অলীক ( একটি কাল্পনিক কল্পকাহিনী ) পর্ব-১…………

রাত ঠিক ৩ টা একটা প্রাইভেট নং থেকে ফোন আসলো রিনির মোবাইলে !! আধমরা ঘুমের মাঝে ঢুলু ঢুলু চোখে ফোনটা ফিসিভ করল ওপাশ থেকে একটা অচেনা কণ্ঠস্বর ভেসে আসলো ……
রিনিঃ হ্যালো !!
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ কেমন আছেন রিনি ??
রিনিঃ তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে উত্তর দিলো “আপনি কে আর এত রাতে ফোন করেছেন কেনো ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আমি মানুষের মত কিন্তু ঠিক মানুষ না !!
রিনিঃ সেইটা তো বুঝতেই পারছি গরু ছাগল হলে তো আর মানুষের মত করে কথা বলা যায়না আর মানুষ হলে এত রাতে কেউ ফোন করে ডিস্টার্ব করেনা !!

রাত ঠিক ৩ টা একটা প্রাইভেট নং থেকে ফোন আসলো রিনির মোবাইলে !! আধমরা ঘুমের মাঝে ঢুলু ঢুলু চোখে ফোনটা ফিসিভ করল ওপাশ থেকে একটা অচেনা কণ্ঠস্বর ভেসে আসলো ……
রিনিঃ হ্যালো !!
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ কেমন আছেন রিনি ??
রিনিঃ তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে উত্তর দিলো “আপনি কে আর এত রাতে ফোন করেছেন কেনো ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আমি মানুষের মত কিন্তু ঠিক মানুষ না !!
রিনিঃ সেইটা তো বুঝতেই পারছি গরু ছাগল হলে তো আর মানুষের মত করে কথা বলা যায়না আর মানুষ হলে এত রাতে কেউ ফোন করে ডিস্টার্ব করেনা !!
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ যায় গরু ছাগল হলেও মানুষের মত গলা করে কথা বলা যায় !! ১৯৬৭ সালে এমি নামের একটি গাধা মানুষের মত শব্দ করে কথা বলতে পারতো !!
রিনিঃ আপনি তাহলে গাধা তাই বুঝাতে চাচ্ছেন আমাকে !!
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ ঠিক তা নয় তবে আমি মানুষও নয় আপনি ইচ্ছা করলে পরীক্ষা নিয়ে দেখতে পারেন আমি ১০০% মানুষ না হলেও একজন মানুষের সব রকমের লক্ষণ বিদ্যমান আমার মাঝে !!
রিনিঃ দুঃখিত আমার পরীক্ষা নেওয়ার কোন ইচ্ছে নেই আর আপনি আমাকে আর ফোন না দিলে মনে করব আপনি পরীক্ষাতে পাস করেছেন পুরো ১০০ নম্বর নিয়ে !!
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আমি কিন্তু আমার উত্তর পেলাম না !!
রিনিঃ কিসের উত্তর ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ একটু আগেয় জিজ্ঞেস করলাম কেমন আছেন আপনি উত্তরটা দেন নি !!
রিনিঃ আপনি কি এত রাতে আমি কেমন আছি তা জানার জন্য ফোন করেছেন তাহলে শুনে নিন আমি ভালো আছি আর আপনি আমাকে ফোন না দিলে আরও ভাল থাকবো এখন রাখি !!
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আপনি আগামীকাল আপনার অফিস কলিগ রায়হান সাহেবের এর সাথে অফিস না গেলে আপনার জন্য ভাল হবে !!
(বলে রাখা ভাল রিনি একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরী করে এবং প্রতিদিন তার একজন অফিস কলিগ রায়হান সাহেবের সাথে অফিস যায় !!)
রিনিঃ কেনো যাবনা ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ এতে আপনার বিপদ হতে পারে !!
রিনির কাছে কেমন জানি হাস্যকর মনে হল ব্যাপারটা !! রিনি কিছু না বলে ফোনের লাইনটা কেটে দিলো অনেকটা বিরক্ত হয়ে আছে সে মাঝরাতে এমন উঠকো ঝামেলা আসলেই খুব যন্ত্রণাদায়ক !! রিনি চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করল কিন্তু ঘুমাতে পারলো না খালি সাব্বিরের কথা মনে পরতে লাগলো !! আজ প্রায় ২ দিন হতে চলল সাব্বির অজ্ঞান হয়ে ক্লিনিকে পরে আছে !! সাব্বির রিনির কলেজ জীবনের একমাত্র ভালো বন্ধু যেকোন বিপদে রিনি সাব্বিরকে কাছে পেতো আর রিনি ইচ্ছা করেই সাব্বিরের সাহাযো নিত কারন মনে মনে রিনি সাব্বিরকে ভালবাসতো কিন্তু কোনদিন বলার সাহস পায়নি !! কয়েকদিন আগে রিনির সাথে সাব্বির দেখা করতে আসার পথে বাইক এ্যক্সিডেন্ট করে !!রিনি নিজেকে সাব্বিরের দুর্ঘটনার জন্য দায়ী মনে করে !! রিনি নিজের অজান্তেই দু ফোটা চোখের জল গড়িয়ে পড়ে তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘুমানোর চেষ্টা করতে লাগলো !! পরেরদিন অফিসে যাওয়ার জন্য রিনি রায়হান সাহেবকে ফোন দিলো রায়হান সাহেব বলল উনি ব্যাংকে গিয়েছেন এবং অফিসে যেতে দেরী হবে রিনি অপেক্ষা না করে অফিসে চলে গেল !! কিছুক্ষণ পর অফিসে খবর আসল রায়হান সাহেবের সব টাকা ছিনতাই হয়ে গেছে এবং ছিনতাইকারীরা রায়হান সাহেবকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছেন !! রিনির কাছে কেমন যেনো অন্যরকম মনে হল কিন্তু কাউকে কিছু বলল না !! রিনি অফিস শেষ করে বাসায় চলে আসে !! রাত ৩ টা আবারো ফোনটা বেজে উঠলো এবং আবারো সেই প্রাইভেট নং ………
রিনিঃ হ্যালো !!
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ রিনি কেমন আছেন ??
রিনিঃ আপনি আবার ফোন করেছেন আপনাকে না বলছি আর ফোন দিবেন না !!
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আপনার ভালর জন্য ফোনটা দিলাম দয়া করে কেটে দেবেন না !!
রিনিঃ আমার ভাল চাওয়ার আপনি কে ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ মনে করুন আমি আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী অথবা বন্ধু ও মনে করতে পারেন !!
রিনিঃ আপনি কি আমার সাথে মজা করছেন ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আপনার কি তাই মনে হয় ??
রিনিঃ মনে তো অনেক কিছুই হয় কিন্তু তার আগে বলুন আপনি কে আর আপনার নাম কি আর কেনই বা আমাকে এইভাবে মাঝরাতে বিরক্ত করছেন ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আপনি কি বিরক্ত হচ্ছেন ??
রিনিঃ না বিরক্ত হচ্ছিনা আনন্দে খুশিতে নাচতে ইচ্ছে করছে করছি আপনি নাচবেন আমার সাথে ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ না আমি নাচ পারিনা কিন্তু ভাল গান করতে পারি আপনি চাইলে ২ লাইন করে শুনাতে পারি !!
আমাকে আমার মত থাকতে দাও, আমি নিজেকে নিজের মত গুছিয়ে নিয়েছি,
যেটা ছিলোনা ছিলোনা সেটা না পাওয়ায় থাক সব পেলে নষ্ট জীবন ……
রিনিঃ মানা করছে কে আপনারে আপনার মত থাকতে ?? আপনি আপনার মত থাকেন আর আমাকে আমার মত থাকতে দেন !!
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ কেউ মানা করেনি আসলে একাকীত্ব জিনিসটা ভালো না মানুষের মস্তিষ্ক বিকল করে দেয় আর আপনি তো জানেন অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা !!
রিনিঃ ভালোয় তো জীবন দর্শন করতে জানেন দেখি তা বয় টয় লিখে ফেলেন ভালোয় সারা পাবেন !!
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ টিটকিরি মারছেন নাকি ইয়ার্কি করছেন ??
রিনিঃ দুইটার একটাও না আর আমি অপরিচিত কারো সাথে নিজের প্রতিভা প্রকাশ করিনা !!
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ টিটকিরি মারা আর ইয়ার্কি মারা কি প্রতিভা নাকি ??
রিনিঃ আমার কাছে তাই মনে হয় আপনার কাছে কি মনে হয় আমার তা নিয়ে কোন মাথাব্যাথা নেই !!
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আপনি এমন আঘাত দিয়ে কথা বলেন কেনো ??
রিনিঃ আমি কিভাবে কথা বলব তা কি আপনার থেকে শিখতে হবে আমাকে ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আপনি হয়তো উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছেন !!
রিনিঃ আমার এখন আপনার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না আমি এখন ফোন রাখবো আপনি আর আমাকে কোনদিন ফোন দিবেন না !!
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আচ্ছা দিবনা কিন্তু আপনাকে একটা জরুরি সংবাদ দেওয়ার ছিলো আপনি কি শুনবেন ??
রিনিঃ সংবাদ টা কি আমার উপকারে আসবে নাকি ক্ষতি করবে ??
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ সংবাদ শুনার পর হয়ত আপনি আমাকে পাগল বলতে পারেন !!
রিনিঃ তাহলে বলার দরকার নেই কারন আমি এই মধ্যরাতে পাগলের প্রলাপ শুনতে মোটেও রাজি না !!
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ কিন্তু খবরটা শুনা আপনার জন্য জরুরি !!
রিনিঃ তাহলে বলে ফেলুন আপনার সেই পাগলের প্রলাপ !!
অচেনা কণ্ঠস্বরঃ আপনার জন্য আগামীকাল একটা দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে !!

১২ thoughts on “অলীক ( একটি কাল্পনিক কল্পকাহিনী ) পর্ব-১…………

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *