্গ কিংবা দীপনের মত কতিপয় মনুষ্যপ্রজাতির অমানুষ সহ পুড়িয়া আত্নাহুতি দিতে হইবে। ফিলিং- আতঙ্কিত!!!

বিঃদ্রঃ আজ সকালে আমার ভার্সিটির সামনে দীপন পরিবহনের একটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে আমি যে বাসে করে আসছিলাম, সেই বাসেই পেট্রল লাগিয়ে আগুন লাগানোর চেষ্টা করা হয়, সাথে উপর্যোপরি কক্টেল নিক্ষেপ। আল্লাহর অশেষ রহমতে এখনো বেচে আছি। একই দিনে দুটি ঘটনার চাক্ষুস স্বাক্ষী আমি। সে কারনেই মুলত লেখা।

৭ thoughts on “একটি অগ্নিদগ্ধে আতঙ্কিত বাসের আত্নকাহিনী…

  1. ইহাতে যে শুধু আমরাই পুড়িয়া

    ইহাতে যে শুধু আমরাই পুড়িয়া মরি তাহা কিন্তু নয়, মানব-জাতিকেও আমাদের সহিত পুড়িয়া মরিতে হয়।

    ঠিক

  2. ইদানিং মনে হচ্ছে বেঁচে
    ইদানিং মনে হচ্ছে বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বড় আশ্চর্যজনক… :মাথাঠুকি: :মনখারাপ: মরে যাওয়াটাই বরং স্বাভাবিক… :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

    সাবধানে থাকবেন ভাই… :ভাঙামন:

  3. ধন্যবাদ, অন্ধকারের
    ধন্যবাদ, অন্ধকারের যাত্রী।
    মানবের বেশে দানব হওয়া সহজ, সেদিন হয়তো অদুরেই যেদিন- মানব আর দানব আমরা সবাই এক কাতারে দাড়াতে হবে। হয়তো সেদিন দানবের জীবনও আর নিরাপদ থাকবেনা। পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ, একেলা পথের পথিক
    সত্য বলেছেন ভাই। “স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই”, ডন মাইকেল কর্লিওনি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *