লক্ষ্মীপুর-মুক্তিযুদ্ধ-রাজাকার-আমার গ্রাম-বর্তমান

লম্মীপুর, রামগজ্ঞ, রামগতি, রায়পুর, আর কমল নগর থানা নিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা । থানা গুলোর নাম দেখলেই স্পষ্ট ধরা যায় একসময় এই অঞ্চল কাদের দখলে ছিল । যুদ্ধের সময় জীবনের বাঁচানোর ভয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে গিয়েছিল অনেক হিন্দু পরিবার । আমার গ্রামের পুরো জমিই একসময় ছিলো হিন্দুদের মালিকানায় । এখন বলতে গেলে হিন্দুদের হাতে কিছুই নেই । একটি মুক্তির যুদ্ধের ফলে সব ছেড়ে পালাতে হয়েছিলো হিন্দুদের । আমাদের এলাকাতে রাজাকারেরা এতো বেশি শক্তি এবং সম্পদশালী, এদের গায়ের একটি লোমও টেনে কেউ ছিড়তে পারবেনা কেউ । খুব খেয়াল করে দেখলাম এই অঞ্চলে যারা স্বাধীনতা বিরোধী ছিলো তারা সবাই দেশ স্বাধীন হবার পরে রাতারাতি ধনী হয়ে গেলো । এবং তারাই এখন এই অঞ্চলের ভাগ্য নিয়ন্ত্রন করে । দেশ স্বাধীন হল এতো বছর হয়ে গেলো অথচ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সেই হিন্দুদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের হারানো ভিটে-মাটি ফিরিয়ে দেয়ার কোনো উদ্যোগ গ্রহন করা হয়নি ।
সত্যি বলতে আমাদের নিজেদের বাড়ির জমিটাও এক সময় হিন্দুদের ছিলো । যখন জীবন নিয়ে টানাটানি, জমি রেখে কি হবে ! দিশেহারা হয়ে হিন্দুরা কম দামে জমি বিক্রয় করে দিয়েছিলো । খুব কম হিন্দুরাই বসত ভিটা বিক্রয় করার সুযোগ পেয়েছিল । বেশির ভাগ হিন্দুদের বাড়িতে লুট করে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল । অগুন দেয়া হয়েছিলো অনেক বাড়িতে ।
এটা কোনো মনগড়া গল্প বলিনি, বলেছি আমার বাড়ির চারপাশের পাঁচটা বাড়ির কথা । অবাক করা বিষয় হল, এই এলাকার হিন্দুদের একটা বিরাট অংশ ভোট দেয় স্বাধীনতার বিরোধীদের । যারা তাদেরকে নির্যাতন করে দেশ ছাড়া করেছিল তাদেরকেই হিন্দুরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে । হিন্দু পার্থী পায় ১০০ ভোট, যেখানে হিন্দু ভোটার ১৫০০ জন । এই অঞ্চলের হিন্দুরা মসজিদ-মাজারে খুব ভালো দান করে । এতে তাদের ভালো উপকার হয় ।

আরো কথা আরেকদিন, আজ এখানেই ।

৩ thoughts on “লক্ষ্মীপুর-মুক্তিযুদ্ধ-রাজাকার-আমার গ্রাম-বর্তমান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *